বাক্যটাকে একটু বিশ্লেষণ করে যদি বলি তখন কিছু ঘটনা/তথ্য শেয়ার করতে হয়।যেমন—–
আজকে বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখী দ্বিতীয় ট্রেনে যাওয়ার জন্য প্রতিদিনের মতো উপস্থিত হলাম ষোল শহর ষ্টেশনে।
দেখলাম ট্রেনে প্রচন্ড ভিড়।পা রাখায় জায়গা শুদ্ধ নাই।কষ্ট করে উঠতে যাবো,এমন সময় দেখতে পেলাম কতগুলো মেয়ে উঠতে পারছে না কারণ,বিপরীত দিকে ছেলেরা ঠেলাঠেলি করতেছে।আমি ওদের সাথে ঠেলাঠেলি করে চাইলে উঠতে পারতাম।কিন্তু বিবেকের কাছে বাধাগ্রস্থ হয়ে উঠি নাই।যথাসময়ে ট্রেনে উঠার জন্য জায়গা দিলাম মেয়েদের।এর পরও নিজের ঘড়িটা হাত ফসকে পড়ে গেলো রেল লাইনে।অবশ্য কেউ একজন আমার সাথে ঠেলাঠেলিতে এই কাজ হয়েছে।যাক বাদ দিলাম সে সব কথা।নিজের পছন্দের ঘড়ি রেল লাইন থেকে কুঁড়িয়ে নিতে গিয়ে নিজে হয়ে গেলাম জায়গা হারা।কোনো মতে ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে যাচ্ছি প্রাণের ক্যাম্পাসের দিকে।

ট্রেনে উঠার আগে আমি প্রত্যক্ষ করলাম স্বামী-স্ত্রী এবং বাচ্চা দুইটা ফ্যামেলি ঔ বগিতে করে হাটহাজারীর দিকে যাচ্ছে। এমনিতে ট্রেনে মাথা ঘুজানোর জায়গাটুকু নাই,সেখানে বহিরাগতদের আগমন।কেমন যে লাগে তখন।

কেন এই বৈষম্য,?কেন এই ঠেলাঠেলি?কেন সুষ্ঠ তদারকির অভাব?কেন শাটলে বহিরাগতদের নিয়মিত আনাগোনা???

এসবের উত্তর আপনাদের কাছে আছে কি??
আমার জানামতে আপনাদের কাছে উত্তর আছে কিন্তু সাহস নিয়ে কথা বলার কেউ নাই।
আমি বলি কি করা উচিত:-

প্রসঙ্গত,সরকারের প্রতি আমাদের জোর দাবি জানানো উচিত।চবির মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের একটু ঔ দিকে নজর দেওয়া উচিত।
এগুলা ওনারা করতেছে কি!!ওনাদের তো এসব ভাবার সময় নাই মনে হয়।

আচ্ছা,আমার প্রশ্ন এইটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ছাত্র নাকি ছাত্রের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়??কোনটা ঠিক সেটা বিবেচনা করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়া যাওয়া উচিত।
স্বনামধন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি দাবি আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে আমরা পারবো না কেন??

আপনি কি কখনও দেখেছেন আমাদের চবিতে ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি বা বগির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কেউ মানব বন্ধন বা জোরালো আন্দোলন করেছে?আমি মুষ্টিমেয় লেখনি দেখেছি,তাও শুধু ফেইসবুকে।

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে ছাত্রছাত্রীদের এতো কষ্ট করতে হয়,এক দিন ক্লাস করতে গেলে পরের দিন বিছানা থেকে উঠতে কষ্ট হয়।আমাদের দেশের সুশীল সমাজদের চিন্তাজগতে এসব নাড়া দেয় কি??
আরে সরকার থেকে ট্রেনের জন্য বরাদ্দ নিতে হবে না,চাইলেই আমরা চবির শিক্ষার্থীরাই নতুন ট্রেন সংযুক্ত করতে পারি,অথবা ট্রেনের বগি বাড়াতে পারি।তার জন্য প্রয়োজন সামান্য সহযোগিতা আর সৃজনশীল চিন্তা। তাও আবার আর্থ মানবতার সেবায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পঁচিশ হাজার শিক্ষার্থী জন প্রতি ১০ টাকা করে দিলে দু লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা উঠে।আর যদি জন প্রতি কষ্ট করে ১০০ টাকা করে দি তাহলে পঁচিশ লক্ষ টাকা চাঁদা পাওয়া যায়।এই টাকা দিয়ে আমার মনে হয় কয়েকটা ট্রেন কিনতে না পারলেও একটা ইঞ্জিনে ১৬টা করে বগি যুক্ত করা যায়।এসব নিয়ে ভাবা আমাদের উচিত নয় কি??

আমার চাওয়া:-
১)চবির প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর জন্য ট্রেনের সিট বরাদ্দ করা হোক।(সবাই তো ট্রেনে চড়ার ফি দেয়,কেউ বসবে কেউ বসবে এটা হবে কেন??)
২)ছাত্রীদের জন্য আলাদা বগি বা সম্ভব হলে আলাদা ট্রেন বরাদ্দ করা হোক।
৩)চলার পথের নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।
৪)বহিরাগত আরোহীদের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগ করা হোক।
৫) চবির ট্রেন চলার পথকে দুই লেইনে উন্নীত করা হোক।
৫)সর্বোপরি প্রতি ২০ মিনিট পর পর ক্যাম্পাস অভিমুখে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

চাইলে সব সম্ভব,,শুধু প্রয়োজন মানবিক চিন্তা, সৃজনশীল জ্ঞান,নিজেকে মেলে ধরার সাহস।
অভিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগুতে চাইলে বাধা বিপত্তি আসবেই,এইটা স্বাভাবিক।তবে বাধা পেরিয়ে জয় নিশ্চিত করতে পারাটাই হচ্ছে আসল সাহসী মানবের কাজ।
ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল।
শুভ কামনা সবার জন্য।
ইতি-
Mohammed Belal Uddin…
ইতিহাস বিভাগ(২০১৪-‘১৫ সেশন)

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2016/09/shuttle-train-cu-accident.jpeg?fit=570%2C380https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2016/09/shuttle-train-cu-accident.jpeg?resize=150%2C150culiveক্যাম্পাসcu train,shuttle,শাটলবাক্যটাকে একটু বিশ্লেষণ করে যদি বলি তখন কিছু ঘটনা/তথ্য শেয়ার করতে হয়।যেমন----- আজকে বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখী দ্বিতীয় ট্রেনে যাওয়ার জন্য প্রতিদিনের মতো উপস্থিত হলাম ষোল শহর ষ্টেশনে। দেখলাম ট্রেনে প্রচন্ড ভিড়।পা রাখায় জায়গা শুদ্ধ নাই।কষ্ট করে উঠতে যাবো,এমন সময় দেখতে পেলাম কতগুলো মেয়ে উঠতে পারছে না কারণ,বিপরীত দিকে ছেলেরা ঠেলাঠেলি করতেছে।আমি...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University