সবাইকে বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চট্রগ্রামে, পুষ্পস্হাবক অর্পণকালে সংগ্রামী ভাই -বোনদের সাথে কিছু স্হির চিত্র!
মুক্তির মন্দির সোপানতলে যারা জীবন দান করেছন আজকের ৪৭ তম বিজয় দিবসে তাদের কথা প্রাণভরে স্মরণ করি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায়।

দু:সাহসীক ! একদল তাজা প্রাণের এক সাগর রক্ত- অশ্রু, কষ্ট -যন্ত্রণার বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই স্বাধীনতা,আমাদের বিজয়! সত্যি দাম দিয়ে কিনেছি এই বিজয় এখানে দয়ার কোন পরমায়েশে নই।

এই বিজয় ক্ষমতাদারদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ধারাবাহিক সংগ্রাম।বিজয়ের প্রবল বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতিময় সংগ্রাম। আজকের এই দিন পাকিস্হানের ২৪ বছরে প্রকট বৈষম্যের শিকার, চিন্তা-চিত্তের এবং মত প্রকাশের নিরুঙ্কুশ বিজয়ে মুক্তির সংগ্রাম।

আজ দুপুর ১১:৩০ মিনিটের সময় এড: মুক্তা রেজা বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাক ছাত্র-ছাত্রীকে সাথে নিয়ে চট্রগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্হাবক অর্পণের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
এ সময় তিনি সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজয় দিবসের প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য এবং গুরুত্ব নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা করেন। উপস্হিত মুগ্ধ শ্রুতারা তা শুনে করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান। সাথে জাতীয় দিবসেগুলোতে তাঁর সর্বসময় উপস্হিতির জন্য তাঁকে ব্লার সম্মানিত সদস্যদের পক্ষ থেকে জোরালো প্রশাংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করা হয়। এবং সে উপস্হিত সবাইকে ব্লা এবং বিজিসির উভয়ের স্বার্থে এ ধরণের জাতীয় দিবসগুলোকে আর ও ঝাকঝমকপূর্ণভাবে আগামীতে উদযাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। সর্বশেষে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে,স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। বলে তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করেন।

১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে ৩ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল মানেক’শ ইন্ডিয়া বেতারে একটি বার্তা প্রদান করে, পাকিস্হানি সৈন্যদের উ্দ্দ্যেশ্য করে এবং সেটা লিপলেট আকারে ছাপিয়ে বিমান থেকে ঢাকা চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন স্হানে তা ছড়িয়ে দেয়া হয়। এর মূল কথা ছিল, তোমরা চারদিক থেকে অবরুদ্ধ আছো। কাজেই আত্বসমর্পন করো। (হিন্দিতে : হাতিয়ার ঢাল দে হামারা বাহিনী চারি তরফ সে তুমকো ঘির লিয়া। ) এই ঘোষণা শুনার পর নিয়াজী চিন্তা করতে দেরী করেনি প্রায় ৯০০০০+ পাক সৈন্যসহ মাথানত করে তৎকালীনন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্বসমর্পন দলীলে সাক্ষর করে।সেই ১৯৭১ এর ১৬ ডিসে:থেকে আজকের ১৬ ডিসে:পর্যন্ত বিজয়ের ৪৭ বছর উদযাপন করলাম আলহামদুলিল্লাহ !

তখন আমরা বিজয়ী হয়েছি পাকিস্হান চরমভাবে পরাজিত হয়েছে। পাকি রাষ্ট্র দর্শন এবং তার সমর্থকদের পরাজিত করেই বাঙ্গালী জাতি দুঃসাধ্য বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। কিন্তু একাত্তরের ১৬ ডিসে: কী সব বাঙ্গালী আনন্দে উদ্ধেলিত হয়েছিল ? দেশ পাক শত্রু মুক্ত হওয়ায় সব বাঙ্গালী কী বিজয় আনন্দে মেতে ছিল ! না সেদিন কেউ কেউ প্রচন্ডভাবে বিষন্ন হয়েছিলেন। পাকিস্হান ভাঙ্গার মনোবেদনায় তারা সুখে মুহ্যমান হয়েছিলেন। আমাদের অনেকে যখন আনন্দে দিশেহারা, তখন পরাজিতরা দাঁতে দাঁত বা কষ্ট চেপে কষছিল বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে নতুন পরিকল্পনা। প্রতিশোধের পরিকল্পনা।

