Sharing is caring!

রিন্টুর গল্পটি অতিমাত্রার দুঃখি এক মেয়ের। খুব সুন্দর একটি পরিবারে তার জন্ম অথচ অদ্ভুত জীবন নিয়ে বেড়ে উঠা। মানুষ কি স্বেচ্ছায় আত্নহত্যায় জড়িয়ে যায় নাকি পরিস্থিতি তাকে আত্নহত্যায় প্রলুব্ধ করে? মূল চরিত্রের আত্নহননের ইচ্ছাটুকুই বলে দেয় বাকি সব। সমাজের নিগূঢ় সত্যটাই গল্পাকারে তুলে ধরেছেন লেখক। সিইউনিউজ২৪.কম এর “বিশ্ব আত্নহত্যা বিরোধী দিবস” আয়োজনের আজকের অতিথি লেখক সাহস প্রকাশনী’র কর্ণধার, সব্যসাচী লেখক “সাহস রতন” এর  লেখাটি তুলে ধরলেন হৃদয় ইসমাইল।

রিন্টুর কথা
সাহস রতন

বুঝতে শেখার পর থেকেই শুনছি আমি নাকি কুফা। আমার জন্মের আগে আমাদের ফ্যামিলিতে টাকা পয়সার অভাব ছিলো না। কিন্তু আমি দুনিয়াতে আসার পর থেকেই সব গিরিংগি পাকিয়ে গেছে। কিছু থেকে কিছু হলেই মা’র নানারকম বিশ্রি কথা শুনতে হয়।

-তুই একটা কুফা। তুই পৃথিবীতে আসার পর থাইকাই আমার জীবনটা ওলট-পালট হইয়া গেছে। সর আমার সামনে থাইকা।
সারা দিনে অনেকবার শুনতে হয়। এইভাবে বেড়ে উঠেছি আমি। বাবা অবশ্য এসব কখনোই বলেন না। উল্টো মা’কে বকা দেন।
-তুমি ওরে এইসব কি বলতেছো, আশ্চর্য!
-আমি কি ভুল বলতেছি? ওর জন্মের পর থাইকাই একটার পর একটা গজব শুরু হইছে। প্রথমে গেল চাকরি। এরপর ব্যবসা, জমি, সব। আল্লায়ই জানে আরো যে কত দুর্গতি কপালে আছে।
-কিন্তু এইসবের জন্য ও দায়ী হইলো কিভাবে? প্রবলেম সৃষ্টির পেছনে ওর দায় কোথায়? তুমি মাঝে এমন সব কথা বলো না, কোনো মানে হয় না।
– সবাই যার যার ভাগ্য নিয়া দুনিয়াতে আসে। এইটা সাথে কইরা নিয়া আইছে গজব। মরেও না ইতরডা।
-চুপ করো। তোমার মাথার খারাপ হইয়া গেছে।

এসব শুনতে শুনতে আমার ভেতরটা পুড়ে গেছে। আমার মনটা ভেঙে গেছে। আমি সিক হয়ে গেছি। আমি বুঝি না এসবের জন্য মা কেন শুধু আমাকেই দায়ী করে সব সময়। আমার বড় বোন চিন্টু আপুর সাথে আমি এটা নিয়ে প্রায়ই কথা বলি।

