Sharing is caring!

কাতারের রাজধানি দোহায় তালেবান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আমেরিকার পক্ষে আফগান বিষয়ক বিশেষ দূত ‘জলমি খলিলজাদ’ ও তালেবানের পক্ষে ‘মোল্লা আবদুল গনি বারাদার’ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ট্রাম্প সরকারের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মাইক পম্পেও’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ‘মোল্লা আবদুল গনি বারাদার’ ছিলেন তালেবান নেতা ‘মোল্লা ওমরের’ সহ-অধিনায়ক। ২০১০ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ‘সিআইএ’ ‘মোল্লা আবদুল গনি বারাদারকে’ ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছিল।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজিত হলেও তার পরবর্তী নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট একই কথা বলেছেন।তবে পহেলা মে,২০২১ এর মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করার কথা থাকলে ও পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ‘জো বাইডেন’ এই সময়সীমা ১১ সেপ্টেম্বর পিছিয়ে দেন।এভাবে মূলত বর্তমান বিশ্বের একক পরাশক্তি আমেরিকা তালেবানকে অনস্বীকার্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হলো।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ‘টুইন টাওয়ার” হামলার শিকার হয়।এক্ষেত্রে `যুক্তরাষ্ট্র’ আফগান আল-কায়েদা,তালেবানকে অভিযুক্ত করে আফগানিস্তানে হামলা চালায়।হামলায় তালেবান সরকারের পতন ঘটলেও গত ২০ বছরে আফগানিস্তান থেকে তাদের নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। দেশের অধিকাংশ এলাকা এখন তালেবানদের দখলে। তারা সেখানে একটা ‘ছায়া সরকার’ পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের পছন্দের সরকার গঠন করেও ২০ বছরে আফগানিস্তানে শান্তি স্থাপন করতে পারেনি।
এমতাবস্তায় মার্কিন সেনা সরিয়ে নিলে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকারকে তালেবানের কবলে ছেড়ে দেওয়া হবে।কারণ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বলছে,“সামরিক বিজয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তালেবান। আফগান সরকার “আত্মবিশ্বাসী-তালেবানের” সাথে সমস্যায় পড়বে।” আফগান নিরাপত্তা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার উপর টিকে আছে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া তারা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়বে। এটা মূলত আফগানিস্তানকে আবারো তালেবানের হাতেই সঁপে দেওয়া হচ্ছে। কারণ চুক্তি মতে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করলে কাবুলের বর্তমান সরকারকে ও দেশ ছাড়তে হতে পারে।চুক্তিতে খোলামেলাভাবে অনেককিছু উল্লেখ নেই।এবিষয়ে আফগান সরকারের একাংশ তালেবান প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে সরকার গঠন করতে ইচ্ছুক হলেও তালেবান রাজি হবে কিনা সন্দেহ আছে।কারণ তাদের অন্যদের সাথে কাজ করার অভ্যাস নাই।যদি তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের করার মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের দাবী তুলে এবং ভোটে দাঁড়াতে চায়, তাহলে হয়তো দেশ তাদের আরো নিয়ন্ত্রণে যেতে থাকবে। সে অস্ত্র,জনবল তাদের আছে। কারণ তালেবানের চরম রক্ষণশীল মূল্যবোধের সাথে বেশিরভাগ গ্রামীণ এলাকার তেমন কোন সংঘাত নেই। তবে বিশেষ করে শহর এলাকায় ‘তালেবান-ভীতি’ রয়েছে,তাদের আশংকা হয়তো তারা আবারো ১৯৯০ এর কট্টর ইসলামিক আমিরাত ফিরিয়ে আনবে।কিন্তু গত ২০ বছরে তালেবান অনেককিছু শিখেছে,হয়তো সেটা তারা ভালো করে মনে রাখবে।তাদের কথায় সেটা প্রকাশ পায়। নারী শিক্ষা বিষয়ে ‘বালখ’ জেলার তালেবানের শিক্ষা কমিশনের দায়িত্বশীল ‘মওলাওযি সালাউদ্দীন’ বিবিসিকে বলেন,“নারীদের লেখাপড়া শেখা গুরুত্বপূর্ণ,আমার মেয়ে বড় হলে আমি তাকে স্কুলে পাঠাবো,যদি সেখানে শরীয়া মানা হয়।” এবিষয়ে বিবিসির পশতু বিভাগে কাজ করেন নারী সাংবাধিক ‘শাজিয়া হায়া’,তিনি কাতারে শান্তি আলোচনার সময় তালেবানের একজন প্রভাবশালী নেতার সাথে কথা বলেছেন।‘শাজিয়া হায়া’ বলেন,তালেবানের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেছেন-“আমি খুনি নয়,কিন্তু আমাকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে সেভাবে।” তবে তালেবান শাসনামলে নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে জানতে চাইলে তালেবান নেতা বলেন-“অতীতে অনেক ভুল হয়েছে আমাদের এবং এসব ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না।” নারী সাংবাধিক বলেন-“এ থেকে বুঝা যাচ্ছে,তালেবান তাদের অবস্থানে আগের চেয়ে নমনীয় হয়েছে।”