সে দিন যদি ওরা পরাজিত না হয়ে আমরা পরাজিত হতাম তাহলে কি হতো? বিজয়ের ৪৭ বছর পরে এসে এই জিজ্ঞাসাটাই আমার কাছে সবচেয়ে আতঙ্কের মনে হয়, এটার উত্তর কল্পনা করলে সারা শরীরের লোম শিউরে উঠে, তাই হয়ত খোদা আমাদের বাঙ্গালী জাতি বা মুক্তিযাোদ্ধাদের বড় এক বাঁচা বাঁচিয়েছে। সে দিন যারা পরাজিত হয়েছিল তাদের একটা রাজনৈতিক দর্শন ছিল। তারা ছিল গণবিরোধী,শোষক,ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক এবং স্বৈরচারী। আমরা বিজয়ী হয়েছিলাম এ সব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যই। আমাদের যুদ্ধ ছিলো স্বাধীনতার, মুক্তির।

এখনো পরাজিত দর্শনই যদি আমরা গ্রহণ করি কিংবা অনুসন্ধান করি তাহলে বিজয়ের গর্ব করার কোন অধিকার আমাদের থাকেনা।

আমাদের আবেগ -উচ্ছাস সবই দিবস কেন্দ্রীক, আমরা গালভরা বুলি কপচাই এই বলে আমাদের ধ্বমনিতে শহীদদের রক্ত, এ রক্ত পরাভাব মানে না। কিন্তু জাতির পতাকা পুরানো শকূন খাবলে ধরলে ও আমরা থাকি নির্বিকার! স্বাধীনতা বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ আর আমাদের চলছে নানা মতে -নানা পথের দলাদলী। বিরোধীরা দিচ্ছে কূটকচাল, আমরা করছি কূটতর্ক। একাত্তরের মতাদর্শের সঙ্গে যারা নামকে ওয়াস্তে একাত্মবোধ বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়” ল” এ্যালোমোনাই এসোসিয়েশন ( ব্লা ) এর মত ঘরোয়া রাজনীতিতে ও সেই একাত্তরের পরাজিত পাক আদর্শবাদীরা নির্বাচনে জেতার জন্য, স্বাধীনতা পক্ষের শক্তিকে ঘায়েল করার জন্য ক্রমাগত কৌশল বদলাচ্ছে। কখনো ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরিত্যাক্ত ব্লেম গেইম, কখনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা, কখনো দলগতভাবে ধারাবাহিক সাইবার আক্রমণ, কখনো উন্মুক্ত অপবাদ, মেরে হাসপাতালে পাঠানোর হুমকি, বুকে বুক চেপে ধরাতো স্বাধীনতা বিরোধীদের পুরোনা সংস্কৃতি, তারা বিভ্রান্ত করে হাত দীর্ঘক্ষন চেপে ধরে ব্রেনওয়াশ সবচেয়ে পরীক্ষিত এক কৌশল! এছাড়া কখনো আঞ্চলিকতার ধুয়া তুলে নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টাতো আছেই!

এবারের বিজয় দিবস কি আমাদের ভ্রান্তি মোচনে কোন ভূমিকা রাখতে পারবে? মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ নিয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়বো বলা ঠিক আছে। কিন্তু স্বাধীনতা বিরুধীদের সাথে গলাগলী মাখামাখী কত হলে জাতি তুমাদের সম্মানিত করবে! জয় হবে বিজয়ের, জয় হবে প্রাণের ব্লা। ভালোবাসা, ভালোলাগা।

http://culive24.com/wp-content/uploads/2018/12/hossain-ibrahim.jpghttp://culive24.com/wp-content/uploads/2018/12/hossain-ibrahim-150x150.jpgculiveইভেন্টএক্সক্লুসিভবিজয় ভাবনা,হোছাইন ইব্রাহিমসবাইকে বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চট্রগ্রামে, পুষ্পস্হাবক অর্পণকালে সংগ্রামী ভাই -বোনদের সাথে কিছু স্হির চিত্র! মুক্তির মন্দির সোপানতলে যারা জীবন দান করেছন আজকের ৪৭ তম বিজয় দিবসে তাদের কথা প্রাণভরে স্মরণ করি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায়। দু:সাহসীক ! একদল তাজা প্রাণের এক সাগর রক্ত- অশ্রু, কষ্ট -যন্ত্রণার...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University