-চিন্টু আপু। আমাকে বলো আমার কি দোষ!
-না আপু, তোমার কোনো দোষ নাই। বাবা ব্যবসায় মার খাইছে। জমি-জমা সব বিক্রি করতে হইছে তাও গুছাইয়া নিতে পারে নাই। হাতে টাকা পয়সা থাকে না তো। সেইজন্য মা সব সময় রাগ কইরা থাকে। আপু না ভালো, তুমি কিছু মনে কইরো না।
– কিন্তু বাবা ব্যবসায় মার খাইলো কেনো?
– তা তো জানি না।
– তাইলে এসবের জন্য মা আমাকে কেনো দোষ দেন।
– তোমাকে তো দোষ দেয় না। মা রাগ কইরা বলেন এইসব।
– কিন্তু বার বার শুধু আমাকেই কেন বলে? আমিই নাকি কুফা। আমার জন্যই নাকি বাবার চাকরি চইলা গেছে, ব্যবসা এত খারাপ হইছে। এইটা কি ঠিক?
– না এইটা ঠিক না।
-তাইলে মা সব সময় এইগুলো বলেন কেন?
– বললাম তো, কিছু মিন কইরা বলে নাই? এমনি রাগ কইরা বলছে।
– না। সব সময়ই আমার নাম ধইরা মা এইসব বলে। আমি তো এখন ছোট না। আমি সব বুঝতে পারি।
– কি! কি বুঝতে পারো?
– তোমরা কেউ-ই আমাকে পছন্দ করো না। মা না। বাবা না। মন্টু ভাইয়াও না। তুমিও না। কেউ আমাকে ভালোবাসো না। কারণ আমার জন্মের পর আমাদের অবস্থা খারাপ হইয়া গেছে। সেইজন্য মা আমাকে সহ্যই করতে পারেন না।
– না, এইটা ঠিক না। মার হয়তো মন ভালো ছিলো না সেইজন্য বলছে। টেক ইট ইজি আপু।
– একদিন বললে হয়তো, আই ক্যান টেক ইট ইজি। বাট এভরিডে দশবার বললে কি আর ইজি ভাবে নেওয়া যায় বলো?
– ঠিক আছে আমি মাকে বুঝাইয়া বলবো।
– তুমি তো অনেকবার বুঝাইয়া বলছো। বাবাও বলছে। তাও কি মা এইসব বলা বন্ধ করছেন? করেন নাই।
– দূর বোকা। এইভাবে বলে না। আসো এদিকে আসো। আমি তোমার চুলে বেণি কইরা দেই।
– চিন্টু আপু। আমাকে ভোলানোর চেষ্টা কইরো না। আমি কিন্তু ভীষণ আপসেট। তোমাদের এইসব দেইখা আর ভালো লাগে না। একদিন দেইখো, সবাইকে ছাইড়া কোথাও চইলা যাব।

চিন্টু আপু ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো। ছিঃ আপু! এইসব কি বলতেছো।
আমি আপুর বুকে মুখ লুকাই। আপু আমার মাথা ওর বুকে চেপে ধরে। মুখে গালে চুমু খায়। চুলে বিলি কাটে। আমার ভেতরটা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যেতে থাকে। আমি কিছুতেই নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। মনের অজান্তে ভেতরটা ভীষণ কেঁপে ওঠে আর চিন্টু আপুর জামার বুকের কাছটা ভিজে ওঠে আমার চোখের জলে।

আমি যখন ক্লাস ফাইভে তখন আরো একটা ব্যাপার আমার চোখে পড়ল। ছুটির দিনে বাসায় বসে পুরোনো এলবাম দেখছিলাম। এলবামে সবার বিভিন্ন বয়সের ছবি আছে। কিন্তু তিনটা এলবামের কোথাও আমাকে খুঁজে পেলাম না। এতো কেঁদেছিলাম সেদিন। কাউকে কিছু বলিনি।
তবে চিন্টু আপু আঁচ করলো কিছু একটা হয়েছে। ক্লাস থেকে ফিরে আমার রুমে এলো।
– কি রিন্টু, আপু কি হইছে, মুখ ভার কেন?
– না কিছু না
– আমাকে বলা যাবে না
– না
– ঠিকাছে, বলতে হবে না। কিন্তু তোমার চোখ মুখ এমন ফোলা কেন? কান্না করছো? কি হইছে?
– আচ্ছা আপু, ফ্যামিলি এলবামে আমার ছোটবেলার কোনো ছবি নাই কেন?
– কেন থাকবে না!
– সত্যি বলতেছি। তোমার, মন্টুর ছবি আছে, আমার একটাও নাই।
– তাই নাকি? আমি তো খেয়াল করি নাই। দেখি তো, এলবামটা নিয়ে আসো। তুমি চাপা মারছো না তো!
– সয়ার, বলছি। তুমিই চেক কইরা দেখো না।

