eid ponomiloniআগামী ২৫ ডিসেম্বর,২০১৬ ইংরেজি কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন মুখরিত হবে প্রাক্তন ছাত্রদের পদচারণায়।বাল্যকালের এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে রয়েছে আমার রক্তগত নিবিড় সম্পর্ক।আমারা চার ভাই এবং আমার মরহুম বাবা ও তাঁর পূর্ববর্তী ৪ পুরুষও এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন। এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নকালে প্রতি ক্লাসেই আমার জন্য বেতের বাড়ি অপেক্ষা করত।দুষ্টুমি করলেও বেতের বাড়ি,দুষ্টুমি না করলেও বেতের বাড়ি।

বেতের বাড়ি খেতে খেতে পাঁচটা বছর কখন যে পার হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি! স্কুলে প্রতিদিন বেতের বাড়ি খেলেও কোনদিন চোখের জল ফেলি নি। জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক শাহাজাহান কুতুবী স্যার সবচেয়ে বেশি মার্শাল আর্টের চর্চা করতেন আমার উপর।আমার মা-বাবাও তাঁকে প্রত্যক্ষ সমর্থন দিতেন এবং স্যারকে বলতেন… “ফয়েজের জানটা আমাদের আর ছামড়াটা আপনার।” কুতুবী স্যারের মারের কোন ঠিক ঠিকানা ছিল না,একদিন প্রাইভেট পড়তে না গেলেই সরাসরি বাড়িতে এসে আমার পিঠে চালাতেন মার্শাল আর্টের চর্চা।এ চর্চা মাঝে মাঝে রাস্তার উপরও চলত।মার শুরুর আগ মুহুর্তে তাঁর মুখ থেকে কেবল বের হত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি”। কুতুবী স্যারের মার খুব সহজেই হজম করে নিতাম। কিন্তু ধর্ম টিচার আনোয়ার স্যারের মারটা হজম করতে একটু কষ্ট হত।তাঁর মারের ধরণটাও ছিল অদ্ভুত প্রকৃতির।যারা ধর্ম ক্লাসে টুপি পড়ত না তাদের মাথার উপর পড়ত সজোরে এক একটা বাড়ি।মাথায় বাড়ি পড়ার সাথে সাথে মগজ লাফিয়ে উঠত এবং চোখের পর্দায় অদৃশ্য তারাগুলো চতুর্দিকে চক্কর মারত।

 

ভুলে টুপি না আনলে প্রায়ই আমরা ক’জন ধর্মক্লাস শুরু হওয়ার আগে স্বহস্তে তৈরি ওয়ানটাইম কাগজের টুপি মাথায় পরিধান করতাম।আনোয়ার স্যারের দৃষ্টিশক্তি একটু ক্ষীণ ছিল বলে প্রায়ই বেতের বাড়ি থেকে রক্ষা পেতাম।আর ধরা খেলেই মাথার উপর পড়ত তিনগুণ বেতের বাড়ি। একদিন অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটে গেল….. ক্লাস নাইনে ধর্ম ক্লাস শুরুর আগ মুহুর্তে মাত্র ক’দিন আগে ক্রয় করা সুতার তৈরি কাল রঙের টুপিটা মাথায় পরিধান করলাম।আনোয়ার স্যার ক্লাসে এসেই যারা টুপি পড়েনি তাদের মাথার উপর এক এক করে বাড়ি দিচ্ছিলেন।বেচারাদের করুণ দশা দেখে আমরা যারা টুপি পড়েছি তারা সবাই হাসছিলাম।হঠাৎ পিছন দিক থেকে আমার মাথার উপর ঠাস করে পড়ল একটা বেতের বাড়ি,ক্লাসে হাসির রুল আরও বেড়ে গেল।মাথা চুলকাতে চুলকাতে স্যারকে টুপিটা দেখিয়ে বললাম…. “স্যার আমি তো টুপি এনেছি আমাকে মারলেন কেন?” স্যার তৎক্ষনাৎ অাপন দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা ও নিজের ভুল ঢাকাতে কাল রঙের টুপি পরিধান করার অজুহাতে আমার মাথার উপর আরও দু’টা বাড়ি দিলেন।মাথায় বাড়ি খেয়ে এতক্ষণ যারা সরষে ফুল দেখছিল তারা সকলেই সুউচ্চে হেসে দিল। ক্লাস টেনে উঠার পর স্কুলের মসজিদে দুপুরের নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক করা হল।দুপুরে মধ্য বিরতির পর স্কুলের গেইট দু’টি বন্ধ করে দিয়ে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মাচারী গেইট দু’টি পাহারা দিতেন যাতে কেউ নামাজ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যেতে না পারে।কিন্তু আমরা কয়েকজন দুষ্টু প্রকৃতির ছাত্র অজু বানিয়ে মসজিদে প্রবেশ করার ভান করে দেওয়াল টপকিয়ে পালিয়ে যেতাম।এজন্য বেতের বাড়িও কম খেতে হয় নি! স্কুল চুরিও কম করি নি তবে প্রাইমারি স্কুলের রেকর্ড ভাঙ্গতে পারি নি। “স্কুল চুরি করে রবীন্দ্র নাথ হওয়া যায় না।”

