নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু ভাই, জুলাই মাসে ফেসবুকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সে বার্তা থেকে আমরা জানতে পারি, মুক্তিযোদ্ধা ওমর কোরেশী মারা যান পাঁচই জুলাই বৃহস্পতিবার। কিন্তু এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়ে দাফন করা যায়নি। কারণ তাঁর মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র ছিলো না। তিনি মৃত্যুর আগে পাঁচ বছর মন্ত্রণালয় সহ নানা জায়গায় ছোটাছুটি করেছেন মুক্তিযোদ্ধার একটি সনদপত্র লাভের জন্য। কিন্তু তা জোটেনি। দুই বছর আগে সনদ লাভের সবকিছু প্রায় সমাধা করে ফেলেছিলেন কিন্তু আইনি জটিলতায় তা থেমে যায়। বাচ্চু ভাই আমাদের আরো জানাচ্ছেন, বাছাই প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে আছে লক্ষাধিক মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র। বাচ্চু ভাই দুঃখ করে বলছেন, মুক্তিযোদ্ধার সরকারী স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণে ওমর কোরেশী খুবই মনোকষ্ট নিয়ে মারা যান । বাচ্চু ভাইর সঙ্গে একইভাবে আমরা অনেকেই এই মনোকষ্টের অংশিদার।

বাচ্চু ভাইর উপরে দেয়া তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্য আমাদের জানতে সাহায্য করে একলক্ষ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার কাছে সনদপত্র নেই এবং স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পরে তাদের সনদপত্র পাওয়া না পাওয়া সরকারী জটিলতায় আটকে আছে। বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের তাহলে প্রকৃত অর্থে কী সম্মান দেওয়া হলো? বিশেষ কোনো সরকারকে এর জন্য দায়ী না করে সকল সরকার এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে এর জন্য দায়ী করছি। মুক্তিযোদ্ধাদের যেখানে আমরা একটি সনদপত্র দিতে পারছি না, নিজের সন্দপত্র না দেখে যেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধা মারা যাচ্ছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মানটা কোথায় দেখাচ্ছে সেখানে রাষ্ট্র। সরকারী চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা ব্যবস্থা রেখে? কী হাস্যকর যুক্তি! স্বয়ং মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান দেখাচ্ছি না, মায়াকান্না তাদের সন্তান-পরিজনকে চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাঁর যথাযথ প্রাপ্য সম্মান না দেখিয়ে, তার সন্তান-নাতিদের চাকরি দেয়ার জন্য তাহলে আমরা ব্যস্ত হলাম কেন?

বর্তমান কোটা আন্দোলনে ছাত্রদের অনেক বক্তব্যের সত্যতা এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু সেই জটিল আলোচনায় না গিয়ে সহজ একটা প্রশ্ন রাখতে চাই, যাঁরা আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং নাতিকে চাকরি দিতে চাইছি, সেটা দেবো কীসের ভিত্তিতে? হিসেবে দেখা যাচ্ছে, এক লাখ মানে প্রায় অর্ধেক সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধাদের সনদপত্র নেই। ধরে নেয়া যায় এঁদের সন্তানরা কিছুই সুবিধা পায়নি। কারণ তারা তো প্রমাণ করতেই পারছে না, তারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। ঘটনা কী দাঁড়াচ্ছে তাহলে? অর্ধেক মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করে বাকি মুক্তিযোদ্ধাদের বার বার সুবিধা দিতে চাইছি। মুক্তিযোদ্ধাদের নামে এইরকম কোটা রাখার বাস্তবতা কী দাঁড়ালো তবে? এটাতো দিনের আলোর মতো স্পষ্ট, এক লাখ মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্রই পাননি, অন্যান্য সুবিধা পাওয়া তো দূরের কথা।

