Sharing is caring!

নারী কে ?

উপক্রমণিকাঃএ বসুধা আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য সৃষ্টি নিয়ে সজ্জিত। যে দিকে থাকায় সে দিকে মহান রবের অপরূপ দৃশ্যই বিরাজমান। এ সুসজ্জিত ধরাতে একমাত্র সৃষ্টি যাকে আল্লাহ তায়ালা আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তা হচ্ছে মানব জাতি। এমনকি এ জাতিকে অপরূপ কাঠামোতে সৃজন করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ  বলেন,আমি মানুষকে সৃজন করেছি সর্বোত্তম (সর্বোৎকৃষ্ট) কাঠামো দিয়ে। (সুরা ত্বীন,০৪) এবং অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,হে মানুষ জাতি,আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী হতে সৃষ্টি করেছি.(সুরা হুুজুরাতঃ১৩)। অত্র আয়াতদ্বয়ে মনুষ্য জাতির অধিকারের দিকেও ইশারা করা হয়েছে। কারণ আল্লাহ তায়ালা সর্বোত্তম কাঠামো দিয়ে শুধু পুরুষ কিংবা নারী সৃজন করেননি,বরং উভয়কে উত্তম কাঠামোতে সৃজন করেছেন। তাই উভয়ের মর্যাদা ও অধিকারে কাউকেও কুন্ঠিত করা হয়নি।তবে পুরুষের মর্যাদা ও অধিকার ইসলামে ভিন্ন।নারী জাতির মর্যাদা ইসলাম ব্যতীত অন্যান্য ধর্মে একেবারে অন্তজে (নিম্ন শ্রেণি)। তারা শুধু তাদেরকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহার করত।ইতিহাস যার  বিরল সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট ভুমিকা পালন করে। তাই অত্র সন্দর্ভে নারী জাতির মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মে, দলে, মতবাদে এবং সভ্যতার মধ্যে মধ্যে সংক্ষিপ্তভাবে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো।”কে তুমি নারী”অত্র পয়েন্টে ইসলাম ব্যতীত অন্যান্য ধর্ম,দল, মতবাদ এবং সভ্যতায় নারী জাতির মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ।
১.গ্রীক সভ্যতায় নারীঃগ্রীকদেরকে সভ্যতার গোড়াপত্তনকারী হিসেবে গন্য করা হয়। এমনকি এ সভ্যতা হচ্ছে পূর্বকালের সকল সভ্যতার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং উজ্জ্বলতম সভ্যতা। এ সত্ত্বেও এ সভ্যতায় নারী জাতির মান মর্যাদা ও অধিকার ছিল একেবারে নিম্নশ্রেণির। এমনকি অস্তিত্ত্বগত দিক থেকে ভিন্ন হওয়াতে তাদেরকে অত্যন্ত নিকৃষ্ট সৃজন বলে আখ্যায়িত করত এবং তাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখত। নারী জাতিকে অকল্যাণের মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করতো। সভ্য-সুন্দর উৎসব অনুষ্ঠানে নারীদের পুরুষের সাথে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। সর্বোপরি গ্রিক সমাজে নারী জাতি সর্বপ্রকার অধিকার ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিল।গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস বলেন,’Women is the greatest source of chaos and disruption in the world.she is the dafair tree which outwardly looks very beautiful but is sparrow eat it they die without fail.’
