চবিয়ান ও তাদের আত্মত্যাগ বিনিময়ে বেয়াদব আখ্যায়িত

সময় তখন বিকেল ৪.৩০ মত। ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা মাত্র শেষ হলো।
চবি স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি,একটি সিটের আশায়।কখন ট্রেন আসবে আর সিট ধরবো।এদিকে পরিবহন ধর্মঘট চলছে,গাড়ি পাওয়াটা অনেকটা অসম্ভব তাই যেমন করেই হোক না সিট আমাকে ধরতেই হবে।
এডমিশন টেস্টের সময় আমাদের ক্যাম্পাসে ট্রেনে সিট পাওয়া আর সোনার হরিণ পাওয়া একই কথা।তো যাই হোক চলন্ত ট্রেনে উঠে কোন রকমে সিট ধরলাম।
একটা আমার, একটা ফ্রেন্ডের আরেকটা আমার এপ্লিক্যান্টের জন্য।
কোন রকমে বসলাম।
কিন্তু ওপাশে তাকাতেই দেখলাম একজন আন্টি তার মেয়েকে দাঁড়িয়ে আছে।
তারা সিট পায়নি,দাঁড়িয়ে যেতে হবে।
এডমিশনের এই সময় ট্রেনে নি:শ্বাস নেয়ার মত জায়গা থাকেনা।সেখানে দুজন নারী দাঁড়িয়ে যাবে? ভাই আমাদের মাঝে কিছু নরপিশাচ আছে যারা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিবে।একথাটা মাথায় আসতেই কেমন যেনো লাগলো।

এদিকে মানুষের ঢল নামছে স্টেশনে, কি করবো তা ভেবে পাচ্ছিনা আর তখন এটাই চিন্তা করলাম যে, আমার মাকেও যদি এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হত?তখন আমি কি করতাম?আর বসে থাকতে পারলাম নাহ।

বললাম:আন্টি আপনারা বসুন,আমি দাঁড়িয়ে যাবো।ভীড়ের মাঝে আপনাদের সমস্যা হতে পারে।
আন্টি প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে বসলেন।

এরপর টুকটাক কথার ফাকে জানতে পারলাম উনি চট্টগ্রামের বাসিন্দা,দিদার মার্কেট এলাকাতে থাকেন।

উনার সাথে কথা বলার ফাকে আমার এপ্লিক্যান্ট আমাকে ফোন করল এবং আমি তাকে আনতে গেলাম।এই ফাকে এসে দেখি ট্রেনে উঠার আর কুদরত নেই।
অবশেষে পরের ট্রেনে যাবো ঠিক করে অপেক্ষা করতে থাকি,ওটাতেও তিল ঠাই পরিমাণ জায়গা পেলাম না।আসলে উঠতেই পারলাম না।
এবার আর উপায় না পেয়ে গাড়ি খোজা শুরু করলাম।
ক্যাম্পাস-১নং গেট-হাটহাজারী-ফতেয়াবাদ হেটে যাওয়ার পরেও গাড়ি পাইনি।
এদিকে সারাদিন ক্লান্ত শরীর নিয়ে আমার পা আর চলেনা।

কিন্তু তারপরও একজন মা আর বোনকে শ্রীলতাহানির শিকার হতে রক্ষা করতে পেরেছি এটাই ছিলো সারাদিনের সান্ত্বনা।

তারপরেও তারা বলে আমরা চবিয়ানরা খারাপ,আমরা র‍্যাগ দেই।

হলে থাকা বন্ধুগুলি আর ছোটভাইরা গত চারদিন ধরে শোয়ার জায়গা পাচ্ছে না।নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে বাহিরে আড্ডা দিয়ে,মশার কামড় খেয়ে।একেকজনের চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছে না।
রাতে না ঘুমিয়ে,সকালে আবার এপ্লিক্যান্ট নিয়ে বেরোচ্ছে তাদের হল দেখিয়ে দিতে।

কয়েকজনকে বললাম আমার বাসায় জায়গা আছে। তোদের শরীরের অবস্থাতো ভালো না, অসুস্থ হয়ে গেছিস। আমার বাসায় চল।ঘুমাবি

তাদের জবাব এসেছে:আমরা চলে গেলে এই ছোট ভাই গুলাকে দেখবে কে?

