“রোজ রোজ লাশের ঝামেলা ভাল লাগেনা তাই চাকরিডা ছাইড়া দিছি” ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম “আগের এত বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছ কেন?” তার উত্তরে ড্রাইভার আমাকে এই কথা বলল।
ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করলাম “লাশের আবার কী ঝামেলা?”

ড্রাইভার উত্তর দিল “দিনে হলে কোন সমস্যা নাই কিন্তু রাতেই সমস্যা। মাঝ রাতে লাশ কান্দে। মাঝে মাঝে লাশ বইসা পড়ে!”
“লাশ বসে পড়ে?” সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকালাম ৩৫ বছর বয়সী ড্রাইভারের দিকে। মাল টাল খায় নিশ্চয়ই! নইলে এসব আজগুবী কথা বলবে কেন?

“জ্বী স্যার, লাশ বইসা পড়ে। বইসা পড়লে সমস্যা নাই কিন্তু সমস্যা হইল লাশ মাঝে মাঝে গাছে উইঠা পড়ে। সেখান থেকে লাশ নামাইতে অনেক কষ্ট!” ব্যাটার মনে হয় পুরাই মাথা খারাপ। এই পাগল আমার গাড়ী চালায় তা ভেবে টেনশনে পড়ে গেলাম। উলটা পালটা চালিয়ে না আবার গাড়ী এক্সিডেন্ট করে। এই গাড়ীতে বেশিরভাগ সময় আমিই চলাফেরা করি। পাগল ড্রাইভার দ্রুত বিদায় করতে হবে। সমস্যা হল আমাদের কোম্পানী ড্রাইভারদের ভাল বেতন দিতে চায় না। অবশ্য চালক হিসেবে একে খুব ভালই মনে হচ্ছে।

“লাশ গাছে উঠে?”

“জ্বী স্যার, লাশ গাছে উঠে। জায়গাটা আপনি চিনবেন। আপনার বাড়ীর কাছে। কুমিল্লা বিশ্বরোড পার হলে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত একটা ফাঁকা জায়গা আছে। আশেপাশে বাড়ী ঘরও নেই। সেখানেই লাশেরা এই কাজ করে। হঠাত দেখি গাড়ীতে লাশ নেই। সামনের একটা গাছের ডালে লাশ বসে আছে। গাড়ী থামিয়ে সেই গাছে উঠে লাশ নামাই। গাছে উঠে একটা মরা মানুষকে নামানো কী যেন কষ্ট সেটা যে নামায় সেই বোঝে।”

এই ড্রাইভারের ইতিহাস হল উনি ট্রাক, বাস, মাইক্রো, প্রাইভেট কার এমন কোন গাড়ী নাই যে চালিয়েছে। বিড়ি সিগারেটও খায় না সেটা পরীক্ষা করে দেখেছি। যারা বিড়ি সিগারেট খায় না তাদের তো গাঞ্জা খাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তারা কি আর মদ খায়? তবে আমার কাছে মনে হল এর মাথায় সমস্যা আছে।

অফিসে অভিযোগ করলাম। তিন দিনের মাথায় ড্রাইভার চেইঞ্জ করা হল। নতুন ড্রাইভারের সাথে কথা বলেছি, সেও এক সময় লাশবাহী গাড়ীর ড্রাইভার ছিল। অবাক করার মত ব্যপার হল সেও আগের ড্রাইভারের মত লাশ নিয়ে সমস্যায় পড়েছে, তবে ভিন্ন লোকেশনে। এই ছেলেটা অবশ্য স্বীকার করেছে লাশের গাড়ী চালাতে গিয়ে তাকে গাঞ্জা খেতে হত লাশের ঝামেলার জন্য।

দুই ড্রাইভারের ক্ষেত্রে একটা কমন জিনিস খেয়াল করলাম- যখন একা একা গাড়ী চালায় তখনই এই সমস্যা ফেইস করত। জিজ্ঞেস করলাম “একা একা লাশ কারা পাঠায়?”

তারা উত্তর দিল “বেওয়ারিশ লাশ”

এটা কোন গল্প নয়, ড্রাইভারের মুখের কথা। এরকম অনেক গল্পই ড্রাইভাররা বলে। এবং সব গল্পই একই ধরনের। সবার গল্প মিল আছে।

এর রহস্য কী?

বিবাহিত লালসালু

লাল সালুBlogStoryUncategorizedআদার্সউদ্দীপনাগল্পব্লগরিসার্স“রোজ রোজ লাশের ঝামেলা ভাল লাগেনা তাই চাকরিডা ছাইড়া দিছি” ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম “আগের এত বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছ কেন?” তার উত্তরে ড্রাইভার আমাকে এই কথা বলল। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করলাম “লাশের আবার কী ঝামেলা?” ড্রাইভার উত্তর দিল “দিনে হলে কোন সমস্যা নাই কিন্তু রাতেই সমস্যা। মাঝ রাতে লাশ কান্দে। মাঝে...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University