কিন্তু আমি প্রমাণ করেছি, স্কুল চুরি করে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ভাল একটি ফ্লাটফর্মে উপনিত হওয়া যায়। বিশেষ করে যেসব শিক্ষক বেশি মারতেন তাঁদের ক্লাসগুলোই একটু বেশি ফাঁকি দিতাম।স্কুল চুরির দিনগুলো বেশিরভাগ কেটেছে কবিতা চত্বর থেকে কলাতলি সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে। আমাদের স্কুলের তমিজ স্যার ছিলেন বড়ই অদ্ভুত প্রকৃতির।স্কুলের নকলবাজ ছাত্ররা তাঁর দৃষ্টিকে সহজেই ফাঁকি দিতে পারত না।

পরীক্ষার হলে নকলবাজদের ধরার জন্য তিনি কিছু অদ্ভুত পন্থা অবলম্বন করতেন।নকলবাজ ছাত্রদের ধরার জন্য তিনি হয়ত কিছুক্ষণের জন্য দরজার কপাটের ফাঁকে লুকিয়ে থাকতেন নয়ত চুপিচুপি টেবিলের নিচে হামাগুড়ি দিয়ে বসে পড়তেন।এ পন্থাগুলো অবলম্বন করে তিনি সচরাচর সাফল্যের দর্শন পেতেন। কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাত্র ১৫০/২০০ মিটার দক্ষিণেই আমার বাড়ি।আমাদের মহল্লার রাস্তার মাথায় এ বিদ্যালয়ের অবস্থান বলে প্রতিদিন কম করে হলেও ১০/১২বার বিদ্যালয়ের হাওয়া গায়ে পরশ বুলিয়ে যায়,সাথে সাথেই মনের পর্দায় ভেসে উঠে স্কুল জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতাগুলো। “””””””‘

ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজ,

৩৩তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা। ক.স.উ.বি..২০০০ ব্যাচ।

সাবেক উপদেষ্টা, কক্সবাজার জেলা ছাত্র ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

culiveইভেন্টগল্পeid,funny,news,storyআগামী ২৫ ডিসেম্বর,২০১৬ ইংরেজি কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন মুখরিত হবে প্রাক্তন ছাত্রদের পদচারণায়।বাল্যকালের এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে রয়েছে আমার রক্তগত নিবিড় সম্পর্ক।আমারা চার ভাই এবং আমার মরহুম বাবা ও তাঁর পূর্ববর্তী ৪ পুরুষও এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন। এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নকালে প্রতি ক্লাসেই আমার জন্য বেতের বাড়ি অপেক্ষা করত।দুষ্টুমি...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University