Sharing is caring!

‘বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩’ লঙ্ঘন করে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিন্ডিকেট সভা আহ্বানের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ‘রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত’ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের বিরুদ্ধে।

নিয়মে শুধু উপাচার্য কিংবা আচার্য কর্তৃক নিয়োগকৃত ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করতে পারবেন বলা হলেও রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য হয়েও তিনি এ সভা আহ্বান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার এ বিশেষ সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নূর আহমদ।

শুক্রবার সন্ধায় বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘উপাচার্য (অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার) ম্যাম নিজ ক্ষমতাবলে এ বিশেষ সিন্ডিকেট সভা (৫২২ তম) আহ্বান করেছেন’।

কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করতে পারেন না। তবু তিনি (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার) শনিবার ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি’ সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেছেন।

তারা সভার এজেন্ডার চিঠি পেয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘তিনি কীভাবে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করলেন প্রশ্নটা আমাদেরও!’

সদ্যবিদায়ী চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর মেয়াদ শেষে গত ১৩ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিরীণ আক্তারকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এতে পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পযন্ত উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালনের কথা বলা হলেও রাষ্ট্রপতিকর্তৃক কোনো দায়িত্ব কিংবা সিনেট, সিন্ডিকেট, ফাইন্যান্স কমিটি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি, শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের নির্বাচনী কমিটির সভা আহ্বান করার কোনো নিদের্শনা দেওয়া হয়নি।

রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যের কাজ সম্পর্কে ইতিপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ‘রুটিন দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় উপাচার্য কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। বড় কোনো প্রজেক্টের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না তিনি। অভ্যন্তরীণ বদলি, নিয়োগ ও সিন্ডিকেটের বিষয়ে তার কোনো এখতিয়ার নেই। শুধু অন্য কোনো জরুরি বিষয় থাকলে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরমধ্যে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতারকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত রুটিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য পদে বা ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’

এ সব বিষয়ে কথা বলতে দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চবি উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক শিরীণ আখতারকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তার সহকারী ফোন রিসিভ উপাচার্য মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগ কেটে দেন।

এর আগে ২০১০ সালের ২৮ নভেম্বর দায়িত্বপালনরত অবস্থায় অসুস্থতাজনিত কারণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তৎকালীন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ আলম। এরপরই নিয়ম অনুযায়ী উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

কিন্তু রুটিন দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কোনো প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেমন সিন্ডিকেট, ফাইন্যান্স কমিটি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি, শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের নির্বাচনী কমিটির সভা আহ্বানসহ নানা সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় ২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর অর্থাৎ রুটিন দায়িত্ব পাওয়ার ১০ দিনের মাথায় তাকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় চ্যান্সেলর। রাষ্ট্রপতি ১৯৭৩ এর (১২) ২ ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক আলাউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যে দায়িত্ব দেন।

২০১০ সালের ২২ ডিসেম্বর অর্থাৎ ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হওয়ার ১৪ দিন পর টি চিঠি দিয়ে তাকে সিনেট, সিন্ডিকেট, ফাইন্যান্স কমিটি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি, শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের নির্বাচনী কমিটির সভা আহ্বান এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মূল সনদপত্রে স্বাক্ষর প্রদানের নির্দেশনা সম্বলিত একটি চিঠি দেওয়া হয়।

Sharing is caring!

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/09/চবিতে-‘নিয়ম-না-মেনে’-সিন্ডেকেট-সভা-আহ্বানের-অভিযোগ.jpg?fit=750%2C422&ssl=1?v=1569607891https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/09/চবিতে-‘নিয়ম-না-মেনে’-সিন্ডেকেট-সভা-আহ্বানের-অভিযোগ.jpg?resize=150%2C150&ssl=1?v=1569607891culiveএকাডেমিকক্রাইম এন্ড "ল"সিন্ডেকেট‘বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩’ লঙ্ঘন করে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিন্ডিকেট সভা আহ্বানের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ‘রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত’ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের বিরুদ্ধে। নিয়মে শুধু উপাচার্য কিংবা আচার্য কর্তৃক নিয়োগকৃত ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করতে পারবেন বলা হলেও রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য হয়েও তিনি এ সভা আহ্বান করেছেন বলে...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University