যাহোক যে উদ্দেশ্যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ নেমেছিল য়ুক্তরাষ্ট্র,সে উদ্দেশ্য কি অর্জিত হয়েছে? কি নিয়ে ফিরবে তারা।‘ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ’ গবেষণা মতে,আমেরিকানদের করের টাকায় ২০০১ থেকে ২০১৯ সালের ওয়াশিংটনের যুদ্ধ ব্যয় ৯৭৫ বিলিয়ন ডলার।যুদ্ধে তাদের ও অন্য সহযোগীদের মিলিয়ে ৩,৮০০ সৈন্য নিহত হয়েছে।শেষমেষ আবারো প্রতিপক্ষ তালেবানের হাতেই দেশটিকে দিয়ে যেতে হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের এ যাওয়া বিজয়ীর বেশে নয়।ঠিক কি অর্জন করতে তারা আফগানিস্তানে এসেছিল,তার কোন উপযুক্ত জবাব নেই।
চুক্তির শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে-ই চাপে রেখেছে তালেবান।আফগান সরকারকে অবৈধ দাবী করে তাদের সাথে আলোচনা করতে না চাওয়ায় তালেবানের শর্ত মেনে-ই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসে।আলোচনা চলাকালীন-ই আমেরিকার সৈন্য হত্যা করলে ট্রাম্প আলোচনা বাতিল করেও আবারো আলোচনায় বসেছে।‘ডয়েচে ভেলে’-কে কাবুলের সামরিক বিশ্লেষক ‘আসাদুল্লাহ নাদিম’ বলেন,“ য়ুক্তরাষ্ট্র তালেবানের মূল দাবী মেনে নিয়েছে।” তালেবানের ‘ছায়া মেয়র’ হাজি হেখমাত’ বিবিসি-কে বলেন.“ আমরা যুদ্ধে জিতেছি,হেরেছে আমেরিকানরা।” গত ২০ বছরে লক্ষ লক্ষ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেও কি অর্জিত হয়েছে আমেরিকার? কিছুই হয়নি। যদিও দুই পক্ষ-ই যুদ্ধে বেশ ক্লান্ত তবে আমেরিকা বুঝতে পেরেছে,তাদের এই যুদ্ধে বিজয় অসম্ভব।তাইতো বাইডেন এটাকে ‘অন্তহীন যুদ্ধের অবসান’ বলেছেন।মূলত আমেরিকা নিজেদের স্বার্থেই আফগানিস্তানে এসেছিলেন আবার নিজেদের স্বার্থেই চলে যাবেন।সেটা যেকোন মূল্যে হোক,চলে যেতেই হবে।তাইতো আল-জাজিরার বিশ্লেষক ‘মারওয়ান বিসরা’ এ চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটা “সফল পরাজয়” বলে চিহ্নিত করেছেন।

লেখক- এম নুরুল আজিজ বায়েজীদ

শিক্ষার্থী,লোকপ্রশাসন বিভাগ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়(মাস্টার্স)

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2021/05/received_288522229585874.jpeg?fit=1024%2C502&ssl=1?v=1620758402https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2021/05/received_288522229585874.jpeg?resize=150%2C150&ssl=1?v=1620758402culiveUncategorizedতালেবান -আমেরিকা চুক্তিকাতারের রাজধানি দোহায় তালেবান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আমেরিকার পক্ষে আফগান বিষয়ক বিশেষ দূত ‘জলমি খলিলজাদ’ ও তালেবানের পক্ষে ‘মোল্লা আবদুল গনি বারাদার’ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ট্রাম্প সরকারের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মাইক পম্পেও’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ‘মোল্লা আবদুল গনি বারাদার’ ছিলেন তালেবান নেতা ‘মোল্লা ওমরের’...#1 News portal of Chittagong University

Sharing is caring!