বাস্তবতাঃ- পড়াশুনা শেষ করে এরাই বিসিএসে পুলিশকে প্রথম / দ্বিতীয় পছন্দ দিবে অথবা সার্জেন্ট,সাব- ইন্সপেক্টর হতে চেষ্টা করবে। তারাই চ্যাটের বাল হওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াবে। এমনও দেখেছি পুলিশের লাইনে বাদ পড়ে যায় বারবার সে বলে বড় কথা।পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এসআই লিখিত ফেল করে লম্বায় হয় না সেও ক্রোধে স্ট্যাটাস দে।

আইনী বাস্তবতাঃ-
ঘটনা ঘটায় যেকোনো দুটি পক্ষ, পুলিশ হল তৃতীয় পক্ষ। তবে আইনী বাস্তবতা বা আইনী বাধ্যবাধকতার কারণে পুলিশকে দুটি পক্ষকেই বিশৃঙ্খলা থেকে নিবৃত্ত করতে গিয়ে দুটো পক্ষকেই মোকাবেলা করতে গিয়ে তাদের কাছে ভিলেন হতে হয়, মাঝখান থেকে যারা ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা হিরো হয়ে যায়!!!

স্বীকারোক্তি :-
মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে, ভাঙচুর ঠেকাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পুলিশ সদস্যদের ও থাকা উচিৎ, এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তারা ট্রেইনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে এবং নিজের চাকরীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স করে রাখে। আমি নিজেই গত মাসে পরীক্ষা দিয়ে আসলাম।তবে সেটা দেখার দায়িত্ব নিশ্চই প্রচলিত আইন ব্যবস্থা সবার হাতে তুলে দেয়নি। দেশে নিশ্চই জরুরী অবস্থা ঘোষনা হয়নি যে, প্রচলিত আইন ব্যবস্থার গুষ্ঠি উদ্ধার করতে হবে।

প্রশ্ন:
১| আপনাদের যৌক্তিক আন্দোলনের যেই নির্দিষ্ট দাবি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা,সেখানে পুলিশের বিরোধীতা করে ফেস্টুন ,ব্যানার স্লোগানের প্রয়োজন কি? আন্দোলন কি পুলিশের বিরুদ্ধে! নাকি নিরাপদ সড়কের জন্য?
২|এক ছাত্রকে বুকে জড়াই ধইরা এক পুলিশ সদস্য বলছে “ছোটভাই অনেক ভাংগছো,আর ভাইংগো না প্লিজ”
এরপর ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন না করে তোমরা পুলিশের সামনে গাড়ি ভাংচুর করবা, পুলিশ তখন সেটা চেয়ে চেয়ে দেখাটাই কি পুলিশের কর্তব্য ছিল!?
৩| পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করলা, গাড়িটি কি ক্ষতি করলো!?
তোমরা কি আদৌ জানো!? সেই গাড়ির ইনচার্জকে হয়তো গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ করতে না পারার কারনে ক্লোজড করা হতে পারে!!
৩| আপনার ভাইয়ের রক্ত লাল, ভালো কথা।আমি পুলিশের রক্ত বুজি কালো!?
৪|পুলিশ ঘুষ খায়, দেশের সমস্ত বড় বড় বিল্ডিং, দামী গাড়ী গুলোর সব মালিক বুজি পুলিশ!?
৫| ধনীর দুলালরা যারা আজ রাস্তায় নেমেছেন, কেউ কি আপনার ডেডি (বাবা) কে জিজ্ঞাসা করেছেন!?
(ক) “ডেডি!! আমি একার জন্য এত বড় একটা গাড়ি রোডে নামিয়ে কেন জ্যাম সৃষ্টি করা হয়?”
(খ)”ড্যাড!! আমাদের গাড়ী পার্কিং নিষেধ লেখা সত্তেও এইখানে কেন পার্কিং করলো!?
(গ)”পাপা!! আমরা wrong সাইডে কেন আসলাম!? তুমি কেন পুলিশকে ঘুষ দিলে!?
(ঘ) “পাপা!! এত দামী গাড়ি কেনার টাকা কই পাইছো তুমি!? তোমার কি ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে!? ”

না।
এখানে তোমাদের পাকনামী চলেনি।
উল্টো এটাই বলেছো,
“পাপা!! আমাকে আগামী মাসে নিউ মডেলের ferrari টা কিনে দিতে হবে, এবং আমি নিজেই ড্রাইভ করবো, তোমার ছেলের গাড়ির লাইসেন্স চেক করার মত “চ্যাটের বাল পুলিশ”কে আমি গোনায় ধরি না।
নিজের বিরুদ্ধে কথা বলা, অাত্বসমালোচনা করতে আমরা শিখিনি।
rich_kids_society বলে কথা।

পুলিশ ভাইদের প্রতি প্রশ্ন:-
তোমাদের বুজি খাই দাই আর কাম নাই।
কি এমন ব্যক্তিগত স্বার্থে ছাত্রদের সাথে হ্যাচিং এ গেল বুজলাম না।
কিরে ভাই! কি সমস্যা তোদের!?
সামনে লাইভ সিনেমা চলে। যার মধ্যে সাধারণ জনগণের চলাচলপথ বন্ধ করা,
গাড়ী ভাংচুর করা, ইট-ঢিল ছুড়াছুড়ি এগুলা জাস্ট শুটিং এর একটা অংশ ছিল। দাড়াই দাড়াই শুটিং এর মজা নিতি। পারলে ছাত্রদের সাথে একাত্ততা দেখিয়ে তোরাও দুটো গাড়ী ভেঙে দিতি। তা না করে তোমরা গেলা ছাত্রদের থামাইতে।
ভালই তো ট্যাগ খাইলা, “চ্যাটের পুলিশ”
হে আমজনতা!!
কবে তোমাদের দূরদর্শী চক্ষু উন্মুক্ত হবে?!

