আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় তিনতিনটে তরতাজা প্রাণ স্পটে খুন হলো।
এই কথা শুনে একজন জনপ্রতিনিধি হেসে উড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন, বাংলাদেশের মত আর কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়না!
বড় অদ্ভুত আমরা। কারও মৃত্যুর সংবাদ শুনেও হাসতে পারি। তিনটা লাশ কোনো ব্যাপার না আমাদের কাছে।
আমরা আপনজনের মৃত্যুর সংবাদ ফেসবুকে ইমোজি দিয়ে জানান দিতে পারি। রক্তে রঞ্জিত রাস্তায় দাঁড়িয়ে সদ্য দুমড়ানো বাসের সাথে সেল্ফি নিয়ে হাসিঠাট্টা করি।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অপরাধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার দুটো পা ভেঙ্গে দেয়া হলো৷ কী এমন মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছিল সে? অতীতে মানুষ কখনো এমন ঘটনার সাক্ষী হয়েছে কিনা আমার জানা নাই।
দাবী আদায় করতে আন্দোলনকারীরা আন্দোলন করেছে, সরকারকে চাপ প্রয়োগ করেছে, এটাই আন্দোলকারীদের ধর্ম। আন্দোলন দমাতে বিরোধীরা বাধা প্রদান করবে, মারবে, ধমকাবে। এটাও বিরোধীদের ধর্ম। অতীতে বাংলাদেশ অনেক বর্বরতার সাক্ষী হয়েছে কিন্তু এমন বর্বরতম ঘটনা কেও প্রত্যক্ষ করেনাই।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো হামলাকারীর মধ্যে বিন্দু পরিমাণ অনুশোচনা নেই।

একজন মাদ্রাসা শিক্ষক, তার ছাত্রীকে নগ্ন ছবি ফাস করার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে৷ একজন মাদ্রাসা শিক্ষক পায়ুপথে ইয়াবা পাচার করে। কী লজ্জা! ধর্মীয় বিশ্বাসীদের পূন্যভূমিতে একি কাণ্ড! মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে এখন। কার কাছে সন্তানদের ধর্মীয় নৈতিকতা শিখাবে?

এনএসইউ শিক্ষার্থী পায়েলের সাথে কি কাণ্ডটা হলো। ইতিহাসের আরেক নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হলাম আমরা। হাসপাতাল নেয়ার ঝাক্কি থেকে বাচাঁর তাগিদে ইট দিয়ে মাথা থেতলে নদীতে ফেলে দিল তারা। এ কেমন মানবিকতা? আমরা নাকি একটি ফুলকে বাঁচারে গিয়ে যুদ্ধ করি! কোথায় সে বানী?

আজকে দেশের খেলাপী ঋণের পরিমাণ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কে কত ঋণ নিতে পারি সে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছি আমরা। কার আগে কে যাব। কার ভুড়ি কত বড় হবে। কার গহনা কতখানি আছে। কার বাচ্চার জিপিএ বেশি। কার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স কত। কে কত ঘুষ দিয়ে চাকরি নিল। কম্পিটিশন! কম্পিটিশন! সমাজের চলমান এ-প্রতিযোগিতা ক্রমে ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করছে যা আমরা এখনো উপলব্ধি করতে পারছিনা।

প্রশ্ন ফাসের সোনালি যুগ চলছে। কী পাব্লিক পরীক্ষা আর নিয়োগ পরীক্ষা! সবাই শিক্ষামন্ত্রীকে দুষছেন। শিক্ষামন্ত্রী নিজ হাতে প্রশ্ন ফাস করছেন? সম্ভব এটা? এর সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট অনেকে। এটি এক বিরাট নৈতিকতার প্রশ্ন যা আমরা সবসময়ই এড়িয়ে যাই। এড়িয়ে যায় হলুদ মিডিয়াগুলো-ও। তারাও ব্যস্ত হয়ে পড়ে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে, কার আগে কে প্রচার করবে।
অবিভাকরা টাকা দিয়ে কিনে সন্তানদের প্রশ্ন বিলি করছেন৷ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে প্রশ্ন কিনছে। নৈতিকিতার অবস্থাটা দেখুন৷ সমাজের সার্বিক চিত্রটা এখানেই দেখতে পাবেন।

