Sharing is caring!

রাশিয়াতে হাজার হাজার উৎপাটিত লেনিনের ভাষ্কর্যের মধ্যে এটা একটা। পৃথিবীর ইতিহাস পালটে দেয়া মানুষটার নিষ্প্রাণ ভাস্কর্যের কি নিদারুণ পরিনতি। নব্বইয়ের দশকে যখন একের পর এক লেনিনের ভাষ্কর্য ভাঙা হচ্ছিলো তখন বিপন্ন বিস্ময় আর বুক ভরা বেদনা নিয়ে এটা দেখে গেছি।

লেনিনের ভাষ্কর্যের পতন রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে অবশ্যম্ভাবী ছিলো। কিন্তু মুসলিম প্রধান দেশে ভাষ্কর্য প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক পরিবর্তন ছাড়াও আরেকটা মাত্রা বিবেচনায় নেয়া উচিৎ আর সেটা হচ্ছে রিলিজিয়াস এসপিরেসন। মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ কালচারালি এবং রিলিজিয়াসলি ভাষ্কর্য যা প্রাণীর অবয়বকে মুর্ত করে তা নিতে পারেন না।

ঠিক এই কারণেই আমাদের জাতীয় শহীদ মিনারের মা আর তার চার ছেলের রিপ্রেজেন্টেশন করা হয়েছে বিমুর্তভাবে। জাতীয় স্মৃতি সৌধের সাত বীরশ্রেষ্ঠকে রিপ্রেজেন্ট করা হয়েছে বিমুর্তভাবে। আমার বিশ্বাস এই পর্যন্ত বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান মেনে নেবে।

কিন্তু হাত দিয়ে পাহাড় ঠেলার মতো জোর করে মানিয়ে নিতে গেলে তা কাজ করবে না। আপনি যেই জনগোষ্ঠীতে বাস করেন সেই জনগোষ্ঠীর চিন্তাজগতের খোজ রাখাটা জরুরী।

আমি ব্যক্তিগতভাবে খুশী হবো বাংলাদেশে যদি দৃষ্টিনন্দন নান্দনিক ভাষ্কর্য থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তা আমার জনগোষ্ঠী মেনে নেবেনা।

আমার জনগোষ্ঠী আরো অনেক কিছুই মেনে নেয়না। যেমন ধরেন আমার জনগোষ্ঠী ক্রস ফায়ারকে সমর্থন করে। তাই বলে কী আমি ক্রস ফায়ার চালু রাখবো? উহু না। এইখানেই আসে প্রায়োরিটি। আমি আমার এফোর্ট আমার লড়াই ভাষ্কর্য প্রতিষ্ঠার পেছনে ব্যয় করবো না যদিও আমি ভাষ্কর্য প্রেমি। আমি আমার এফোর্ট ব্যয় করবো ক্রস ফায়ারের প্রতি যে জনসম্মতি আছে তাকে পরিবর্তনের জন্য।

আমি কী, তা বলেই আমি আমার প্রয়োরিটি সেট করেছি। আমি এটা কোথাও লুকাইনি যে আমি নান্দনিক ভাষ্কর্য পছন্দ করি। কিন্তু তার সাথে এটাও বলেছি এটা আমার প্রায়োরিটি নয়। কেন প্রায়োরিটি নয় সেটাও ব্যখ্যা করেছি ।

  • লিখেছেন – পিনাকী ভট্টাচার্য
https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2020/11/lenin-sculpture.jpg?fit=1024%2C683&ssl=1?v=1606541133https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2020/11/lenin-sculpture.jpg?resize=150%2C150&ssl=1?v=1606541133culiveUncategorizedলেনিনের ভাষ্কর্যরাশিয়াতে হাজার হাজার উৎপাটিত লেনিনের ভাষ্কর্যের মধ্যে এটা একটা। পৃথিবীর ইতিহাস পালটে দেয়া মানুষটার নিষ্প্রাণ ভাস্কর্যের কি নিদারুণ পরিনতি। নব্বইয়ের দশকে যখন একের পর এক লেনিনের ভাষ্কর্য ভাঙা হচ্ছিলো তখন বিপন্ন বিস্ময় আর বুক ভরা বেদনা নিয়ে এটা দেখে গেছি। লেনিনের ভাষ্কর্যের পতন রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে অবশ্যম্ভাবী ছিলো। কিন্তু মুসলিম...#1 News portal of Chittagong University

Sharing is caring!