বাংলাদেশের প্রায় সবাই মুক্তিযোদ্ধা এ কথা ঠিক। আবার এটাও ঠিক যে, যাঁরা সম্মুখ সমরে লড়াই করেছেন তাঁদের অবদান বিশেষভাবে চিন্তা করার দাবি রাখে। পাশাপাশি এ কথাও ঠিক, যাঁরা সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেননি কিন্তু নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন করে প্রাণ দিয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, সেইসব মানুষকে ছোটো করে দেখবো কী করে। মুক্তিযুদ্ধকে উপলক্ষ্য করেই তো প্রাণ দিয়েছেন বহু মানুষ, ঘরবাড়ি হারিয়েছেন বহু পরিবার। নির্যাতিত হয়েছেন কতো নারী। তবুও সম্মুখ সমরে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাদেরকে আমরা কিছুটা অধিক সম্মানই দিতেই চাই। কারণ, দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে চাওয়াটা খুব সম্মানজনক কাজ। আর যাঁরা সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা’ কথাটা তখন তাদের জন্য ব্যবহৃত হতো। যুদ্ধ যদি নয় মাসে সমাপ্ত না হতো , তাহলে হয়তো এই যোদ্ধার সংখ্যা হতো অগণিত। বাংলাদেশের এই সম্মুখ সমরে লড়াই করা বীরদের সম্মান জানাতে স্বাধীনতা বিরোধিরা ছাড়া নিশ্চয় আর কারো বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। কিন্তু কোটা ব্যবস্থায় চাকরি প্রদান মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানোর কোনো বিকল্প হতে পারে না। হতে পারে এটা একটা রাষ্ট্রীয় নীতিমালা।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যকে সরকারী চাকরি প্রদানের জন্য ‘কোটা’ সংরক্ষণ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানদানের বিকল্প হতে পারে না কেন? ঠিক এই জন্য যে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একজন মানুষকে যে সম্মান আমি করি, সেটা তাঁর সন্তানকে করবো না। মুক্তিযোদ্ধা নিজের ত্যাগ তিতিক্ষা দিয়ে মানুষের হৃদয় সিংহাসনে যেভাবে আসন করে নিয়েছেন তা কখনোই তার সন্তানের প্রাপ্য হতে পারে না। ঠিক যেভাবে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কারের ভাগিদার তাঁর সন্তানরা হতে পারে না। ঠিক একইভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার যিনি পান সেটা তিনি তাঁর সন্তানকে উত্তরাধিকার সূত্রে ভোগ করতে দিতে পারেন না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা তাঁর নাতিরা পরে তো ঘটনাক্রমে অপরাধ চক্রেও জড়িয়ে যেতে পারেন। ফলে এই কথা বলার কোনোই যুক্তি নেই, যারা কোটা আন্দোলনের বিরোধিতা করছে, তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানকে খাটো করছে। বরং যাঁরা এটাকে টিকিয়ে রাখতে চাইছেন, তাঁরা ভয়াবহ একটা সঙ্কট সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা মনে করে এবং স্বাধীনতার জন্য অহংকার করে। কিন্তু যখন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটার প্রশ্নটি তোলা হয়, তখন মনে হয় জাতি দুই ভাগে বিভক্ত। দুই পক্ষের এক পক্ষে আছেন মুক্তিযোদ্ধারা আর এক পক্ষে অমুক্তিযোদ্ধারা। পুরো জাতিকে এর মধ্যে দিয়ে বিভক্ত করে ফেলা হচ্ছে। কারণ এই ‘কোটা’ সংরক্ষণকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী প্রজন্ম দুটো শিবিরে বিভক্ত হয়ে যাবে যারা আলামত ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। যারা একদা একত্রিত ছিলো তারা দ্বিধা বিভক্ত হবে এই সব ঘটনায়, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি তার সুযোগ নিতে চেষ্টা করবে পুরো মাত্রায়। সঙ্কট তাতে ঘনিভূত হবে, পুরানো সঙ্কটগুলি আরো বহু মাত্রা পাবে। সে বিবেচনা থেকেই এই ‘কোটা;র প্রশ্নটিকে নতুন করে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানকে চাকরি দেওয়া এই নীতিমালায় আপত্তি করবার নেই, কিন্তু তার নাতিদের বা বংশানুক্রমিক এই সুবিধাদান বিভ্রান্তিকর। কারণ এটা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ গুটি কয়েক পরিবারকে বছরের পর বছর সরকারী চাকরির সুবিধা দানের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। বরং বাইশ পরিবারের লুটপাট বন্ধ করতে, সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো।