মানুষ যবে থেকে যৌনতা বুঝতে শিখেছে ধর্ষণের শুরুটা বোধহয় তখন থেকেই। পৃথিবীতে সভ্যতা বিলানো সেই আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ হয়। আমাদেরও হয়। কিন্তু আমাদের ধর্ষকরা শুধু ধর্ষণ করেই থেমে নেই। ধর্ষিতার শরীর ছিন্নভিন্ন করে তারা ক্ষান্ত হয়। পৃথিবীর কোথাও এমন ঘটনা খুঁজে পাবেন না আপনি।

আমাদের শিক্ষরা আন্দোলন করে নিজেদের ভাগটা সবার আগে ঠিকই বুঝে নেন। তারা কখনো শিক্ষার্থীদের সুযোগসুবিধা নিয়ে ভাবেন না। শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনে পঁচা খাবার খায়, হাজার হাজার শিক্ষার্থী মাত্র কয়েকটি বগি নিয়ে যাতায়ত করে আর তারা এসি বাস আমদানি করেন।

আমরা নিম্নমধ্য আয় থেকে মধ্য আয়ে উন্নীত হয়েছি। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। ক্রয়ক্ষমতা ব্যাপক হারে বেড়েছে আমাদের৷ বার্ষিক বাজেট গত ৯ বছরে পাঁচগুণ বাড়িয়েছি আমরা। জিডিপির আকার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে। বৈদেশিক রিজার্ভ পাকিস্তানের চেয়ে পাঁচগুন বেশি আমাদের৷ রেমিটেন্স বাড়ছে। রপ্তানী বাড়ছে৷ শিক্ষার হার বাড়ছে। কোনদিকদিয়ে পিছিয়েছি আমরা? ১০ লাখ রোহিঙ্গাদেরও ভরণপোষণ করছি!
কিন্তু….
দিন যত গড়াচ্ছে আমাদের মধ্যে মানবিকতাবোধ, পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহিষ্ণুতা আর নৈতিকতার যে অধপতন ঘটেছে সত্যি এটা শীঘ্রই ভয়ানক আকার ধারণ করবে যার চরম মূল্য দিতে হবে গোটা জাতীকে। এখনই আমাদের ভাবতে হবে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিরাট অঙ্কের রেমিটেন্স নিয়ে পড়ে থাকলে চলবেনা৷ জাতীকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে হবে। নাহয় একদিকে পুরো পৃথিবী সভ্য হয়ে যাবে আর আমরা বড়-বড় ইমারত আর ফ্লাইওভার নিয়ে পড়ে থাকব।
ইংল্যান্ড নিঃস্বঙ্গতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় করেছে প্রয়োজনে আমাদের নৈতিকতা বিষয়ক মন্ত্রনালয় খুলতে হবে। ভাবতে হবে সবাইকে। কথা বলতে হবে সমাজের অসংগতি নিয়ে। এখনি সময়।

https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/05/3-faith.jpg?fit=424%2C283https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/05/3-faith.jpg?resize=150%2C150Shamim HasanUncategorizedআগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় তিনতিনটে তরতাজা প্রাণ স্পটে খুন হলো। এই কথা শুনে একজন জনপ্রতিনিধি হেসে উড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন, বাংলাদেশের মত আর কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়না! বড় অদ্ভুত আমরা। কারও মৃত্যুর সংবাদ শুনেও হাসতে পারি। তিনটা লাশ কোনো ব্যাপার না আমাদের কাছে। আমরা আপনজনের মৃত্যুর সংবাদ ফেসবুকে ইমোজি দিয়ে জানান...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University