Sharing is caring!

বায়োকেমিস্ট্রি অর্থাৎ প্রাণরসায়ন;প্রাণের সাথে রসায়নের সম্পর্ক।একটা জীবের দেহের সবরকম রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া,জীবদেহের গাঠনিক সবগুলো ইলিমেন্ট,জীবের প্রাণ রহস্য…এসব নিয়েই প্রাণরসায়ন।

আবার অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বা মলিকুলার বায়োলজি একজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাবে জীবের প্রাণ রহস্য উদঘাটনের একদম সূক্ষ্ম পর্যায়ে।একজন শিক্ষার্থী বিষদ জানতে পারবে ডিএনএ,আরএনএ,জিন,জিনোম,ভেক্টর,এন্টিবডি…এরকম আরো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বায়োমলিকুল সম্পর্কে।

তবে এই সাবজেক্টটা যেমন কঠিন,তেমন মজারও বটে।

আচ্ছা তাহলে কঠিন কেন সেটা আগে বলি….ইয়া বড় বড় স্ট্রাকচার,কেমিক্যাল ফর্মুলা,মেটাবলিক পাথওয়ে তোমাকে শিখতে হবে।অনেকগুলো বায়োমলিকুলের নাম তোমাকে মনে রাখতে হবে,অনেকগুলো রিঅ্যাকশন পড়তে হবে।অনেকগুলো ডেফিনেশন তোমাকে জানতে হবে।

কিন্তু বায়োকেমিস্ট্রির মজা কোথায় জানো?
তুমি যদি চিন্তা করতে জানো,তুমি যদি কল্পনা করতে জানো,তোমার মাথায় যদি অদ্ভুত অদ্ভুত খেয়াল আসে হুটহাট করে,তোমার যদি জানার আগ্রহ থাকে…তাহলে তুমি যথেষ্ঠ মজা পাবে এই সাবজেক্টে পড়ে।বায়োকেমিস্ট্রি তোমাকে চিন্তা করতে শেখাবে,ভাবতে শেখাবে,নতুন কিছু একটা করতে প্রেরণা যোগাবে।তুমি তোমার জীবনের রহস্যগুলোকে একটু একটু করে উদঘাটন করবে।তুমি তোমার নিজেকে জানবে।দারুণ না?

বায়োকেমিস্ট্রি পড়ে তুমি কী হবে?
প্রথমত,তুমি একজন বায়োকেমিস্ট।তোমার যদি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা হয়,সে সুযোগও আছে।তুমি যদি মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে কাজ করতে চাও,সেটাও তোমার পক্ষে সম্ভব।তুমি গাছ ভালোবাসো?তাহলে তোমার জন্য আছে প্ল্যান্ট জেনেটিক্স।তুমি একজন প্রাণীবিজ্ঞানী হতে চাও…সেটাও সম্ভব।

তুমি বায়োলজির যে সেক্টরেই কাজ করতে চাও না কেন….বায়োকেমিস্ট্রি তোমাকে সেই সুযোগটা করে দেবে।তোমাকে শুধু ধৈর্য্য ধরে পরিশ্রম করে যেতে হবে একটু।

অনেকেই এই সাবজেক্টে ভর্তি হবে মেডিকেলে ভর্তি হতে না পেরে।কিন্তু বিশ্বাস করো,ডাক্তার হতে না পারার আক্ষেপ তোমার মনে পুষে রাখার একটুও প্রয়োজন নেই।তুমি মানুষের রোগ সম্পর্কে জানবে।মানুষের ইমিউনো সিস্টেম সম্পর্কে জানবে।রোগের ওষুধ বা মেডিসিন সম্পর্কেও জানবে।যেসব রোগের কোন প্রতিষেধক বা ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয় নি…তুমি সেই রোগগুলো নিরাময়ের উপায় আবিষ্কারের চেষ্টা করবে।গত এক দশকে ফিজিওলজি বা মেডিসিনে যে সকল বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তাঁদের অধিকাংশই বায়োকেমিস্ট।এবার কেমিস্ট্রিতে যাঁরা নোবেল পুরস্কার পেলেন তাদের একজনের পরিচয়ও কিন্তু বায়োকেমিস্ট।

সম্প্রতি ইলিশের প্রাণরহস্য বা জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করলেন যে বিজ্ঞানী তিনিও একজন বায়োকেমিস্ট।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রির ছাত্র ছিলেন।

চবির বায়োকেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের ল্যাবরেটরি বা সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড এক্সিলেন্সে বর্তমানে ক্যান্সার ও এর সম্ভাব্য মেডিসিন নিয়ে রিসার্চ চলছে।

