Sharing is caring!

মোঃ এরশাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)

আমার জীবনে না ভোলার মতোই এক বন্ধনের চিরবিদায়। চট্টগ্রাম বিশ্বাবিদ্যালয়ে মামা নামে অধিক পরিচিত এই সহজসরল মানুষটি। নাম, মরহুম গোরা মিয়া, পিতা, মরহুম রাজা মিয়া। অপুত অভা টিঁয়া নতাইঁলি পরে দিস! ‘খাবারে তৃপ্তি আর আড্ডায় সমান সমান’ এটি ছিলো না ফেরার দেশে চলে যাওয়া মউয়ের (মামা) দোয়ানের ডায়লগ! কে এই মউ? কেনো তাকে নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এতো আলোচনা! একজন সামান্য দোকানদারের চলে যাওয়া কেনো হাজারো মানুষের হৃদয় গলিয়ে কান্নার আওয়াজ !

 

কারণ আছে, কলকাতায় যেমন; মান্না দে’র যেমন কফি হাউজ ছিলো আমাদের তেমনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মউর দোকান আছে! সেখানেও সোনালি বিকেল হারিয়ে যায়! কবি কবি চেহারা কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ নিয়ে অমলরা বসে থাকে! মুখোমুখি বসে বসে হাজারো ভালোবাসার কবিতা, গান রচনা হলো সেই মউর দোকানে। কাগজের রিপোর্টার মঈদুলরাও রোজ ভীড় করে! একদিন সুজাতারা ওখান থেকে হারিয়ে গিয়ে সুখি হয়! কারো কারো ঠিকানা রমারায়ের মতো পাগলা গারদে হয়! একদিন আমাদের থেকে চিরবিদায় নেয় সেই বিখ্যাত মউ (মামা)! কফি হাউজের মতো মউয়ের দোকানটা কেবলি পড়ে থাকে! সেখানে নতুন ছাত্র-ছাত্রী এসে প্রথমে খোঁজ নেয় মউর দোকান। আবার আড্ডা জমে! এক সাথে মিষ্টি স্বরে মেতে উঠে গান! হঠাৎ একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন চোখে জলপূর্ণ তরল পদার্থ ভেসে আসে সেই মউয়ের দোয়ানের মউ আর নেই। তখন চোখ টলমল করে উঠে! পুকুর ঘাটে বসে মোবাইল গুঁতাগুঁতি করছি এমন এক সময়ে বন্ধু আইয়ুব হোসেন বলল এরশাদ মউ নাকি ইন্তেকাল করছে! তখনই বিশ্বাস করেনি কারণ সকালে গুটি গুটি পায়ে হেটে হাসপাতালে যাওয়া সেই মামা এইভাবে বিদায় নিবে কল্পনা করতে পারিনি। লাশের গাড়ির আওয়াজ শুনে মনটা শিহরিত হয়ে ওঠে, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন মুখে উচ্চারণ করলাম। চ.বি’র হাজারো শিক্ষার্থী, অফিসের চাকরিজীবী চেয়ারে বসে থাকা মন দৌড়ে মউয়ের দোকানে চলে আসে! কতটুকু ভালবাসা থাকলে বাংলা অনুষদে পরীক্ষায় মউয়ের দোয়ান নিয়ে দশ নম্বরের একটি কবিতা লিখতে বলা হয় শিক্ষার্থীদের? সেই গুরা মিয়ে সওদাগর মউয়ের জানাজার পর মউয়ের দাফন সম্পন্ন করে ঘরে প্রবেশ করার আগে তখনি খবর পেলাম তার স্ত্রীও জানাজার একটু পর ইন্তেকাল করেছেন!

 

 

যে মউয়ের শোক পুরো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তথা বখতিয়ার ফকির বাড়ির মানুষ ভুলতে পারেনি একজন স্ত্রী কিভাবে ভুলবে? আবারো কোলাহল হবে! শাটল আসবে! শাটল যাবে! সেশন আসবে! সেশন যাবে! আড্ডা হবে! গান হবে! কবিতারা আসবে! মিটিং হবে! মিছিল হবে! তবুও সবকিছুর মধ্যে একটি শূন্যতা তৈরী হবে! তবুও অজানা জগতে সুখে থাকবে পুরনো ভালবাসার মানুষগুলো এই আশায় বুক ভরে উঠবে! (মামার দোকান) এর মালিক গুরা মিঞা প্রকাশ মউ তার মৃত্যুর সময় বয়স হয়েছিল ৭০ বছর, জন্ম ১৯৪৭ সাল। মৃত্যু ১৫/০৯/২০১৭ইং শুক্রবার- এ যেন স্বরণীয় করে চির নিদ্রায় স্বামী-স্ত্রী! স্বামী মারা যাওয়ার প্রায় ১০ঘন্টার ব্যবধানে চলে গেলেন স্ত্রী, অনেকে এটাকে স্বামী স্ত্রীর মহব্বতের টান বলে মন্তব্য করছেন যদিও বাঁচা মরা মহান সৃষ্টিকর্তার হাতে, উপজেলা হাটহাজারী ফতেপুর ৩নং ওয়ার্ড বখতিয়ার ফকির বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। যা ইতিহাস হয়ে থাকবে শুধু মউ মানে গোরা মিয়া, পিতা প্রীয় মুখ পুঁথি সাহিত্যে তার অন্য নাম যা এখনো স্মৃতির পাতায় চোখ মেলে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক-বর্তমান হাজারো শিক্ষার্থীর কাছে যার স্মৃতি ভালোবাসা অমরত্বো বাঁধা, তার মরজীবনও সুখের হোক। ভালো থাকুন পরপারে প্রিয় মউ অকালে চলে যাওয়া চ.বি’র মামা।

Sharing is caring!

https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/02/cu-mow.jpg?fit=600%2C338&ssl=1https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/02/cu-mow.jpg?resize=150%2C150&ssl=1culiveক্যাম্পাসচ.বি,মউর,শূন্যতামোঃ এরশাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) আমার জীবনে না ভোলার মতোই এক বন্ধনের চিরবিদায়। চট্টগ্রাম বিশ্বাবিদ্যালয়ে মামা নামে অধিক পরিচিত এই সহজসরল মানুষটি। নাম, মরহুম গোরা মিয়া, পিতা, মরহুম রাজা মিয়া। অপুত অভা টিঁয়া নতাইঁলি পরে দিস! ‘খাবারে তৃপ্তি আর আড্ডায় সমান সমান’ এটি ছিলো না ফেরার দেশে চলে যাওয়া মউয়ের (মামা)...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University