অর্থাৎঃ নারী এ ধরার বিশৃঙ্খল এবং ঐক্য নাশের উৎস। সে দাফলা গাছের ন্যায়,যা বাহ্যত খুব সুন্দর দেখায়। কিন্তু চড়ুই পাখি তা ভক্ষণ করলে তাদের মৃত্যু অনিবার্য।
২.রোমান সভ্যতায় নারীঃগ্রিকদের পরে সভ্যতার বিবেচনায় রোমানদের অবস্হান। সভ্যতায় তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তারা সভ্যতার অন্যতম ধারক বাহক হয়েও তাদের নারীদের প্রতি আচরণ মোটেই সন্তোষজনক নই। যেখানে নারীদের অধিকার ছিল প্রাচীন হিন্দু ধর্মের মতোই।পিতা,স্বামী ও পুত্রদের অধিনস্ত থাকত তারা।কিন্তু রোমানরা সভ্যতার উন্নতির যুগে নারীর সতীত্ব ও সম্মানকে খুব মর্যাদার চোখে দেখত। তবে বস্তুগত উন্নতির সাথে সাথে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়। ফলে নারীদেরকে কর্মক্ষেত্রে ও পুরুষদের সাথে কাজ করার মতো ঘৃণিত কর্মে তাদেরকে নিয়োজিত করতে কুণ্ঠিত হত না। সাইদ আব্দুল্লাহ সাইফ আল হাতেমী বলেন,রোমান স্ত্রী স্বামীর খরিদকৃত সম্পদের ন্যায় ছিল। স্বামীর কল্যাণে তাকে দাসী হিসেবে থাকত হত। সে সমাজের কোন অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারবে না। কোন কিছুর আমানত,সাক্ষী এবং শিক্ষক ও হতে পারত না।এমনকি তাদেরকে সৃষ্টি জগতে অভিশাপ বলে গণ্য করা হত।
৩.ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় নারীঃব্যাবিলনীয় আইনে নারীদের কোন মর্যাদা বা অধিকার স্বীকৃত ছিল না। এ সভ্যতায় নারীদের মূল্য মর্যাদা কি ছিল তা একটি উদাহরণে বুঝা যায়। যেমন কোন পুরুষ যদি ঘটনাক্রমে কোন নারীকে হত্যা করে, তাহলে তাকে শাস্তি দিবার পরিবর্তে তার স্ত্রীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হত।
৪.মিসরীয় সভ্যতায় নারীঃমিসরীয় সভ্যতায় নারী “ডাইনী” এবং শয়তানের নিদর্শন হিসেবে গণ্য হত। ইসলাম আসার পূর্বে মিসরীয় সভ্যতা এবং তার আইন কানুন বিলীন হয়ে গিয়েছিল আর মধ্যপ্রাচ্যে সেকালে রোমান সভ্যতার পতন এবং তার বিলাসিতা ও ভোগবাদিতার বিষক্রিয়ায় ইহজীবনের প্রতি চরম ঘৃণা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। এমনকি সংসার ও সন্তান সন্ততির প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। বৈরাগ্য  প্রবনতা দেহ ও নারীকে অপবিত্র ধরে নিয়েছিল। নারীকে আখ্যা দেয়া হত পাপের প্রতীক। মোট কথা এ সভ্যতায় নারী জাতি ছিল অবহেলার পাত্র ছাড়া ভিন্ন কিছু নই।
৫.চৈনিক সভ্যতায় নারীঃচৈনিক সভ্যতায় নারীকে  water of woe বা দুঃখের প্রস্রবণ বলা হতো। সে সভ্যতায় নারীদের দ্বারা লাঙ্গল টানা হতো। নারীদের ঘাড়ে চড়ে ধনী ব্যক্তিরা বেড়াতে যেত এমনকি তারা এটিকে সম্মান লাভের যোগ্য মাধ্যম মনে করতেন। বাজারে গোসতের অভাব হলে তারা মেয়েদের কিনে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে নিজেরা খেত এবং  মেহমানদেরকে আপ্যায়ন করত। কি বর্বর নির্যাতন,নিপীড়ন নারীদের উপর চলত তা ভাষায় প্রকাশ করা দুষ্কর।
৬.ইউরেপীয় খ্রিষ্টানদের নিকট নারীঃরোমানদের পতনের পরে ঈসায়ী ধর্ম ইউরোপীয়দের নিকট প্রচার প্রসার লাভ করে।রোমানদের পতন দশা তাদের উপর প্রভাব ফেলে। সে কারণে তারা নারী সঙ্গ ত্যাগ করে।ঈসায়ী ধর্মের মুখপাত্রদের দাবী হচ্ছে যে,নারীরা হচ্ছে সমস্ত পাপের মূল এবং মানব জাতির অভিশাপ। কিছু খ্রিস্টান পাদ্রীরা যদিও নারীদের বিবাহকে হালাল মনে করতেন,তথাপি এটাকে বিধিবদ্ধ যেনা হিসেবে নিন্দনীয় মনে করেন।