নীলাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে এসেছি। আমি আবার পেশাদার রেস্টুরেন্টের খাদক নই। মাস-দু’মাস পর আমার প্রেমিকা অর্থাৎ নীলার সাথে দেখা করতে আসলে শুধুমাত্র ব্যক্তিত্বের খাতিরে রেস্টুরেন্টে আসি। আজও তার ব্যতিক্রম নয়।

মেকাপের বেলায় নীলা যত আপডেট থাকে তথ্যপ্রযুক্তির বেলায় ততটা ব্যাকডেটেড সে। ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটস এপ, ইমু, ইন্সট্রাগ্রাম কোনোকিছুই তাকে আসক্ত বানাতে পারেনি। একমাত্র খাবারের প্রতি তীব্র আসক্তি রয়েছে তার।

রেস্টুরেন্টে আসার পর থেকে নীলা খেয়েই চলেছে।

আমি তার পাশে বসে আছি। ক্ষুধা নেই বলে কিছু খাচ্ছি না। চুপচাপ তার খাওয়া দেখছি।
শাস্ত্রে বলে, “ঘ্রাণই অর্ধভোজন।”
আমি নীলার খাবারের ঘ্রাণ নিতে নিতে অলরেডি দু-তিন বার ভোজন করে ফেলেছি।
কতক্ষণ এভাবে ধৈর্য্য ধরে বসে বসে আরেকজনের খাবারের দৃশ্য দেখা যায়? তাই আমি পকেট থেকে মোবাইল বের করে ফেসবুকে ঢুকতে গেলাম।

অপেরা মিনি খোলা মাত্র সাথে সাথে নোটিফিকেশন আসলো, “অমুক নায়িকার সাথে তমুক নায়কের ‘কমুক’ সিনেমার দৃশ্য দেখুন।”
এর নিচে আরেকটা নোটিফিকেশন আসলো,” কীভাবে প্রেমিকাকে বশে রাখবেন? জেনে নিন।”
তার নিচে আরকেটা নোটিফিকেশন আসলো,” অমুক নায়িকার একা একা গাড়িতে চড়ার ভিডিও ফাঁস।”

ওসব ক্লিয়ার করতে যাবো এমন সময় নীলা শকুনের ন্যায় আমার হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে নিল। এক হাতে চিকেনের লেগ পিস আর অন্য হাতে আমার মোবাইল নিয়ে নীলা আমার দিকে তাকিয়ে রইল।

আমি জিজ্ঞেস করলাম,” কি ব্যাপার? হঠাৎ কি হলো তোমার?”

সে প্রতিটি নোটিফিকেশন বিরাম চিহ্নসহ মনোযোগ সহকারে পড়লো। পড়ার পর আমাকে বলল,” ছিঃ! তুমি এত বাজে। তোমার মন মানসিকতা এত নিচু?”
আমি থতমত খেয়ে গেলাম।
তাড়াতাড়ি জিজ্ঞেস করলাম,” কেন কি হয়েছে?”

নীলা বলল,” তুমি এধরনের বাজে বাজে সংবাদ পড়ো?”
আমি বললাম, “এটা অপেরা মিনির সংযোজন। ডাটা অন করলেই এসব চলে আসে। আমার কোনো দোষ নেই।”

কিন্তু সে বিশ্বাস করতে নারাজ। তাকে বিশ্বাস করানোর আমি আবার ডাটা অন করে অপেরা মিনিতে ঢুকে দেখালাম। আবারো এধরনের কিছু নিউজ আসলো।

এবার সে রেগে গিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলে,” ছিঃ! তুমি এসব আবার আমাকে দেখাচ্ছ?”

আমি বললাম,” আমি তো তোমাকে প্রমাণ দিচ্ছিলাম। ঠিক আছে তোমার মোবাইল দাও।” বলেই টেবিল রাখা তার মোবাইল টা নিলাম। অপেরা মিনি ডাউনলোড করে ইন্সটল করে দিলাম। ওপেন করা মাত্র তার কাছেও এমন কিছু নিউজ আসলো।

আমি মুচকি হেসে বিজয়ীর বেশে বললাম,” কি বুঝলে এবার? আমি তো সত্যিই বলেছিলাম তোমাকে।”

নীলা চোখ জোড়া সরু করে আমার দিকে তাকালো।
এরপর চিৎকার করে বলে উঠল,” ছিঃ! এসব বাজে জিনিস আমার মোবাইলেও ডাউনলোড করে দিয়েছো তুমি?”

রাগে- দুঃখে- ক্ষোভে এবং তীব্র অপমানে নিজের চুল নিজে ছিড়ঁতে ইচ্ছে করছে। এতদিনের জমানো চুল বিধায় ছিঁড়তে মায়া হলো। তাই ছিঁড়লাম না। নিজের টাকায় খাওয়াতে এনেছি আর বিনিময়ে আমাকে লজ্জা পেতে হচ্ছে।

আমিও ছাড়ার পাত্র নই।

কল দিলাম নীলার এক বান্ধবীকে। সে ইন্টারনেট জগৎ সম্পর্কে মোটামুটি ভালো বুঝে। কল দেওয়ার সময় নীলাকে বললাম, “নাও, তোমার বান্ধবীর কাছ থেকে জিজ্ঞেস কর।” কল দিয়ে নীলাকে ধরিয়ে দিলাম। নীলা নোটিফিকেশনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল।

ওপাশ থেকে কি বলেছে আমি শুনি নি।

কল কাটার পর নীলা আবার চিৎকার দিয়ে আমাকে বলল,” ছিঃ! এধরনের বাজে টপিকের প্রশ্ন তুমি আমাকে দিয়ে আমার বান্ধবীর কাছে করালে? তোমার কি আত্মসম্মানবোধ নেই?”

বুকের বামপাশটা হঠাৎ ব্যাথা করে উঠল। বুকে হাত দিয়ে ধপ করে টেবিলের উপর পড়লাম আমি। এমন সময় মোবাইল এ নোটিফিকেশন আসলো।

“ইউটিউবে ঝড় তুলেছে জরিনা ভাবীর টেক্সিতে বসা মেক্সি পড়া সেক্সি ছবি।”

আস্তে আস্তে জ্ঞান হারাচ্ছি আমি। জ্ঞান হারানোর আগ মুহূর্তে আমি শুনতে পেলাম নীলা বলছে,” ছিঃ! এসব নিয়ে সারাদিন থাকো তুমি। কোন সাহসে আমার সাথে রিলেশন রাখো?”

নীলাকে চেয়ার ছেড়ে উঠতে দেখলাম। বুঝতে পারলাম বেশিক্ষণ জ্ঞান থাকাটা আমার জন্য সুখদায়ক হবে না। তাই আর দেরি করলাম না। স্বেচ্ছায় জ্ঞান ত্যাগ করলাম আমি।

অনুগল্প : ছিঃ! আমি বয়ফ্রেন্ড।
অভি মহাজন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

culiveবিনোদননীলাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে এসেছি। আমি আবার পেশাদার রেস্টুরেন্টের খাদক নই। মাস-দু'মাস পর আমার প্রেমিকা অর্থাৎ নীলার সাথে দেখা করতে আসলে শুধুমাত্র ব্যক্তিত্বের খাতিরে রেস্টুরেন্টে আসি। আজও তার ব্যতিক্রম নয়। মেকাপের বেলায় নীলা যত আপডেট থাকে তথ্যপ্রযুক্তির বেলায় ততটা ব্যাকডেটেড সে। ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটস এপ, ইমু, ইন্সট্রাগ্রাম কোনোকিছুই তাকে আসক্ত...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University