মাহবুব এ রহমান:

বৃষ্টির রিনিঝিনি সুর শুনতেই যেন এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে। তৃষ্ণার্ত পৃথিবীতে বৃষ্টি এনে দেয় পূর্ণাঙ্গ সজীবতা। ফোটায় ফোটায় যেন সর্গীয় অনুভূতি। আর তা যদি হয় সবুজাভ ক্যাম্পাসে! তাহলে তো আর কথাই নেই। বৃষ্টিস্নাত সকালে বিছানা ছাড়তে কারই বা ভালো লাগে! কিন্তু কাউকে কাউকে তো এই বাধা মাড়িয়ে উঠতেই হয়। ক্লাস, পরীক্ষা, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয় মানুষটির টানে ছুটতে হয় ক্যাম্পাস পানে। শহরের শিক্ষার্থীদের এসে দাঁড়াতে হয় স্টেশনে। অপেক্ষায় থাকতে হয় শাটল হুইসেলের।

আয়তনে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ছোটো-বড় টিলা বেষ্টিত ২১শ একরের প্রাণোচ্ছল এই ক্যাম্পাসে বৃষ্টি মানে আলাদা সতেজতা। বৃষ্টির ফোটায় ক্যাম্পাসের বৃক্ষরাজি প্রাণ ফিরে পায়। প্রকৃতি মেলে ধরে তার অসম্ভব সৌন্দর্য। বৃষ্টিতে ক্যাম্পাসের জারুলতলা কিংবা বুদ্ধিজীবী চত্বরের ছোটো ছোটো ঘাসগুলো আলতো চুমুতে পবিত্র করে চরণ যুগল।

‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগণে তিল ঠাঁই আর নাহিরে
ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।’

কবিগুরুর এই আহবান উপেক্ষা করে রোমাঞ্চকর স্বাদ নিতে শিক্ষার্থীরা ছুটেন প্রাণের ক্যাম্পাসে। বৃষ্টিভেজা দিনে উড়ু উড়ু মন কেমনে ক্লাসে নিবদ্ধ থাকে! তাই তো অনেকেই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সাথে চষে বেড়ান পুরো ক্যাম্পাস। কলা ঝুপড়িতে গানে আর আড্ডায় মেতে উঠেন। প্রিয়-প্রেয়সী একই ছাতার নিচে ঘুরে উপভোগ করেন বৃষ্টিস্নাত ক্যাম্পাস। এমন দিনে স্মৃতির সাগরে ডুব দিয়ে অনেকেই খুঁজে ফেরেন হারিয়ে ফেলা সোনালি শৈশব।

চবির পরিসংখ্যান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জেবুন নাহার শারমিন বলেন, ‘শীত এবং বর্ষা হচ্ছে আমার সবচেয়ে পছন্দের ঋতু। আর ক্যাম্পাসে বৃষ্টি মানে তো এক অন্যরকম ভালোলাগা। বৃষ্টিমুখর ক্যাম্পাসে খালি পায়ে কাটাপাহাড়ের পথ ধরে হাঁটা, পাশাপাশি হলের ছাদে উঠে বৃষ্টিতে ভেজা আমার অন্যতম শখ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এটাই আমার শেষ বর্ষ। তাই শুধুমাত্র ক্যাম্পাসে বর্ষাকে উপভোগ করার জন্যই এ বর্ষে হলে থেকেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম আহমেদ ইকবাল বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে ক্লাস মানে নিজের সাথে রীতিমত যুদ্ধ করা। একটুও ক্লাসে মন বসেনা। ক্যাম্পাসে যখন বৃষ্টি নামে তখন ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে আমার অসম্ভব ভালো লাগে। বৃষ্টির দিনে বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরি আর আড্ডায় দিনটা খুব ভাল কাটে।’

