Image result for সোহাগ পরিবহনে ইন্ডিয়া ভ্রমণমে মাসের ১৪ তারিখ রাতে, কলকাতায় যাবার উদ্দেশ্য নিয়ে সোহাগ পরিবহন বাসে বেনাপোলের পথে চেপে বসি আমি এবং আমার মা। আমার মা এসির হাওয়া সইতে পারেন না, তাই বাধ্য হয়ে ৫৫০ টাকার নন এসি বাসের টিকিট কেটেছিলাম।
ভোর সাতটার দিকে আমরা পৌছাই বেনাপোল, কিন্ত আমাদের বাস বেশ খানিকটা দূরে পার্ক করে। আমরা নামতেই দেখি কয়েকজন লোক এগিয়ে এসে আমাদের বলে, বাস আর যাবে না। স্থলবন্দরে যেতে হলে তাদের সাথে করে নিয়ে আসা বিদ্যুৎচালিত তিন চাকার স্কুটারে যেতে হবে। আমি কিছুটা কনফিউজড! এর আগেও আমি এসেছি কিন্তু এরকম তো কখনো দেখিনি! লোকগুলোকে তাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই তারা নিজেদেরকে সোহাগ পরিবহন বেনাপোল কাউন্টারের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়।
বাসের অন্যান্য সবাই ওই লোকগুলোর কথানুযায়ী আলাদা আলাদা স্কুটারে চেপে বসে। আমার মা খুব অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলো, হাটতে কস্ট হচ্ছিলো, তাই আর কথা না বাড়িয়ে আমি এবং আমার মা তাদের স্কুটারে চেপে বসলাম। স্কুটারের ড্রাইভারের সাথে বসে পড়লেন ১জন সোহাগের কর্মী। ৫ মিনিটের পথ না যেতেই স্কুটার থামলো। আমাদের সাথে থাকা ওই কর্মী আমার থেকে ৫০ টাকা নিয়ে স্কুটারের ভাড়া মিটালো।
আমি বললাম এর আগে এসি বাসে আমি এসেছি, তারা তো আমাকে বেনাপোল স্থলবন্দরে নামিয়ে দিয়েছিলো কিন্তু এখন এমন কেনো?আমি টিকেট কেটেছি বেনাপোল স্থলবন্দর পর্যন্ত, তাই স্কুটারে আমার ওঠার কথাও ছিলো না এবং তার ভাড়া দেয়ার তো প্রশ্নই আসে না। জবাবে উনি বললেন, নন এসি বাসের সিস্টেমই এমন। আমি কথা শুনে হা…
এখানেই শেষ হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু হলো না। স্থলবন্দরের দিকে পা বাড়াতেই উনি আমাদেরকে বললেন তাদের অফিসে যেয়ে বসতে। আমি কারন জানতে চাইলে উনি বললেন, আপনারা বসুন আমরা আপনাদের পাসপোর্ট এ ডিপারচার সিল মেরে নিয়ে আসবো। আমি না করলে তারা দুইতিনজন আমাদের মোটামুটি ঘিরে ধরে এবং পাসপোর্ট দেয়ার জন্য চাপ দেয়। আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখি সব যাত্রির কাছ থেকেই পাসপোর্ট নিয়ে নেয়া হয়েছে। আমি নিরুপায় হয়ে তাদেরকে পাসপোর্ট এবং ২জনের ট্রাভেল ট্যাক্স মোট ১০০০ টাকা দেই। এরপর তারা আমাদের সবাইকে তাদের সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারে নিয়ে গিয়ে বসায়।
কিছুক্ষন পরেই আমাদের পাসপোর্ট হাজির। আমি অবাক হয়ে গেলাম যখন দেখলাম, তারা প্রতিটা পাসপোর্ট দেয়ার সময় ৫০০ টাকা করে আদায় করছে। আমি পাসপোর্ট নেয়ার সময় টাকা নেয়ার কারন জিজ্ঞেস করলে উনি উত্তর দিলেন, এইটা নাকি তাদের প্রসেসিং ফি!!
আমি উনাকে বললাম, আপনারা জোর করে এই প্রসেসিং করছেন, আমি তো আপনাদের বলিনি আমার জন্য এই প্রসেসিং করতে। এই ডিপারচার সিল তো আমি নিজে ইমিগ্রেশন অফিসারের থেকে নেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কোনো কথাতেই কাজ হলো না। একপ্রকার জোরকরেই ওনারা আমার থেকে ১০০০ টাকা নিয়ে ২টা পাসপোর্ট ফেরত দিলেন।
যাই হোক, নিজ দেশেই সোহাগ পরিবহনের এসব সোহাগী লোকদের কাছে কতটা জিম্মি তা সহজেই বুঝে গেলাম//

লেখকঃ

ফেইসবুকের ইনবক্স থেকে – আরিফুল হক ইমন

culiveBlogআন্তর্জাতিকইন্টারভিউগল্পট্যুরপলিটিক্সপ্রতারণা,মতামত,সোচ্চার হওনমে মাসের ১৪ তারিখ রাতে, কলকাতায় যাবার উদ্দেশ্য নিয়ে সোহাগ পরিবহন বাসে বেনাপোলের পথে চেপে বসি আমি এবং আমার মা। আমার মা এসির হাওয়া সইতে পারেন না, তাই বাধ্য হয়ে ৫৫০ টাকার নন এসি বাসের টিকিট কেটেছিলাম। ভোর সাতটার দিকে আমরা পৌছাই বেনাপোল, কিন্ত আমাদের বাস বেশ খানিকটা দূরে পার্ক...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University