আমাদের ল্যাবরেটরিগুলোর নাম দিচ্ছি।তোমরা আশা করি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বায়োকেমিস্ট্রির রিসার্চ ওয়ার্কগুলো সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা করতে পারবা….
Laboratory of Microbial Biotechnology
Laboratory of Molecular & Structural Immunology
Laboratory of Eukaryotic Gene Expression & Function
Laboratory of Plant Genetics
Laboratory of Complementary & Alternative Medicine
Laboratory of Industrial Research

হ্যাঁ….এত কথা বললাম….এখন আসো জবের ব্যাপারে।কারণ,কোথাও না কোথাও গিয়ে আমাদের বাস্তববাদী হতেই হয়।বর্তমানে বায়োকেমিস্ট্রির ফিল্ড অনেক ভালো এবং দিন দিন এর পরিসর বেড়েই চলেছে।

তুমি যদি রিসার্চার বা বিজ্ঞানী হতে চাও তবে তোমার জন্য বাংলাদেশেই আছে BCSIR, BRRI, Icddr,b, Brac, Bangladesh Atomic Energy Comission, National Institute of Biotechnology-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

আর আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে ভালো রেজাল্ট বা রিসার্চ ওয়ার্কের উপর ভিত্তি করে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের বিদেশে স্কলারশিপ দেওয়া হয়।তোমার যদি রিসার্চের পাশাপাশি ট্রাভেলিং এর নেশা থাকে তাহলে তোমার জন্য এটা একটা পারফেক্ট সাবজেক্ট।

দেশের সব ফুড ইন্ডাস্ট্রি,ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি,কসমেটিক কোম্পানিগুলোতে তোমার বায়োকেমিস্ট হিসেবে চাকরির ভালো সুযোগ রয়েছে।

ফরেনসিক ল্যাবগুলোতে,ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কিংবা পুলিশ বা ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চে বায়োকেমিস্ট হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগও তোমার আছে।

আবার ভালো রেজাল্ট করলে তুমি তোমার যোগ্যতার মাধ্যমে হতে পারো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

আর তুমি যদি চাও বিসিএস দিয়ে ক্যারিয়ার গড়বে সেটাও তোমার পক্ষে সম্ভব।জেনারেল বা টেকনিক্যাল…যেকোন দিকেই তুমি যেতে পারবে।অবশ্য বিসিএসের টেকনিক্যাল ক্যটাগরিতে ডাক্তার,ভেটেরিনারিয়ানদের মতো বায়োকেমিস্টদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক কিংবা ব্যাংকার এরকম জব সেক্টরেও তুমি চাইলে কাজ করতে পারবে।

আর….চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি ডিপার্টমেন্টের প্রত্যেকটা মানুষ কিরকম সেটা আপাতত তোলাই থাক।একটা কথাই বলি…আমাদের ডিপার্টমেন্টকে আমরা বলি BMB-CU family…আর আমরা সংশ্লিষ্ট সবাই সেই ফ্যামিলির মেম্বার।

তোমরা যারা এই ফ্যামিলির মেম্বার হয়ে আসবে কিছুদিন পর তাদের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।
আর অবশ্যই একটা কথা বলব তোমাদের উদ্দেশ্যে…..”Welcome to our family…!” 

A. N. M. Shahriar Zawad
Department of Biochemistry & Molecular Biology,University of Chittagong.

রিভিউ আহ্বানের জন্য ধন্যবাদ Md. Arifuzzaman ভাইয়া!

Sharing is caring!

https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/01/bchm-mbio4.jpg?fit=370%2C280&ssl=1https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2019/01/bchm-mbio4.jpg?resize=150%2C150&ssl=1culiveক্যারিয়ারশিক্ষাপ্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান (Biochemistry & Molecular Biology),সাবজেক্ট রিভিউবায়োকেমিস্ট্রি অর্থাৎ প্রাণরসায়ন;প্রাণের সাথে রসায়নের সম্পর্ক।একটা জীবের দেহের সবরকম রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া,জীবদেহের গাঠনিক সবগুলো ইলিমেন্ট,জীবের প্রাণ রহস্য...এসব নিয়েই প্রাণরসায়ন। আবার অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বা মলিকুলার বায়োলজি একজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাবে জীবের প্রাণ রহস্য উদঘাটনের একদম সূক্ষ্ম পর্যায়ে।একজন শিক্ষার্থী বিষদ জানতে পারবে ডিএনএ,আরএনএ,জিন,জিনোম,ভেক্টর,এন্টিবডি...এরকম আরো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বায়োমলিকুল সম্পর্কে। তবে এই সাবজেক্টটা যেমন কঠিন,তেমন মজারও...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University