রাজ্যের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত দেশের সবচেয়ে বড় পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয় চবির একমাত্র ছাত্র পরিবহন শাটল। পুরনো লক্বড়-ঝক্বড় বয়োপ্রাপ্ত মৃতপ্রায় অপর্যাপ্ত বগি ও আধমরা ইঞ্জিন নিয়ে অরক্ষিত পাথরবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটাবার জন্য অদ্বিতীয় সে। সিংহভাগ স্টেশনে যাত্রী উঠা নামার জন্য পর্যাপ্ত প্লাটফর্ম নেই, ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছে আপামর শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত ছিনতাই সহ নিরাপত্তার অভাবে বহিরাগত দুষ্কৃতিকারী দ্বারা ছাত্রী শ্লীলতাহানির মত ঘটনাও ঘটছে। ভাবা যায়, রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা পর্যন্ত করতে অপারগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ! এছাড়াও রয়েছে স্থানীয়দের অনধিকার চর্চা, যাত্রী পরিবহনে বস্তীবাসীদের লাকড়ি ও দুর্গন্ধময় ঝুট-মাল পরিবহন সহ টোকাইদের অবর্ণনীয় উৎপাত। রাত্রি জুড়ে বটতলীর প্লাটফর্মে দাড়ানে শাটলের কামড়ায় চলে মাদকের আসর মতান্তরে দেহ ব্যবসা ও মলত্যগের মত জঘন্য কাজ।

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যলয় প্রশাসনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক শাটলের এই দুরাবস্থা। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর একমাত্র এ বাহনে আরো যে অনেক গুলি বগি সংযুক্তির চাহিদা রয়েছে তা কোনভাবেই কর্তৃপক্ষের কর্ণকুহরে পৌছানো যাচ্ছিলো না। জীবন বাজি রেখে শিক্ষার্থীরা প্লাটফর্মে পৌছানোর পূর্বেই হুড়মড়িয়ে সিট ধরতে শাটলে উঠে, একজন উঠেই বই, খাতা, পেন্সিল, কলম সহ আরো নানাবিধ উপকরণ দিয়ে ফ্রেন্ড সার্কেল, প্রিয়জনদের জন্য সিট ধরে, বঞ্চিত হয় সেকেন্ড কয়েক পরে উঠা অন্য শিক্ষার্থীরা। এভাবেই চলছিলো অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অপব্যবহারের শাটল।

গত ৮ই আগষ্ট সকাল ৮ টা ১৪ মিনিটে নগরের ষোলশহরে ক্যাম্পাসগামী শাটল প্লাটফর্মে এসে দাড়ানোর সময় সমাজতত্ত্ব বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মো: রবিউল আলম ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে দুটি পা’ই হারান। হাটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া তার পা দুটি যেনো আপামর শিক্ষার্থীর নিদারুণ অসহায়ত্বতার পরিচয়’ই বহন করছিলো। আর কত রক্ত ঝরলে কর্তৃপক্ষ তোমার জ্ঞান ফিরবে?

শিক্ষার্থীদের এই ক্রান্তি লগ্নে রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম-আন্দোলনে যে ছাত্রলীগ অগ্রভাগে থাকে, নেতৃত্ব দেয়, দাবি ছিনিয়ে আনে সে ছাত্রলীগ’ই তো সত্যিকারের ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছাত্রলীগ। আহত শিক্ষার্থী অপোজিট পার্টির ছাত্রনেতা হলেও, জাত-পাত বিবেচনায় না এনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে মানববন্ধন ও দাবি আদায়ের প্লাটফর্মকে গতিশীল করায় যে ভুমিকা ছাত্রলীগ দেখিয়েছে তা সত্যিই সহস্র প্রশংসার দাবিদার।

যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূরীভূত করে নিরাপদ শাটল নিশ্চিত করাই এখন চবির হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি। প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মেহেদী হাসান
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

http://culive24.com/wp-content/uploads/2017/06/colorful-train-of-chittagong-university.jpghttp://culive24.com/wp-content/uploads/2017/06/colorful-train-of-chittagong-university-150x150.jpgculiveUncategorizedরাজ্যের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত দেশের সবচেয়ে বড় পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয় চবির একমাত্র ছাত্র পরিবহন শাটল। পুরনো লক্বড়-ঝক্বড় বয়োপ্রাপ্ত মৃতপ্রায় অপর্যাপ্ত বগি ও আধমরা ইঞ্জিন নিয়ে অরক্ষিত পাথরবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটাবার জন্য অদ্বিতীয় সে। সিংহভাগ স্টেশনে যাত্রী উঠা নামার জন্য পর্যাপ্ত প্লাটফর্ম নেই, ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছে আপামর...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University