১) অমলঃ
খোঁচা খোঁচা দাঁড়িওয়ালা এবং মোটা ফ্রেমের চশমা পরিহিত কবি কবি চেহারার হ্যাংলা-পাতলা গড়নের ছেলেটা অমল। এই অমলেরা কাঁধের উপর ঝোলানো ব্যাগ নিয়ে ঝোলানো ব্যাগের মতো সব জায়গায় খালি ঝুলে আর ঝুলে। গ্র্যাজুয়েশান করতে গিয়ে ঝুলে থাকে, মা এবং বাবার বকাঝকার মাঝখানে ঝুলে, কখনো পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ঝুলে আর কখনোবা দৈনিক পত্রিকার অফিসে অফিসে ঝুলে। তার উপর অমলেরা যদি চবি এর ছাত্র হয় তাহলে শাটলেও ঝুলে। ঝুলানিতে একধাপ এগিয়ে আর কী! আড্ডা দিতে দিতে ধনীর দুলালী সুজাতা কখন যে এই ঝুলতে থাকা অমলের প্রেমে পড়ে গিয়েছিল তা সুজাতা নিজেও টের পায়নি। ছন্নছাড়া অমলের তো বুঝার কথাও না। তাই এই খবর সুজাতা ছাড়া আর কেউ কখনো জানেনি। এমনকি গৌরীপ্রসন্ন কিংবা মান্না দে ও না!

২) নিখিলেশঃ
চিত্রকর্ম তৈরিতে সিদ্ধহস্ত আর্ট কলেজের ছাত্র নিখিলেশ। নিজের ট্যালেন্টের পচ্ছাৎদেশে ক্রমাগত প্যাঁদানির অনুভূতি সইতে না পেরে রাগে ক্ষোভে প্যারিসে পাড়ি জমিয়েছিল সে। সেই যে বিদেশে পাড়ি জমায় নিখিলেশেরা আর ফিরে আসে না। অমলদের কাছে এখন তার কোন খবর না থাকলেও নিখিলেশের নাম এখন মাঝে মাঝে সাধারণ জ্ঞানের বইগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীরা এবং চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষার প্রার্থীরা তাকে সাধারণ জ্ঞানের বইয়ে খুঁজে পায় যেভাবেঃ
“প্রশ্নঃ ল্যুভর মিউজিয়ামে স্থান করে নেওয়া বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘কিক ইন’ এর চিত্রকর কে?
উত্তরঃ নিখিলেশ”

৩) রমা রায়ঃ
এমেচার নাটকে অভিনয় করা রমা রায়। নাটকের অভিনয়টা সুনিপুণভাবে করলেও বাস্তবজীবনের অভিনয়টা বেশীদিন কন্টিনিউ করতে না পারায় স্থান হয়েছে ডিরেক্ট পাগলাগারদে। এখন তাকে আর থিয়েটারে খুঁজে পাওয়া যায় না। অভিনয়, আড্ডা কিংবা সোনালী দিনগুলোর কোনো স্মৃতি-ই এখন আর তাকে ছুঁয়ে যায় না!

৪) মইদুলঃ
ঢাকার মইদুল। কোনোএক দৈনিক পত্রিকার জনপ্রিয় রিপোর্টার। খবর সরবরাহের কাজে জড়িত সে। কিন্তু তার কোন খবর অমল-সুজাতাদের কাছে নেই। খবর থাকবে কেমন করে! নিজেই তো শান্তিতে নেই! অজানা কারণে সংসার ভেঙ্গে গেছে; বউ চলে গেছে ছেড়ে। এতোকিছুর পর খবর থাকে কেমন করে? তারপরও তার বিভিন্ন লেখায় রূপকের আড়ালে সে তার বন্ধুদের স্মরণ করে। অমলের কবিতার কিছু কিছু চরণ তার নিজের লেখায় ব্যবহার করে। আর এভাবে এককালে স্বীকৃতি না পাওয়া অমলের রচিত কবিতার চরণগুলো একজন জনপ্রিয় রিপোর্টারের উক্তি হিসেবে লাখো পাঠকের হৃদয় ভেদ করে যায়।

৫) ডিসুজাঃ
গ্র্যান্ডের গিটারিস্ট, তুখোড় আড্ডাবাজ ডিসুজা। গীটারের টিউন, গান এবং আড্ডায় বেঁচে থাকতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বেঁচে গিয়েছেও বটে। মরে গিয়ে বেঁচে গিয়েছে!
উল্লেখ্য, ডিসুজার গিটারটিতে আজও সুর তোলে অমলের ছেলেটা।

