Sharing is caring!

দাসতন্ত্র থেকে প্রায় দুই হাজার বছর পরে,আমরা দাস সামাজিক ব্যবস্থাকে একটা অমানবিক,জান্তব অবস্থা বলছি। কিন্তু প্লেটো, সক্রেটিস,এরিস্টটল-এঁরা সবাই দাস ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কিছুই বলেননি বরং জোরালো সমর্থন ছিলো। এঁরা কি অমানবিক (!)ছিলেন? এপিকিউরাস, ডেমোক্রিটাস,পিথাগোরাস ঐ সময়ের দিকদিশারী। তাঁরাও দাস ব্যবস্থার অমানবিক দিকের কথা বলেননি। সফোক্লিসতো “King Oidepus” লিখে দাসব্যবস্থাকে পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য বলেই ফেললেন যা মানুষের পক্ষে বদলানো সম্ভব নয়। রোমান দার্শনিক প্লুটার্ক-না কিছুই বলেননি দাসতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তো,এঁরা সবাই মানবিক গুন ছাড়া ছিলেন?

রোমান সাম্রাজ্যের পতনের প্রায় দুই হাজার বছর পরে,এখন আমরা এমন অমানবিক সমাজের নিন্দায় পঞ্চমুখ। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বা রাজা রামমোহনের আগে কি মানবিক পণ্ডিতের জন্ম হয়নি? কই এর আগেতো সতীদাহ নিবারণ বা বিধবা বিবাহের প্রচলনের কথা কেউ বললেন না ! আসলে আমরা কেউই মানবিক নই, যা বলি মানবিকতার নামে তা’ সময়ের চিন্তা মানসপটে গেঁথে যাওয়ার ফল। এখন মানবাধিকারের নামে যা বলি, তা’ সময়ের স্লোগান মাত্র। কেউ নিখাদ মানবাধিকার চর্চা করেন তাও নয়।

কার্ল মার্কসের একটি প্রণিধানযুক্ত উক্তি আছে।”This is the social being that determines social consciousness,this is not the social consciousness which determines social being.”(মানুষের সামাজিক অস্তিত্ত্ব তাঁর সামাজিক চেতনাকে নির্ধারণ করে, সামাজিক চেতনা, সামাজিক অস্তিত্ত্বকে নয়)।

মানুষ যত বড় মেধাবীই হোকনা কেন, তাঁর সময়কালের বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক আবহকে অতিক্রম করতে পারেনা। এজন্য মস্ত বড় পণ্ডিতেরাও দাস ব্যবস্থার সামাজিক আবহকে স্বাভাবিকই মনে করতেন।দাসদের উপর অত্যাচার,বঞ্চনাকেও স্বাভাবিক ঘটনায় মনে করতেন।social being বা সামাজিক অস্তিত্ত্বের বাইরে কাউকেই আমরা যেতে দেখিনি। গাল্পিক, কবি, ঔপন্যাসিক যে পাত্রকে নায়ক সাজান,সেতো ঐ পরিপার্শ্বের কথা বলে।

সামাজিক আবহ যদ্দিন ভারতবর্ষে স্বনির্ভর গ্রাম কেন্দ্রিক ছিলো, গ্যালিলিও,আইনস্টাইন, নিউটন, রোবসপিয়রের মতো কারো জন্ম দেখেনি ভারতবর্ষ। ইংরেজদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, মধ্যবিত্তের জন্ম দেয়।ইংরেজী শিক্ষায় বাদামী রংয়ের লোকেরা গণতন্ত্র, মানবতাবাদ,ভোক্তাবাদ, উদারতাবাদ শেখে। ইংরেজের চোখে ভারতকে দেখতে শুরু করে। বাংলার রেনেসাঁস তার ফসল। ইংরেজের মানবতাবাদ ভারতকে লুট করলো, সম্পদ স্থানান্তর করলো। সবই স্বভাবিকই মনে হলো। রেনেসাঁসকারীরা একে স্বাভাবিকই মনে করলেন।এসব কিছুই সামাজিক আবহকে অতিক্রম না করতে পারার ফল। সব চিন্তাই স্থানিক,কাল নির্ভর ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত চিন্তার ফসল। তাই সর্বজনীন কোন মানবতাবাদ দেখিনা, দেখিনা সাম্যবাদ,সবকিছুই খণ্ডিত। নয়া লেবেলে পুরোনো মতবাদই সামনে আসে নয়া উদারতা, নয়া মানবিকতা ইত্যাদি মোড়কে।

ওবায়দুল করিম

অধ্যাপক, সমাজতত্ত্ব বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Sharing is caring!

culiveপলিটিক্সমতামতদাসতন্ত্র থেকে প্রায় দুই হাজার বছর পরে,আমরা দাস সামাজিক ব্যবস্থাকে একটা অমানবিক,জান্তব অবস্থা বলছি। কিন্তু প্লেটো, সক্রেটিস,এরিস্টটল-এঁরা সবাই দাস ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কিছুই বলেননি বরং জোরালো সমর্থন ছিলো। এঁরা কি অমানবিক (!)ছিলেন? এপিকিউরাস, ডেমোক্রিটাস,পিথাগোরাস ঐ সময়ের দিকদিশারী। তাঁরাও দাস ব্যবস্থার অমানবিক দিকের কথা বলেননি। সফোক্লিসতো 'King Oidepus' লিখে দাসব্যবস্থাকে পূর্বনির্ধারিত...#1 News portal of Chittagong University