এলবাম বের করে দেখাতেই চিন্টু আপু ভীষণ ধাক্কা খেলো। দু’তিন বার উল্টেপাল্টে দেখলো। দেখে আপুর মুখটা অন্ধকার হয়ে এলো। এর মধ্যে মা আমাদের রুমে চলে আসায় তখন আর এটা নিয়ে কোনো কথা হয় নাই।
কিন্তু এরপর আপুকে এই বিষয়টা নিয়ে মা-বাবা’র সাথে কথা বলতে শুনেছি। তবে আমার জন্য এটা ছিলো বিরাট একটা শক্। আমি বুঝতে পারলাম আমি আসলে এই পরিবারের কেউ না। বিশেষ করে মা আমাকে সহ্যই করতে পারেন না। পরিবারে আমি অপ্রয়োজনীয়। বোঝা।
কাজেই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এই বাসায়ই আমি থাকবো না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি এখান থেকে পালাবো। যেখানে আমার কোনো প্রয়োজন নেই ওখানে আমার থাকার দরকারই বা কি!

যতক্ষণ বাসায় থাকি, মা সারাক্ষণ আমাকে চোখে চোখে রাখে। মোবাইল হাতে নিয়েছি তো, ছুটে এসে হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেবে।
– এই বয়সে তোর মোবাইলে কি কাজ? কোথায় কারে ফোন করবি?
– আমার এক বান্ধবীকে ফোন করবো।
– কেন? কি কাজ?
– আছে কাজ আছে তোমাকে বলা যাবে না।
– ওরে আমার পণ্ডিত রে। কি এমন কথা তোর যে আমারে বলা যাবে না!
– আছে তুমি বুঝবা না।
– আমি বুঝবো না ক্যান্, তোরা কি এমন বিষয় নিয়া কথা বলবি যে আমি বুঝবো না। আমারে আগে বল, দেখি বুঝি কিনা, তারপর তোর বান্ধবীর সাথে কথা বলিস। বল আমারে।
– উফ্ অসহ্য!
– কানপট্টি বরাবর লাগামু একটা, ফাজিল কোথাকার। ভাগ এখান থেকে। মোবাইল মারাইতে আইছে। পড়ার টেবিলে যা।
– মা, আচ্ছা বলো তো তুমি আমারে সহ্যই করতে পারো না ক্যান্?
– তুই একটা কুফা এইজন্য।
আমি জন্মের সাথে সাথেই কুফা হইয়া গেলাম কিভাবে?
– কারণ তোর জন্মের পর থাইকাই আমার সংসারে অধঃপতন শুরু হইছে।
– তার জন্য আমার কি দোষ?
– তুই-ই দায়ী। তোর কপালের দোষেই এমন গজব পড়ছে আমাদের উপর।
– আমি তো নিজে নিজে জন্ম নেই নাই। আমার জন্ম হইছে তোমার আর বাবা’র দৈহিক মিলনের কারণে। তাইলে তোমরা দায়ী না হইয়া আমি দায়ী হইলাম কিভাবে?
– তোর এতো কথার জবাব দিতে পারবো না। তুই সর আমার সামনে থেকে।
– মা তুমি কিন্তু খামোখাই আমাকে দোষ দিতেছো। এর রেজাল্ট ভালো হবে না বলে দিলাম।
– আমারে চোখ রাঙ্গাস! তোর এতো বড় সাহস! অসভ্য, ইতর।
– মা তুমি কিন্তু বাড়াবাড়ি করতেছো। আমি এমন কিছু বলি নাই যে তুমি এমন আজে বাজে কথা বলতেছো।
– তোরে কইছি সামনে থেকে যাইতে, তুই দাঁড়াইয়া আছস ক্যান্, যা সর।

তাও আমি বেহায়ার মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ। রাগে আমার মাথার গরম হয়ে গেছে। চুল ছিড়তে ইচ্ছে করছে।
তবে মা’র এই রুদ্রমুর্তি আগে ছিলো না। কিন্তু ইদানিং মা কেমন যেনো হয়ে গেছেন।