৬) সুজাতাঃ
অমলের প্রেমে মজে যাওয়া ধনীর দুলালী সুজাতা। আগে ছিল ধনীর দুলালী আর এখন হয়েছে ধনীর অর্ধাঙ্গিনী। আড্ডায় যাওয়ার সময় টিফিনে করে সকল আড্ডাবাজের জন্য নাস্তা নিয়ে যেত এই সুজাতা-ই। আর এখন টিফিন রেডি করে দেয় কোটিপতি স্বামী অফিসে খাওয়ার জন্য। জীবন যখন যেমন! কিছুদিন আগে অমলের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছিল সে কোনোএক মাধ্যমে। শুনে ব্যথিত হয়েছিল সে, অশ্রু ঝরিয়েছে অঝোরে। স্বামী তার এমন অবস্থা দেখে কী হয়েছে জিজ্ঞেস করায় সুজাতার উত্তর ছিলঃ “দাদাটা মারা গেলো অনেকবছর হয়ে গেল। খুব মনে পড়ছে দাদাটাকে। বড্ড ভাল একজন মানুষ ছিল।”
খেয়াল করবেন কিন্তু। সুজাতার মনের ভেতর খেলা করছে অমল কিন্তু ব্যথিত মনের কারণ হিসেবে দেখিয়ে দিল দাদার মৃত্যুকে! এক রহস্যাবৃত খেলা!! সুজাতাদের ব্যথিত মনের গুপ্ত কারণের কথা তাদের কোটিপতি স্বামী কেন দুনিয়ার কারোর-ই জানা এবং বুঝার সাধ্য হয়ে উঠে না! আর কেউ যদি বেশি বুঝতে চায় তবে তাকে রমা রায়ের সঙ্গী হতে হবে নিশ্চিত। রমা রায় কোথায় আছে তা নিশ্চয় মনে করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন নাই!

৭) সাত আড্ডাবাজের বাকীজন হলেন শিল্পী মান্না দে স্বয়ং নিজেই। উনার ব্যাপারে বলার কিছু নাই।

সর্বশেষ আরো একজন কিন্তু আছে। শেষ বলে ছক্কা হাঁকানো এই প্লেয়ারটার ব্যাপারে গানে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করা আছে। আড্ডাবাজরা যখন আড্ডায় মেতে থাকতো তখন এই আঁতেলটা পড়াশোনায় বুদ হয়ে থাকতো। এককালে অনেকেরই হাসিঠাট্টার পাত্র হয়ে থাকা এই আঁতেলটা-ই এখন সুজাতার কোটিপতি স্বামী! 😮
ছাত্রাবস্থায় বইখাতাকে ভালবেসে আর কাউকে ভালবাসার কথা চিন্তা করতে না পারা এই আঁতেল এখন সুজাতাকে ভালবেসে হীরে আর জহরতে মুড়িয়ে রাখে। নিঃসন্দেহে অতি ডেইঞ্জারাস প্রজাতির আঁতেল!
এবং লেখক এখানেই বাকশূন্য!

যাকগে
“পুরো গল্পটা হয়তো ভিন্নকিছু হতে পারতো!”

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আল ইমন
ফাইন্যান্স
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

http://culive24.com/wp-content/uploads/2018/03/মেসের-ছেলেদের-একটা-কমন-ফিচার.jpghttp://culive24.com/wp-content/uploads/2018/03/মেসের-ছেলেদের-একটা-কমন-ফিচার-150x150.jpgculiveএক্সক্লুসিভকফি হাউজে১) অমলঃ খোঁচা খোঁচা দাঁড়িওয়ালা এবং মোটা ফ্রেমের চশমা পরিহিত কবি কবি চেহারার হ্যাংলা-পাতলা গড়নের ছেলেটা অমল। এই অমলেরা কাঁধের উপর ঝোলানো ব্যাগ নিয়ে ঝোলানো ব্যাগের মতো সব জায়গায় খালি ঝুলে আর ঝুলে। গ্র্যাজুয়েশান করতে গিয়ে ঝুলে থাকে, মা এবং বাবার বকাঝকার মাঝখানে ঝুলে, কখনো পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ঝুলে আর কখনোবা...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University