you must know about fb rules

ভূমিকা

একথা স্বীকার করতেই হবে যে ফেসবুক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে গিয়েছে। ফেসবুক ছাড়া একটি দিন চলে না এমন মানুষের সংখ্যা এখন নেহাত কম নয়। ফেসবুক ব্যবহারে আমরা তো সবাই অনেক পটু, কিন্তু ফেসবুকের ম্যানার বা ভদ্গুরতা গুলো কি আমরা জানি? হয়তো ভাবছেন ফেসবুকের আবার ম্যানার কিসের, ব্যবহার করতে পারলেই তো হলো! এই ধারণা কিন্তু একদম ভুল! সমাজে চলতে হলে আমাদের যেমন কিছু ভদ্রতা জানতে হয়, সামাজিক সাইটগুলো ব্যবহার করতেও কিন্তু কিছু ভদ্রতা জানা জরুরী। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ফেসবুকে কি করা উচিত আর কি করা একেবারেই অনুচিত।

প্রাইভেট মেসেজ বা কথা গুলো ওয়ালে পোস্ট না করে ইনবক্সে দিন

দেয়ালেরও কান আছে! ফেসবুক ওয়ালে আপনি যখন ব্যক্তিগত কথা শেয়ার করেন তখন সেটার কোনো প্রাইভেসি থাকেনা। তাই প্রাইভেট কথা থাকলে সেটা ইনবক্সেই পাঠানো উচিত। আপনার “প্রাইভেট” কথা-বার্তা গুলোতে আপনার অন্যান্য ফেসবুক বন্ধুদের বিরক্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

পোস্ট শেয়ার করার আগে ভেবে নিন কি দিচ্ছেন

ফেসবুকে নানান পেশা, বয়স, সামাজিক মর্যাদা ও সম্পর্কের বন্ধু থাকে। তাই স্ট্যাটাস বা কোনও পোষ্ট শেয়ার করার আগে ভেবে নিন সেটা পোস্ট করা উচিত হবে কিনা। অশ্লীল কোনও ছবি বা অশালীন ভাষাযুক্ত কোনও পোস্ট দেয়া ফেসবুকের জন্য অভদ্রতা।

জরুরী ব্যক্তিগত নিউজ দিতে কল করুন

কাউকে যদি কোন জরুরী ব্যক্তিগত নিউজ দিতে হয় যেমন মৃত্যু সংবাদ বা পারিবারিক ইস্যু তাহলে সেটা ফেসবুকে না দিয়ে মোবাইলে কল করুন। কারণ নিউজটা জরুরী হলে যাকে দিচ্ছেন তিনি যদি ফেসবুকে বসার সময় না পান তাহলে তিনি সেটা মিস করে ফেলবেন। তাছাড়া আপনার ব্যক্তিগত কথা অন্য বন্ধুদের চোখে পরলে তারা বিরক্ত হতে পারে।

কমেন্ট ও প্রশ্নের উত্তর দিন

আপনার ছবিতে বা কোনো পোস্টে কেউ কোন প্রশ্ন করলে সেটার উত্তর দিন। অনেকেই আছেন প্রশ্ন দেখেও উত্তর না দিয়ে কেবল একটা লাইক দেন। কিন্তু এটা অভদ্রতা। কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়া উচিত এবং প্রশংসা করলে অবশ্যই ধন্যবাদ দেয়া উচিত।

ভাষা ও ইমোকন ব্যবহারে সতর্ক হোন

ফেসবুকে বেশ কিছু ইমোকন আছে। এগুলোর ব্যবহার না জেনে আন্দাজে যাকে তাকে দিয়ে দিবেন না। একটু মুরুব্বী গোছের কারো সাথে কথা বলতে গেলে ইমোকন ব্যবহার না করাই ভালো, তাঁদের সাথে ভদ্রতা সূচক কথা বার্তা বলাটাই শ্রেয়। আর বন্ধুদের সাথে কথা বলার সময় কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ইমোকন ব্যবহার করুন। আর ক্যাপিটাল লেটার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। কারণ চ্যাট করার সময় ক্যাপিটাল লেটার ব্যবহার হলে সেটা জোর দিয়ে বলতে চাইছেন বুঝায়।

অপরিচিতদের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট গ্রহণ করবেন না

ফেসবুকে অপরিচিত অনেকেই বন্ধু হতে চায়। কিন্তু একেবারেই জানা শোনা না থাকলে বন্ধুত্ব করা ঠিক হবে না। কারণ সবার উদ্দেশ্য কেবল মাত্র বন্ধুত্ব নাও হতে পারে। অপরিচিত মানুষকে বন্ধু বানালে বিপদে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। একই ভাবে আপনিও অপরিচিতদেরকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাবেন না। কারণ এতে আপনার ভাব-মূর্তি নষ্ট হতে পারে।