খৃষ্টীয় তৃতীয় শতকে প্রচারিত এই চরমপন্থি মতবাদ সমস্ত খৃষ্ট জগতকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং নারীদের সমস্ত অধিকার হরণ করেন। ১৮শ শতাব্দীতে ফরাসী বিপ্লব পর্যন্ত এই অবস্হা কম বেশী চালু ছিল। কিন্তু ১৯শ শতাব্দীতে এসে তাদের সে চরমপন্থি ব্যবস্থা বেশী দিন টিকে থাকতে পারেনি। এমনকি তারা নারী স্বাধীনতার পক্ষে পাল্টা নীতি চালু করে।যেখানে নারী পুরুষ অবাধ মেলামেশা ও সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সমতা বিধানের প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু উভয়নীতি ছিল চরমপন্থি ও মানব স্বভাব বিরেধী। ফলে পূর্বের বিধ্বস্ত সভ্যতার ন্যায় খ্রিস্টানী সভ্যতাও যৌন স্বেচ্ছাচারে ধব্বংসের পথে দ্রুত এগিয়ে যায়।
৭.বৌদ্ধ ধর্মে নারীঃবৌদ্ধ শাস্ত্রবিদদের মতে,নারী হলো সমস্ত  অপকর্ম,অকল্যাণ,অপবিত্র ও অভিশাপের প্রতীক। সে জন্য তাদের ধর্মীয় মন্দিরের ফটকে লেখা আছে Neither horse neither cattle nor women admitted here.অর্থাৎঃএখানে ঘোড়া,গবাদিপশু ও নারীর প্রবেশাধিকার নেই।ওলডেন বার্গ তার( BODDHA)বইয়ে বলেন,পানির নিচে মৎসকুলের দুর্বোধ্য স্বভাবগুলোর মতো নারীর স্বভাব ও দুর্বোধ্য।তার কাছে চোরের মতো বিভিন্ন বর্শা ও যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে। আর তার মাঝে সত্যের লেশ মাত্র নেই।
৮.হিন্দু ধর্মে নারীঃসনাতন হিন্দু ধর্মে নারী ছিল চরম অভিশপ্ত। অত্র ধর্মে সতীদাহ প্রথা তথা মৃত স্বামীর সাথে জীবিত স্ত্রীকে চিতায় পুড়ানো ছিল মানব অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এখনো উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর কোন অংশ তো নাই-ই;উপরন্তু যৌতুকের বলি হতে হয় নারীকে।
৯.জাহেলী যুগে নারীঃজাহেলী যুগে নারী জাতির চরম অবস্হা সম্পর্কে আমরা বেশকম সবাই অবগত আছি।সে যুগে নারী ছিল চরম অবহেলার পাত্র।এমনকি কারো কন্যা সন্তান জন্মের খবর শুনলে তখন তাদের অবস্হা কী হত সে ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,যখন এদের কাউকে কন্যা সন্তান জন্মের সুখবর দেয়া হত তখন তাদের চেহারা কালো বর্ণের রূপ ধারণ করত (চেহারা কালো হয়ে যেত) এবং সে ভিতরে ভিতরে গুমরে মরতে থাকে (দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে যেত).(সুরা আন নহল ৫৮)নারীদের প্রতি ঘৃণ্য এতই প্রবল হয়েছিল যে,তাদেরকে জীবন্ত প্রোথিত করার প্রচলন ও ছিল। হাইদাস ইবনে অাদি উল্লেখ করেছেন,জীবন্ত কবরস্থ করার রীতি আরবের সব গোত্রে ছিল।এ ধারাবাহিকতা ইসলাম আসার পূর্ব পর্যন্ত বিরাজমান ছিল। কেউ কেউ লজ্জা শরমে আবার কেউ কেউ খরচ ও দারিদ্র্যের ভয়ে নারীদের জীবন্ত কবর দিয়ে দিত।ছা’ছা ইবনে নাজিয়াহ বলেন,ইসলাম আসার পূর্বে আমি জীবন্ত কবরস্থ হতে যাওয়া তিনজন মেয়েকে মুক্তিপণ দিয়েছি। অনেক সময় পিতার দীর্ঘ সফরের কারণে মেয়েরা বুদ্ধিমান হয়ে যায়।তারপরেও বাবার নিষ্ঠুর বর্বরতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া ছিল সোনার হরিণের মতো।                  প্রিয় পাঠক বৃন্দ,”কে তুমি নারী”এ পয়েন্টে সংক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন ধর্ম,সভ্যতায় ও দলে নারীদের মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে নিখুঁতভাবে প্রতীয়মান হয় যে,নারী জাতির মান-মর্যাদা ও অধিকার ছিল একেবারে নিম্ন পর্যায়ের। যা উল্লেখ করার মতো নই। তাই বলা যায় যে,উল্লিখিত ধর্ম,সভ্যতা ও দলে নারী জাতির অধিকার ছিলই না।”কী তোমার মর্যাদা”:অত্র পয়েন্টে ইসলামে কী কী অধিকার নারীদেরকে দেয়া হয়েছে সংক্ষিপ্তভাবে তার বিবরণ  পেশ করা হলো।