বর্তমান কোটা সম্পর্কিত আন্দোলন ছিলো অনেকটা গঠনমূলক। বিভিন্ন আন্দোলনে বিশেষ করে বড় বড় আন্দোলনে যে ধরনের নৈরাজ্য বা গাড়ি ভাঙচুর হয়, সেরকম কিছু এ আন্দোলনে ছিলো না। তরুণ-তরুণীরা অনেক বেশি দৃঢ়তার সাথে আন্দোলন শুরু করেছিলো, দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো অনেকটা স্বচ্ছ। বহুজন বলতে চেয়েছেন স্বাধীনতা বিরোধীদের উস্কানীতে এটা হচ্ছে। কিন্তু সেটা কখনোই মনে হয়নি। সন্দেহ নেই, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর সদস্যরা এ আন্দোলনে যুক্ত ছিলো। ছাত্রছাত্রী হিসেবে এই আন্দোলনে তাদের যুক্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং তাদের অধিকার। যদি এর মধ্যে কতিপয় ভিন্ন উদ্দেশ্যে এ আন্দোলনকে পরিচালিত করতে চেয়ে থাকে, সেটাও খুব অবাক হবার নয়। সব আন্দোলনেই কিছু উস্কানিদাতা থাকে বা থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রী খুব সুন্দরভাবেই ছাত্রছাত্রীদের দাবি-দাওয়া ওনার মতো করে মেনে নিয়ে সে আন্দোলনেকে থামিয়ে দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু পরে যেটা ঘটলো, প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞাপণ চেয়ে আবার তারা আন্দোলনে নামে। বহুজন তখন বলেছেন, এই আন্দোলনের দরকার ছিলো না। কারণ প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছেন, তখন কোটা বন্ধ করা হবে।

শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয়বার আন্দোলনে নেমে কাজটা ঠিক করলো কী ভুল করলো সেটা পরের বিবেচনার বিষয়। কিন্তু তার আগে যা বলা দরকার, দ্বিতীয়বার আন্দোলনের উপর সুসংগঠিত আক্রমণ চালানো হলো। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকলের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করার যে যৌক্তিকতা, সেটা মানা হলো না। স্বাধীনদেশে ছাত্রছাত্রীদের উপর যেভাবে আক্রমণ করা হলো, কোনো সুস্থ নাগরিকের কাছে সেটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যারা উপাচার্য মহোদয়ের বাসায় আক্রমণ চালিয়েছে তাদের বিচার অবশ্যই হতে হবে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবেই। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন আর উপাচার্য মহোদয়ের বাড়িতে আক্রমণ দুটোকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। কিন্তু এখন যখন বিভিন্নভাবে বলা হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটায় হাত দেয়ার আইনগত বাধা আছে। যদি এই কথা সত্যি হয়, তাহলে মানতেই হবে ছাত্রছাত্রীদের আশঙ্কাটা সঠিক ছিলো। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ওনার পক্ষে আইনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আদালত অবমাননা করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য যৌক্তিক। কিন্তু পৃথিবীতে কিছুই অনড় নয়। মানুষের স্বার্থে পৃথিবীর বহু কিছুর পরিবর্তন হতে হতে মানুষ এখানে এসেছে। জনগণের নির্বাচিত সাংসদরা চাইলেই রাষ্ট্রের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়, সেরকম যে কোনো আইন পরিবর্তন করতে পারেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কোটার ব্যাপারটা রাষ্ট্রের মূলনীতির অংশ নয়, তাই পরিবর্তন করার বাধা নেই। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটা রক্ষা করার জন্যই এই আইনের পরিবর্তন আনাটা গুরুত্বপূর্ণ। বৃহত্তর স্বার্থে সরকার তরুণদের আন্দোলনের অনুভূতিগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন বলেই আশা করি।

