বিতর্কটা শুরু ব্রাজিলীয় পত্রিকা গ্লোবো’র শিরোনাম দিয়ে। গোটা দুনিয়া যেটাকে লুফে নিতে একটুও ভুল করেনি। গ্লোবোর শিরোনামটা ছিল এমন, “নেইমার ব্রাজিলীয়দের মন জয় করলেও উত্ত্যক্ত করেছে পুরো বিশ্বকে”।
এ যেন হলুদ সাংবাদিকতার জ্বলন্ত প্রমাণ। সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় করা ব্রাজিলীয় পত্রিকা গ্লোবোর সংবাদটি আজ পুরা দুনিয়ার সংবাদ মাধ্যমগুলোর মুখরোচক হেডলাইন। কে জানেনা নেইমার অভিনেতা? দুনিয়ার তাবৎ সংবাদ মাধ্যমগুলো তো তাই বলছে। বাদ যায়নি বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যমও। কিন্তু ভিডিও ফুটেজ আর এনালিস্টরা কি বলছেন?

ভিডিওতে দেখা যায় নেইমার মাঠের বাইরে ধাক্কা খেয়ে পরে গেলে মেক্সিকান প্লেয়ার মিগুয়েল লায়ুন বল নেয়ার ভান করে অত্যন্ত সূক্ষভাবে তার পায়ের গোড়ালিতে পাড়া দিয়ে বসেন । মিগুয়েল তার বুটের স্পাইক দিয়ে নেইমারের এমন জায়গায় পাড়া দিয়েছিল যা যেকোনো প্লেয়ারের বিশ্বকাপ মিশন বিনাশ করতে সক্ষম। বলার অপেক্ষা রাখেনা নেইমারকে আঘাত করে কাবু করা মেক্সিকানদের খেলারই অংশ ছিল।
এতকিছুর পরও কেন নেইমার সমালোচনায় মুখর?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নেইমার কেন সামান্য আঘাতে পড়ে যান।

একজন ফুটবল প্লেয়ারের শারীরিক ওজনের ন্যূনতম এভারেজ ৭২ কেজি। যেখানে মেসির ৭১ এবং রোনালদোর ৭৬ কেজি। আর নেইমারের ওজন মাত্র ৬৪ কেজি। যার ফলে যেকোনো হার্ড ট্যাকলে মেসি রোনালদোর তুলনায় নেইমারের ব্যালেন্স করা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিবিসির তথ্যমতে নেইমারের শরীরের তিনটি স্থান ভাঙ্গা। কোমড়, ডানপায়ের গোড়ালি এবং বাম থাই।
‘দ্য ডেইলি সান’ পত্রিকার মতে, ওজন এবং শারীরিক সমস্যা বিবেচনায় ডাক্তাররা শরীরের উপর কম প্রেশার দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নেইমারকে। ফলে যেকোনো হার্ড ট্যাকলে পরে যান নেইমার।

যুগেযুগে যত খেলোয়াড় কিংবদন্তি এসেছেন কেওই সমালোচনা বা বিতর্কের উর্ধ্বে ছিলেন না। ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনা, লিও মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কে নেই বিতর্কে?
নেইমারও তার ব্যতিক্রম নন। স্বভাবত প্রশ্ন আসতে পারে এত সফলতার পরও কেন নেইমার জুনিয়র এত বিতর্কিত?

বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের বড় একটি অংশ ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার ভক্ত। নেইমার ছিলেন বার্সার অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রাইকার। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে মেসি, রোনালদোর পরেই যার অবস্থান। এর প্রমাণ মেলে নেইমারের ফেসবুক ফলোয়ার্স দেখে। বর্তমানে এই ব্রাজিলীয় তারকার ফলোয়ার্স সংখ্যা ৬০ মিলিয়ন। মেসি : ৯০ আর রোনালদো ১২২ মিলিয়ন।
অধিকাংশের মতে নেইমার বার্সা ছাড়ার পর থেকেই অনেকের চক্ষুশূলে পরিণত হন। যদিও সকল সমালোচনা পিছনে ফেলে বিশ্বকাপে মেসি রোনালদোকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
রাশিয়া বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান কিন্তু তাই বলছে।

