Sharing is caring!

এবার চিকিৎসা খাতে জোর পদক্ষেপ নিতে চাইছে চীন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে এরই মধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে চীন। দেশটি এবার চিকিৎসায় ‘বিপ্লব’ আনতে চাইছে। ছবি: রয়টার্সএবার চিকিৎসা খাতে জোর পদক্ষেপ নিতে চাইছে চীন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে এরই মধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে চীন। দেশটি এবার চিকিৎসায় ‘বিপ্লব’ আনতে চাইছে। ছবি: রয়টার্সএবার চিকিৎসা খাতে জোর পদক্ষেপ নিতে চাইছে চীন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে এরই মধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে চীন। দেশটি এবার চিকিৎসায় ‘বিপ্লব’ আনতে চাইছে। শুধু নিজেদের জনগণের জন্যই নয়, একই সঙ্গে পুরো পৃথিবীর জৈবপ্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পে অগ্রগণ্য ভূমিকায় আসীন হতে চাইছে সি চিন পিংয়ের দেশ।

যদিও এ ক্ষেত্রে মূল প্রয়োজনটি সৃষ্টি হয়েছে চীনের ভেতর থেকেই। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক হিসাবে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে চীনের ২০ কোটি নাগরিকের বয়স হয়ে যাবে ৬০ বছর। বয়স্ক নাগরিকদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকায় চীনের এখন প্রয়োজন নানা ধরনের উন্নত ওষুধ ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রযুক্তি। এ ছাড়া বর্তমানে বিশ্বের প্রতি চারজন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর একজন চীনা। তাই দেশটি নিজস্ব সক্ষমতা তৈরির জন্য স্থানীয় ওষুধশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর সঙ্গে সঙ্গে জৈবপ্রযুক্তির নিত্যনতুন সুবিধাও কাজে লাগাতে চায় চীন। তাই জৈবপ্রযুক্তি–বিষয়ক ইউরোপ-আমেরিকার অসংখ্য স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছে দেশটি।

এত দিন মূলত পশ্চিমা বিশ্বে তৈরি উন্নত ওষুধ আমদানি করেই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে গেছে চীন। এর পাশাপাশি চীনের হাজার হাজার স্থানীয় ওষুধ কোম্পানি তৈরি করছিল ‘কপি-পেস্ট’ ওষুধ। অর্থাৎ উন্নত ওষুধের ফর্মুলার লাইসেন্স কিনে তা উৎপাদন করত চীনা কোম্পানিগুলো। কয়েক বছর ধরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসছে দেশটি। অন্যের ফর্মুলায় ওষুধ তৈরির পরিবর্তে গবেষণার মাধ্যমে চীন উন্নত ধরনের ওষুধ উদ্ভাবন করতে চাইছে। চীনের লক্ষ্য—এর মাধ্যমে একসময় ইউরোপ-আমেরিকার বাজারও দখলে আনা। বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, নিকট ভবিষ্যতে চীনেই সৃষ্টি হবে জৈবপ্রযুক্তির ‘পাওয়ারহাউস’।

চীনা প্রতিষ্ঠান ‘মাই বায়ো-মেড’। এই প্রতিষ্ঠানের সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকসন ঝু ওয়েইয়ান বলছেন, চীন উদ্ভাবনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয়কে সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে। অর্থাৎ জৈবপ্রযুক্তির সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির একটি সুষম মেলবন্ধন করার উদ্যোগ নিচ্ছে চীনারা।

অন্যের ফর্মুলায় ওষুধ তৈরির পরিবর্তে গবেষণার মাধ্যমে চীন উন্নত ধরনের ওষুধ উদ্ভাবন করতে চাইছে। চীনের লক্ষ্য-এর মাধ্যমে এক সময় ইউরোপ-আমেরিকার বাজারও দখলে আনা। ছবি: রয়টার্সঅন্যের ফর্মুলায় ওষুধ তৈরির পরিবর্তে গবেষণার মাধ্যমে চীন উন্নত ধরনের ওষুধ উদ্ভাবন করতে চাইছে। চীনের লক্ষ্য—এর মাধ্যমে একসময় ইউরোপ-আমেরিকার বাজারও দখলে আনা। ছবি: রয়টার্সফিলিপস কোম্পানির পক্ষ থেকে চলতি বছর ‘ফিউচার হেলথ ইনডেক্স’ নামের একটি সূচক তৈরি করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ডিজিটাল স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্য সব দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে চীন। এ ক্ষেত্রে টেলিহেলথ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করছে দেশটি।