অযথা ট্যাগ করবেন না

প্রয়োজনীয় ছবিতে অযথা আপনার বন্ধুদের কে ট্যাগ করা উচিত না। কারণ কোনো ছবিতে ট্যাগ করলে সেটা আপনার বন্ধুর নিউজ-ফিডে দেখায়। এতে আপনার বন্ধুটি বিরক্ত ও বিব্রত হতে পারে।

নিজের ঢোল নিজে পেটাবেন না

অনেকেই আছেন যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন নিজের ঢোল নিজেই পেটানোর জন্য। স্ট্যাটাস ও পোস্টে নিজের গুণগান করতে ব্যস্ত থাকেন অনেকেই। এটা খুবই দৃষ্টিকটু।

ফেসবুকে ভালোবাসা প্রকাশ করবেন না

আজকাল অনেক দম্পতি বা প্রেমিক যুগলকেই দেখা যায় যে পাশাপাশি বসে থেকেও ফেসবুকের ওয়াল পোস্টে ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। আপনার পোস্টটি হয়তো আপনার সঙ্গীর ভালো লাগছে কিন্তু একবার ভেবে দেখুনতো আপনার বাকি বন্ধুরা কি বিব্রত হচ্ছে কিনা? ভালোবাসা প্রকাশ করতে হলে অনলাইনে কেনো সরাসরিই বলে ফেলুননা।

অন্যকে খোঁচা দিয়ে স্ট্যাটাস দেয়া

আজকাল অহরহ দেখা যাচ্ছে একজন আরেকজনকে খোঁচা দিয়ে বা আক্রমণ করে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। কাউকে কিছু বলতে হলে সরাসরি বলুন। আপনাদের তিক্ত সম্পর্ক সারা পৃথিবীকে জানানোর কি দরকার বলুন? সবকিছুরই ভালো এবং খারাপ দিক দুটাই আছে। ফেসবুক সামাজিক সম্পর্ক গভীর করছে আবার ঠিক তেমনই ভাঙছেও। অনেকেই না জেনে ফেসবুকে এমন কিছু করে বসে যে শেষ পর্যন্ত সে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ফেসবুক ব্যবহারের আগে এর আদব কায়দাগুলো জেনে নেয়া উচিত।

কপি-পেস্ট করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া

ফেসবুকে অনেকে কষ্ট করে মাথা খাটিয়ে পোস্ট করে। আবার অনেকেই সেই পোস্ট কপি-পেস্ট করে নিজের নামে চালিয়ে দেই। এটি করা একেবারেই উচিত না। আপনি ঐ পোস্ট/ছবি কপি করার আগে তার অনুমতি নিন। নাহলে অন্তত পোস্টের পড়ে তার নাম উল্লেখ করে দিন। মনে রাখবেন আপনার প্রোফাইল হলো আপনার জীবনের একটা প্রতিবিম্ব। নিজের মাথায় যা আছে তা দিয়েই পোস্ট করুন। অতিরিক্ত লাইক-কমেন্ট পাবার আশা ছাড়ুন। পেইজ এডমিনদের বলছি দয়া করে কারো পোস্ট নিজের নামে চালিয়ে দেবার আগে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন।

ইভেন্টে যোগ দেবার আগে কাজ সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিন

ফেসবুকে অনেক ইভেন্ট খোলা হয়। এসব ইভেন্টেরও অনেক আদব কায়দা আছে। কোন ইভেন্টে যোগ দেবার আগে তার কাজ সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিন। আপনি কোন ইভেন্ট খুললে ফ্রেন্ড লিস্টের সবাইকে ইনভাইট না করে শুধু যাদের আগ্রহ আছে মনে হয় শুধু তাদেরকে ইনভাইট করুন। অনেক ফেইক ইভেন্ট দেখা যায় যেখানে বলা হয় আপনাকে ফ্রি মোবাইল,টাকা বা অন্য পুরস্কার দেওয়া হবে। আপনাকে ইভেন্টে যোগ দিয়ে তারপর বন্ধুদের যোগ করতে বলা হবে। যে যত ফ্রেন্ড যোগ করতে পারবে তার পয়েন্ট তত। এভাবে পুরষ্কার পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। সাবধান !! এসব ইভেন্টে জীবনেও জয়েন করবেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো বানানো হয় কোন ওয়েবসাইট,গ্রুপ বা কোনকিছুর প্রসার বাড়ানোর জন্য। অনেক ক্ষেত্রে এসব ইভেন্টের লিঙ্কে স্প্যাম/ক্ষতিকর সফটওয়্যার দেওয়া হয়। এভাবে আপনার একাউন্ট দখল হয়ে যেতে পারে। এসব দেখে লোভে ফাদে পা না দিয়ে সুন্দর করে ইভেন্ট রিপোর্ট করে দিন,যে এটা খুলছে তার আইডিও রিপোর্ট করুন। হাতে সময় থাকলে ইভেন্ট ওয়ালে বাকি সবাইকে সতর্ক করে দিন।

