Sharing is caring!

সাবজেক্ট রিভিউঃ শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর) (২য় পর্ব)
#Institute_of_Education_and_Research (IER)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর) অন্যতম। যা ২০১২ সাল থেকে চালু হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে(যেমন:Education Science, Pedagogy etc)পরিচিত হলেও এর ডিগ্রিতে নেই কোনো পার্থক্য।এর ডিগ্রি নাম- Bachelor’s of Education(B.Ed.),Master’s of Education(M.Ed)
অন্যান্য বছরের ন্যায় গত বছরও ইংরেজির পর সাবজেক্ট চয়েজের দিক থেকে দ্বিতীয় ছিলো।
■■■অবস্থান■■■
জিরো পয়েন্ট থেকে উত্তর দিকের পথে সোহরাওয়ার্দী হলের মোড় থেকে পশ্চিমে সামান্য হেটে আবারও উত্তর দিকে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তা ভবন ও বহুল কথিত ভূতের বাড়ির সামনে দিয়ে দুই ধারে গাছের ছায়াবেষ্টিত পথ আপনাকে পৌছে দিবে গন্তব্যে।
ঝুপড়ির পার্শ্বস্থ সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলেই আপনি ঘন সবুজের সমারোহ দেখতে পাবেন(যেখানে বছরের একটি সময় কৃষ্ণচূড়া&সৌনালু ফুলের ছোঁয়া হয়ে উঠে স্বর্গপুরী)। পুরাতন কয়েকটি বিল্ডিং;যা বিশ্ববিদ্যালয় শুরুর প্রথমদিকের বিল্ডিং এবং নতুন একটি বিল্ডিং চোখে পড়বে।
■■■পড়াশুনা■■■
আপনারা যদি একবার আইইআরের কোর্স ও কারিকুলাম লক্ষ্য করার সুযোগ পান, তাহলে নিশ্চয়ই এর সমৃদ্ধি সম্পর্কে অবগত হবেন। কারণ এখানে পড়ানো হয় শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষার ভিত্তি, শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষাক্রম, জেন্ডার এডুকেশন, শিক্ষা গবেষণা, শিক্ষা মনোবিজ্ঞান, কম্পিউটার, বাংলা ও ইংরেজি। এগুলোর পাশাপাশি এখানে রয়েছে গ্রুপভিত্তিক পড়াশুনা।যা আপনার উচ্চমাধ্যমিক ব্যাকগ্রাউন্ড(বিজ্ঞান,ব্যবসাশিক্ষা,মানবিক)উপর নির্ভর করে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়তে হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইইআর রয়েছে নিজস্ব ডিবেটিং ক্লাব(আইইআরডিসি),কালচারাল ক্লাব,লাইব্রেরি।
■■■চাকুরির ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা■■■
●বর্তমানে ব্যাচেলর-অব-এডুকেশন বা বিএড ও মাস্টার্স অব এডুকেশন সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের চাকুরির ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীরা বিসিএস, বিসিএস (শিক্ষা), শিক্ষা মন্ত্রনালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,জেলা শিক্ষা অফিসার,উপজেলা শিক্ষা অফিসার,উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ইন্সট্রাক্টর, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটসমূহ(TTC), সরকারিভাবে পরিচালিত বিভিন্ন প্রজেক্ট,NAEM, NTRCA প্রভৃতি।
●যেহেতু বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সাবজেক্টিটি নতুন সেহেতু সেসকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।
●বেসরকারী প্রতিষ্ঠানেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও তাদের শিক্ষামূলক প্রকল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএড ও এমএড কোর্স সম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি চায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-Save the Children, US- Aid, AUS-Aid, UNESCO,UNECEF, CAMPE, ব্রাক, প্রশিকা, আহসানিয়া মিশন ইত্যাদি।
যারা বিএড ও এমএড কোর্স সম্পন্ন। মূলকথা বিএড ও এমএড কোর্স করা শিক্ষার্থীরা দক্ষতার সাথে কাজ করার কারণে দিন দিন শিক্ষা ক্ষেত্রে এসব শিক্ষার্থীদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।যদিও বাস্তবে আমরা ভিন্ন চিত্র দেখি। বাংলাদেশের অন্য অনেক কিছুর মতোই এটিও একসময় পরিবর্তিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করি।
■■■উচ্চ শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা■■■
শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বে উচ্চ শিক্ষার সুবিধা অনেক বেশি। প্রত্যেক বছর শিক্ষার্থীদের বিরাট একটা অংশ বৃত্তি নিয়ে উন্নত দেশে পড়াশুনা করতে যায়। এ ক্ষেত্রে অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, জাপান, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ভারতের নাম উল্লেখ যোগ্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষা বিজ্ঞান বিষয়ক বিভাগ, অনুষদ, ইনস্টিটিউট এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সেখানে বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। মূলত বৃত্তির বিষয়টা শিক্ষার্থীর চেষ্টার উপর নির্ভর করে।
উন্নত দেশে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষায় বৃত্তি দিয়ে থাকে এ গুলোর মাঝে রয়েছে- মোনাস ইউনিভার্সিটি; অস্ট্রেলিয়া, নরোজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব লাইফ সাইন্স; নরওয়ে, জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি; যুক্তরাষ্ট্র, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি; কানাডা, কলোম্বিয়া ইউনিভার্সিটি; যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশের নামি দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তির সুযোগ রয়েছে।
এখন নিশ্চয়ই আইইআর থেকে পাশকৃত শিক্ষার্থী শুধু স্কুল শিক্ষক হবেন, এমন সংকীর্ণ ধারণা থেকে আমরা বের হতে পেরেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামটিই বলে দেয় এর কাজ সম্পর্কে। শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করা হয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে(আইইআর)। তাই এখানকার শিক্ষার্থীরা একেকজন ক্ষুদে শিক্ষাবিদ হয়ে গড়ে উঠবে বলে আশা করা যায়। তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা (Practicum: Micro-Teaching) তাদের করে তোলে আরও সমৃদ্ধ।
■■■বাংলাদেশের অন্যান্য আইইআর সমূহ■■■
যেসকল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইআর রয়েছে- ঢাবি,রাবি,চবি,জবি,খুবি,নোবিপ্রবি,বিইউপি.
অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় বিএড কোর্স বিভিন্ন প্রইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। এখানে বিএড অনার্স, মাস্টার্স ও এক বছরের বিএড কোর্স ও এক বছরের এমএড কোর্স করানো হয়। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বিএড অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স করানো হয় এগুলো হল- দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। এছাড়া যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএড ও এমএড ১ বছরের কোর্স করানো হয় তাহল- এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাক ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ওয়াল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, সান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, রয়েল ইউনিভার্সিটি ও লিডিং ইউনিভার্সিটি।
এছাড়াও কিছু সরকারি টিচার্স কলেজে শিক্ষার উপর এমন অনার্স কোর্স চালু আছে।
এ হলো আমাদের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর)। এখান থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অবশ্যই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে করে তুলবে আরও শক্তিশালী, আরও ফলপ্রসূ।
[সংগ্রহীত&পরিমার্জিত]
আল-কাফি
আইইআর(২০১৮-১৯)
@culive2.com/himub
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Sharing is caring!

https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/07/hsc-results.jpg?fit=543%2C362&ssl=1https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/07/hsc-results.jpg?resize=150%2C150&ssl=1michilঅনলাইন এক্সামআইটিউদ্দীপনাএকাডেমিকক্যারিয়ারপরীক্ষা ও ফলাফলমজার তথ্যমতামতশিক্ষা#culive24.#cunews#চবি#cu admission2019-20,#Subject_Reviewসাবজেক্ট রিভিউঃ শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর) (২য় পর্ব) #Institute_of_Education_and_Research (IER) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর) অন্যতম। যা ২০১২ সাল থেকে চালু হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে(যেমন:Education Science, Pedagogy etc)পরিচিত হলেও এর ডিগ্রিতে নেই কোনো পার্থক্য।এর ডিগ্রি নাম- Bachelor’s of Education(B.Ed.),Master’s of Education(M.Ed) অন্যান্য বছরের...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University