বলতে গেলে ব্রাজিল দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান নেইমারের। এই একক কৃতিত্ব রাশিয়া বিশ্বকাপে অন্য কোনো প্লেয়ারের নেই।
যার বিরুদ্ধে বাতাসে পড়ে যাওয়ার ধারালো অভিযোগ সে-ই প্রতিপক্ষ প্লেয়ারকে সবচেয়ে বেশি ড্রিবলিংয়ে আচ্ছন্ন করেছেন। এপর্যন্ত ৩৫ টি সফল ড্রিবলিং করেছেন নেইমার যা এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ।
প্রতিপক্ষের রক্ষণে সবচেয়ে বেশি শট নেইমারের। এর মধ্যে গোলমুখে সবচেয়ে বেশি শট রাখতে পারা খেলোয়াড়টিও সে। ১২টি শট তার লক্ষ্য ভেধ করেছে।
দলের জন্য সবচেয়ে বেশি গোল বানিয়েছেন নেইমার। এরি মধ্যে ১৬ টি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে শুধু তার পা থেকেই।

বিশ্বকাপে মেসি রোনালদোর চেয়ে নেইমারের গোল এভারেজ দেখে হয়তো আঁতকে উঠতে পারেন নিন্দুকেরা।
-নেইমার ৯ ম্যাচে ৬ গোল
-রোনালদো ১৭ ম্যাচে ৭ গোল
-মেসি ১৯ ম্যাচে ৬ গোল

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারটা যে নেইমার সেটা তো কারো অজানা থাকার কথা না। বলে রাখা ভালো নেইমারের বর্তমান বয়স মাত্র ২৬। অন্যদিকে মেসি রোনালদোর যথাক্রমে ৩১ ও ৩৩!

প্রথম আলো তো আজ বলেই ফেলেছে গতকাল নেইমারের কাছে হেরে বিদায় নিয়ছে মেক্সিকো। হেটারসরা হয়তো এই কথা শুনে মূর্ছা যাবেনা। কিন্তু শত সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের সেরাটা উপহার দিয়ে নেইমার যে গোটা দুনিয়ার অগণিত ব্রাজিল ভক্তদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে সে কথা অস্বীকার করবে কে?

বর্তমান দুনিয়াটা ট্রলের দুনিয়া। কেও যদি ভেবে থাকেন ট্রল শুধু বাংলাদেশেই হয় তাহলে বিরাট ভুল হবে। ইউরোপ আমেরিকার নিত্যদিনের ব্যাপার ট্রলিং। কিছু ঘটলেই ট্রল করতে ছাড়েন না হেটারসরা। তবে ওদের ট্রল আমাদের ট্রলের মধ্যে বিস্তর তফাৎ। তাদের একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে যা আমাদের নেই। যে বাঙালী আর্জেন্টিনা ৩ গোল খাওয়াতে মেসিকে থ্রি-পিস পড়িয়ে ছেড়েছে সে বাঙালী নেইমারের পড়ে যাওয়া নিয়ে ট্রল করবেনা এটা ভাবনারও অতীত।

শামিম হাসান

নেইমারের যত সমালোচনা এবং এবং উত্তর:

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/07/FB_IMG_1530610142151.jpg?fit=480%2C480https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/07/FB_IMG_1530610142151.jpg?resize=150%2C150Shamim Hasanএক্সক্লুসিভবিতর্কটা শুরু ব্রাজিলীয় পত্রিকা গ্লোবো'র শিরোনাম দিয়ে। গোটা দুনিয়া যেটাকে লুফে নিতে একটুও ভুল করেনি। গ্লোবোর শিরোনামটা ছিল এমন, 'নেইমার ব্রাজিলীয়দের মন জয় করলেও উত্ত্যক্ত করেছে পুরো বিশ্বকে'। এ যেন হলুদ সাংবাদিকতার জ্বলন্ত প্রমাণ। সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় করা ব্রাজিলীয় পত্রিকা গ্লোবোর সংবাদটি আজ পুরা দুনিয়ার সংবাদ মাধ্যমগুলোর মুখরোচক হেডলাইন।...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University