আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষার্থীবৃন্দ অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছি। গত ২৮ মার্চ ২০১৮ইং তারিখে আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন বরাবরে সেশনজট নিরসন, শাটলট্রেনের বগি বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বিএনপি-জামায়াতের লোকদের অপসারণ, সম্প্রতি জামায়াত-বিএনপি’র নিয়োগকৃত লোকদের চাকরিচ্যুতিসহ কিছু নৈতিক ও ছাত্রঅধিকারের বিষয় উল্লেখ করে আট দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছিলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের কথা দিয়েছিল। কিন্তু এই কথা না রেখে বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। শুধু তাই নয়, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিনি বিএনপি-জামায়াতের দোষরদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সকল দায়িত্ব অর্পনের মধ্য দিয়ে জননেত্রীর সাথে বেঈমানি করেছেন।
আমাদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনের আশ্বাসের ১ মাস ২৪ দিন অতিবাহিত হলেও দাবি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে সেশনজট নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত কোন বিভাগকে একটি চিঠিও দেয়নি। শাটলট্রেনের বগি বৃদ্ধি জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আয়োজন করেনি নূন্যতম কোন বৈঠকের। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা যাতায়াত ভাতা আদায় করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেই যাচ্ছে। আমরা দাবি জানিয়েছিলাম, ক্যাম্পাসে ছিনতাই বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয়েছে ছিনতাইকারীদের আখড়ায়। ২০ মে ২০১৮ইং তারিখে দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ ‘নড়েবড়ে চবির নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ শিরোনামে চবির নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে সংবাদও পরিবেশন হয়। আমরা দাবি জানিয়েছিলাম ক্যাম্পাসে মাদক বন্ধ করতে হবে। কিন্তু কোন উদ্যোগ প্রশাসন ১ মাস ২০ দিনে নেয়নি। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিলেও অজানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব।
শুধু তাই নয়, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে জামায়াত-বিএনপি’র লোকদের পদায়ন করা হয়েছে। আমরা তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাতে কর্ণপাত করেনি এতোদিনেও। বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান প্রশাসনের বিগত তিন বছরের মেয়াদে নিয়ম বহির্ভূতভাবে, যোগ্যতা না থাকার পরও শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী জামায়াত-বিএনপি’র ক্যাডারদের। আমরা তাদের নিয়োগ বাতিল করা দাবি জানিয়েছিলাম। জঙ্গীমাতা বেগম খালেদা জিয়ার নামে থাকা স্থাপনার নাম বাতিলের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা দাবি জানিয়েছিলাম, ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বাসে বোমা হামলাকারী শিবির ক্যাডারদের চাকরিচ্যুত করতে হবে। আমাদের দাবি ছিল, স্বাধীন বাংলার স্থপতি, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বৃহৎ পরিসরে একক ভাস্কর্য নির্মাণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্র অধিকার আদার করতে গিয়ে জামায়াত-বিএনপি’র ক্যাডারদের হাতে নিহত ছাত্রনেতার হত্যা বিচারে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দাবি জানিয়েছিলাম। কর্তৃপক্ষ এসব দাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সাথে প্রতারণা করেছে।
ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক জনতার রক্তে বিনিময়ে স্বাধীন ভুখন্ড বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। ত্রিশ লাখ বাঙালীর খুন মিশে আছে এ মাটিতে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেখানে তাঁর সুযোগ্য কন্যা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ গঠনের কাজে দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন সেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন ব্যস্ত বিএনপি-জামায়াত তোষণ নিয়ে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর অধিকার নিয়ে তাঁর কোন মাথাব্যথা নেই। এক-এগারো তত্ববধায়ক সরকারের আমলে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার হওয়া ১৬ কোটি মানুষের প্রাণপ্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে পঙ্গু, কারা নির্যাতিত প্রগতিশীল মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষের ব্যক্তিদের তিনি যোগ্যতা থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী পদে নিয়োগ দেননি। নীরবে বর্তমান উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী তিনি জামায়াতা-শিবিরকে ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছেন। যার প্রমাণ আমাদের হাতেই রয়েছে। অচিরেই গণমাধ্যমের সামনে আমরা তা উপস্থাপন করবো।
আমরা বারবার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কালক্ষেপণই করেছে। প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। যথেষ্ট সময় আমরা প্রশাসনকে দিয়েছি। হাজার হাজার শিক্ষার্থী আজ যে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিরাপদ, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেশনজটে নাকাল, মাদকের কবলে পড়ে আক্রান্ত, পরিবহন ব্যবস্থাসহ নানা বিষয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের হাতে আজ শিক্ষার্থীরা অধিকারহারা, আওয়ামীলীগ সরকারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যখন জামায়াত-বিএনপি তোষণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনরা সাথে প্রতারণা করেছে, সে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে দাবি আদায় করতে হলে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া এ মুহুর্তে শিক্ষার্থীদের হাতে আর কোন পথ খোলা নেই।
এ পর্যায়ে এসে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণের আট দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২৩ মে ২০১৮ইং সকাল থেকে লাগাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করলাম।

নিবেদক- মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষার্থীবৃন্দ, চবি

পক্ষে: মোঃ মামুনুর রশীদ, শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, সেশন: ২০১৫-২০১৬
মোবাইল: ০১৮৭২২১৪৯৯৭

বি.দ্র. প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক এ আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমর্থন দিয়েছেন।

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/05/ovorod.jpg?fit=630%2C420https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/05/ovorod.jpg?resize=150%2C150culiveক্যাম্পাসঅর্থনীতি বিভাগ,চবি,প্রগতিশীল শিক্ষার্থীবৃন্দ,মোঃ মামুনুর রশীদ,শিক্ষার্থীআমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষার্থীবৃন্দ অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছি। গত ২৮ মার্চ ২০১৮ইং তারিখে আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন বরাবরে সেশনজট নিরসন, শাটলট্রেনের বগি বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বিএনপি-জামায়াতের লোকদের অপসারণ, সম্প্রতি জামায়াত-বিএনপি’র নিয়োগকৃত লোকদের চাকরিচ্যুতিসহ কিছু নৈতিক...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University