আমি তখন মাত্রই ক্লাস সিক্সে উঠেছি। নতুন ড্রেস বানানো হয়েছে। টেইলারের কাছ থেকে ড্রেস নিয়ে ফিরেই আমাকে ডাকলেন মা।
– রিন্টু কই তুই? এদিকে আয় তো। ড্রেসটা পর। দেখি তো কেমন বানাইছে।
ড্রেস পরে মা’র সামনে দাঁড়ালাম। মা একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর চোখ ছলছল করছে। ঠোঁট কাঁপছে। মা’র মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু না বুঝেই আমিও কেঁদে দিলাম। মা আঁচলে চোখ মুছে আমাকে টেনে পাশে বসালেন।
– ধুর বোকা মেয়ে। কাঁদে না। তোকে খুব সুন্দর লাগছে এই ড্রেসে। যা খুলে ফেল। আর ধুইয়া শুকাইতে দে। পরে আমি ইস্ত্রি কইরা রাখবো।

আমার জন্য মা’র ভেতর এই যে ভালোবাসার প্রকাশ তা আমার কাছে একেবারে নতুন। আমি এই ভালোবাসার অনুভূতিটুকু হারাতে চাইলাম না। কাজেই আমি সারাদিন নতুন বানানো ড্রেসটা পরে মা’র চারদিকে ঘোরাঘুরি করি। মাঝে মাঝে খামোখাই মা’কে জড়িয়ে ধরি। মা শুধু শুধু আঁচলে চোখ মুছেন। আর হাসি চেপে আমাকে ধমক দেনÑ যাহ, বিরক্ত করবি না।
আমি বুঝতে পারি মা আমাকে ভালোও বাসেন আবার হয়তো কোনো কারণে ঘৃণাও করেন। আমি ভাবতে থাকি মা কেনো আমাকে সহ্য করতে পারেন না। এ প্রশ্নের উত্তর আমি তখন খুঁজে পাই নাই।
তবে বাবা সব সময় আমাকে খুব সাপোর্ট করতেন। আইসক্রিম আমার খুব প্রিয়। বাসায় ফেরার পথে প্রায়ই আইসক্রিম আনতেন আমার জন্য। এটা নিয়েও বাবাকে কথা শুনাতেন মা।
– আহারে, ছোট মেয়ের জন্য কত আল্লাদ! শুধু ওর জন্য নিয়া আসলা, বাকিরা কি দোষ করলো?
– আরে ও তো আর কিছু চায় না। আইসক্রিমই তো। আর একা তো খাবে না, সবাই মিলেই তো খাবে।
– তুমি জানো না, ওর জন্য কিছু আনলে এইটা ও আর কাউরে দিতে চায় না। বহুত বজ্জাত এইটা।
– তাই নাকি! রিন্টু, কাম হিয়ার। বাবা ডাকলেন আমাকে।
আমি আসতেই বললোÑ ইজ ইট ট্রু যে, তোমার জন্য কিছু আনলে তুমি সেটা চিন্টু মন্টুর সাথে শেয়ার করো না!
– কাভি কাভি
-কিঁউঁ?
-ভালো লাগে না
– নেহি-ই-ই-ই। দিস ইজ ব্যাড। এটা ব্যাড হেবিট মা। এখন থেকে, যখনই তোমার জন্য কোনো খাবার আনা হবে সেটা তুমি আপু ভাইয়ার সাথে শেয়ার করবে, কেমন।
আমি চুপ করে থাকি। আমার গলা আটকে আসে। খামোখাই কান্না পায়। আমার কিছুই ভালো লাগে না। কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করে আমার।

ইদানিং মা পুরোপুরি বদলে গেছেন। ডায়াবেটিস এবং প্রেসার অনেক বেড়ে গেছে। সারাক্ষণ উগ্র মেজাজে থাকেন। বাসায় সবার সাথেই খারাপ ব্যবহার করেন। তবে আমার উপর সবচে বেশি আক্রোশ। আমি একেবারে সহ্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি। ‘তুই একটা কুফা’ শুনতে শুনতে আমি নিঃশেষ হয়ে গেছি। বাসার পরিবেশটা আমার কাছে জেলখানার মতো মনে হয়। দম বন্ধ হয়ে আসে আমার। পালাবার পথ খুঁজি আমি।
এসময় পরিচয় হয় শ্যামলের সাথে। ওদের বাড়ি কুমিল্লা। থাকে চাচার বাসায়, মিরপুরে। শ্যামল এবার এইচএসসি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করছে। পরিচয়ের তিন মাসের মাথায় আমরা পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

