Sharing is caring!

পাহাড়ের গা-ঘেঁষে নির্মিত হয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়াম। এটি দেখলেই যে কারো নজর কাড়বে। নয়নাভিরাম ডিজাইনে তৈরি সুবিশাল এই ভবনটি উদ্বোধনের দুই বছরের মধ্য পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। যা বন্ধ রয়েছে ২৮ বছর যাবৎ।
আসবাবপত্র কিনতে খরচ হয়েছিল কোটি টাকা, তা এখন পুরোপুরিভাবে নষ্ট। বৃষ্টিতে খসে পড়ছে দেয়ালের আস্তর। কার্যকারিতা হারিয়েছে শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা। পানিতে নষ্ট হয়েছে ৫০০ ফুট লম্বা গ্যালারির প্ল্যাটফরম এবং ২০০ ফুট লম্বা মূল মঞ্চ। যেখানে এখন নিরাপদ বাসা বেঁধেছে পোকা মাকড়। সংস্কারের অভাবে এভাবেই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরকাড়া স্থাপত্য কেন্দ্রীয় অডিটরিয়াম।
শাটল থেকে নেমে জিরো পয়েন্ট থেকে সোহরাওয়ার্দী হলের মোড় হয়ে সেন্ট্রাল ফিল্ডের উত্তর দিকে এফ রহমান হলের পাশেই এ অডিটরিয়াম।
এখন এটি শিক্ষার্থীদের কাছে রহস্যময় ভবন। লোকমুখে এটি নিয়ে অনেক কল্পকাহিনী থাকলেও মূলত এটি বন্ধ হয়েছে নির্মাণজনিত ত্রুটির কারণে। এখানে ছাদ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ত, যা মেরামত করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
জানা যায়, ১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবার পর অডিটরিয়ামটি ১৯৭৮ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল করিমের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতি ও সাংস্কৃতির চর্চা প্রসারের লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সমূহ নির্বিঘ্নে পালন করতে নির্মাণ করা হয়। এটির নকশা প্রণয়ন করেছিলেন প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলাম।
২৮ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রীয় এ অডিটরিয়ামটি। বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর একাধিক সদস্য বলেন, অডিটরিয়ামটি বন্ধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চর্চা ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি এটি সংস্কার করে দ্রুত খুলে দেয়া হোক।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে স্বৈরাচার এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনে নিহত চবি ছাত্র মোজাম্মেলের নামে এটির নামকরণ করা হয় মোজাম্মেল অডিটরিয়াম। প্রায় ১২০০ আসন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এ মিলনায়তনটি ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর সংস্কার করা হয়নি। এর পর থেকেই বন্ধ রয়েছে অডিটরিয়ামের সকল কার্যক্রম।
প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৮তম ফাইন্যান্স কমিটির সভায় মিলনায়তনটি সংস্কারের জন্য ৬৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে এটি সংস্কারের দায়িত্ব পায় অ্যাকটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ২০০৬ সালে অধিক ব্যয়ের অজুহাত দেখিয়ে সংস্কার কাজ থেকে সরে দাঁড়ায় প্রতিষ্ঠানটি। অডিটরিয়ামটি চালুর জন্য পুনরায় ২০০৯ সালের অক্টোবরে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সভায় আরো একটি কমিটি করা হয়। ২০১১ সালে কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত কমিটি কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কেএম নুর আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। পরিকল্পনার বিষয়টি পরিকল্পনা দপ্তরের। আর্থিক বিষয়টি ফিন্যান্স কমিটি জানবে। কারিগরির বিষয়টি দেখবে প্রকৌশল দপ্তর। এগুলো জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

Sharing is caring!

https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/09/উদ্বোধনের-দুই-বছরের-মধ্যে-পরিত্যক্ত-ঘোষণা.jpg?fit=400%2C300&ssl=1?v=1568975810https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/09/উদ্বোধনের-দুই-বছরের-মধ্যে-পরিত্যক্ত-ঘোষণা.jpg?resize=150%2C150&ssl=1?v=1568975810culiveক্যাম্পাসকেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামপাহাড়ের গা-ঘেঁষে নির্মিত হয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়াম। এটি দেখলেই যে কারো নজর কাড়বে। নয়নাভিরাম ডিজাইনে তৈরি সুবিশাল এই ভবনটি উদ্বোধনের দুই বছরের মধ্য পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। যা বন্ধ রয়েছে ২৮ বছর যাবৎ। আসবাবপত্র কিনতে খরচ হয়েছিল কোটি টাকা, তা এখন পুরোপুরিভাবে নষ্ট। বৃষ্টিতে খসে পড়ছে দেয়ালের আস্তর। কার্যকারিতা...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University