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাজনিন নূহা বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে ফিরে যাই আমার ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলোতে। ছোটোবেলা যখন বৃষ্টি আসত তখন আম্মুর বারণ আর বকুনি উপেক্ষা করে বাড়ির উঠোনে ভিজতাম। প্রচ- মিস করি সেই দিনগুলো। যদিও ক্যাম্পাসে বৃষ্টির দিনে সেই স্বাদ একটু হলেও অনুভূত হয়।’

দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল ইমরান বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে ক্লাস করতে আমার খুব ভালো লাগে। চারিদিকে যেন এক আশ্চর্য রকমের নীরবতা নেমে আসে। পরিবেশটা কেমন কোমল হয়ে ওঠে। এমন নীরব আর কোমল পরিবেশ আমার দারুণ পছন্দ।’

ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী নাবিহা ইবনাত বলেন, ‘জৈষ্ঠ্য শেষে হুড়হুড় গুড়গুড় করে মেঘে সাওয়ার হয়ে আষাঢ় আর শ্রাবণ নামে প্রিয় ক্যাম্পাসে।

শাটলের জানালায় হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখা, আর একটুখানি ভিজে যাওয়া। কাদামাটি মাখা কাঁচা-পাকা রাস্তা, মাটির সুঘ্রাণ। চেনা-অচেনা রঙিন ফুল। ক্যাম্পাস পৌঁছুতেই তুমুল বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় গুটিগুটি পা ফেলে নয়তো পর্দা টানা রিকশা বা অটোতে চেপে ফ্যাকাল্টি যাত্রা। ঝুপড়ির চালে ঝম ঝমাঝম বৃষ্টির তাল। প্রিয় আর প্রেয়সী দু’য়ে মিলে একই ছাতার নিচে কিছু দূর এগোনো! কখনও দলবেঁধে বৃষ্টি উদযাপন সে এক অব্যক্ত অনুভূতি।

বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে প্রাণের ক্যাম্পাস অনন্য এক রূপে সাজে। আর তা দেখার জন্য আমি থাকবো না এমনটা কি হতে পারে! বৃষ্টির দিনে শাটলে করে ধান ক্ষেত, গ্রাম-গঞ্জ পেরিয়ে ক্যাম্পাস যাওয়া আমার অন্যতম শখ। শাটলের জানালা দিয়ে বৃষ্টির মাদকতা মিশ্রিত পানি যখন সমস্ত শরীর শিহরিত করে সে যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি! শাটল জার্নি শেষে যখন ক্লাসমুখি হই তখন স্টেশনের কৃষ্ণচূড়া গাছ এবং কাটা পাহাড়ের রাস্তা তথা সমস্ত ক্যাম্পাসজুড়ে থাকে আমার মুগ্ধতা! বন্ধুদের সাথে ক্লাসের ফাঁকে আড্ডাটাও বেশ জমে।’

বৃষ্টির দিনের ক্যাম্পাসের চেহারা সত্যিই অন্যরকম। ক্লাসের প্রতি সবারই যেন এক গাছাড়া ভাব। বৃষ্টির দিনে প্রকৃতিকে উপভোগেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে সবাই।

ছবি: তৌকির আহমেদ মাসুদ

http://culive24.com/wp-content/uploads/2018/08/Rain-1024x570.jpghttp://culive24.com/wp-content/uploads/2018/08/Rain-150x150.jpgculiveক্যাম্পাস সৌন্দর্যমাহবুব এ রহমান: বৃষ্টির রিনিঝিনি সুর শুনতেই যেন এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে। তৃষ্ণার্ত পৃথিবীতে বৃষ্টি এনে দেয় পূর্ণাঙ্গ সজীবতা। ফোটায় ফোটায় যেন সর্গীয় অনুভূতি। আর তা যদি হয় সবুজাভ ক্যাম্পাসে! তাহলে তো আর কথাই নেই। বৃষ্টিস্নাত সকালে বিছানা ছাড়তে কারই বা ভালো লাগে! কিন্তু কাউকে কাউকে তো এই...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University