বাংলাদেশে বর্তমান শিক্ষার সংকট ও উত্তরণ

বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব
জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তির এ সময়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশের প্রতি একটু লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবো উন্নত বিশ্ব থেকে আমরা কতটুকু পিছিয়ে আছি। উন্নত বিশ্ব থেকে আমরা কেন পিছিয়ে পড়ছি?

এর উত্তরণের উপায় কি?
উন্নতমানের শিক্ষা ও তার প্রয়োগোর মধ্যে দিয়েই কোন দেশ বা জাতি বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তির
প্রতিযোগিতায় শুধু টিকে থাকা নয়, একটি স্বনির্ভর জাতিতে পরিণত হওয়া যায়। কিন্তু দুরভাগ্য আমাদের
শিক্ষাব্যবস্থাটায় ভঙ্গুর। শিক্ষাব্যবস্থার পুরো চিত্রটাই যে হতাশজনক তা নয় কিন্তু শিক্ষব্যবস্থার বর্তমান চিত্র দেখে আশাবাদী হওয়াটা ও কঠিন।

বিশ্বের নামী ২ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
নেই। এ থেকে বুঝা যায় বাংলাদেশের শিক্ষার মান অন্যান্য দেশের তুলনায় কতুটুকু পিছিয়ে আছে।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল সংস্কার আনা প্রয়োজন।
প্রথমেই যেটি প্রয়োজন তা হল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা। এরপর উত্তরণের উপায় বের করা। আমার এই
লেখায় কিছু ষ্থরভিত্তিক সমস্যা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
প্রধানত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা এই তিন স্থরের মাধ্যমে গঠিত বালাধেশের
শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রাথমিক শিক্ষা আবার প্রধানত চারটি ধারায় বিভক্ত যথাঃ সাধারণ শিক্ষা, ইংরেজী মাধ্যম, মাদ্রাসা শিক্ষা, ক্যাডেট শিক্ষা।
অর্থের উপর ভিত্তি করেই প্রাথমিক শিক্ষার মধ্যে এসব ধারায় বিভক্ত। অভিভাবকের আর্থিক অবস্থার উপর
নির্ভর করে কোন শিশু কোথায় পড়বে। বাংলাদেশে বেশীদামে ভাল মানের শিক্ষা এবং সস্তা দামে শিক্ষা ক্রয় করা যায়। প্রাথমিক অবস্থা থেকেই শিক্ষায় ক্সবষম্য শুরু। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত বহ নির্দেশক গুচ্ছ জরিপ বা মাল্টিপল ইনভিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১২-১৩ তে উঠে এসেছে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র এমন ২০ ভাগ
জনগোষ্ঠীর শিশুদের সাড়ে ৬৪ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় যেখানে সবচেয়ে ধনী ২০ ভাগ পরিবারের ৮১ দশমিক
৪ শতাংশ শিশু প্রাথমিক শিক্ষায় অংশ নেয়। আমরা এখনো সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারিনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী ২০০৬-২০০৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিশুদের ঝরে পড়ার হার ছিল
৫০.৫ শতাংশ, ২০০৮ সালে ৪৯.৩ এবং ২০০৯ সালে ৪৫.১ শতাংশ, ২০১০ সালে ৩৯.৮ শতাংশ এবং ইউনেস্কো পরিচালিত ‘সবার জন্য শিক্ষা জাতীয় পর্যালোচনা বাংলাদেশ- ২০০৫’ শীর্ষক সর্বশেষ পতিবেদনে বলা হয়েছে প্রাথমিকে ২১.৪ শতাংশ শিশু ঝরে পড়ছে। এতে গেলো যারা লেখাপড়া শুরু করেছিল তাদের কথা।

ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ শহরগুলোর বস্তিতে নগরবাসী অন্তত ৭ থেকে ১৪ বছরের ১ কোটি ৫০ লক্ষ শিশু ¯‥ুলে না গিয়ে পরিবারকে সাহায্যে করতে শ্রমে নিয়োজিত।