১.মাতা হিসেবেঃ-প্রাক ইসলামী যুগে মাতা হিসেবে নারীদের কোন সামাজিক মর্যাদা ছিল না। একমাত্র ইসলামই নারীদের মাতৃত্বের গৌরব ও মর্যাদার স্বীকৃতস্বরুপ মাতাকে স্বর্ণশিখরে তথা মর্যাদার চূড়ায় আসীন করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো,তার সাথে কাওকে শরীক করো না। এবং পিতা মাতার সাথে সদাচরণ কর।(সুরা নিসাঃ৩৬)।রাসুল(সঃ)বলেছেন,মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।বোখারী ও মুসলিম শরীফে রয়েছে যে,এক ব্যক্তি রাসুল(সঃ)কে জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমার পক্ষ হতে সদাচরণ পাওয়ার সর্বোত্তম যোগ্য কে? রাসুল বললনে,তোমার মা।পুনরায় বললেন তারপর কে? রাসুল বললেন তোমার মা। ব্যক্তিটি আবার বললেন তারপর কে? এবারও বললেনে তোমার মা। এর পর কে?রাসুল (স.) বললেন, তোমার বাবা।
এক সাহাবী রাসুল(স.)এর দরবারে এসে জিহাদের জন্য অনুমতি চাইলেন। তখন রাসুল(স.)বললেন,তোমার মাতা পিতা জীবিত আছে?সাহাবী বললেন,হ্যাঁ জীবিত আছে।রাসুল(স.) বললেন তুমি গিয়ে মা বাবার সেবা যত্ন এবং তাদের সাথে সদাচরণ কর। সেটাই তোমার জন্য জিহাদ তুল্য।আমরা ওয়াইস করনীর ঘটনা সম্পর্কে সবাই অবগত আছি। যিনি রাসুলের যুগে হয়েও সাহাবীর মর্যাদা লাভ করতে পারেনি। একবার ওয়াইস করনী রাসুলের কাছে খবর পাঠালেন যে,হে আল্লাহর রাসুল আপনাকে দেখতে মন চায়। কিন্তু আমার মা অসুস্থ। এ অবস্থায় মাকে রেখে আমি কি যেতে পারব? রাসুল(স.)খবর পাঠালেন আমাকে দেখতে আসতে হবে না। তুমি তোমার মায়ের খেদমত কর। রাসুল(স.) তার জন্য গায়ের একটি জুব্বা মোবারক রেখে যান। সে তার মায়ের অসুখের কারণে রাসুলের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেনি। রাসুল(স.)হযরত ওমরকে বলে গেছেন যে জুব্বাটি ওয়াইস করনীর জন্য উপহারস্বরুপ। হযরত ওমর তাকে জুব্বাটি পাটিয়ে দিয়েছিলেন।আরো অসংখ্য হাদীস রয়েছে যে গুলো মাতা হিসেবে নারীর মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।
২.কন্যা হিসেবেঃজাহেলী যুগে কন্যা হিসেবে নারীর সামাজিক মর্যাদা ছিল নগণ্য। অথচ ইসলাম কন্যা হিসেবে নারীকে যে মর্যাদা দিয়েছে,তা আজ বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তায়ালা জাহেলীদের ঘৃণ্য প্রথাকে নির্মুল করে বলেন,তোমরা তাদেরকে দরিদ্রেরর কষাঘাতে হত্যা করো না,আমি তাদেরকে রিযিক দিব এবং তোমাদেরকেও দিব। যদি তোমরা তাদেরকে হত্যা কর তাহলে তা হবে মহাপাপ(সুরা বনী ইসরাইলঃ৩১)।রাসুল(স.)বলেছেন,কন্যা সন্তান প্রাচুর্য ও কল্যাণের প্রতীক। অন্য হাদীসে রাসুল(স.)বলছেন,যার তিন বা দুই ও এক কন্যা সন্তান আছে,এবং সে তাদেরকে সুশিক্ষা,ভরণপোষন ও সুপাত্রস্ত করেছে তার জন্য জান্নাত অবধারিত।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর(রা.)বলেন,নবী করীম (স.) ইরশাদ করেন,ওই নারী বরকতময়ী ও সৌভাগ্যবান যার প্রথম সন্তান  কন্যা হয়।কেননা (সন্তানদের নিয়ামত বর্ণনার ক্ষেত্রে) আল্লাহ তায়ালা মেয়েকে আগে উল্লেখ করে বলেন,তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন,আর যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।
হযরত আবু সাইদ খুদরী(রাঃ)হতে বর্ণিত,রাসুল(সঃ)বলেন,কারও যদি তিনটি মেয়ে কিংবা বোন থাকে,দুইটি মেয়ে কিংবা বোন থাকে,আর সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের সাথে সদাচরণ করে,তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে (আদাবুল মুফরাদ) আরও অসংখ্য হাদীসের মধ্যে কন্যা সন্তানের মর্যাদা এবং সম্মানের কথা বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