শীতের এক বিকেলে কাউকে কিছু না বলে শ্যামলের হাত ধরে আমি বাসা থেকে বেরিয়ে এলাম। বেরুবার আগে চিঠি লিখে রেখে এসেছি। আমাকে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে নিষেধ করেছি। এরপর বাসার কারো সাথে আমার আর কোনো যোগাযোগ নাই। ইচ্ছেও করে না। একেবারেই যে মনে পড়ে না তাও না। তবে যতবারই মনে পড়েছে, চোখের সামনে ভেসে উঠেছে মায়ের অবজ্ঞা ভরা মুখ, বিদ্রুপ আর তুচ্ছতাচ্ছিল্য।

শ্যামলের পড়াশুনা চলছে। ওর পরিবার এখনো আমাদের বিয়েটা মেনে নেয়নি। তবে ওর চাচা-চাচি বেশ ভালো। দু’জনেই চাকরি করেন। ওখানেই আছি। আমার বয়সী মেয়ে আছে ওদের। চৈতি। আমাকে একদমই সহ্য করতে পারে না। সকাল দশটার মধ্যে সবাই যার যার কাজে বেরিয়ে যায়। এরপর সারাদিন আমি বাসায় একা। এই একাকিত্ব আমাকে খুব কষ্ট দেয়। আমি দরজায় সিটকিনি আটকে বসে বসে কান্না করি।

আমার পড়াশুনা আপাতত বন্ধ। পড়তে ভালোও লাগে না। শ্যামলের চাচা বলেছেন, কিছুদিন সময় নাও। মনস্থির করো। একটা বছর জীবনের জন্য বিরাট কোনো সময় না। আর আমিও এদিকে ভাইয়া-ভাবীর সাথে কথা বলে ওদেরকে ম্যানেজ করি। তারপর আবার নতুন করে শুরু কোরো।
এই করে কয়েক মাস কেটে গেছে। কিন্তু সবকিছুই দেখছি আগের মতোই। শুধু আমি বদলে গেছি। আমার শরীর বদলে যাচ্ছে। গত মাস থেকে আমার মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে। অপ্রাপ্ত বয়সে, সামাজিকভাবে বিয়ের আগেই গর্ভবতী হয়ে পড়েছি আমি।

ইদানিং বাসার কথা খুব মনে পড়ে। চিন্টু আপু, মন্টু, বাবা সবার কথা মনে পড়ে। তবে মা’র কথাই সবচে বেশি মনে পড়ে। আমার এখানে আর ভালো লাগছে না। বাসায় ফিরে যেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু যোগাযোগ করতে লজ্জা হয়। মনে মনে আশা করে আছি, কোনো একদিন কেউ এসে আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবে।
মাঝে মাঝে আত্মহননের কথা ভাবি। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয় এটা ঠিক না। যত সমস্যাই থাক, জীবন থেমে থাকবে না। আমাকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। নতুন করে একটা মাত্র সুযোগ পেলে আমি আবার পড়াশুনা শুরু করবো। যেভাবেই হোক আমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে।

নিজের অজান্তে মনের কথা আমার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে। বাবা মা আপু তোমরা কেউ এসে আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।


 

এইচ আই,চবি।

Sharing is caring!

https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/09/textgram_1504961429.png?fit=1024%2C1024&ssl=1https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/09/textgram_1504961429.png?resize=150%2C150&ssl=1Top Newsআদার্সইন্টারভিউউদ্দীপনাএক্সক্লুসিভক্যাম্পাসগল্পফিচারসাহিত্যরিন্টুর গল্পটি অতিমাত্রার দুঃখি এক মেয়ের। খুব সুন্দর একটি পরিবারে তার জন্ম অথচ অদ্ভুত জীবন নিয়ে বেড়ে উঠা। মানুষ কি স্বেচ্ছায় আত্নহত্যায় জড়িয়ে যায় নাকি পরিস্থিতি তাকে আত্নহত্যায় প্রলুব্ধ করে? মূল চরিত্রের আত্নহননের ইচ্ছাটুকুই বলে দেয় বাকি সব। সমাজের নিগূঢ় সত্যটাই গল্পাকারে তুলে ধরেছেন লেখক। সিইউনিউজ২৪.কম এর 'বিশ্ব আত্নহত্যা...#1 News portal of Chittagong University