প্রাথমিক শিক্ষায় স্কুলগুলোর মধ্যে ভৌত কাঠামো, সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষকের মান, বেতন কাঠাাে ইত্যাদি
মে․লিক বিষয়গুলোতে প্রচন্ড ক্সবষম্য বিদ্যমান রয়েছে। যেমন ক্যাডেট কলেজের একজন ছাত্রের জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৭৪ হাজার টাকা আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের জন্য প্রতি বছর ব্যয় হয় সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে দেখা যায় অতি দরিদ্র পরিবারের শিশু প্রতিবন্ধী, দলিত সম্পদ্রায় ও যে․নকর্মীদের শিশু এবং দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের ঝরে পড়ার হার বেশি। আদিবাসী শিশুদেরকে তিনটি বাংলা, ইংরেজী, মাতৃভাষা ভাষার চাপ বহন করতে হয় যার কারনে ওদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে কষ্ট হয়। সম্প্রতি ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৯% শিক্ষার্থী গণিতে দুর্বল। ভাল করে গণিত বুঝে এইরকম শিক্ষার্থী ৪%। পঠন-পাঠন পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় গণিত না বুঝে মুখস্ত করে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণিত শিক্ষকের ব্যাপক সংকট আছে।

ভাল বেতন এবং সুযোগ সুবিধার অভাবে মেধাবী এবং আদর্শ শিক্ষক  শিক্ষকতা পেশায় আসছেন না। যা শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা।

শিক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেই। টিচার্স ট্রেনিং কলেজে দেখা যায় অধিকাংশ শিক্ষকের শিক্ষায় ¯স্নাতক ডিগ্রী নেই।

প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান সমস্যাগুলো  হলো বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আর্থিক বৈষম্য।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব,

পর্যাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভাব,

স্কুলগুলোতে শিক্ষকের অপ্রতুলতা,

গ্রাম ও শহরেরো স্কুলগুলোর মধ্যে বৈষম্য,

বেতন ফি বাবদ ব্যয় বহন করতে না পেরে ব্যাপক অংশের ঝরে পড়ে,

বিদ্যালয়ে শিক্ষার আনন্দদায়ক পরিবেশের অভাব,

শিক্ষন-শিখনে গাইড বই নির্ভরত ইত্যাদি।
দেশে মাধ্যমিক স্থরে ৬টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, একটি কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও একটি মাদ্রাসা বোর্ড সহ মোটো ৮টি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে এবং শিক্ষাবোর্ড গুলোর বাইরেও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম।

অথচ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডগুলোর সাথে  অনুষ্ঠিত হয় না কিংবা ফলাফল ও প্রকাশিত হয় না। প্রাথমিক শিক্ষার মতো মাধ্যমিকেও গরিব পরিবারের স্টুডেন্টরা
ক্সবষম্যের শিকার। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা ও পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব। মাধ্যমিক স্থরে বিশেষ করে ইংরেজী ও গণিত শিক্ষকের সংকট শিক্ষার্থীদের বেশি করে ভোগাচ্ছে। যার কারনে বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারাচ্ছে। গত দুই দশকে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীর কমার হার ৩১.৩৩ শতাংশ। ১৯৮৮ সালে এস.এস.সি পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থীর
৪১.৩৫ শতাংশ ছিল বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রী, ১৯৯৫ সালে এই হার দাড়িয়েছিল ২৫.৪০ শতাংশ এবং ২০০৮ সালে ২৩.৭৬ এর কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা মনে করেন বিজ্ঞানে বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই, বিজ্ঞানে প্রাইভেট পড়তে হয় বিভিন্ন খরচ রয়েছে।

অধিকাংশ স্কুলে বিজ্ঞানের জন্য আলাদা গবেষণাগার নেই এবং গ্রাম-গঞ্জে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য কোন বিজ্ঞানমেলা হয় না। পাঠ্যবই এ ইতিহাস বিকৃতি দেখা যায়। যে সরকার ক্ষমতায় সে সরকার বিভিন্ন তথ্যের সংমিশ্রণ ও বর্জনের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতি করে।
যেসব স্কুলগুলোতে এস.এস.সি পরীক্ষায় কেন্দ্র থাকে সেসব  স্কুলগুলোতে মাত্র ৭০-৮০ দিন শিক্ষা কার্যক্রম
চলে। যেসব উচ্চবিদ্যালয়ে পরীক্ষার কেন্দ্র থাকে না সেসব স্কুলগুলোতে বছরে মাত্র ১০০-১১০ দিন শিক্ষা কার্যক্রম চলে।