৩.স্ত্রী  হিসেবে নারীঃইসলাম নারীকে পারিবারিক জীবনে দিয়েছে তার ন্যায্য অধিকার। স্ত্রী হিসেবে একজন নারীর যে সব অধিকার রয়েছে,ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মে তা বিদ্যমান নেই। বরং নারী বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। আল্লাহ বলেন,তারা তোমাদের পোষাক এবং তোমরাও তাদের পোষাক (সুরা আল বাকারাঃ১৮৭).অন্যত্র আল্লাহ বলেন,তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করো। (সুরা নিসাঃ১৯).কুরআনে অন্য জায়গায় আল্লাহ বলেন,নারীদের উপর যেমন অধিকার রয়েছে পুরুষের,তেমনি রয়েছে পুরুষের উপর নারীর অধিকার।(সুরা বাকারাঃ২২৮).স্ত্রীর গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (স.) বলেন,উত্তম স্ত্রী সৌভাগ্যের পরিচায়ক (সহীহ মুসলিম) তিনি আরও বলেন,তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে উত্তম(তিরমিযী)।
 অন্য এক হাদীসে রাসুল(স.) বলেছেন,কোন মুমিন পুরুষ কোন মুমিন নারীর উপর রুষ্ট হবে না,কেননা যদি তার কোন কাজ কষ্ট মনে হয়,তাহলে তার এমন গুণও থাকবে যার উপর সে সন্তুষ্ট হতে পারবে (সহীহ মুসলিম) সুতরাং স্ত্রী হিসেব ইসলামে নারী জাতির মর্যাদা অত্যাধিক।
৪.বিবাহের অধিকারঃজাহেলী ও অন্যান্য ধর্মে বিবাহ একটি ঘৃণ্য প্রথা হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু ইসলাম বিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ও অধিকার প্রদান করেছে।রাসুল(স.) বলেছেন,প্রাপ্ত বয়স্ক নারীকে তার সম্মতি ব্যতিরেকে বিবাহ দেয়া যাবে না।ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত,আসমা নাম্মী এক মহিলার স্বামী একটি পুত্র সন্তান রেখে মারা যান। তখন মহিলার দেবর তাকে বিবাহের জন্য তার পিতার নিকট প্রস্তাব পেশ করেন,এমনকি ঐ মহিলাও তার দেবরের সাথে বিবাহ দেবার জন্য পিতাকে অনুরোধ করেন। কিন্তু পিতা তাতে সম্মত না হয়ে তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অপর ব্যক্তির সাথে বিবাহ দেন। অতঃপর মহিলাটি রাসুল(স.) এর নিকট গমন করে ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেন।রাসুল(সঃ)মহিলার পিতাকে ডেকে এনে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন। লোকটি(পিতা)বলল ঘটনা সত্য। আমি তাকে তার দেবরের চেয়ে উত্তম ব্যক্তির নিকট বিবাহ দিয়েছি।(সবকিছু অবগত হয়ে) রাসুল(স.)স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে মহিলার ইচ্ছানুযায়ী দেবরের সাথে বিবাহ দেবার জন্য পিতাকে নির্দেশ প্রদান করেন।তালাকপ্রাপ্তা এবং বিধবা নারীদের ও বিবাহের স্বাধীনতা রয়েছে ইসলামী শরীয়তে। কিন্তু অন্যান্য ধর্মে তাদের প্রতি উদারতা প্রদান করতে ব্যর্থ।
৫.পাত্র নির্বাচনের অধিকারঃইসলামে নারীর জন্য বৈধ পন্থায় মনঃপুত পাত্র  গ্রহণ করার অধিকার দিয়েছে।যে কেউ ইচ্ছে করলে বলপূর্বক কোন নারীর স্বামী হতে পারবে না। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,হে ইমানদারগণ তোমাদের জন্য জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হয়ে বসা বৈধ নই। (সুরা নিসাঃ১৯) তার মানি ইসলামে মহিলাদেরকে  স্বামী নির্বাচনের অধিকার প্রদান করা হয়েছে।এমনকি হযরত খাদিজা(রা.)রাসুল(স.) এর চরিত্রে,মাধুর্যে এবং সততায় মুগ্ধ হয়ে তার এক নারী সাথীর সাথে পরামর্শ করে রাসুল (স.) কে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের সমাজে পাত্র পছন্দের নাম দিয়ে অনেক অনৈতিক কাজ সংঘঠিত হয়ে যায়। যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। তথা নির্জনবাস করা যাবে না। সে জন্য রাসুল(সঃ)বলেছেন,যখন কোন নারী পুরুষ নির্জনে একত্রিত হয়,তখন সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি হয় শয়তান। (তিরমিযী) তাই পাত্র নির্বাচনের নামে নোংরামি করা অধিকার ইসলাম নারীদেরকে দেন নাই।