নির্মম বাস্তবতাঃ-যারা পুলিশকে গালি দিচ্ছেন অথবা পুলিশকে ভিন গ্রহের কোন প্রাণী ভাবেন, বিপদে পড়লে প্রথমেই তাদের কোন পরিচিত পুলিশকেই ফোন দেন!! তারা যদি আপনাকে তখন মুখের উপর বলে দেয়, “আপনার সমস্যা আপনি দেখেন, আমি পুলিশ কোন চ্যাটের বাল!!”

অনুরোধঃ-
ঠান্ডা মাথায় একবার ভেবে দেখুন পুলিশ না থাকলে আপনি কতটুকু নিরাপদ!!! পুলিশ যদি ১ ঘন্টার জন্য কর্মবিরতি দেয় আমি কনফার্ম আপনি যেই আড্ডায় পুলিশের বিরুদ্ধে কথা বলে মুখে ফেনা তুলেছেন, সেই আড্ডা থেকেও সুস্থভাবে ঘরে ফিরতে পারবেন না। আপনার কাছের বন্ধুটিই হয়তো পুরানো কোন হিসেব একটা ছুরির আঘাতেই মিটিয়ে নিবে। আহত অবস্থায় ঘরে ফিরে দেখবেন আপনার প্রতিবেশী আপনার ঘর ভেঙে দিয়ে সুন্দর বাউন্ডারি ওয়াল তৈরি করে রেখেছে। আপনার বোনের কাছে প্রেমে প্রত্যখ্যাত হওয়া পাড়ার ছেলেটি আপনার বোনকে তুলে নিয়ে গেছে।
পুলিশ থাকা অবস্থায় ও দেশে অহরহ অপরাধ কি ঘটছেনা!?
অবশ্যই ঘটছে।
তবে পুলিশ না থাকলে কি হবে সেই পরিস্থিতির সাথে তুলনা করতে যাইয়েন না। দেশে ম্যাসাকার পরিস্থিতি লেগে যাবে।

প্রত্যাশাঃ-আমরাতো খারাপ, আশা করি যারা ভাল তারা পুলিশে যোগদান করে পুলিশকে ভাল হতে সাহায্য করুন!!!

উপসংহারঃ আমাদেরও পরিবার আছে, আমাদের মা,বাবা,ভাই ও বোন রাস্তায় চলাফেরা করে! আমরা সমাজের বাইরের কেউ না!!! আমরা ও নিরাপদ সড়ক চাই। গত এক সপ্তাহ আগেই কর্তব্যরত একজন ট্রাফিক পুলিশের গায়ের উপর গাড়ী চালিয়ে দেয়া হয় এবং ঐ পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়। কিন্তু কোথাও কোন পুলিশ সদস্যকে মানব বন্ধন বা কর্মবিরতি দিতে দেখিনি। কোন দিনই দেখিনি আপনি ও দেখেন নি।

এক সময় আমরা ও ছাত্র/ ছাত্রী ছিলাম।
স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি আমরা ও শেষ করেছি।
অতএব চিন্তা না করেই যারা বাচ্চাদের পুলিশকে গালি দিতে শিখাচ্ছেন, আপনার বিবেকের কাছে প্রশ্ন আপনি ঠিক করছেন কিনা!!!!

শেষ কথাঃ-পুলিশের সাফাই গাচ্ছি !?
হয়তো তাই।
একটা পরিবারের সবাই এক রকম হয় না।তেমনি পুলিশ পরিবারের সবাই সমান না, কেউ কেউ ব্যতিক্রম থাকতেই পারে!
আসুন,সবাই মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই।
আর সবাই মিলে পুলিশকে বেশী বেশী গালি দেন, অপছন্দ করেন। দোয়া করি তারা বা তাদের পরিবারের কেউ পুলিশে যোগদান করুক!!!! পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করুক।(সংগৃহীত)

culiveন্যাশনালবাস্তবতাঃ- পড়াশুনা শেষ করে এরাই বিসিএসে পুলিশকে প্রথম / দ্বিতীয় পছন্দ দিবে অথবা সার্জেন্ট,সাব- ইন্সপেক্টর হতে চেষ্টা করবে। তারাই চ্যাটের বাল হওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াবে। এমনও দেখেছি পুলিশের লাইনে বাদ পড়ে যায় বারবার সে বলে বড় কথা।পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এসআই লিখিত ফেল করে লম্বায় হয় না সেও ক্রোধে স্ট্যাটাস...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University