দেশীয় ওষুধশিল্পকে এগিয়ে নিতে এরই মধ্যে এই খাতে চীন বিনিয়োগ বাড়িয়ে দিয়েছে। আইকিউভিআইএ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, ২০১৭ সালে ওষুধের বৈশ্বিক বাজারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোক্তা ছিল চীন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২২ সালের মধ্যে দেশটির ওষুধের বাজার ১৪৫ বিলিয়ন থেকে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ২০১৫ সাল থেকে ওষুধশিল্পের স্থানীয় বাজারে আমূল পরিবর্তন আনতে কাজ শুরু করে চায়না ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিডিএ)। ক্রমবর্ধমান বয়স্ক নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে প্রথমে দেশের বাইরে থেকে আনা উন্নত ওষুধগুলোর ছাড়পত্র দ্রুত দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কমিয়ে দেওয়া হয় আমদানি শুল্ক। এ ছাড়া স্থানীয় কারখানাগুলোর ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। এবার স্থানীয় ওষুধ উৎপাদনকারীদের জন্য ফের কঠোর নিয়মকানুন চালু করছে সিডিএ। এতে হয়তো অনেক চীনা কোম্পানি বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তবে চীনা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতি হলো—কিছুটা ক্ষতি স্বীকার করে হলেও উন্নত মান নিশ্চিতের রাস্তায় হাঁটা। বলা হচ্ছে, এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে লাভ হবে চীনেরই। কারণ, উন্নত মানের ওষুধ তৈরি করতে হলে গবেষণা বিভাগ জোরদার করতেই হবে। আর এই গবেষণাতেই মিলবে নতুন উদ্ভাবন। এক হিসাবে দেখা গেছে, বর্তমানে চীন তার মোট জিডিপির আড়াই শতাংশ খরচ করছে গবেষণায়।

এখন ওষুধসংক্রান্ত নানা লাইসেন্স চীন কিনতে শুরু করেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর শুধু চীনা জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোই ১৬৪টি আন্তর্দেশীয় লাইসেন্স কেনার চুক্তি করেছে। পাঁচ বছর আগের হিসাব ধরলে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। এই চুক্তিগুলো প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের। বিদেশি স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ দিনকে দিন বাড়াচ্ছে চীন। এর মধ্য দিয়ে দেশটি নতুন নতুন উদ্ভাবন করায়ত্ত করতে চাইছে, যাতে একই সঙ্গে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়। ঠিক একইভাবে বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তিগত স্টার্টআপেও চীন বিনিয়োগ বাড়িয়েছিল।

চীনের বেইজিংয়ে একটি জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন একজন কর্মী। ছবি: এএফপিচীনের বেইজিংয়ে একটি জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন একজন কর্মী। ছবি: এএফপিএত আলোর নিচে অন্ধকারও আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, চীনের বড় বড় শহরকেন্দ্রিক হাসপাতালগুলো যতটা উন্নত, শহরের বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি ততটা ভালো নয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অভাবও প্রকট। চীনের প্রতি ৬ হাজার ৬৬৬ জন নাগরিকের জন্য ১ জন চিকিৎসক রয়েছেন। অথচ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, মাথাপিছু দেড় থেকে দুই হাজার নাগরিকের জন্য একজন করে চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন। চীনের প্রত্যন্ত এলাকায় হাসপাতালের সংখ্যাও অপ্রতুল, কিছু ক্ষেত্রে শত শত মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে পৌঁছাতে হয় হাসপাতালে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই চিত্রের পরিবর্তন না হলে নতুন নতুন ওষুধ উদ্ভাবন করেও চীনের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার পরিপূর্ণ উন্নতি হবে না।

চীনে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। চায়না ক্যানসার ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ৭০ শতাংশের রোগ চিহ্নিত হয় এবং তার চিকিৎসা শুরু হয় একেবারে শেষ পর্যায়ে। সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন প্রাথমিক পরীক্ষায় এই রোগ আগেভাগে চিহ্নিত করা সম্ভব। কিন্তু উন্নত শহরগুলোর বাইরে থাকা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোয় এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। ফলে, সামগ্রিকভাবে চীনের স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির সুফল পাচ্ছে না দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিবাসীরা।

অবশ্য চীন সরকারও বসে নেই। ক্যানসার নিরাময়ের নিত্যনতুন গবেষণায় কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢালা হচ্ছে। এরই মধ্যে ক্যানসার নিরাময়ের জন্য ‘সিএআর-টি’ নামের একটি নতুন থেরাপি নিয়ে কাজ করছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। সুযোগ বুঝে তাতে বিনিয়োগ করছে পশ্চিমারাও।

এটি ঠিক যে চিকিৎসা খাতে ব্যাপক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে চীন। কিন্তু পরিবর্তনের গতি যতই থাকুক, তা কখনোই নিশ্চিত সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। নতুন নতুন ওষুধ বা জৈবপ্রযুক্তি উদ্ভাবন প্রক্রিয়াটি বেশ অনিশ্চিত। আশার কথা হচ্ছে, অনিশ্চিত জেনেও চীন এই পথে এগোতে শুরু করেছে। হয়তো একদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাদের চীনেই যেতে হবে!

Sharing is caring!

Jehin Tajowar MasudUncategorizedএবার চিকিৎসা খাতে জোর পদক্ষেপ নিতে চাইছে চীন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে এরই মধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে চীন। দেশটি এবার চিকিৎসায় ‘বিপ্লব’ আনতে চাইছে। ছবি: রয়টার্সএবার চিকিৎসা খাতে জোর পদক্ষেপ নিতে চাইছে চীন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে এরই মধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে চীন। দেশটি এবার চিকিৎসায় ‘বিপ্লব’...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University