Sharing is caring!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম অফ হওয়ার পর থেকে অনেকেই বিগত বছরগুলোতে ইম্প্রুভমেন্ট দেয়ার পর পরের বছর চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছে। এবছরও ঠিক একইভাবে ইম্প্রুভমেন্ট দিয়ে প্রায় সাড়ে এগারো হাজারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী চারটি ইউনিটে চান্স পেয়েছে।কিন্তু হঠাৎ গতকাল থেকে জানা যাচ্ছে এবার যারা ইম্প্রুভমেন্ট দিয়ে (যারা গতবার যোগ্য ছিল) অংশগ্রহণ করেছে তারা কিনা ভর্তি হতে পারবেনা কারণ সার্কুলারে নাকি তাদের ব্যাপারটা উল্লেখই আছে।
ভাইয়া-আপুরা আপনাদের কাছে আমি এবারের সার্কুলারের হুবহু লাইন তুলে ধরলাম।প্রুফ হিসেবে নিচে ছবি সংযুক্ত করলাম। সাথে ২০১৮ এর টাও দিয়েছি।
এবারের সার্কুকারে ভর্তির যোগ্যতাঃ
“যেসকল শিক্ষার্থী বাংলাদেশের যেকোন শিক্ষাবোর্ড এর অধীনে ২০১৬ বা ২০১৭ সালের মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষা এবং ২০১৯ সালের উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং যাদের নিম্নবর্ণিত যোগ্যতা ও ভর্তি নির্দেশিকায় উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইন্সটিটিউট/অনুষদ ভিত্তিক ভর্তির যোগ্যতা আছে তারা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে।
—এবার ইম্প্রুভমেন্টঃ
১ম কথা- ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক(সম্মান) শ্রেণিতে যারা ভর্তির জন্য যারা উচ্চমাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলাফলে আবেদনের যোগ্য ছিল না তবে ২০১৯ সালের উচ্চমাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায়(মানোন্নয়ন) অংশগ্রহণ করে যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা আবেদনের যোগ্য বিবেচিত হবে।

২য় কথা- এছাড়া ২০১৮ সালের মাধ্যমিক বা সমমান(মানোন্নয়ন) অংশগ্রহণকৃত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফলাফলে মানোন্নয়ন হলে তারাও আবেদনের যোগ্য বিবেচিত হবে।

এটিই হলো সম্পূর্ণ ভর্তি যোগ্যতা যা সার্কুলারে দেওয়া হয়েছিল।এখানে ইম্প্রুভমেন্ট নিয়ে ১ম টি-তে বলেছে যারা প্রথমবার অযোগ্য ছিল তারাই অংশগ্রহণ করতে পারবে।আবার ২য় টি-তে “২০১৮ সালের মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায়(মানোন্নয়ন) অংশগ্রহণকৃত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার মান উন্নয়ন হলে তারাও আবেদনের যোগ্য বিবেচিত হবে”। এখানে মাধ্যমিক লিখাটা আমাদের সকলের কাছেই ভুল হিসেবে ধরা হবে।কেন?কারণ এখানে লেখাই আছে ২০১৮ সালের শিক্ষার্থী।অতএব,১৮ সালের শিক্ষার্থী দ্বারা যদি মানোন্নয়ন বুঝায় তাহলে অবশ্যই এটি উচ্চমাধ্যমিক।আর এটি যে উচ্চমাধ্যমিকই বুঝাচ্ছে তা নিশ্চিত হওয়ার আরো একটা কারণ হচ্ছে এখানে মানোন্নয়নও লেখা আছে। একজন ২০১৮ সালে মাধ্যমিক দেওয়া মানোন্নয়ন শিক্ষার্থী তো এবার ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবেনা।
অতএব,এই লাইনটা পরে অবশ্যই বুঝা যায় যে এখানে মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
-তাহলে আজ এতদিন পর কেন আমাদের অযোগ্য বলা হচ্ছে?
-আর আমরা যদি অযোগ্যই হয় তাহলে কেন সার্কুলার প্রকাশ হওয়ার পর কোন সংশোধন করা হলোনা?
-আর আইসিটি সেলের যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে পরীক্ষার আগে কেন এটা নিউজ করা হলোনা?নিজস্ব ওয়েবসাইটে কেন নোটিশ দেয়া হলোনা?কেন পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে যখন আমাদের বিভিন কাগজপত্র যাচাই করার জন্য প্রায় একঘন্টা বসিয়ে রাখা হয় তখন আমাদের বলা হলোনা এই কথাটা?
-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইম্প্রুভমেন্ট এর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যারা বিগত বছর অংশগ্রহণ করেছে তারা আর পরিবর্তি বছর আবেদনই করতে পারেনা।তাহলে এখানেও কেন এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হলোনা?
-কেন আমাদের পরীক্ষা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হলো?
-কেন আবার রেজাল্টও দেয়া হলো?
উত্তর চাই।ভুল করেছে সংলিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তবে এর দায়ভার কেন আমাদের নিতে হবে? আমাদের তো কোন দোষ নেই।আমরা জীবনের কঠিন একটি বছর পার করে আসার পর কেন এমন হতাশার সম্মুখীন হবো?
আমাদের মধ্যে অনেকে গতবছর পারিবারিক সমস্যার কারণে বা আর্থিক সমস্যার কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।অনেক নিম্ন শ্রেনির পরিবারের ছেলেমেয়েরা খুব কষ্টে টাকা জমিয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য টিউশন খরচ জুগিয়েছে।অনেকে চান্স পাওয়ার পর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষাও দিতে যায়নি।অনেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি বাতিল করে ফেলেছে।
এতগুলো শিক্ষার্থীর জীবনটা এভাবে নষ্ট করবেননা প্লিজ। এটাই আমাদের শেষ সুযোগ,শেষ আশা।দয়া করে মানবিক দৃষ্টিতে বিচার করুন। পরিশ্রম এর ফল এভাবে শেষ করে আমাদের আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিবেন না প্লিজ।

-ইম্প্রুভমেন্ট দিয়ে চান্স পাওয়া পরীক্ষার্থী।

Sharing is caring!

https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/09/চবিতে-‘নিয়ম-না-মেনে’-সিন্ডেকেট-সভা-আহ্বানের-অভিযোগ.jpg?fit=750%2C422&ssl=1?v=1569607891https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/09/চবিতে-‘নিয়ম-না-মেনে’-সিন্ডেকেট-সভা-আহ্বানের-অভিযোগ.jpg?resize=150%2C150&ssl=1?v=1569607891culiveক্যাম্পাসক্যারিয়ারআত্মহত্যারচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম অফ হওয়ার পর থেকে অনেকেই বিগত বছরগুলোতে ইম্প্রুভমেন্ট দেয়ার পর পরের বছর চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছে। এবছরও ঠিক একইভাবে ইম্প্রুভমেন্ট দিয়ে প্রায় সাড়ে এগারো হাজারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী চারটি ইউনিটে চান্স পেয়েছে।কিন্তু হঠাৎ গতকাল থেকে জানা যাচ্ছে এবার যারা...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University