সরকার ঘোষিত ছুটি প্রায় ৮৮ দিন, সাময়িক পরীক্ষাগুলোর জন্য সর্বনি¤œ ১২ দিন করে মোট ৪৮ দিন, সাপ্তাহিক ছুটি ৫২দিন, নভেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে পুরো ডিসেম্বর মাসই বন্ধ থাকে।

এছাড়া এস.এস.সি পরীক্ষার কেন্দ্র যেসব স্কুল সেগুলোতে অন্তত আরো ১ মাস বন্ধ থাকে। নানান অনুষ্ঠানে অনেক সময় বিদ্যালয় খোলা থাকলেও ক্লাস চলে না। ক্লাসে শিক্ষকরা ভালোভাবে না পড়ানোর কারনে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট, কোটিং মুখী হয়ে পড়ে। যেসব কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সেসব কলেজ গুলোর অবস্তা আরো করুন।

পরীক্ষার জন্য স্বতন্ত্র হল না থাকায় ক্লাস বন্ধ রেখে কলেজের ২টি বর্ষের পরীক্ষা, এইচ.এস.সি পরীক্ষা, অনার্স ৪টি বর্ষের পরীক্ষা, ডিগ্রী ৩টি বর্ষের ফাইনাল, মাষ্টার্স ২টি বর্ষের ফাইনাল সহ ভর্তি কার্যক্রমের দরুন এসব কলেজে ক্লাস হয় না বললেই চলে।
মাদ্রাসা শিক্ষায় রয়েছে ব্যাপক সংকট। মাদ্রাসা শিক্ষার দুটি প্রধান ধারা হলো- আলিয়া ও কাওমী এছাড়া
রয়েছে নূরানী, ফোরকানিয়া, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ইত্যাদি। এসব শিক্ষাব্যবস্থায় বিজ্ঞান গণিত ও ইংরেজী সিলেবাসে গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভুক্ত করে নায়। যার দরুন ধর্মীয় গোড়ামী, অন্ধত্বতা শিক্ষার্থীদের মনে সৃষ্টি হয়। তাছাড়া এখনো
মাদ্রসায় নকলের ছড়াছড়ি, আনন্দদায়ক শিক্ষার অভাব, শিক্ষার্থীদের মারধরের চিত্র এখনো মাদ্রাসায় দেখা যায়। কারিগরি শিক্ষায় অন্যতম সমস্যা হচ্চে তীব্র শিক্ষক সংকট এবং নি¤œমানের শিক্ষা ব্যবস্থা।

বাংলাদেশ ও জার্মানির বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৬০ জন করে শিক্ষার্থীর ওপর ২০০৯ সালের জুলাই ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত প্রায়োগিক গবেষনা চালিয়ে দেখা যায় দক্ষতা নিরুপনে বিভিন্ন পরীক্ষায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা জার্মানির শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের এক চর্তুথাংশ পেয়েছে। গবেষণায় মুখস্ত করে মনে রাখা, বোমা এবং প্রয়োগ এই তিনটি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মুখস্থ করে মনে রাখার ক্ষেত্রে ভাল করলেও পরবর্তী দুটি পর্যায়ে ভালো করতে পারেনি। ঐ গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়। অপরদিকে জার্মানির ছাত্রদের যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহারিক দিকটাই প্রাধান্য
পায়। বাংলাশে সবচেয়ে উপেক্ষিত শিক্ষা হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা। এ শিক্ষায় হার মাত্র ৩ শতাংশ অথচ উন্নত
দেশগুলোতে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতের হার ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে উৎপাদনমুখী ও স্বনির্ভর জাতি গড়া সম্ভব কিন্তু এ শিক্ষা আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত।
আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষা হয়েছে মুনাফার মাধ্যম, উচ্চশিক্ষাকে ঘিরে চলছে পুরোধমে বাণিজ্য তাই এখানও গরীব ছাত্ররা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। যদিও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুটা সুযোগ রয়েছে কিন্তু সেখাইের ভর্তি ফরমের মূল্য বৃদ্ধি, বেতন ফি বৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে এগুলো থেকে সরকারি ভুর্তকি কমিয়ে ছাত্র বেতন নির্ভর করে ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন কে․শলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিএনপির আমলে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে করা ইউজিসির ২০ বছর মেয়াদী কে․শলপত্র হল এর একটি। ছাত্র আন্দোলনের আশাংকা আমলে রেখে কে․শলপত্রে উচ্চশিক্ষা সং¯‥ারের চারটি ধাপের কথা উল্লেখ আছে  যথা:

১।প্রাথমিক ধাপ ২০০৬-২০০৭ স্বল্পমেয়াদী ২০০৮-২০১৩ মধ্যমেয়াদী ২০১৪-২০১৯ ও দীর্ঘমেয়াদী ২০২০-২০২৬।
কে․শলপত্রে যেসব বিষয় উল্লেক আছে তা হল-
‘সরকার আগামী ২০ বছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বরাদ্ধ ৯০% থেকে কমিয়ে ৭০% এ ক্লাস করার
পরিকল্পনা করতে পারে। অর্থায়নের শূন্যতা পূরণের জন্য নিজস্ব অর্থের উৎস ‣তরী করা উচিত। ছাত্র ঋণের নতুন প্রকল্প প্রবর্তন করতে হবে।’ ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৩টি ধাপে বেতন বৃদ্ধি করা হবে। সুতরাং ২০২৬ সালে মধ্যে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হবে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়।
ইউজিসির কে․শলপত্রে শিক্ষাকে লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে খোনো হয়েছে। এখানে বিজ্ঞান শিক্ষা মে․লিক জ্ঞান অনুসন্ধানকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল কাজ হলো শিক্ষা, গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা এবং মানুষের কল্যানে তার
প্রসার ঘটানো। দেশে উন্নতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেকাংশে ব্যথ হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নানান সমস্যা রয়েছে যেমন- ভর্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অসম অনুপাত, শিক্ষকদের অমনোযোগীতা গবেষণা ও শিক্ষাখাতে বাজেটের বরাদ্ধ স্বল্প পরিমাণে রাখা শিক্ষার্তীদের গবেষণা করার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে না দেয়া ইত্যাদি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় একজন শিক্ষার্থীকে ৮-১০ বা আরো বেশি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয় এতে খরচের
পরিমান বাড়ে এবং মানসিক চাপে ভোগে শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া এইচ.এস.সি পরীক্ষা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের জীবন েেক প্রায় এক বছর একাডেমিক অধ্যন বিহীন চলে যায়। যা একটি মারাত্মক সমস্যা। তাছাড়া এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট মুক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তেমন কোন সদিচ্ছ দেখা যায় না।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি বার্তমানে চালু আছে। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা সৃষ্টি করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি হলেও তা নানা কারণে কার্যকর ভুমিকা পালন করছে না। মরিসার্চ ফল এ্যাডভান্সমেন্ট অব কমিপ্লিট এডুকেশন (আর এসিই)জরিপে উল্লেখ করা হয় সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতির সম্বন্ধে
দেড়শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকই এই পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নয়। অর্ধেক শিক্ষকই গাইড ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে। ৯২ ভাগ শিক্ষার্থীই গাইডবুক অনুসরণ করে। এমনকি স্কুলের নানান পরীক্ষায় ও শিক্ষকরা গাইডবই থেকে প্রশ্ন করেন। যার কারণে শিশুদের সৃজনশীল মেধার তেমন উন্নতি ঘটাতে পারেনি এ পদ্ধতি। আমাদের দেশে তাত্ত্বিক বিষয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় না তাছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবে শিক্ষাখাতে উপেক্ষিত।
আমরা যদি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের দিকে লক্ষ করি তাহলে বুঝতে পারবো শিক্ষাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কেমনভাবে গণ্য করা হয়। এবারের বাজেটে প্রায় ৩৪০-৬০৫ কোটি টাকা (জিডিপি’র ১৭.৩৪%)। এর মধ্যে শিক্ষার জন্য বাজেট হয়েছে মোট বাজেটের ১৫.৫৩ শতাংশ। ২০১৫-১৬ সালে ১০.৭১%, ২০১৪-১৫ সালে ১১.৭% সুতরাং বাজেটের পরিমাণ বাড়লেও শিক্ষাখাতে সে হারে বরাদ্ধ বাড়ছে না। এর মধ্যে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে বরাদ্ধ খুবই কম। অনেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে তো গবেষণা খাতে বরাদ্ধ শূণ্য।