৬.মহরের অধিকারঃনারী পুরুষের মধ্যে বিবাহ বন্ধনকে একটা সম্মানজনক মর্যাদা দান করার নিমিত্ত এবং নারীর আত্নমর্যাদার স্বীকৃত স্বরূপ ইসলাম বিবাহের জন্য মহরানা অপরিহার্য করে দিয়েছে।বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর ওপর ফরজ। আল্লাহ বলেন,তোমরা সন্তুষ্ট মনে(খুশী মনে)স্ত্রীকে প্রাপ্য মোহর পরিশোধ করো (সুরা নিসাঃ০৪).মোহর স্বয়ং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত নারীদের প্রতি বিশেষ অধিকার। এটি স্বামী পরিশোধ না করা পর্যন্ত স্ত্রীর কাছে ঋণী।রাসু্ল(সঃ)বলেছেন,যে ব্যক্তি কোন নারীকে কম বা বেশী মোহর ধার্য করে বিয়ে করল,অথচ তার অন্তরে মোহরের সেই হক আদায়ের আদৌ কােন ইচ্ছা নেই,সেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে ব্যভিচারী হিসেবে উপস্থিত হবে।(মুসনাদে আহমদ) দাম্পত্য  জীবনে পদার্পণেরর পূর্ব মোহর একটি  গুরুতম বিষয়। স্বয়ং রাসুল কর্তৃক অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় পন্থা। সেই জন্য রাসুল(স.) নিজের কন্যা ফাতেমা(রা.) কে আলীর সাথে বিবাহ দিয়ার সময় মোহর হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন পাঁচশত দিরহাম। আজকের মুসলিম সমাজেও মোহরে ফাতেমীর রেওয়াজ বিদ্যমান রয়েছে।এর মানি এটা নয় যে,মোহরে ফাতেমী না হলে বিবাহ হবে না। এমনকি এরকম ধারণা নিচক কুসংস্কার বৈ অন্য কিছু নই। কেননা মোহরে ফাতেমী যদি সুন্নত হত তাহলে সাহাবায়ে কেরামেরা মোহরে ফাতেমীর কম বেশী মোহর ধার্য করে বিয়ে করত না।আর হযরত ওমরের যুগে যখন মুসলমানদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে,তখন সাহাবায়ে কেরামেরা তাদের সন্তানদের বিয়েতে মোহরে ফাতেমীর  চেয়ে অনেক গুণ বেশী মোহর ধার্য করে বিবাহ শুরু করেন। সুতরাং মোহর কম বেশী যাই হোক সবটুকু স্ত্রীর অধিকার।
৭.ভরণ-পোষণের অধিকারঃইসলামী শরীয়তে স্ত্রীকে বিবাহের পর তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বামীর উপর। এমনকি এটি স্ত্রীর প্রাপ্ত অধিকার যা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। যেমন আল্লাহ বলেন,সন্তানের পিতার উপর সন্তানের মায়ের জন্য অন্ন বস্ত্রের উত্তম পন্থায় ব্যবস্থা করা একান্ত দায়িত্ব।(সুরা বাকারাঃ২৩৩). অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,তোমরা স্ত্রীদের জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের ঘরে বাসস্থানের ব্যবস্থা কর.(সুরা তালাকঃ৬).রাসুল(স.)নির্দেশ দিয়েছেন যে,যখন তুমি খাবে তখন তাকেও খাওয়াবে,যখন তুমি পরবে তাকও পরাবে,চেহারায় কখনো প্রহার করোনা,তাদের সাথে সদাচরণ কর এবং পৃথক রাখতে চাইলে ঘরের মধ্যে রাখ।(আবু দাউদ)মহানবী(স.) বিদায় হজের ভাষণের এক পর্যায়ে বলছিলেন,অতএব তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর,কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে গ্রহণ করেছ এবং তোমরা আল্লাহর হুকুমে তাদের লজ্জাস্হানকে হালাল হিসেবে পেয়েছ।(সহীহ মুসলিম).