তাদেরকে হলের ছেলেগুলো এপ্লিক্যান্ট ভাবেনি,ছোটভাইয়ের মত ভেবেছে।
কি দরকার ছিলো তাদের এত ছেলে মেয়েকে জায়গা দেয়ার?কি দরকার ছিল?
তারাতো পারত জায়গা না দিয়ে নিজেদের মত রুমে শুয়ে বসে থাকতে।

তাদের মানবতা তাদের শুয়ে থাকতে দেয়নি,তাদের বিবেক তাদেরকে স্বার্থপরের মত বসে থাকতে দেয়নি।

এই ছেলে-মেয়েগুলার কি দরকার লাগছে বলুন?
এদের কারো ১ তারিখ থেকে পরীক্ষা অথচ নিজের রুমে ছোট ভাই-বোন গুলাকে জায়গা দিয়ে এখন পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
এদের ফাইলাল পরীক্ষার খাতায় এরা কি এইটা লিখবে,”রুমে ছোট ভাই-বোন ছিলো তাই পড়ার মত জায়গা পাইনি,কয়েক রাত ঘুমাতে পারিনি,বসে বসে আর মশার কামড খেয়ে কাটিয়েছি।”

এসব তো আর পরীক্ষার খাতা বুঝবেনা,কিংবা তাদের খাতা মূল্যায়নের সময় স্যারেরাও তো এইটা দেখবেনা যে,সে পড়তে পারেনি,ঘুমাতে পারেনি।

তারা কেন করে তাহলে?
তাদেরকে কি কেউ টাকা দিচ্ছে?না পয়সা দিচ্ছে।উলটা তারা নিজের পকেটের টাকা খরচ করে এপ্লিক্যান্টকে খাওয়াচ্ছে কিন্তু নিজের খাওয়ার কোন খবর নেই।

বিনিময়ে কি পাচ্ছে?
এই সিনিয়র ভাই-আপু গুলা ভালো না।তারা র‍্যাগ দেয়।

তোমাদেরকে আমরা এপ্লিক্যান্ট মনে করিনি;নিজের ছোট ভাই-বোন মনে করেছি।
আর তোমরা আমাদের বিনিময়ে কি দিলে?

সেই সকব আংকেল -আন্টি যারা বিপদে পড়েছেন আর আমরা ছুটে গেলাম এবং নিজের মা-বাবার মতো মনে করে সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে তাদের সাহায্য করলাম।বিনিময়ে আপনারা আমাদের কি দিলেন

হ্যা,দিয়েছেন।আমাদের আত্মত্যাগগুলোকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছেন,আমাদের ক্যাম্পাসের নামে কুৎসা রটিয়েছেন।

ভয় পাবেন না।
আপনারা এটা ভাববেন না যে আপনাদের এমন আচরণের কারণে, এমন কুৎসা রটানোর ফলে আমরা আগামীবার থেকে ছোট ভাই-বোন গুলাকে সাহায্য করা ছেড়ে দেব।

আমরা বেয়াদব চবিয়ানরা তা করতে চাইলেও পারিনা।কারণ, আমাদের মানবিকতা আর বিবেক বলতে দুটি জিনিস চাইলেও নিজেদের ভেতর থেকে সরাতে পারিনা।

তাই আপনাদের এত কুৎসা আর অকৃতজ্ঞতা সত্ত্বেও আমরা আপনাদের আর ছোট ভাই-বোনগুলাকে সাহায্য করতে সর্বদা এগিয়ে আসবো।

আমি গর্বিত আমি চবিয়ান

মাসুদ রেজা নূর।
ইতিহাস বিভাগ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

http://culive24.com/wp-content/uploads/2018/08/Rain-1024x570.jpghttp://culive24.com/wp-content/uploads/2018/08/Rain-150x150.jpgculiveক্যাম্পাসচবিয়ান ও তাদের আত্মত্যাগ বিনিময়ে বেয়াদব আখ্যায়িত সময় তখন বিকেল ৪.৩০ মত। ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা মাত্র শেষ হলো। চবি স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি,একটি সিটের আশায়।কখন ট্রেন আসবে আর সিট ধরবো।এদিকে পরিবহন ধর্মঘট চলছে,গাড়ি পাওয়াটা অনেকটা অসম্ভব তাই যেমন করেই হোক না সিট আমাকে ধরতেই হবে। এডমিশন টেস্টের সময় আমাদের ক্যাম্পাসে ট্রেনে সিট...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University