২০১২ সালের ১৮ই জুন এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট পাই। ১৯ শে জুন চবি ক্যাম্পাসে ঘুরতে গিয়ে বেশ ভালোই লাগে।

২০১২-২০১৩ সেশনের এডমিশন টেস্ট শুরু হয় ১১ই নভেম্বর। ১৮ ই নভেম্বর সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষা ছিলো শেষ পরীক্ষা। এরপর ২৫শে ডিসেম্বর সাবজেক্ট চয়েজ ছিলো।

২০১৩ সালের পহেলা জানুয়ারি রজনীগন্ধার সাথে গোলাপ লাগানো স্টিক, একটা ক্যাম্পাস ধ্বনি পত্রিকা দিয়ে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৯ তম ব্যাচ হিসেবে আমাদেরকে বরণ করে নেওয়া হয়। সেই থেকে পথচলা শুরু।

গেল পাঁচ বছরে স্মৃতির ঝুলিতে অম্ল মধুর অনেক কিছুই জমা হয়েছে।

ফার্স্ট ইয়ারের শুরুর দিকে স্যারদেরকে নাম ধরে ডাকতাম। “ক” স্যারকে বলতাম “ক” স্যার এটা পড়িয়েছেন। সামনা সামনি স্যারের নাম বলাটা একটু ব্রিব্রতকরও বটে।

সেকেন্ড ইয়ারে একবার টিউটোরিয়াল দেওয়ার সময় আমার এক ফ্রেন্ড বলে ‘দোস্ত একটু দেখা’। পেছনে স্যার থাকায় আমি কিছু বলতে পারছিলাম না। ঐদিকে ও নাছোড়বান্দা। স্যার ওর মাথায় টোকা দিলে ও বলে ‘ডিস্টার্ব করিস না তো, আমি দেখতে পারলে তোকে দেখাবো।’ পরে ঘাড় ঘুরাতেই স্বয়ং কোর্স শিক্ষককে দেখে বন্ধুর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরেছিল।

থার্ড ইয়ারের শুরুর দিকে এক স্যার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কিছু বলতে বললে অনেকেই অনেক কিছু বলে। কিন্তু অল্প কয়েকজন বলে, তারা নাকি কিছুই বলতে পারবে না। এরপর স্যার তাদেরকে জাতীয় সংগীত কিংবা সুরা ফাতিহা হলেও আবৃত্তি করতে বলেন।

ফোর্থ ইয়ার ফাইনালের সময় এক পরীক্ষার্থী দেখাদেখি করার চেষ্টা করলে ইনভিজিলেটরের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্যার তাকে একেবারে লাস্ট বেঞ্চে বসিয়ে দেয়। সে হাতে ঘড়ি নাই বললে স্যার নিজের হাতের ঘড়ি খুলে তাকে দিয়ে দেন। পরে সেই ঘড়ি ফেরত দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

মাস্টার্সে এসে শ্রদ্ধেয় স্যারেরা যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন তা সহজে ভুলার নয়।

নিজেকে চবিয়ান বলার সেই পরিচয়টা হারিয়ে চবি’র সাবেকদের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছি আমরাও। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে সেই তালিকাটা। আর কখনো ক্লাস করা হবে না সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ৫০১ থেকে ৫০৫ ক্লাসরুমগুলোতে। যাওয়া হবে না ড: এ্যান্ডরু অলক স্যারের নামে করা সেমিনারে। হাওয়া খাওয়া হবে না যোগাযোগ অলিন্দে বসে।

মাঝে মধ্যে সকালে ঘুম ভাঙবে না, এই ভয়ে ১২/১৫ টা এলার্ম দিয়ে ঘুম থেকে উঠে দূর্বিষহ গরমের ডেমু/শাটলে চেপে ২৪-২৫ কিলোমিটার ক্লান্তিকর ভ্রমণ শেষে ক্যাম্পাসে গিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার হলুদ মাখা খিচুড়ি খেয়ে ক্লাস করাটা বিরক্তিকর লাগত। এখন বিদায়বেলায় সবকিছুই মিস করছি। মনে হচ্ছে সেই দিনগুলোই ভালো ছিলো।

সাড়ে পাঁচ বছরের পথচলায় এইরকম হাজারো স্মৃতি জমা হয়েছে। কাল আমাদের ব্যাচের র‍্যাগ ডে। অফিশিয়ালি আর মাত্র কয়েকমাস আছি ক্যাম্পাসে। তবে চলার পথে নানাভাবে পরিচিত হওয়া মানুষগুলোকে মিস করবো। মিস করবো সুনামি গার্ডেন, ঝুপড়ী, জারুল তলা, মুক্ত মঞ্চ, বুদ্ধিজীবী চত্বর।

ভালো থেকো প্রিয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। চল্লিশ চাকার শাটলের বিশ্ববিদ্যালয়। সতেরশো তিপ্পান্ন একরের চিরসবুজের বিশ্ববিদ্যালয়।

শেষে কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার সাথে সুর মিলিয়ে বলিঃ

আবার আসিব ফিরে
এই মায়াবী ক্যাম্পাসে,
হয়তো বা ছাত্র নয়,
দর্শনার্থী কিংবা অন্য কোনো বেশে।।

©হেদায়েতুল ইসলাম জুয়েল
শিক্ষাবর্ষ ঃ২০১২-২০১৩
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

http://culive24.com/wp-content/uploads/2018/03/চবিয়ান-1.jpghttp://culive24.com/wp-content/uploads/2018/03/চবিয়ান-1-150x150.jpgculiveউদ্দীপনাএকাডেমিকক্যাম্পাসচবিয়ান২০১২ সালের ১৮ই জুন এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট পাই। ১৯ শে জুন চবি ক্যাম্পাসে ঘুরতে গিয়ে বেশ ভালোই লাগে। ২০১২-২০১৩ সেশনের এডমিশন টেস্ট শুরু হয় ১১ই নভেম্বর। ১৮ ই নভেম্বর সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষা ছিলো শেষ পরীক্ষা। এরপর ২৫শে ডিসেম্বর সাবজেক্ট চয়েজ ছিলো। ২০১৩ সালের পহেলা জানুয়ারি রজনীগন্ধার সাথে গোলাপ লাগানো স্টিক,...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University