ইরফানচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যেন হয়ে গেল মৃত্যু কূপ। সম্প্রতি ২০ ই নভেম্বর ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফানের মৃত্যুর পর চবির ছাত্ররাজনীতি নীতি নিয়ে স্টাডি করতে গিয়ে নিজেই আঁতকে উঠি। নোংরা ছাত্র রাজনীতির কারণে চবি প্রাঙ্গন প্রায়ই কেঁপে উঠে, অসুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করে ক্যাম্পাসকে বারবার কুলষিত করছে। ১৯৮৩ সন থেকে শুরু হয় চবি তে অসুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতি। ১৯৮৩ সালে শিবির কর্মীরা চবি ছাত্র সমাজের কর্মী হামিদের কব্জি কেটে পেলে। ১৯৮৮ সালে পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলামকে হত্যা করে শিবির ক্যাডাররা। ২৩ শে ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে শিবিরের এক হামলায় নিহত হন ছাত্র মৈত্রীর নেতা ফারুক উজ্জমান ফারুক। ঐ একই হামলায় আহত হন চবির উপচার্য প্রপেসর মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন। ২৭ শে অক্টোবর ১৯৯৪ সালে শিবির কর্মীদের এক হামলায় ছাত্রদল নেতা নুরুল হুদা গুরুতর আহত হন। এর ১৩ দিন পর ই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ১৯৯৭ সালে ছাত্রলীগের সমর্থক আমিনুল ইসলাম বকুল খুন হয়। ১৯৯৮ সালের মে মাস ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর ট্রাজেডি পূর্ণ একটি মাস। ১৯৯৮ সালের মে ৬ তারিখ ছাত্রলীগ ও শিবিরের সংঘর্ষে শাহ আমানত হলে আইয়ুব আলী নামের একজন শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেন। আইয়ুব আলীকে শিবির ও ছাত্রলীগ দু দলের কর্মী বলে দাবি করেন। এর ১২ দিন পর বালুচরা এরিয়ায় ছাত্র – শিক্ষক বাসে এক হামলায় মুশফিক সালেহীন নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হন। ১৫ ই মে ১৯৯৮ সালে ছাত্রলীগ কর্মীদের এক হামলায় শিবির নেতা জোবায়ের নিহত হয়। ২৪ শে মে ১৯৯৮ সালে ছাত্রলীগ ক্যাডার সাইফুর রহমান শাহ আমানত হল এ নিজের রুমে বসে নিজের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র স্হাপন করার সময় ঘটনাক্রমে গুলি সুট হয়ে মারা যান। আগস্টের দিকে চারুকলা অনুষদের ছাত্র সন্জয় বঠতলী রেল স্টেশনে খুন হয়। এরপর ক্যাম্পাসে দুই শিবির

নেতা রহিম উদ্দীন ও মাহমুদুল হাসান খুন হয় ছাত্রলীগ ক্যাডারদের দ্বারা।

 

cu-chittagonguni২০০১ সালে চবি ছাত্রলীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী মর্তুজাকে চরাকূল এলাকায় তার নিজ বাসার পাশে শিবির কর্মীরা হত্যা করে। ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১০ সালে ষোলশহর রেল স্টেশনে ছাত্রলীগের কর্মীরা বিবিএ অনুষদের ছাত্র মহিউদ্দীন মাসুমকে হত্যা করা হয়। ফতেয়াবাদ এলাকায় রেল লাইন থেকে ২০১০ সালে মার্চের ২৯ তারিখ হারুন রশিদের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। ১৫ ই এপ্রিল ২০১০ সালে চবি রেলওয়ে ষ্টেশনে ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুল ইসলামকে গ্রামবাসী হত্যা করে। ৮ ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের জন্য ছাত্রলীগ – শিবির সংঘর্ষে ২ শিবির নেতা মাসুদ বিন হাবীব এবং মুজাহীদ নিহত হন। ১২ ই জানুয়ারী ২০১৪ সালে নৃবিজ্ঞানের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মামুন হোসাইনকে ছাত্রলীগ কর্মীরা হত্যা করে শাহ আমানত হলে। ছাত্রলীগ – ছাত্রলীগ সংঘর্ষে ১৪ ই ডিসেম্বর ২০১৪ সালে সংস্কৃত বিভাগের ১ম বর্ষের কর্মী খুনশিক্ষার্থী তাপস সরকার নিহত হয়। ২৯ শে অক্টোবর ২০১৬ সালে ছাত্রলীগের কর্মী তপুকে অপর ছাত্রলীগের গ্রুপ কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। সর্বশেষ সুবর্নজয়ন্তীর পরের দিন ২০ নভেম্বর চবি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্তমান সহ সম্পাদক দিয়াজ ইরফানকে তার নিজ বাসায় গলায় ফাঁস অবস্তায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এভাবেই চলতে থাকে চবিতে একের পর এক হত্যা। এসব হত্যার সুষ্ঠ তদন্ত করে সঠিক বিচার ও হয় না। ছাত্রনেতারা এখন আদর্শিক ভাবে মোকাবেলা করে নাহ। এখন ছাত্র রাজনীতি ঠিকে আছে পেশি শক্তি দিয়ে।

 

লেখক : হুমায়ূন কবির

সাংবাদিক @ CuLive24.Com

শিক্ষার্থী শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ( আই ই আর),চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

culiveক্যাম্পাসপলিটিক্সমতামতমিডিয়ারিসার্সআইয়ুব আলী,আমিনুল ইসলাম বকুল,আমিনুল ইসলামকে,আলী মর্তুজা,আসাদুল ইসলামকে,কর্মী খুন,তপুকে,তাপস সরকার,দিয়াজ ইরফান,নুরুল হুদা,ফারুক উজ্জমান ফারুক,মহিউদ্দীন মাসুম,মামুন হোসাইন,মাসুদ বিন হাবীব,মাহমুদুল হাসান,মুজাহীদ,মুশফিক সালেহীন,রহিম উদ্দীন,হামিদ,হারুন রশিদচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যেন হয়ে গেল মৃত্যু কূপ। সম্প্রতি ২০ ই নভেম্বর ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফানের মৃত্যুর পর চবির ছাত্ররাজনীতি নীতি নিয়ে স্টাডি করতে গিয়ে নিজেই আঁতকে উঠি। নোংরা ছাত্র রাজনীতির কারণে চবি প্রাঙ্গন প্রায়ই কেঁপে উঠে, অসুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করে ক্যাম্পাসকে বারবার কুলষিত করছে। ১৯৮৩ সন থেকে শুরু হয়...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University