Sharing is caring!

বিশ্বের একমাত্র শাটল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের গর্বের একটি বিষয় শাটল ট্রেন। বর্তমানে পৃথিবীর আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সার্ভিস নেই। আগে একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রন্সিসকো ইউনিভাসির্টিতে।

চবিতে শাটল ট্রেন সার্ভিস শুরু হয় ১৯৮০ সালে। শাটলে করে চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে চবি ক্যাম্পাসে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত জোড়া ট্রেন চলাচল করে।এগুলো দিয়েই প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াত।

তবে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের তুলনায় শাটল ট্রেনের বগি সংখ্যা কম। অনেক কষ্টে গাদাগাদি করে আসা-যাওয়া করতে হয়। তবু শাটলের উপর বিরক্ত হয়েছেন, এমন লোক পাওয়াই ভার।

শাটল ট্রেনকে শুধু ট্রেন বললে ভুল হবে। একে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ বলা যায়। শাটলকে ঘিরে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কত যে সুখ-দুঃখের গল্প জড়িয়ে আছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। তবে এটি যে সবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

শাটল হলো বিনোদনের স্বর্গ আর ভালোবাসার রাজ্য। যেখানে প্রেম, গল্প, গান, পড়াশোনা চলে একইসঙ্গে। শাটলের প্রতিটি বগিতে আছে নিজস্ব বাদক ও গায়কদল। এই খ্যাত-অখ্যাত গায়ক ও বাদকদল প্রতিদিন আসা যাওয়ার সময় ট্রেনের দেয়াল চাপরিয়ে উচ্চস্বরে গান গেয়ে সারা বগি মাতিয়ে রাখেন।

বাংলা, হিন্দি, ইংরেজী,প্যারোডিসহ সব ধরনের গানের মূর্ছনায় কেউ ফোক, ভাটিয়ালি, আধুনিক, মাইজভান্ডারীও গায়। সর্বোপরি এসব শাটল সিঙ্গারদের সুরে মুখরিত থাকে পুরো শাটল ট্রেন।

সুর মিলিয়ে ওশানোগ্রাফি ডিপার্টমেন্টের সাফওয়া বিনতে সাইফ সুপ্তিও বলছিলেন, শাটলের বগি পিটিয়ে বেসুরে গলায় গান গাওয়া দলের মাতিয়ে রাখা পরিবেশ, কারো কারো চুলের গুচ্ছখানি এলিয়ে দেয়া শাটলের জানালার পাশে কাশবনের সঙ্গে মাখামাখি মুহূর্তগুলো যুগ যুগ ধরে চলতে থাকবে যতদিন শাটলের গল্প শেষ না হয়…।

বলছিলেন ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের মো. রিপন সরকার, আমরা কয়েক হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন চলাচল করি এই ট্রেনে। শাটল ট্রেনকে আমি চলন্ত বা ভ্রাম্যমাণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মনে করি। স্বপ্নীল হাজারো তরুণ – তরুণীর সুখ, দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রেম, বিচ্ছেদ, খুনসুটির চিরন্তন সাক্ষী হয়ে গ্রাম-নগর পেরিয়ে ছুটে চলেছে প্রতিনিয়ত। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের চবি ক্যাম্পাসের ঘুম ভাঙে শাটলের হুইসেলে। প্রতিটা চবিয়ানের মতো আমার কাছে শাটল মানে এক ভালোবাসার নাম।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুরাইয়া ইসলাম মিমির অনুভূতিটা এমন, সবুজে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হলেও অন্যতম প্রধান আকর্ষণ শাটল ট্রেন। প্রতিদিন হাসি, গল্প, আড্ডা, গান বাজনা নিয়ে ছুটতে ছুটতে উপস্থিত হই প্রিয় ক্যাম্পাসে। এই শাটল ট্রেনেই গড়ে ওঠে আমাদের একে অপরের বন্ধুত্ব, প্রেম, ভালোবাসা।

কেউ কেউ এখানে গান গাইতে গাইতে হয়ে যায় বিখ্যাত গায়কও। শাটল ট্রেন এমনই এক শিল্প। অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন এই শাটল ট্রেনের যাত্রী হওয়ার। পৃথিবীর একমাত্র শাটল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং শাটল ট্রেনের নিয়মিত যাত্রী হতে পেরে আমি গর্বিত। ভালোবাসি শাটল ট্রেন।

তবে পরিসংখ্যান বিভাগের কানিজ ফাতেমা অনেকটা অভিযোগের সুরে বলছিলেন, শাটল ট্রেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণসঞ্চারক, হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনের জানা-অজানা অসংখ্য গল্পের আঁতুড়ঘর। যেখানে হয়েছে নতুন নতুন ব্যান্ডের হাতেখড়ি, চবির বহু বছরের ঐতিহ্য। বর্তমানে শাটলের সঙ্গে যুক্ত করা মালবগি, সিট ধরার প্রতিযোগিতা, তদারককারীর অভাব আর অসতর্কভাবে ছাদে, ইঞ্জিনে, দরজায় ঝুলে যাতায়াত করতে গিয়ে ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ফলে প্রশ্ন উঠে নিরাপত্তার, পরিচ্ছন্নতার এবং প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় বগি-সংযোজনেরও।

প্রতিটি চবিয়ানের এখন দাবি, বগিবৃদ্ধিসহ শাটলের ত্রুটিসমূহ পর্যবেক্ষণ ও দূরীকরণ এবং নিরাপদ শাটল বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ।

আরবি বিভাগের হাবিব আযাদের অনুভূতিটা আরেকটু ভিন্ন, চট্টগ্রাম শহরেই বসবাস হওয়াতে শাটল ট্রেনের সঙ্গে পরিচয়। ইচ্ছাটা ওখান থেকেই। এখন তো নিয়মিত এতে চড়েই ক্যাম্পাসে যাই। একটু কষ্ট হলেও আমি উপভোগ করি। সিট ধরার জন্য ক্লাস শেষ করেই দৌড় কিংবা কাউকে অনুরোধ একটা সিটের জন্য। আবার কখনো কখনো অন্যদের জন্য সিট ধরা। সেজন্য ট্রিট দাবী। ট্রেনে বসে বন্ধুদের সঙ্গে হাসি, গান, গল্প সে এক ভিন্নরকম ভালোলাগা..!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর নিজের অজান্তেই মনের সঙ্গে মিশে গেছে শাটল, যা তারা নিজেরাই জানে না। ভাবতে ভাবতে কখন যে ট্রেন চলে আসে চবি জংশনে তা টেরই পাওয়া যায় না। এখানে জন্ম নেয় হাজারো স্মৃতি, যার শেষ নেই!

Source: dainikrangpur

Sharing is caring!

https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/02/বিশ্বের-একমাত্র-শাটল-চট্টগ্রাম-বিশ্ববিদ্যালয়.jpg?fit=600%2C400&ssl=1https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/02/বিশ্বের-একমাত্র-শাটল-চট্টগ্রাম-বিশ্ববিদ্যালয়.jpg?resize=150%2C150&ssl=1culiveক্যাম্পাসচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল,শাটলচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের গর্বের একটি বিষয় শাটল ট্রেন। বর্তমানে পৃথিবীর আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সার্ভিস নেই। আগে একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রন্সিসকো ইউনিভাসির্টিতে। চবিতে শাটল ট্রেন সার্ভিস শুরু হয় ১৯৮০ সালে। শাটলে করে চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে চবি ক্যাম্পাসে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University