Sharing is caring!


চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বড় কর্তার মেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে রীতিমতো রাজার হালে! চট্টগ্রাম নগরীর কাজেম আলী হাই স্কুলের যে কক্ষে ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা চলে, সেখানে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় একই বিষয়ের ‘পছন্দের’ শিক্ষককে। পরীক্ষার তিন ঘন্টাজুড়েই ওই শিক্ষক পাশে দাঁড়িয়ে ছাত্রীটির উত্তরপত্র সমাধানে ব্যস্ত থাকেন। পরীক্ষার সুবিধার জন্য নিয়ম ভেঙে ওই ছাত্রীর কক্ষে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষককে। এর মধ্যেই পরীক্ষা কেন্দ্রের ওই নির্দিষ্ট কক্ষে ঢুকে কিছুক্ষণ পর পর ছাত্রীর খোঁজখবর নেন পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই)।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট নয়টি বিষয়ের পরীক্ষা এভাবেই দিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ওই কর্মকর্তার এসএসসি পরীক্ষার্থী কন্যা। সরাসরি অভিযোগ পেয়ে সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের একটি টিম ঝটিকা সফরে যায় কাজেম আলী হাই স্কুলে। তারা স্কুলের দোতলায় ৩১ নম্বর কক্ষে গিয়ে ঘটনার সত্যতা দেখতে পায় সরাসরি। যথারীতি ওইদিনও যে বিষয়ের পরীক্ষা, সেই বিষয়ের শিক্ষক ওই কক্ষে পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তদন্ত টিম কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১০টি পরীক্ষাকক্ষে এমন ১০ জন পরীক্ষকের খোঁজ পায়, যারা যে বিষয়ে পরীক্ষা চলছে ঠিক ওই বিষয়েরই শিক্ষক। এমন ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে কেন্দ্র সচিবকে ওই দিনই মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ। উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

জানা গেছে, ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এমন কাণ্ড ঘটতে থাকলে এর দুই একদিন পর বেশ কয়েকজন অভিভাবক টেলিফোনে নালিশ জানায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবার্ডে। পরে অভিযোগের মাত্রা বাড়তে থাকলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ঘটনা তদন্তে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ এবং উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ঝটিকা সফরে গিয়ে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান। ভেতরে ভেতরে ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীনকে বোর্ড থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় ওই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কক্ষ পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য। নির্দেশনা অনুসারে বৃহস্পতিবারের (২০ ফেব্রুয়ারি) পরীক্ষায় পরীক্ষা কক্ষ ৩১ থেকে পরিবর্তন করে ৪১ নম্বরে নেওয়া হয়।

২০ ফেব্রুয়ারি সকালে কাজেম আলী হাই স্কুলের সামনের মাঠ।
২০ ফেব্রুয়ারি সকালে কাজেম আলী হাই স্কুলের সামনের মাঠ।

জানা গেছে, পরীক্ষক ছাড়াও ওই ছাত্রীর সহায়তাকারী হিসেবে পরীক্ষা কেন্দ্রেই পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকেন এসএসসি পরীক্ষার শুরু থেকেই। পরীক্ষা চলাকালে ওই উপ-পরিদর্শক (এসআই) কিছুক্ষণ পর পর পরীক্ষার হলে ঢুকে ওই ছাত্রীর কাছে গিয়ে সব ঠিকমতো পারছে কিনা এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর লাগবে কিনা দেখে আসেন।

ওই একই কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া একাধিক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক জানিয়েছেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে ওই ছাত্রীর কক্ষে প্রতিদিন প্রতি বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে কর্তব্যরত শিক্ষক ওই পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নের উত্তর বলে দিয়েছেন। কিছুক্ষণ পর পর একজন পুলিশ এসে পরীক্ষা কক্ষে ঢুকে ওই ছাত্রীর কাছে জানতে চান সব ঠিকমতো পারছে কিনা।

আরেক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পরীক্ষায় ওই পরীক্ষার্থীর বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশের উত্তর শতভাগ ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল ওই কক্ষের নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষকদের ওপর।’

আরেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওই পরীক্ষার্থীর চারপাশে একটা বলয় তৈরি করে রাখা হয়। প্রতিদিনের এমন কাণ্ডে আমাদের সন্তানদের পরীক্ষাও ভালোভাবে হয়নি। ঠিকমতো তারা মনোযোগও দিতে পারেনি। এভাবে তো হয় না। ক্ষমতা দেখিয়ে কি এমন করা যায় নাকি?’

এদিকে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কাজেম আলী স্কুলের সামনে ওই পরীক্ষার্থীর বাবা পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কিছু সদস্যকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় অন্তত ১১টা পর্যন্ত। এরই মধ্যে ওই কেন্দ্রে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবু হাসান সিদ্দিক।

কাজেম আলী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন পুরো ঘটনাটি প্রথম দিকে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে নেন। চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘যে ঝামেলাটা হয়েছে তা মিটমাট হয়ে গেছে। আর কোনো সমস্যা নেই। বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে ওই পরীক্ষার্থীর হল চেঞ্জ করে দেওয়া হয়েছে। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।’

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবু হাসান সিদ্দিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি অফিসিয়ালি তেমন কিছুই জানি না। একটু করে শুনেছি। তবে কখন কেন হয়েছে তার কিছুই জানি না। এখন বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘মৌখিক অভিযোগের পর চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে দেখি পরীক্ষা কক্ষে যে বিষয়ের পরীক্ষা সেই বিষয়ের শিক্ষক ওই কক্ষে পরীক্ষক হিসেবে ছিল। তখনই ব্যবস্থা নিয়ে তাদের চেঞ্জ করে দেওয়া হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন অভিভাবক বলেছেন যে ওই পরীক্ষার্থীর জন্য তাদের বাচ্চাদের ডিস্টার্ব হয়। তাই বাকি পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য রুম চেঞ্জ করে দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্র সচিবকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পূর্ণ করার জন্য বদ্ধপরিকর। একজনের জন্য যেন বাকিদের সমস্যা না হয়।’

একই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডর চেয়ারম্যান প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘পরীক্ষা পরীক্ষার বিধিমালা অনুসারে চলবে। এখানে যে-ই হোক প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ নাই।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি যখন জেনেছি তখনই ব্যবস্থা নিয়েছি। পরীক্ষক সহায়তা দিচ্ছে এটা ঠিক না। একজন এসআই পরীক্ষা কেন্দ্রের বারান্দায় হাঁটাহাটি করছিলো এই তো।’

প্রসঙ্গত, ৩ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা চলবে।

সিপি



Source link

Sharing is caring!

https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2020/02/kazem-ali-high-school-ssc-centre-additional-police-commissioner-Shyamal-Kumar-Nath.jpg?fit=700%2C400&ssl=1?v=1582195432https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2020/02/kazem-ali-high-school-ssc-centre-additional-police-commissioner-Shyamal-Kumar-Nath.jpg?resize=150%2C150&ssl=1?v=1582195432culiveআদার্সচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল,চবিচট্টগ্রাম নগর পুলিশের বড় কর্তার মেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে রীতিমতো রাজার হালে! চট্টগ্রাম নগরীর কাজেম আলী হাই স্কুলের যে কক্ষে ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা চলে, সেখানে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় একই বিষয়ের ‘পছন্দের’ শিক্ষককে। পরীক্ষার তিন ঘন্টাজুড়েই ওই শিক্ষক পাশে দাঁড়িয়ে ছাত্রীটির উত্তরপত্র সমাধানে ব্যস্ত থাকেন। পরীক্ষার সুবিধার জন্য...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University