ভদ্রমহিলার নাম কোলিন্দা গ্র‍্যাবার কিতারোভিচ। তার পরিচয়, তিনি ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের সর্বকণিষ্ঠ নারী প্রেসিডেন্টও তিনি। এবারের বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠে রাকিটিচ-মডরিচদের ক্রোয়েশিয়া যেমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, তেমনই আলোচনায় এসেছেন প্রেসিডেন্ট কিতারোভিচও। দল নক আউট রাউন্ডে ওঠার পর থেকে প্রতিটা খেলায় তিনি মাঠে হাজির ছিলেন, গ্যালারীতে সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গেই দাঁড়িয়ে উল্লাস করেছেন, দলকে সমর্থন জুগিয়েছেন। সেসব ছবি ছড়িয়ে পড়েছে অন্তর্জালে। ক্রীড়ামোদী এই প্রেসিডেন্ট তাই নজর কেড়ে নিয়েছেন বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের।

গতকাল ফাইনালেও তিনি ছিলেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো আর ফিফা প্রেসিডেন্ট জিওয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ভিআইপি বক্সে বসে খেলা উপভোগ করেছেন তিনি। পুতিনকে তো ক্রোয়েশিয়ার নয় নম্বর জার্সিও উপহার দিয়েছেন। পেরিসিচ যখন প্রথম গোলটা করে ম্যাচে সমতা আনলেন, তখন তার উল্লাসরত ছবিটাও দেখেছে সবাই। তবে দিনশেষে তার দল হেরে গেছে। তিনি হতাশ না হয়ে স্বান্তনা জুগিয়েছেন দলকে, খেলোয়াড়দের বলেছেন, ফাইনালে জিততে না পারলেও দেশের মানুষের কাছে তারাই চ্যাম্পিয়ন। এই দলটা যে এতদূর এসেছে, এটাই বা কম কি!

কোলিন্দা গ্র্যাবার কিতারোভিচ, ক্রোয়েশিয়া, প্রেসিডেন্ট, বিশ্বকাপ ফুটবল
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার জয়ের পরে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। দলকে অভিনন্দন জানাতে কিতারোভিচ গিয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার ড্রেসিংরুমে। খেলোয়াড়েরা তখন উদযাপনে ব্যস্ত। সেই উদযাপনে শামিল হয়েছিলেন কিতারোভিচও। ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়েরা কেউই শার্ট-প্যান্ট পরে বসে থাকেন না সবসময়। খেলা শেষে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়ারাও অনেকেও খালি গায়েই ছিলেন। সম্ভবত তারা জানতেনও না যে প্রেসিডেন্ট এভাবে হঠাৎই যাবেন তাদের সঙ্গে দেখা করতে।
কিতারোভিচ ড্রেসিংরুমে গিয়ে প্রথমেই কোচকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দনজানিয়েছেন, তারপর একে একে জড়িয়ে ধরেছেন দলের সব খেলোয়াড়কে। ভিডিওতে অধিনায়ক লুকা মড্রিচের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতেও দেখা গেছে তাকে, হয়তো দলনেতাকে দারুণ খেলার জন্যে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন কিতারোভিচ। পুরো দৃশ্যটায় অসংলগ্ন কোন ব্যাপার নেই, অস্বাভাবিক কিছুই নেই।

কোলিন্দা গ্র্যাবার কিতারোভিচ, ক্রোয়েশিয়া, প্রেসিডেন্ট, বিশ্বকাপ ফুটবল
তবে কিছু মানুষের কাছে আবার এটা বেশ অস্বাভাবিক। একজন নারী হয়ে কিতারোভিচ ক্রোয়েশিয়ার পুরুষ খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরছেন, এই দৃশ্যটা আমাদের চোখে যতো স্বাভাবিকই লাগুক, একদল বিকৃতমনস্ক পার্ভার্ট এটার মধ্যেই যৌনতার ছায়া খুঁজে পাচ্ছে! যে খেলোয়াড়েরা মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে খেলছেন, জয় তুলে আনছেন, তাদের ধন্যবাদ জানানোর এটাই তো রীতি। জড়িয়ে ধরা বা গালে চুমু খাওয়া, এসব তো ইউরোপীয় সংস্কৃতি। সেটাও যে কারো কাছে ‘সেক্সি’ মনে হতে পারে, এমনটা ধারণাতেও ছিল না!