৭.শিক্ষার অধিকারঃইসলাম নারী পুরুষ উভয়কে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা করার অধিকার প্রদান করেছেন। বিশেষ করে ইসলামের প্রয়োজনীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাসুল(স.)বলেছেন,প্রত্যেক মুসলমানের উপর জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরজ।তিনি আরো বলেন,যখন মানুষ মারা যায় তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি জিনিষ ব্যতীত, এক.সদকায়ে জারিয়া,দুই.এমন জ্ঞান যা দ্ধারা উপকার অর্জন করা যায়,তিন.নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।
অন্য হাদীসে রাসুল(সঃ)বলেন,তোমরা আল্লাহর কাছে উপকারী জ্ঞানের জন্য প্রার্থনা কর এবং অনুপকারী জ্ঞান থেকে আত্মরক্ষার দোয়া কর।রাসুল(সঃ)আরো বলেন,পৃথিবীতে দুই শ্রেণির লোভী রয়েছে,যাদের উদর কখনো নিবারণ হয় না,এক.জ্ঞান অর্জনের প্রতি লোভী ব্যক্তি (আগ্রহী).তিনি যতই জ্ঞান অর্জন কুরুক না কেন তার জ্ঞানেরর উদর কখনো ভর্তি হয় না (এ ধরনের ব্যক্তি প্রশংশার দাবিদার).দুই,সম্পদেরর লোভী সেও যতই সম্পদ অর্জন করুকনা কেন তার সম্পদের উদর ভর্তি হবে না।আরো অসংখ্য হাদীসে পাকে জ্ঞানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।স্বয়ং রাসুলের কাছে নারীরা দ্বীন ইসলামের বিভিন্ন বিষয় জানার জন্য আসতেন।রাসুল(স.) ইন্তেকালের পরে মহীয়সী সহধর্মীনীগণকে হাদীসের রক্ষক বলে গণ্য করা হতো। তার মধ্যে হযরহ হাফসা,উম্মে হাবিবা,উম্মে সালমা,আয়েশা উল্লেখযোগ্য।তাই বলা যায় যে,শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার রয়েছে।
৮.কর্মক্ষেত্রে নারীঃবর্তমানে আমরা এমন একটা সময় অতিবাহিত করতেছি,যেখানে সবচেয়ে বড় ফেতনা হচ্ছে নারী। এমনকি প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার অত্যধিক। ইসলামে নারীকে কর্মক্ষেত্রে বাধা প্রদান করেনি। তবে কিছু শর্তের মাধ্যমে তারা কর্মক্ষেত্রে পদচারণা করবে।আল্লাহ তায়ালা বলেন,অতঃপর যখন তোমরা নামাজ শেষ করবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ  তালাশ কর,(সুরা জুমুআঃ১০).সুরা বাকারার ১৮৬ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন,আমি ব্যবসাকে হালাল করেছি এবং সুদকে হারাম করেছি।এখানে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে নারী পুরুষ সমভাবে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত। তবে নারীদেরকে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক চলার বিধান মেনে কর্মক্ষেত্রে যেতে হবে।অন্যথায় কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।
৯.শরীয়তের বিধান পালনের ক্ষেত্রে নারীঃইসলামের বিধিবিধান পালনের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের মধ্যে সওয়াবের কোন তারতম্য নেই।বরং পুরুষ কিংবা নারী তার আমলের বিনিময়ে জান্নাত ও জাহান্নমেরর অধিকারী হিসেবে পরিগণিত হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,আর যে ব্যক্তি কোন সৎকাজ করবে,সে পুরুষ বা নারী যাই হোকনা কেন,তবে যদি সে মুমিন হয়,তাহলে এ ধরনের লোকেরাই বেহেশতে প্রবেশ করবে এবং তাদের এক অনু পরিমাণ অধিকারও নষ্ট করা হবেনা।(সুরা নিসাঃ১২৪)
১০.সামাজিক কর্মকান্ডে নারী।জাহেলী ও অন্যান্য ধর্ম,সভ্যতাও মতবাদে নারী জাতির কোন সামাজিক মর্যাদা নেই। কিন্তু ইসলার এর পুরোপুরি বিপরীত। সামাজিক লেনদেন এবং অন্যন্য ক্ষেত্রে নারীর অধিকার প্রদানপূর্বক তাদের সাক্ষ্যদানের মর্যাদা প্রদানে আল্লাহ বলেন,নিজেদের পুরুষদের মধ্য হতে দুইজনকে সাক্ষী রাখো,যদি দুইজন পুরুষ পাওয়া না যায় তাহলে একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী হবে (সুরা বাকারাঃ২৮২).
