ছোটবেলা থেকে জীবনের কোন লক্ষ্য ছিলনা। গ্রামের একটি স্কুলের ফার্স্ট গার্ল হওয়ার সুবাধে আমার আব্বুর খুব শখ হয় তার মেয়ে ডাক্তার হবে। তারপর থেকে আমিও ডাক্তার হবো Aim in life লিখতে শুরু করলাম। ২০০৬ সালে একটি মেডিকেল কোচিংয়ে এডমিশন নিলাম। চিটাগাং আসার পর মনে হল ছোট পুকুর থেকে সমুদ্রে একটা মাছ ছেড়ে দিলে যেমন দশা হয় আমারও তেমন দশা হয়েছে। ২বার মেডিকেল ২বার ডেন্টাল এডমিশন টেস্ট দিলাম। অবশেষে বুঝতে পারলাম কোচিং এ গেলেই সফল হওয়া যায়না। সফলতার জন্য পরিশ্রম দরকার। ততদিনে মেডিকেল লক্ষ্য শেষ হল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় ভর্তি হলাম। পরিচিত-অপরিচিত যে শুনেছে science ছেড়ে বাংলায়!! ডিপার্টমেন্টে ক্লাস করতে গিয়ে টিচাররা সান্ত্বনা দেন- “আপনাদের প্রেম ছিল একজনের (মেডিকেল, বিবিএ..) সাথে, বিয়ে হয়েছে অন্যজনের (বাংলার) সাথে। এখন সংসার তো করতেই হবে! কি আর করা বাংলাকেই ভালবাসুন”। তিনটা বছর ভালবাসতে পারিনি। ক্লাসে যেতাম, আড্ডা দিতাম, সারাদিন fb তে কাটাতাম …. সেই এক লাইফ ছিল! অনার্স ফাইনালে উঠার পর হঠাৎ আমার কী যেন হল। যেভাবেই হোক ফার্স্ট ক্লাস পেতেই হবে! বড ভাইদের সাথে টইটই করা এই আমি ফার্স্ট ক্লাস পেয়েও গেলাম। তারপর হলের অনেকের দেখাদেখি বিসিএস কোচিং (কনফিডেন্স) এ ভর্তি হই। কোচিংয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সময় মনে হত মেডিকেলের মত পড়লে কিছুই হবেনা। আমার স্পষ্ট মনে আছে মেডিকেল কোচিংয়ে যে মেয়েটি ৯০ এর উপর পেত সেই চান্স পেয়েছে Dmc তে। সো যা হওয়ার হবে আমাকে ভাল করতেই হবে। fb, বড়ভাই, ছোট বোন, বন্ধু সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লাম। এর মধ্যে আব্বু stroke করেন। পড়ে থাকি দিনের পর দিন ঢাকার বিভিন্ন হসপিটালে। অবশেষে নিরুপায় হয়েই বাসায় আব্বুর ট্রিটমেন্ট শুরু করি। নিজে+পরিবারের সবাই হয়ে উঠলাম এক একটা ডাক্তার! দীর্ঘ ৭মাস সেন্সলেস থাকার পর ১জানু, ২০১৫ আব্বু চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে।

নিজেকে অসহায় আর অনেক অপরাধী মনে হতে লাগলো। এতবার বলার পরও আব্বু থাকতে বিয়ে করলাম না! তারপর প্রশ্ন কঠিন হওয়ার পরও টিকে গেলাম প্রিলিতে প্রিলির ৬দিন আগে পরিচয় হল বন্ধু পলাশের সাথে। দুই বন্ধু উঠে পড়ে লাগলাম যেকরেই হোক রিটেন টিকতেই হবে! প্রিলির রেজাল্টের পর কোচিং এর পরিচালক রাজু ভাই আমাকে দাড় করিয়ে বলেছিলেন ও ৯০% ক্যাডার। অনুপ্রেরণা পেলাম আরও বেশি। সারাদিন লাইব্রেরিতেই কাটাতাম। তারপর রিটেনে মাত্র ৬০৮৮ জন পাস করেছে শুনে ধরেই নিয়েছি আমার হবেনা। ম্যাথ পরীক্ষায় ১৫ তুলতে পারিনি, mental ability -র জন্যই মনে হয় পার পেয়ে গেলাম। রাজু ভাই+যেই দেখে তুমি ৯৯% ক্যাডার। একটাই কারণ বাংলা থেকে স্টুডেন্টই পাওয়া যায়না। ব্যাকগ্রাউন্ড সাইন্স হওয়ায় বিজ্ঞান মজা করেই পড়তাম। ভাইভা +রিটেনে এএসপি মান্না ভাইয়ের ক্লাস ফলো করেছি। এইদিকে মেয়ে হিসেবে সামাজিক, মানসিক torture যা যা পেতে হয় সবই হজম করেছি। ১৭আগস্ট psc ২১৫৮ জনকে সুপারিশ করে। আবারও ধরে নিলাম হবেনা আমার। যারা ম্যাথ ভাল করেছে তাদেরই হবে। কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত করে psc সুপারিশ করেছে আমাকে। শুধু বাংলা বিষয়ের জন্যই ক্যাডারশিপ পেয়েছি। কষ্ট লাগে আমার চেয়ে যোগ্য বন্ধু পলাশ, মাহফুজ ভাই যখন নন-ক্যাডারে থাকেন। অথচ আমি জানি ক্যাডারশিপ উনারাই ডিজার্ভ করেন। কিন্তু পদ স্বল্পতার জন্য আর ওদের বিষয়ে স্টুডেন্ট বেশি হওয়ার জন্যই ক্যাডার হতে পারেননি। যাই হোক বাংলায় যারা পড়াশোনা করছো একটুও মন খারাপ করোনা। ম্যাথস আতংক ছাড়াও বিসিএস হবে তোমাদের। আর ম্যাথস+সব বিষয়ে ভাল নম্বর তুলতে পারলে ভাল ক্যাডার পাবে। ৩৪ তম বিসিএসে আমি দেখেছি বাংলা থেকেই পররাষ্ট্র পেয়েছেন। এবারও অনেকেই এডমিন পেয়েছেন। ৩৫তম বিসিএসে আমি জেনারেল এডুকেশনে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। কৃতজ্ঞতা কনফিডেন্সের রাজু ভাই, মান্না ভাই, মাহফুজ ভাই, হাসিপু, সাথি আপু, জয়শ্রী দি, হাসান, রানা এবং বন্ধু পলাশের প্রতি। তোমরা না থাকলে এত কঠিন পথ মসৃণ হতো না আমার জন্য….. ফারজানা জেনি বাংলা বিভাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় [কার্টেসি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদ]

https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/11/চবি-কাটাপাহাড়.jpg?fit=960%2C639&ssl=1https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/11/চবি-কাটাপাহাড়.jpg?resize=150%2C150&ssl=1culiveউদ্দীপনাক্যারিয়ারচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল,ফারজানা জেনি,বিসিএস ক্যাডার  ছোটবেলা থেকে জীবনের কোন লক্ষ্য ছিলনা। গ্রামের একটি স্কুলের ফার্স্ট গার্ল হওয়ার সুবাধে আমার আব্বুর খুব শখ হয় তার মেয়ে ডাক্তার হবে। তারপর থেকে আমিও ডাক্তার হবো Aim in life লিখতে শুরু করলাম। ২০০৬ সালে একটি মেডিকেল কোচিংয়ে এডমিশন নিলাম। চিটাগাং আসার পর মনে হল ছোট পুকুর থেকে সমুদ্রে...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University