একজন প্রেসিডেন্ট একটা দেশের অভিভাবকের মতো। কোলন্দা গ্র‍্যাবার কিতারোভিচ তার দলের খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরছেন বড় বোনের মতো স্নেহে, কিংবা মায়ের মতোন ভালোবাসায়। তার ছেলেরা ভালো খেলেছে, জিতেছে তিনি তাদের জড়িয়ে ধরেছেন। গতকাল রাকিটিচ-মডরিচরা ম্যাচ হেরেছেন, বিশ্বকাপ খুইয়েছেন, কিতারোভিচ তাদের জড়িয়ে ধরে স্বান্তনা দিয়েছেন। এই জড়িয়ে ধরায় প্রেম নেই, যৌনতা নেই, আছে স্নেহ, মায়া আর মমতা। সেটা আমাদের আশেপাশে থাকা কিছু মানসিক বিকারগ্রস্থ পার্ভার্ট কখনোই বুঝবে না।

কোলিন্দা গ্র্যাবার কিতারোভিচ, ক্রোয়েশিয়া, প্রেসিডেন্ট, বিশ্বকাপ ফুটবল
এরা ব্যাস্ত হয়ে যাবে ক্রোয়েশিয়ান প্রেসিডেন্টের শরীরের ফিজিক্যাল স্ট্যাটিস্টিকসের খোঁজে, এরা গবেষণা করে বের করার চেষ্টা করবে, এতগুলো পুরুষকে জড়িয়ে ধরে এই নারী কতটা ‘মজা’ পেয়েছেন! নারী হয়ে কেন তিনি পুরুষ খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরতে গেলেন, সেসবের ওপর থিসিস করতে গিয়ে এরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সয়লাব করে ফেলে। এরা ভালোবাসা বোঝে না, বোঝে শুধু যৌনতা। এদের কাছে নারী মানে শুধুই মাংসের দলা। এদের নিজেদের মা-বোনেরাও হয়তো এই মানুষগুলোর কাছে নিরাপদ নয়!

এইসব বিকৃতমনস্ক মানুষগুলো আমাদের আশেপাশেই থাকে। পরিচিতের বেশে ঘুরে বেড়ায়। এরাই চলন্ত বাসে নারীদের হয়রানী করে, মিছিল-মিটিঙে যাওয়ার সময় মেয়েদের উত্যক্ত করে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ‘হাত ধরে হাঁটার’ মতো বিশাল অপরাধে সিনিয়র ছাত্র-ছাত্রীদের গায়ে দলবেঁধে হাত তোলে! মেয়ে দেখলেই তেঁতুল হুজুরের সূত্র অনুযায়ী এদের মুখ থেকে লালা ঝরে পড়ে! সেই নারী দূরদেশের প্রেসিডেন্ট হোক, কিংবা নিজের ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র আপু, সেসবের ধার ধারে না তারা। এজন্যেই ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্টের তার দলের খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরার মতো অতি স্বাভাবিক বিষয়টাতেও তারা যৌনতা খুঁজে পায়। তারা নিজেরা যে অস্বাভাবিক মানসিকতার বিকৃতমনস্ক মানুষ, সেটা তাদের মাথায় ঢোকে না!
©

https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/07/kolinda-crocia-president.jpg?fit=650%2C354https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/07/kolinda-crocia-president.jpg?resize=150%2C150culiveআন্তর্জাতিকcrocia president,kolindaভদ্রমহিলার নাম কোলিন্দা গ্র‍্যাবার কিতারোভিচ। তার পরিচয়, তিনি ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের সর্বকণিষ্ঠ নারী প্রেসিডেন্টও তিনি। এবারের বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠে রাকিটিচ-মডরিচদের ক্রোয়েশিয়া যেমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, তেমনই আলোচনায় এসেছেন প্রেসিডেন্ট কিতারোভিচও। দল নক আউট রাউন্ডে ওঠার পর থেকে প্রতিটা খেলায় তিনি মাঠে হাজির ছিলেন, গ্যালারীতে সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গেই দাঁড়িয়ে উল্লাস...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University