কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে পদোন্নতি দেওয়ার লক্ষ্যে আজ রবিবার বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির সভা ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেতে আবেদন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলার আসামি হিসেবে দুই মাস কারাগারে ছিলেন শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। তখন তাঁকে সাময়িক বহিষ্কারও করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি জামিন পেয়েছেন। মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে এই জামিন দিয়েছেন আদালত। এরপর তাঁর বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়। আর জামিনের এক মাস যেতে না যেতেই তাঁকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়  প্রশাসন।

শিক্ষকরা বলছেন, এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কোনো নজির নেই। আইনি বাধা থাকুক আর নাই থাকুক এ ধরনের ব্যক্তিকে পদোন্নতির উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি কলঙ্ক।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেন ২০১২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এর পরের বছরই তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। এখন আবার সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার চেষ্টা করছেন। এত কম সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য কোনো শিক্ষক পদোন্নতি পাননি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিবিধিতে বলা আছে—যদি কোনো ব্যক্তি উচ্চতর পদে যেতে চান বা পদোন্নতি চান তাহলে তাঁর সার্ভিসে কোনো রকমের ‘ডিসকন্টিনিউয়েশন’ থাকা যাবে না। অথচ আনোয়ার হোসেন দুই মাস কারাগারে ছিলেন। তিনি নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত চাকরির এই দুই মাসের শূন্যতা পূরণ করার কোনো সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী আমি প্ল্যানিং মিটিং করার ব্যাপারে মতামত জানিয়েছি। এই বিধি অনুযায়ী, শাস্তি হয়ে গেলে তাঁর চাকরি চলে যাবে, এর আগে তিনি সব ধরনের সুবিধা পাবেন।’

হত্যা মামলার একজন আসামি এবং মামলা বিচারাধীন থাকায় ওই শিক্ষকের পদোন্নতির নৈতিকতা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রেজিস্ট্রার বলেন, ‘তিনি কিন্তু স্বেচ্ছায় অনুপস্থিত ছিলেন না। এখন আমরা তাঁর আবেদন গ্রহণ করেছি এতেও কথা উঠছে। আর যদি গ্রহণ না করতাম তাহলেও কথা উঠত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি আনোয়ার হোসেন তাঁর পদোন্নতির জন্য সমাজতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মনিরুল হাসান বরাবর আবেদন করেন। আনোয়ার হোসেন যেহেতু হত্যা মামলার আসামি, তাই চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে রেজিস্ট্রারের মতামত জানতে চান। রেজিস্ট্রার প্ল্যানিং মিটিং করতে বাধা নেই বলে লিখিতভাবে জানান। ফলে আজ ওই সভা ডাকা হয়েছে। এই সভায় বিষয়টি পাস হওয়ার পর পদোন্নতি কমিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

সূত্র জানায়, সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সদস্য আটজন। এর মধ্যে পাঁচজনের ভোট পেলেই আনোয়ার হোসেনের পদোন্নতিতে বাধা থাকবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মনিরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভাগের যে কেউ পদোন্নতির জন্য আবেদন করলে চেয়ারম্যান হিসেবে আমার মিটিং ডাকার নিয়ম রয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত নিবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পরও আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে মতামত চেয়েছিলাম। তারা প্ল্যানিং মিটিং ডাকতে বলেছে।’

আর শিক্ষক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্সে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ আছে। সেই মোতাবেক এই মিটিংয়ের সিদ্ধান্তও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই নিয়েছে।’

২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিজ কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানো অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজের মরদেহ পাওয়া যায়। আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তে দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে বলে বলা হয়। এরপর সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপুসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন দিয়াজের বোন। উচ্চ আদালতের ২২ সপ্তাহের জামিন শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দুই মাস কারাগারে থাকার পর তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

http://culive24.com/wp-content/uploads/2016/11/irfan-bcl-leader.jpghttp://culive24.com/wp-content/uploads/2016/11/irfan-bcl-leader-150x150.jpgculiveক্যাম্পাসchittagong university,cuকেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে পদোন্নতি দেওয়ার লক্ষ্যে আজ রবিবার বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির সভা ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেতে আবেদন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলার আসামি...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University