Sharing is caring!

গতকাল ৭ই জুন রাত থেকে ফেসবুকে আমাকে উদ্দেশ করে কিছু পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। এতে ‘চট্টগ্রামের মেয়রকে অবমাননা, শিক্ষা সফরে গিয়ে ল্যাপটপ চুরি এবং বিভাগের ছাত্রীদের যৌনহয়রানির অভিযোগে রাজীব নন্দীকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে‘ মর্মে অনেক পোস্ট আমার দৃষ্টি আকর্ষণ হচ্ছে। (মন্তব্যের ঘরে সংযুক্ত)


এই ব্যাপারে আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য, সম্প্রতি করোনাকালিন সময়ে ফেসবুকসহ নানান মাধ্যমে আমি সক্রিয়ভাবে কিছু বিষয় নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছি, প্রশংসাও করেছি। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অসহায়ত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। আমার চার বছরের শিশু সন্তানগত ১০ দিন ধরে চমেক হাসপাতালে ভর্তি আছে। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমি সঙ্গত কারণেই ক্ষুব্ধ ছিলাম।

.
কিন্তু গতকাল রাত থেকে ‘চুরি, যৌন হয়রানি বা অপরাপর অভূতপূর্ব অভিযোগগুলো সব সর্বৈব মিথ্যা, মানহানিকর এবং সংঘবদ্ধ প্রাচারণা। আমি এই কুৎসা ও অভিজ্ঞতার মুখোমুখি ইতিপূর্বেও হয়েছি। এসব নোংরা প্রচারণা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজনীতির অংশ। যারা আমাকে চেনেন, জানেন এবং কাজ করেন, তাঁরা জানেন যে ভাবমূর্তি ও ব্যাক্তিত্ববোধ নিয়ে সমাজে আমি চলি, আনন্দময় জীবন যাপন করি এবং শিক্ষকতার মত মহান ব্রতকে ধারণ করি, তাতে গত আট বছরে অভিযোগ তো দূরের কথা, এসব হাস্যকর কূটচার আমাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা ছিলো মাত্র। আমি এতে বিন্দুমাত্র লজ্জিত বা কুণ্ঠিত নই। কারণ, কারো কোন অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ জায়গায় পেশ করে বিচার চাওয়ার সিস্টেম বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে।

.
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, গতকাল ৭ই জুন চট্টগ্রামের মাননীয় মেয়র মহোদয়কে নিয়ে চট্টগ্রামের একটি অনলাইনে চট্টগ্রামেরমেয়রের ‘গাড়ি বিলাস’ প্রসঙ্গে একটি নিউজপোর্টালে সংবাদ ও ছবি ছাপা হয়। পরিবেশিত ওই সংবাদের শিরোনাম ও ছবি সম্পাদনা বিষয়ক ত্রুটির ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আমার এক শিক্ষার্থী একটি পোস্ট করে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো করোনাকালে মেয়রকে নিয়ে পরবেশিত সংবাদটি কিভাবে ক্লিকবেট সাংবাদিতায় পরিণত হলো সেটা তুলে ধরা। আমরা সংবাদটিরই ত্রুটি চিহ্নিত করতে মাননীয় মেয়র মহোদয়ের অনুসারীদের ক্ষোভের মধ্যে পড়লাম। ফলে সেটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

.
করোনাকালে সাংবাদিকতা বদলে যাওয়া নিয়ে এটি আমাদের চলমান গবেষণা কর্মেরই অংশ। ওই পোস্টে আমি এবং আমার গবেষণাসহকারী মাননীয় মেয়রের সম্মানহানি করিনি। তবে সেখানে মাননীয় মেয়র মহোদয়ের নামরের ধ্বনিগত মিলকে আমার শিক্ষার্থীর নামের সাথে মিলিয়ে মন্তব্য করেছি (আ জ ম = আইয়ু জ মর)। এটা করা আমার অনুচিত হয়েছে, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

.
আমি আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আমার প্রিয় শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হবেন না। কিন্তু, বিনা প্রমাণে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে ফেসবুকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে একজন শিক্ষককে অবমাননা করে, সেটি তো দুঃখজনক ও আপত্তিকর।

.
একজন শিক্ষক হিসেবে মাননীয় মেয়র মহোদয়ের নামের সাথে ধ্বনিমূলক মিল রেখে আমি যে মন্তব্যটি করেছিলাম (আ জ ম= আইয়ু জ মর) তা অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে। অথচ মাননীয় মেয়র নিজেই এটি নিয়ে আমাদের সাথে হাসি ঠাট্টা করতেন। আমি উনার প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক সম্পাদক হিসেবে একসময় কাজ করতে গিয়েও নানারকম খুনসুটি ও মজার সব অভিজ্ঞতা সমবায় করেছি। যাই হোক, আমাদের উক্ত পোস্টে চট্টগ্রামের মাননীয় মেয়র মহোদয়ের সম্মানহানি হলে আমরা দুঃখিত এবং পোস্টটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

.
উক্ত বিষয়টি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নিবেদিতপ্রাণ অনেক কর্মীদের মনোবেদনা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য দুঃখিত এবং অনুতপ্ত। তবে, বিনা প্রমাণে, মিথ্যা অভিযোগে, হুযুগে মেতে উন্মত্ত জনতার আদালত তৈরি করে দয়া করে আমাকে পিটিয়ে মারবেন না। অপপ্রচার বন্ধ করুন। ধন্যবাদ

চট্টগ্রামের মেয়র মহোদয়ের নামের বানানের বিকৃতির জন্য আমি দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

সোর্সঃ রাজীব নান্দীর ওয়াল থেকে

Sharing is caring!

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2020/06/rajib-nandi.jpg?fit=1024%2C576&ssl=1https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2020/06/rajib-nandi.jpg?resize=150%2C150&ssl=1culiveক্যাম্পাসমতামতগতকাল ৭ই জুন রাত থেকে ফেসবুকে আমাকে উদ্দেশ করে কিছু পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। এতে ‘চট্টগ্রামের মেয়রকে অবমাননা, শিক্ষা সফরে গিয়ে ল্যাপটপ চুরি এবং বিভাগের ছাত্রীদের যৌনহয়রানির অভিযোগে রাজীব নন্দীকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে‘ মর্মে অনেক পোস্ট আমার দৃষ্টি আকর্ষণ হচ্ছে। (মন্তব্যের ঘরে সংযুক্ত) - এই ব্যাপারে আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য,...#1 News portal of Chittagong University