অনুমতি না নিয়ে কোন গ্রুপে তাকে এড করা

ফেসবুকে অনেক গ্রুপ রয়েছে। নানান কাজে এসব গ্রুপ ব্যবাহার করা হয়। কারো অনুমতি না নিয়ে কোন গ্রুপে তাকে এড করা উচিত নয়। এতে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরতে হয়। কোন গ্রুপে পোস্ট করার পুর্বে দয়া করে ঐ গ্রুপের প্রাইভেসী দেখে পোস্ট করবেন। প্রাইভেসী Public দেওয়া থাকলে আপনি যা পোস্ট করবেন তা ঐ গ্রুপের মেম্বার ছাড়াও অন্য যে কেউ দেখতে পারবে। Closed দেওয়া থাকলে শুধু গ্রুপ মেম্বাররা দেখতে পারবে। আর যদি Secret দেওয়া থাকে তাহলে আপনার পোস্ট তো নই-ই আপনি ঐ গ্রুপের মেম্বার কিনা তাও গ্রুপ মেম্বার বাদে কেউ জানতে পারবে না। মাসে অন্তত একবার আপনি যেসব গ্রুপে এড আছেন সেগুলো চেক করে অপ্রয়োজনীয় গ্রুপগুলো থেকে বের হয়ে আসুন। অনেক বেশি গ্রুপে থাকলে পরে আপনাকে কেউ কোন গ্রুপে এড করতে/আপনি নিজেও এড হতে পারবেন না।

পেইজের পুর্বের পোস্টগুলো পড়ে পছন্দ হলে তবেই লাইক করুন

ফেসবুকে নানান পেইজ রয়েছে। পেইজ মূলত বানানো হয় কোন কম্পানী বা প্রোডাক্টকে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য। কিন্তু এখন এটি আরো নানা কাজে ব্যবহ্রত হচ্ছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নানান কাজের ও অকাজের পেইজ। কোন পেইজে লাইক দেবার আগে সে পেইজটি কিসের পেইজ, তাদের কাজ কি এবং পেইজের পুর্বের পোস্টগুলো পড়ে পছন্দ হলে তবেই লাইক করুন। এছাড়াও পেইজটি কয়জন লাইক করেছে এবং তাদের মধ্যে আপনার বন্ধুরা আছে কিনা তা দেখে নিন। কিছু পেইজ আছে যারা মুখোশের আড়ালে অনেক আপত্তিকর, অশ্লীল ও ভিত্তিহীন পোস্ট করে। এসব পেইজে লাইক দিয়ে থাকলে তা আনলাইক করুন এবং একটু কষ্ট করে রিপোর্ট করে দিন। আপনার কোন পেইজ থাকলে তার ফ্যান বাড়ানোর জন্য অহেতুক শেয়ার করবেন না। অন্যান্য পেইজের ওয়াল ও পোস্টে বিজ্ঞাপন দিবেন না। এটি খুবই বিরক্তিকর। ফ্যান বাড়াতে হলে বন্ধুদের ইনভাইট করুন। ভালো ভালো পোস্ট দিন আর অন্যান্য ছোট-বড় পেইজ এডমিনদের সাথে ভাব করুন। ফেসবুকে পেইজ এডমিনদের অনেক গ্রুপ রয়েছে যেখানে প্রমোট আদান-প্রদান করে ফ্যান বাড়ানো যায়। আপনাদের নিকট আকুল আবেদন এক ক্যাটাগরির পেইজে অন্য ক্যাটাগরির পোস্ট বা বিজ্ঞাপন দিবেন না। এতে ফ্যানেরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরে।

culiveআইটিশিক্ষাfacebook,fb,know,must,rule,ফেইসবুকের নিয়মভূমিকা একথা স্বীকার করতেই হবে যে ফেসবুক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে গিয়েছে। ফেসবুক ছাড়া একটি দিন চলে না এমন মানুষের সংখ্যা এখন নেহাত কম নয়। ফেসবুক ব্যবহারে আমরা তো সবাই অনেক পটু, কিন্তু ফেসবুকের ম্যানার বা ভদ্গুরতা গুলো কি আমরা জানি? হয়তো ভাবছেন ফেসবুকের আবার ম্যানার কিসের,...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University