হ্যা, তরুণরা যখন আশাহত হয়েছেন, তারা অনেক অসংযত বাক্য ব্যবহার করেছেন। বিভিন্ন আক্রমণের প্রেক্ষিতেই তাদের ক্ষুব্ধ মন আরো বিদ্রোহী হতে চেয়েছে। পুরো জাতি, আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য এবং চিন্তাচেতনায় বিশ্বাসী, আমরা যেন নিজেরা দ্বিধা বিভক্ত না হয়ে এই আন্দোলনের একটা ইতিবাচক সমাধান খুঁজে বের করি। আর তরুণদেরকে বলবো, এই আন্দোলন থেকে আপনাদের বহু কিছু শিখবার সুযোগ হয়েছে। হয়তো ভবিষ্যতে আরো কিছু শিখবেন। কিন্তু আন্দোলনে সফলতা লাভের জন্য দরকার আপনার বক্তব্যের পক্ষে ধারালো যুক্তি। খিস্তি করে লাভ নেই। সেটা মাস্তানদের ভাষা। মাস্তানরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে নামবে, আপনি জবাব দেবেন ধারালো যুক্তিতে। মনে রাখবেন, আমাদের জীবনে যুক্তির বড় অভাব, সবসময় আমরা পেশিশক্তিকে কাজে লাগাতে চাই। আপনি যদি আন্দোলনে সাফল্য চান তাহলে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে, আপনি সবচেয়ে বিনয়ী এবং সবচেয়ে দৃঢ়চিত্ত। সাফল্য লাভের জন্য প্রতিনিয়ত রাষ্ট্র এবং সমাজের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে হবে। নিজেদের দোষগুলিও বিবেচনায় আনতে হবে। দৃষ্টিকে প্রসারিত করতে হবে বহু দূর পর্যন্ত, শুধু আজকের ঘটনবলীর দিকে তাকালে হবে না, ভবিষ্যতের কথাও মাথায় রাখতে হবে।

যারা ‘কোটা’ সম্পর্কিত আন্দোলনের সাথে জড়িত সে সকল ছাত্রছাত্রীদের বুঝতে হবে, তাদের আন্দোলন যতোই ন্যায়সঙ্গত হোক, কোটা সংস্কার বেকারত্ব দূর করার বা মূল সমস্যার সমাধান নয়। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কজন আর সরকারী চাকরি পাবে? ফলে মূল সমস্যার ভিন্ন সমাধান খুঁজতে হবে। সেই সাথে খুব ভালো করে মনে রাখতে হবে, যারা চাকরি পেয়ে যাবে তারা ভবিষ্যতে আমলাই হবে। আমলা মানেই লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, সবকিছুকে বাধাগ্রস্ত করা। যারা আজ ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের অংশ, কাল যখন তারা আমলা হবে, তখন তাদের চেহারাও পাল্টে যাবে। সরকারের বশংবদ হবে কিংবা সরকারকে ভুল পথে পরিচালিত করবে। চাকরি লাভের পর খুব শীঘ্রই তারা বিভিন্ন ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের বিপক্ষে দাঁড়াবে। নিজের স্বার্থের আন্দোলনে আজকের ভালো মানুষের চেহারাটা তখন আর থাকবে না। যারা আজ বন্ধু কাল তারা বিরুদ্ধ পক্ষ হবে। ইতিহাস এই শিক্ষাই দেয়। সর্বত্রই দেখা গেছে একটি মিছিলে যারা থাকে, তাদের মধ্যে যে যার সুবিধা নিয়ে মিছিল থেকে বের হয়ে যায়। কেউ কেউ সুবিধা নেয়ার পর সেই মিছিলের বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়ে যায়। ন্যায়ের পক্ষে শ্লোগান দিতে দিতে মিছিলটা চলতেই থাকে। কিছু লোক আরো পরে আরো কিছু সুবিধা নিয়ে বেরিয়ে যায় আবার নতুন নতুন লোক ন্যায়সঙ্গত দাবি নিয়ে আবার মিছিলে প্রবেশ করে।

বহুকাল ধরে এই চলছে- মিছিলে উচ্চস্বরে শ্লোগান দেওয়া, মিছিলের কিছু অংশের সুবিধাভোগী হয়ে যাওয়া, সুবিধা নিতে গিয়ে শাসক শ্রেণীর পক্ষে চলে যাওয়া, সুবিধা নেওয়ার পরে আবার সেই মিছিলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়া। বহুলোক আবার মিছিলে ঢুকে পড়ে মিছিলটাকে বিভ্রান্ত করবার জন্য।

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/07/17807374_10212771869356744_6757389694057123431_o-2.jpg?fit=1024%2C575https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/07/17807374_10212771869356744_6757389694057123431_o-2.jpg?resize=150%2C150culiveইভেন্টপলিটিক্সনাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু ভাই, জুলাই মাসে ফেসবুকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সে বার্তা থেকে আমরা জানতে পারি, মুক্তিযোদ্ধা ওমর কোরেশী মারা যান পাঁচই জুলাই বৃহস্পতিবার। কিন্তু এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়ে দাফন করা যায়নি। কারণ তাঁর মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র ছিলো না। তিনি মৃত্যুর আগে পাঁচ বছর মন্ত্রণালয় সহ নানা...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University