Sharing is caring!

great personality

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করার জন্য ১৯৭৮সালে নকশা আহ্বান করা হয়, অনেক নকশা জমা পড়ে বিভিন্ন স্থপতিরদের প্রায় ৫৭টি নকশা কিন্তু অচেনা-অখ্যাত সদ্য পাশ করা ছোট্ট একটা ছেলের নকশা সবার নজর কাড়ে এবং সেই ছোট ছেলেটির নকশা বিজয়ী হয় ও ২০হাজার টাকা পুরষ্কার লাভ করে ।

ছেলেটির বয়স তখন মাত্র ২৬।

এতগুরুত্ত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মানের জন্য সেই ছেলেটির নকশাকে অবলম্বন করেই বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয় যা “সম্মলিত প্রয়াস” নামেও পরিচিত যেটি ১৫০ফিট উচ্চতা।

সাতটি স্তম্ভের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাধীনতার ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরেছিলেন সেই ছেলেটি।

সাতটি ত্রিভুজ আকৃতি মিনারের শিখর দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি এক ভাবব্যঞ্জনাতে প্রবাহিত হচ্ছে। এই সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি সূচিত হয় বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে।

পরবর্তীতে ৫৪এর নির্বাচন, ৫৮এর সামরিক শাসন, ৬২এর ছাত্র আন্দোলন, ৬৬এর বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ৬দফা, ও ৬৯এর গণ-অভ্যথানের
মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

পুরো সাতটি স্তম্ভের বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরেছিল সেই তরুন ছেলেটি।
কিন্তু খুব কষ্ট ও কান্না আসে যখন স্বৈরশাসক এরশাদ ৮২সালে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্বোদনের সময় সেই নকশাপ্রণয়নকারী তরুনকে ডাক দেয় নাই ও স্মরণ করে নাই।
সাধারণ মানুষের কাতারে সেদিন সেই তরুন দেখেছিলেন তাঁর নকশার স্থাপত্যকে।
জীবনের পরবর্তী সময় একাকী নিভৃতে কাটিয়েছেন তিনি।

তিনি ছিলেন সৈয়দ মইনুল হোসেন।

আজ ১১ নভেম্বর , গত বছর এই দিনে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান চিরকালের জন্য।

ছোট-বড় অনেক নকশাও তিনি পরবর্তীতে করেন। ঢাকা যাদুঘরও তাঁর নকশা।
তাঁর ভ্যাগ্যেও জোটেনি কোন জাতীয় পুরষ্কার!

গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানাই জাতীয় স্মৃতিসৌধ স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন এর প্রতি।

তবুও তাঁর থেকে ২০হাজার টাকা দিয়ে কেনা নকশা জাতীয় স্মৃতিসৌধকে সবাই ফুল দিবে কিন্তু কয়জন স্মরণ করবে তাকে এই বাঙ্গালীরা? কয়জন তাঁর কবরে ফুল দিবে?

রাষ্ট্র তাঁর প্রতি অবিচার করেছে।

তবুও আমরা ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বা চাকুরির জন্য সাধারনজ্ঞানের জন্য তাঁর নাম আমরা মুখস্থ করেই যাবো।

Sharing is caring!

culiveইন্টারভিউউদ্দীপনাক্যারিয়ারগল্পমুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করার জন্য ১৯৭৮সালে নকশা আহ্বান করা হয়, অনেক নকশা জমা পড়ে বিভিন্ন স্থপতিরদের প্রায় ৫৭টি নকশা কিন্তু অচেনা-অখ্যাত সদ্য পাশ করা ছোট্ট একটা ছেলের নকশা সবার নজর কাড়ে এবং সেই ছোট ছেলেটির নকশা বিজয়ী হয় ও ২০হাজার টাকা পুরষ্কার লাভ...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University