মুহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন।
——————————————————————————————-
ছাত্রজীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া লক্ষ লক্ষ মেধাবীদের সাথে পাল্লা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ অর্জন করা। দীর্ঘ ১২ বছরের অধ্যয়ন শেষে এডমিশন টেস্ট নামক পুলসিরাত পার হতে পারলেই আমাদের দেশে আপাতদৃষ্টিতে মেধাবী হওয়া যায়। বিধাতার অপার করুণায় আমি একটি আসন অধিকারে সক্ষম হয়েছিলাম।

মনোরম পরিবেশে এক রম্য মেধার জগত। মুক্ত বুদ্ধির চর্চাকেন্দ্র।স্কুল -কলেজ জীবনের ধরাবাঁধা নিয়মের হঠাৎ বাহিরে এসে নিজেকে একটু আলাদা করে ভাবতে শিখি। চোখে স্বপ্ন,বুকে সাহস,দেহে তারুণ্যের জোয়ার আর পাশে এসে জমা হয় অজস্র বন্ধু। জীবনটা সত্যিই উপভোগ করার মতো হয়ে উঠে।

কিন্তু যতটা সহজ ভাবে বলছি, আসলে ততটা সহজ ছিল না।হঠাৎ নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।জীবনের প্রতিটি স্তরে একটি অবলম্বনের প্রয়োজন হয়,যে তাকে হাত ধরে হাঁটতে শিখাবে। কিন্তু আমি কোনো আপনজন পাইনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে অন্যদের মতো আমিও খুশি হয়ে ভর্তি হতে গেয়েছিলাম। ব্যাংকের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থেকেও টাকা জমা করতে পারিনি। অথচ আমার সামনে নিয়ম ছাড়াই ২ মিনিটে কাজ সেরে চলে যাচ্ছে। আমি জলেপড়া পিঁপড়ার মতো চারপাশে শুধু একটি পরিচিত মুখ খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি।

শাটল ট্রেনে যখন ভাইয়ারা থাপ্পড় মেরে সিট থেকে তুলে দিয়েছিল, তখন কেউ আমার পক্ষে কথা বলেনি। আমি নিরবে কেঁদেছি। হাতে দশ টাকা দিয়ে যখন সিগারেট আনতে বলত,আমি কম্পিত হাতে তা এগিয়ে দিতাম।ঝুপড়ীতে যাওয়ার সাহস কখনো হয়নি। ক্যাম্পাসে পা রাখার আগেই অচেনা আতংকে আমি নির্জীব হয়ে যেতাম। বড় ভাই নামক পাওয়ারফুল মেশিন টা আমার ছিল না।

গরমে ফুলহাতা শার্ট,গলা পর্যন্ত বোতাম লাগানো, তেল দিয়ে চুল বসিয়ে রাখা এবং নতমস্তকে যাতায়াত ছিল আমার নিত্যকার কর্মসূচি। কখনো কোনটি ব্যাঘাত ঘটা মানে একটি লাঞ্ছনাকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া।

এভাবে কেটে গেল ৩-৪ মাস। আস্তে আস্তে ভারী হতে লাগল বন্ধুত্বের পাল্লা। যেন রুক্ষ শীতের শেষে বসন্তের দক্ষিণা বাতাসের ছোঁয়া পেয়ে মগডালে পাতা গজিয়েছে।আবার যেন দেহে প্রাণ ফিরে পেয়েছি।

জীবন চলার পথে আমি যদি প্রশ্নের সম্মুখীন হই “বন্ধু কি”?
আমি দ্বিধাহীন, বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলতে পারবো, বন্ধু মানে বুকে স্বপ্ন আর হাতে হাজারো রঙের ডালা নিয়ে পাশে থাকা এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর। যার মন আকাশের মত বিশাল। যাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে যে নানা রঙে, নানান ঢঙ্গে রাঙিয়ে দিয়ে যায় সর্বক্ষণ। যে মানুষটা বিপদে প্রাচীর হয়ে পাশে দাঁড়ায়, সুখে রংধনু হয়ে রঙ ছড়িয়ে দেয়, দুঃখে দুঃখ তাড়ানিয়া পাখি হয়ে গান শোনায়, সেই আমার বন্ধু।
বন্ধু একটা নদীর নাম। যেখানে ইচ্ছে হলে শরীর ভরা দুঃখ নিয়ে ডুব সাতারে দুঃখহীন হওয়া যায়। চোখ বন্ধ করে ঝাপ দিলেও পরম মমতায় বুকে আগলে নেয়। নিশ্চিন্তে গা ভাসিয়ে দেয়া যায়। যার দিকে দুঃখের ঝুড়ি ছুড়ে দিলে সুখের বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দেয়।
বন্ধু মানে কথাবৃক্ষ। যার সামনে নির্দ্বিধায় সব কথা বলা যায় আর সে চুপ করে শোনে। তপ্ত রোদেও যে শীতল ছায়া দেয়। ঝড় বৃষ্টিতে আশ্রয় দেয়।

বন্ধু মানে আস্থা। বন্ধু মানে সেই মানুষ যে ফোনের এক প্রান্তে থেকে অন্য প্রান্তের দীর্ঘশ্বাসের, নীরবতার অর্থ বুঝে নেয়।
বন্ধু মানে অক্সিজেন। চরম দুঃসময়েও যে নিঃশ্বাস নেয়ার ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। বন্ধু সেই, যে স্বপ্ন দেখতে এবং দেখাতে জানে।

আজ ক্যাম্পাসটা মাতৃক্রোড়সম কিন্তু সেদিনের কান্নার স্মৃতি এখনো অশ্রু বয়ে আনে।আমার এখন হাজারো বন্ধু আছে, পিতৃসম শিক্ষক আছে আর স্বপ্নের বিভাগটা আমার পরিবার।

গতকাল অর্থনীতি বিভাগের বিদায় অনুষ্ঠান দেখে মনে পড়ল, একদিন আমাকেও বন্ধুদের ছেড়ে যেতে হবে, ব্যস্ত হয়ে যাব বাস্তবতায়। কিন্তু হৃদয়ের গভীরে যে ক্ষত সৃষ্টি হবে তা কখনো পূর্ণ হবার নয়। জানি না কিভাবে থাকব বন্ধুদের ছাড়া। ভাবতেই দম বন্ধ হয়ে আসে।
সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনা, সবার জীবন যেন সুন্দর ও সার্থক হয়।
এটাই কাম্য।
(বন্ধুরা, আজীবন পাশে থাকিস)
#বাংলা বিভাগ।

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/05/বিশ্ববিদ্যালয়-জীবন-2.jpg?fit=420%2C280https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/05/বিশ্ববিদ্যালয়-জীবন-2.jpg?resize=150%2C150culiveক্যাম্পাসবিশ্ববিদ্যালয় জীবনমুহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। ------------------------------------------------------------------------------------------- ছাত্রজীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া লক্ষ লক্ষ মেধাবীদের সাথে পাল্লা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ অর্জন করা। দীর্ঘ ১২ বছরের অধ্যয়ন শেষে এডমিশন টেস্ট নামক পুলসিরাত পার হতে পারলেই আমাদের দেশে আপাতদৃষ্টিতে মেধাবী হওয়া যায়। বিধাতার অপার করুণায় আমি একটি আসন অধিকারে সক্ষম হয়েছিলাম। মনোরম পরিবেশে এক রম্য মেধার জগত।...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University