১১.সম্পদের অধিকারঃজাহেলী ও অন্যান্য ধর্মে নারীকে তাদের প্রাপ্য সম্পদ থেকে বঞ্চিত করলেও ইসলাম তাদের প্রতি সদাচরণ করেছেন। ইসলাম নারীদেরকে তাদের সম্পদ বিভিন্নভাবে বন্ঠন করে। যেমন কন্যা,মাতা,স্ত্রী,দাদী,নামী প্রভৃতি হারে তাদের সম্পদ বন্টিত হয়। সুরা নিসার ১১,১২ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা উত্তরাধিকারীদের অংশ বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে আল্লাহ তায়ালা সম্পদ বন্ঠনের একটি নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন,যেমন আল্লাহ বলেন,পুরুষদের অংশ দুজন মেয়ের সমান(সুরা নিসাঃ১১).এছাড়াও আরো অনেক অধিকার রয়েছে,যেমন সহবাসের,সন্তান লালন পালনের,দুধ পান করার ইত্যাদি।               উল্লেখ্য যে,”কে তুমি নারী,কী তোমার মর্যাদা”এ সন্দর্ভে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম,দল ও মতবাদে নারী জাতীর মর্যাদা ও অধিকার সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যাতে পাঠকবৃন্দ কিছুটা হলেও উপকৃত হতে পারে।আর বর্তমানে নারী ফেতনা বিস্তারের ফলে অনেকে বলতে দুঃসাহস প্রকাশ করে যে,ইসলামে নারীদের অধিকার প্রদানে উদাসিনতা দেখিয়েছেন। আসলে কী তাই?তাদের তরে সংক্ষিপ্ত সন্দর্ভটি।বি:দ্রঃভুল মানুষের বৈশিষ্ঠ্য,মানুষ তার উর্ধ্বে নয়।তাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা/পড়ার অনুরোধ রইল।
              যবনিকাঃপৃথিবীতে বিরাজমান সৃষ্টির মধ্যে মানব জাতি অন্যতম। আল্লাহ মানব জাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মানব জাতি বলতে নারী পুরুষ উদ্দেশ্য। আল্লাহ তায়ালা উভয়কে বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ঠ্য ও অধিকারে ভূষিত করেন। যা ইসলাম ধর্ম ভিন্ন অন্য কোন ধর্ম,দল ও সভ্যতায় বিদ্যমান নেই। অত্র প্রবন্ধে তার সারসংক্ষেপ বর্ণনা করা হয়েছে।
লেখকঃ জাহেদুল ইসলাম বিন আনসারী।   শিক্ষার্থী- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Sharing is caring!

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2020/09/women.jpg?fit=306%2C165&ssl=1?v=1600892220https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2020/09/women.jpg?resize=150%2C150&ssl=1?v=1600892220culiveএক্সক্লুসিভমতামতউপক্রমণিকাঃএ বসুধা আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য সৃষ্টি নিয়ে সজ্জিত। যে দিকে থাকায় সে দিকে মহান রবের অপরূপ দৃশ্যই বিরাজমান। এ সুসজ্জিত ধরাতে একমাত্র সৃষ্টি যাকে আল্লাহ তায়ালা আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তা হচ্ছে মানব জাতি। এমনকি এ জাতিকে অপরূপ কাঠামোতে সৃজন করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ  বলেন,আমি মানুষকে সৃজন করেছি সর্বোত্তম...#1 News portal of Chittagong University