Sharing is caring!


একজন সুশান্ত সিং রাজপুত এবং আত্মহত্যার পিছনের গল্প

গতকাল ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ নামে এক ভদ্রলোক স্ট্যাটাস দিলেন মনখারাপ থাকলে,হতাশায় থাকলে, একা থাকলে তাকে মেসেজ দিতে, তিনি কথা বলবেন। আমি তার স্ট্যাটাস দেখে তাকে গতকাল মেসেজ দিলাম “আচ্ছা আমি আত্মহত্যা করতে চাই। কথা বলার সময় হবে?”। কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে গেলেও আমার মেসেজের রিপ্লাই উনি দেননি মানে ভদ্রলোকের কথা বলার জন্য সময় হয়নি। এখন যদি আমি আত্মহত্যা করি ভদ্রলোক হয়তো আমাকে নিয়েও একটি স্ট্যাটাস দিবেন যেমনটি তিনি সুশান্ত সিং রাজপুতকে নিয়ে দিয়েছেন। সেই স্ট্যাটাসে হাজার হাজার লাইক আসবে,হাজার হাজার কমেন্ট পড়বে। ফেমাস সে ব্যাক্তি আরো বেশি ফেমাস হয়ে যাবে কিন্তু তার আমার সাথে কথা বলার সময় হবেনা।

আমার ধারণা অনুযায়ী ফেমাস এবং আত্মকেন্দ্রিক এই দুই প্রকারের মানুষের অন্যদের জন্য সময় হয়না। সেলিব্রিটি টাইপ ফেমাস ব্যাক্তিদের সময় থাকেই না আর থাকলেও সে সময় শুধুই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যামে নিজেদের ঢাকঢোল বাজিয়ে শো অফ করায় ব্যস্ত।

অন্যদিকে আত্মকেন্দ্রিক ব্যক্তির কাছে নিজের স্বার্থ ছাড়া দুনিয়ার বাকি সব কিছুই তার কাছে নগন্য। তাকে আপনি যাই বলেন না কেনো ঘুরে ফুরে নিজের স্বার্থ হাসিল ছাড়া কিছুই বুঝবে না।

এই দুই প্রকারের লোকই আত্মহত্যার পিছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী। আর এর পর যদি আর কেউ যদি দায়ী থাকে তাহলে আমি বলবো সমাজে এক প্রকার লোক আছে যারা জগৎ এর সবকিছু নিয়ে ঠাট্টা মশকারি করে তাদের কথা।

আত্মহত্যার পিছনে সবচেয়ে বড় কারন হচ্ছে খারাপ সময়ে প্রিয়জন,আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের থেকে সময় না পাওয়া এবং উল্টো হতাশার কারন নিয়ে হাসাহাসির পাত্র হওয়া।

চাকরি পেয়ে যেই ছেলেটি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সবাই শত শত কমেন্ট করেছেন,ট্রিট চেয়েছেন কিন্তু একটা চাকরির জন্য দিকবিদিক ছুটেও চাকরি না পেয়ে যে হতাশ হয়েছে তাকে কি কখনো কি বলেছেন “লেগে থাক আজ নাহয় কাল হবে”

জিপিএ ৫ পাওয়া ছেলেটিকে স্ট্যাটাসে ট্যাগ দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন,দোয়া চেয়েছেন কিন্তু যে ছেলেটি পরীক্ষায় ফেল করে ডিপ্রেশনে ভুগছে তাকে স্বান্তনা না দিয়ে বরংতার ব্যর্থতা নিয়ে হাসি ঠাট্টায় মেতে উঠেছন।

নিজের সন্তানকে সব সময় সব বিষয়ে পাশের বাসার আরেকজনের সাথে তুলনা করেছেন,প্রতিযোগি বানিয়েছেন কিন্তু তাকে কখনো শেখাননি কিভাবে ভাল মানুষ হতে হয়।এসব করে তার মনে পরশ্রীকাতরতার বীজ বুনে দিয়েছেন আর তার ডিপ্রেশন বাড়িয়েছেন।

মহিলারা পাশের বাসার ভাবি থেকে দেখে ঈদ কিংবা পূজায় স্বামীর কাছ থেকে সবসময় দামী শাড়িটিই চেয়েছেন। দিতে না পারলে ঝগড়া করেছেন কিন্তু একবারও চিন্তা করে দেখেননি আপনার স্বামীর সে সামর্থ্য আছে নাকি। এসব করে নিজের স্বামীর ডিপ্রেশন বাড়িয়েছেন।

পুরুষরা শ্বশুর বাড়ি থেকে বিয়েতে যৌতুক কম দিয়েছে,কোরবানিতে গরু উপহার দেয়নি বলে বউকে দিনরাত হেয় করেছেন কিন্তু একবারও বুঝতে চাননি আপনার শ্বশুর এসব উপহার দিতে সক্ষম কিনা। এসব করে নিজের অর্ধাঙ্গীর ডিপ্রেশন বাড়িয়েছেন।

সুসময়ে ভালোবাসার অভিনয় করে প্রেমিক/প্রেমিকা হওয়ার ভং ধরেছেন কিন্তু অসময়ে তার হাত ছেড়ে দিয়ে চলে গেছেন। এসব করে আপনাকে যে মানুষটি ভালবাসে তার ডিপ্রেশন বাড়িয়েছেন।

সংসারে যে সন্তান বেশি টাকা দেয় মা-বাবারা তাকে একটু বেশিই খাতির যত্ন করেছেন যে দিতে পারেনি তাকে আদর,ভালবাসা থেকে বঞ্চিত করেছেন! আপনি আপনার সন্তানের ডিপ্রেশন বাড়িয়েছেন!

ডিপ্রেশন জন্ম নেওয়ার এরকম আরো শত শত উদাহারন দেওয়া যাবে কিন্তু এসব উদাহারন না দিয়ে ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষ গুলোকে তার কঠিন মূহুর্তে সময়, সঙ্গ দেওয়াই আসল কাজ।

আসলে ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষটির জন্য আমাদের যখনি সময় হয় ততক্ষণে হয়তো তার পরপারে যাওয়ার সময় পার হয়ে যায়। সুতরাং ফেসবুক সহ অন্যান্য সামজিক মাধ্যমে শো অফ না করে,অযথা সময় না দিয়ে বরংচ নিজের প্রিয় মানুষ, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবদদের সময় দিন,ভালবাসুন,যত্ন নিন। হয়তো আপনার কারনে কেউ একজন আত্মহননের পথ বেছে না নিয়ে আবারো স্বপ্ন নিয়ে বেচে থাকতে শিখবে 🙂

লেখাঃ-Papel Saha Pappu

Sharing is caring!

Saha PappuUncategorizedএকজন সুশান্ত সিং রাজপুত এবং আত্মহত্যার পিছনের গল্প গতকাল ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ নামে এক ভদ্রলোক স্ট্যাটাস দিলেন মনখারাপ থাকলে,হতাশায় থাকলে, একা থাকলে তাকে মেসেজ দিতে, তিনি কথা বলবেন। আমি তার স্ট্যাটাস দেখে তাকে গতকাল মেসেজ দিলাম 'আচ্ছা আমি আত্মহত্যা করতে চাই। কথা বলার সময় হবে?'। কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে...#1 News portal of Chittagong University