Sharing is caring!

                    

যেই তুমি বই-খাতা নিয়ে আধা ঘন্টা বসে থাকতে পারো না, সেই তুমিই মোবাইল নিয়ে চোখের পলকে তিন-চার ঘন্টা পার করে দিতে পারো। যেই তুমি ভাইবার প্রিপারেশন জোড়াতালি দিয়েও মিলাতে পারো না, সেই তুমিই বিয়ের দাওয়াত ম্যাচিং ড্রেস মিলাতে একটুও কষ্ট হয় না। যেই তোমাকে একবার না করে দেওয়ায় রাগ করে দেওয়ায় বন্ধুর কাছে আর পড়ালেখার হেল্প চাইতে যাও না, সেই তুমিই বন্ধুর জন্মদিনে খাওয়ানোর কথা একবার না করে দেওয়ার পরেও দশ-পনের বার জিজ্ঞেস করতে পারো।

পড়ালেখার বিষয়টা, ক্যারিয়ার, স্কিল ডেভেলপমেন্টের ইচ্ছা থাকলেও চেষ্টার জোশ কেনো আসে না? বুঝো তারপরেও করো না, কেনো?

.নাম্বার ওয়ান কারণ হচ্ছে পিকচার বা ছবি।
.
পিকচার কিভাবে নাম্বার ওয়ান সেটা বুঝার আগে একটু চিন্তা করে নাও। ইন্টারনেট, ফেইসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়াতে কোন জিনিসটা তুমি সবচেয়ে বেশি দেখো। অবশ্যই পিকচার। তুমি হয়তো লাইক, কমেন্ট দাও না। কিন্তু ৭০% টাইম স্পেন্ড করো অন্যদের আপলোড করা ছবি দেখতে দেখতে। আর পিকচার দেখতে খুব বেশি সময় নষ্ট করা লাগে না। আট-দশ সেকেন্ড দেখলেই বুঝা যায় কে কার সাথে ডেটিং করছে, জন্মদিনের পার্টিতে কে কাকে কাকে দাওয়াত দিছে, কই কই গেছে, কি কি খাইসে, ইত্যাদি। আর বাকি ৩০% সময় কাটে অন্যের ভালো মুহূর্তের ছবি দেখে নিজের মন খারাপ করতে।

অন্যদিকে পাঠ্য বই, স্কিল ডেভেলপমেন্ট করার প্রসেস, এসাইনমেন্ট কিংবা ভাইবার প্রিপারেশন নেওয়ার জন্য সেসব জিনিস দেখতে হয় সেগুলাতে পিকচার নাই। থাকলেও খুবই অল্প। গাদা গাদা টেক্সট দেখে দেখে জিনিসগুলা মাথায় ঢুকাতে গেলে অনেক কিছু ইমাজিন করে নিতে হয়। এই ইমাজিন করে নেয়াটাই হচ্ছে বইয়ের কঠিন লেখাগুলা একটা ছবিতে কনভার্ট করা। যারা যত দ্রুত বইয়ের পড়া ছবিতে কনভার্ট করতে পারে, তারা তত দ্রুত বুঝে ফেলতে পারে। আর যারা ছবিতে কনভার্ট করতে পারে না। বা কনভার্ট করার চেষ্টা করে না, তাদের কাছেই জিনিসগুলা হার্ড লাগে, বোরিং লাগে।.

তাই নেক্সট টাইম যখন পড়বা, তখন অল্প একটু জিনিস নিয়ে সেটার ছবি আঁকার চেষ্টা করবা। মনে মনে আঁকবা না। কাগজে আঁকবা। ছোট ছোট অংশ করে আঁকবা .নিজে নিজে সব আঁকতে না পারলে, তুমি কিছু আঁকবা, বন্ধুদের দিয়ে বাকিগুলা আঁকিয়ে নিবা। তখন ছবি, চার্ট বা ইম্পরট্যান্ট নামগুলা এক জায়গায় দেখে মনে রাখতেও সুবিধা হবে। রিভাইজ দিতেও সুবিধা।

.কেনো পড়া হয় না তার নাম্বার টু কারণও হচ্ছে পিকচার বা ছবি।
.ইন্টারনেট, ফেইসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার স্থির ছবি বা চলমান ছবি (ভিডিও) এক্সেস করা বই এক্সেস করার চাইতে সহজ। মোবাইলটা সবসময় হাতে, পকেটে বা টেবিলেই থাকে। আনলক করলেই সারা দুনিয়ার সাথে সংযোগ হয়ে যায়।

.সো, পড়ালেখা করতে নিজেকে বাধ্য করতে হলে। ইন্টারনেটের ছবিগুলোর সাথে কানেকশন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হবে। পড়ার টেবিল থেকে অনেক দূরে মোবাইলটা বন্ধ করে রেখে দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত বইয়ের পড়াগুলা বুঝে সেগুলার ছবি কাগজে আঁকা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মোবাইল অন করা যাবে না।

.কেনো পড়া হয় না তার নাম্বার থ্রি কারণও হচ্ছে পিকচার বা ছবি।

.তবে এইবার অন্যের পিকচার দেখে নয়। বরং নিজে যে পিকচার দিবা সেটার প্রিপারেশন নেওয়ার জন্য। নিজের পিকচারটা ইউনিক, ক্রিয়েটিভ বা ডিফারেন্ট বানানোর জন্য। লাইক, কমেন্ট পাওয়া যায় সেটার জন্য প্রিপারেশন নেয়া, মানুষ জোগাড় করা, ম্যাচিং ড্রেস ডিজাইন করা, স্পেশাল ফটোগ্রাফার নিয়ে, স্পেশাল থিম ধরে, স্পেশাল জায়গায় যাওয়া। সেগুলা পোস্ট প্রসেসিং করে। আপলোড করে লাইক কমেন্টের জন্য অপেক্ষা করা। সবই ছবির জন্য। এমন কি ইদানিং কালের বিয়েগুলোও হয় ছবি তোলার আর ছবি দেখানোর জন্য।

.সো, ছবি যদি শো-অফ করতেই হয়। তাহলে ভালো জবের অফার লেটারের ছবি দিয়ে শো-অফ করার প্রিপারেশন নাও। গোল্ড মেডেল বা ভালোভাবে গ্রাজুয়েশনের ছবি তুলে লাইক কমেন্ট কমানোর ধান্দা করো। কম্পিটিশনে ফার্স্ট-সেকেন্ড হয়ে সেই ছবি শো-অফ করার পিছনে লেগে থাকো। দেখবে এক ছবিতেই অন্যদের একশ ছবির চাইতে বেশি লাইক, কমেন্ট, আত্মতৃপ্তি আর গৌরব অর্জন করে ফেলসো।

courtesy by

jhankar mahbub

 

Sharing is caring!

culive 24উদ্দীপনাক্যারিয়ারপরীক্ষা ও ফলাফলব্যাক্তিত্বশিক্ষাসাহিত্যস্কলারশিপ                     যেই তুমি বই-খাতা নিয়ে আধা ঘন্টা বসে থাকতে পারো না, সেই তুমিই মোবাইল নিয়ে চোখের পলকে তিন-চার ঘন্টা পার করে দিতে পারো। যেই তুমি ভাইবার প্রিপারেশন জোড়াতালি দিয়েও মিলাতে পারো না, সেই তুমিই বিয়ের দাওয়াত ম্যাচিং ড্রেস মিলাতে একটুও কষ্ট...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University