আসুন দেখি।
.
জহির রায়হান এক বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা করেছেন। যখন টের পেয়েছেন মেডিকেলে পড়ার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব নয় তখন স্বেচ্ছায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় এসে ভর্তি হয়েছেন।
সে আমলেও হয়তো ‘কে সেরা?’ ‘কোন ডিপার্টমেন্ট সেরা?’ ‘কোন ডিপার্টমেন্টে বাজেট বেশী?’ কোন ডিপার্টমেন্টে লিজেন্ড বেশী?’ এমন মন মানসিকতা তৈরি হয় নি।
.
কবি রুদ্রমুহম্মদ শহিদুল্লাহর বাবা চিকিৎসক ছিলেন, তিনি নিজেও চাইতেন রুদ্র যেন চিকিৎসক হয়। কিন্তু রুদ্রের মাথা ভর্তি ছিল কবিতা। যেন মেডিকেলে পড়তে না হয় এ কারণে এইচ এস সি তে স্বেচ্ছায় আর্টস নিয়ে ভর্তি হোন।
.
বাংলাসাহিত্যের সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের পিতা ছিলেন বিখ্যাত হোমিওপ্যাথির চিকিৎসক। পিতার ইচ্ছে ছিল ছেলে এম বি বি এস ডাক্তার হোক। ডাক্তারি যেন না পড়তে হয় এ কারণে বাড়ি থেকে পালিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে, যদিও তিনি সে পড়ালেখাও শেষ করেননি।

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত লেখক বনফুল পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। অথচ, পেশার পরিচয়ে তিনি কখনোই পরিচিতি পাননি।
চিকিৎসা পেশার সাথে জড়িত থেকেও মেহেদি হাসান অভ্র সফটওয়্যার উদ্ভাবন করে অনলাইনে বাংলা ভাষা ব্যবহারে বিপ্লব এনেছেন। অন্যদিকে, বিশ্বসাহিত্যের নন্দিত লেখক, উইলিয়াম অসলার, থমাস ব্রাউন, রোনাল্ড রস কিংবা মনোবিজ্ঞানের জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েড এরা সবাই মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে পড়েছে, কিন্তু এদের পরিচিতির জায়গাটা ভিন্ন।
.
এবার আমার ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করি। আমার এক বন্ধু মেডিকেলে পড়ে। মেডিকেলে পড়লে কি হবে.!! দার্শনিক চিন্তাভাবনায় তার মস্তিষ্ক পূর্ণ। যতবার কোনো বিষয় নিয়ে তার সাথে তর্ক হয় ততবারই সে তার দার্শনিক যুক্তি দিয়ে আমাকে পরাস্ত করে। শেষ অস্ত্র হিসেবে আমি বলি,” বন্ধু তুমি মেডিকেলে পড়, তোমার উচিত ঐদিকের যুক্তি ব্যবহার করা। ” তখন সে বলে,” কি করব.!!আমার বই এর সেলফে একপাশে দর্শনের বই আর অন্যপাশে ডাক্তারির বই। ভালোলাগা বলে একটা বিষয় তো আছে।” তখন দুজনেই হেসে দিই। মজার বিষয় হলো আমি দর্শন বিভাগের স্টুডেন্ট হয়ে এখনও অনেক বিষয় জানি না কিন্তু আমার বন্ধু তা জানে। ডিপার্টমেন্ট নামক শব্দটি পরাজিত হয় এখানেই।
আমার আরেক বন্ধু স্কুল থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত সবসময় ফার্স্ট ছিল। অনেকের মুখেই ছিল ওর জন্য ঢাবি, চবি কনফার্ম। হুম, ঢাবি সে কনফার্ম করেছে তবে চারুকলায়। নিজের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়েছে সে।
.
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যখন সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন কি কেউ আলাদাভাবে ডিপার্টমেন্টের জন্য প্রিপারেশন নিয়েছিলেন? কেউ কি জানতেন কে কোন ডিপার্টমেন্টে চান্স পাবেন? ডিপার্টমেন্ট পাওয়ার পরপরই শুরু হয়ে যায় অন্য ডিপার্টমেন্টের বন্ধুদের সাথে নিজেকে এবং নিজের ডিপার্টমেন্টকে সেরা করার তর্ক-বিতর্ক। একটা জিনিস মনে রাখবেন ডিপার্টমেন্ট কখনও কাউকে বড় করে না। বরং ডিপার্টমেন্টকে বড় করি আমরা স্টুডেন্টরাই। নিজে প্রতিষ্ঠিত হোন, ডিপার্টমেন্ট আপনার মাধ্যমেই সেরা হবে। আর নিজে যদি প্রতিষ্ঠিত না হয়ে বোঝা হোন, তাহলে আপনার সেই গর্বোজ্জ্বল ডিপার্টমেন্টও আপনাকে লজ্জার পাত্র বানাতে দ্বিধাবোধ করবে না।
.
অভি মহাজন
দর্শন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
লেখা :- ৬ জুলাই, ২০১৭

culiveক্যাম্পাসচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল,ডিপার্টমেন্ট,দর্শন বিভাগআসুন দেখি। . জহির রায়হান এক বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা করেছেন। যখন টের পেয়েছেন মেডিকেলে পড়ার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব নয় তখন স্বেচ্ছায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় এসে ভর্তি হয়েছেন। সে আমলেও হয়তো 'কে সেরা?' 'কোন ডিপার্টমেন্ট সেরা?' 'কোন ডিপার্টমেন্টে বাজেট বেশী?' কোন ডিপার্টমেন্টে লিজেন্ড বেশী?' এমন মন মানসিকতা তৈরি হয়...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University