সবমিলিয়ে আমরা যদি সাক্ষরতার দিকে লক্ষ করি তাহলে একটি করুণচিত্র দেখতে পাব। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের বর্তমান (২০১৫ এর জরিপ) সাক্ষরতার হার ৬২.৬৬ ভাগ ইউকেপিডিয়া ও ইউনেস্কোর তথ্য মতে বাংলাদেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৪৭.৫০ ভাগ। বিশ্বে র‌্যাংকিং এ এর অবস্থান ১৬৪ তম।
উপরিউক্ত প্রতিবেদন থেকে অনুমান করা যায় বাংলাদেশ এখনো শিক্ষায় তেমন অগ্রগতি লাভ করতে পারে
নি। এদেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে এবং জাতীয় জীবনের উন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষা শব্দটি ব্যাপকভাবে পড়িয়ে রয়েছে। সুতরাং ব্যক্তি গৃহ-পরিবার সমাজ-দেশ তথা জাতীয় উন্নয়নের নিমিত্ত্বে শিক্ষার উন্নয়ন করতে হবে এই কথা যেমন সত্য তেমনি শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যবলী সুনির্দিষ্ট করাও অপরিহার্য।
শিক্ষা ব্যবস্থায় যেসব সংকটগুলো রয়েছে তা নিরসনে ব্যক্তিগত ও সরকারীভাবে উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।
যেসব অঞ্চলে বিদ্যালয়ের সংখ্যা কম সেসব স্থানে বিদ্যালয় নির্মাণ এবং সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। দারিদ্র যাতে শিক্ষাগ্রহণের অন্তরায় না হয় সে ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষা পদ্ধতিতে তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক এবং প্রয়োগ এই তিনটি ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণ লক্ষ্য রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে ভোগে এ ধরণের শিক্ষা পদ্ধতি  বাতিল করা প্রয়োজন। এককথায় শিক্ষার যেসব সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে তা নিরসনে রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে তবেই জাতি হিসেবে দেশ হিসেবে জ্ঞান বিজ্ঞানের এই তীব্র প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে পারব।

জ্ঞান, শিক্ষা হোক সবার জন্য উন্মুক্ত যেন দেশের সব জনসংখ্যা পরিণত হয় সম্পদে।


লেখক পরিচিতিঃ
হুমায়ূন কবির
শিক্ষার্থী ও কলামিস্ট (সিইউলাইভ২৪।কম)
শিক্ষা ও গবেষণা ইনষ্টিটিউট
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

humayun-culive24

 

 

https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2016/10/educationproblem-in-bangladesh.jpg?fit=720%2C720https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2016/10/educationproblem-in-bangladesh.jpg?resize=150%2C150culiveBlogআন্তর্জাতিকইন্টারভিউউদ্দীপনাএকাডেমিকফিচারব্লগরিসার্সশিক্ষাস্টাডিজরিপ,পরামর্শ,পরীক্ষা পদ্ধতি,প্রতিবেদন,প্রাথমিক ও মাধ্যমি্‌ সৃজনশীল,বাংলাদেশি শিক্ষা ব্যবস্থা,বাংলাদেশে বর্তমান শিক্ষা,বিএনপির আমল্‌ বিশ্বব্যাংকের,বিশ্ববিদ্যালয়,ভাল বেতন,শিক্ষা পদ্ধতি,সংকট ও উত্তরণ,সমস্যা,সাক্ষরতার,সুযোগ সুবিধা,হুমায়ূন কবিরবাংলাদেশে বর্তমান শিক্ষার সংকট ও উত্তরণ জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তির এ সময়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশের প্রতি একটু লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবো উন্নত বিশ্ব থেকে আমরা কতটুকু পিছিয়ে আছি। উন্নত বিশ্ব থেকে আমরা কেন পিছিয়ে পড়ছি? এর উত্তরণের উপায় কি? উন্নতমানের শিক্ষা ও তার প্রয়োগোর মধ্যে দিয়েই কোন দেশ বা জাতি বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায়...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University