আমি নিশ্চিত যে শিরোনাম পড়ে আপনি হয়তো হাসছেন কিংবা আমাকে বোকা ভাবছেন, তবে ভাবের ভাবনা এড়িয়ে পুরো পোস্টটি পড়ুন তাহলে নিশ্চিত আপনিও সেইরকম ভাবুক হ্যাকার হতে পারবেন।

প্রায়শ অনেকেই আমাদের রিকুয়েস্ট করেন যে “বাইয়্যা, অমুকের ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে দিবেন প্লিজ” এখানে এই “অমুক”টা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে হয় গার্লফ্রেন্ড নয়তো বয়ফ্রেন্ড(শতকার ৬৫% তো বটেই)। তো এই হ্যাকিং এর পেছেনে থাকে মূলত সন্দেহ কিংবা ঐ মেয়েটি/ছেলেটির মন মানসিকতা বোঝা; যেমন ছেলেটি/মেয়েটি আসলেই তাকে ভালোবাসে নাকি ফ্লাটিং করে, সারক্ষন অন্যের সাথে চ্যাটিং করে নাকি আপনার সাথে চিটিং করে ইত্যাদি ইত্যাদি।

তো এই ইতঃস্তত মানসিকতার আয়না যদি সত্যিই আপনি হ্যাক করতে পারেন তবে কেমন হয় বলুন দেখি?
আসুন এই মাইন্ড হ্যাকিং এর কিছু কিছু ট্রিক্স জেনে নিই আর সত্যিই সত্যিই বনে যাই সাইকোলজিস্ট মাইন্ড হ্যাকার!

(১) কেউ যদি ২/১ দিনের ফ্রেন্ডশিপে কিংবা একটু আধটু চ্যাটিং করাতেই আপনাকে ইজিলি প্রপোজ করে বসে কিংবা অতিরিক্ত প্রশংসা করে তাহলে নিশ্চিত থাকুন তিনি ফ্লাটিং করার চেষ্টাতে আছেন, বরং অমায়িক অথচ কিঞ্চিত দীর্ঘ পরিচিতর পর যিনি আপনাকে ভালোবাসার কথা বলতে স্বলজ্জ সংকোচবোধ করেন তার ভালোবাসায় খাটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
(২) ফেসবুকে বিশেষত মেয়েলী ফেইক আইডি চেনার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো তার টিউমেন্ট বক্সের অসংগতিপূর্ণতা, অপরিচিত ও সম্পর্কহীন মন্তব্যের আধিক্যতা এবং বিপরীত লিঙ্গের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি।
(৩) তবুও যদি একান্তই এমনি ভার্চুয়াল রিলেশনশিপে জড়িয়ে যান তবে তাকে পরীক্ষা করতে তার আইডির পাসওয়ার্ড চাইতে পারেন, যদিও এটা শুনতে হাস্যকর তথাপি তাৎক্ষনিক যদি তিনি পাসওয়ার্ড দিতে সম্মত হন তাহলে নিশ্চিত থাকুন তার কথাতে দৃঢ়তা আছে(কেননা চ্যাট হিস্টরী ডিলেট করতেও তো সময় লাগে)। এছাড়াও আপনি তাহার সকল কন্টাক্ট জেনে নিন (সকল ফোন নাম্বার কিংবা ইমেইল আইডি) তারপর ঐ নাম্বার কিংবা ইমেইল দিয়ে Forgotten password দিলেই তাহার যদি আরো ফেসবুক আইডি থাকে তবে তা খুঁজে পাবেন।
(৪) ফেসবুকে একটি ছেলের চরিত্রের স্থূলতা বুঝতে পারবেন তাহার টিউনে কোন মেয়ের টিউমেন্টের রিপ্লাইতে অতি আহ্লাদীপনা কিংবা গায়ে পড়া ভাব দেখে(তথাপি আপনি নিজেও একটি ফেইক আইডি দিয়ে তাকে বাজিয়ে দেখতে পারেন)। তবে এক্ষেত্রে সন্দেহ আর এক্সপেরিমেন্টের সীমাটা বজায় রাখবেন।
(৫) যদি রিলেশনশিপের শুরুতেই বিভিন্ন বাহানাতে সে আপনার ফটো আবদার করে বিশেষত স্পর্শকাতর ছবি তবে তাহার হতে শতসহস্র হস্ত দূরে থাকুন। কেননা একাধারে তার বিবেকবোধ যেহেতু তলানীতে তাই চরিত্রও তাহার নিশ্চিত কাল-কালানীতে।
এমনকি কোন ছেলে যদি আপনার নিকট “রিয়েল ফিমেল আইডি” চেনার প্রমানে ফটো চায় তবে তাকেও এড়িয়ে চলুন, কেননা এমনও সফটওয়ার আছে(যেমন OO apps; তবে তা এক্সপোজ করলাম না) যাতে আপনার সাধারন ফটোর ফেচ ডিটেক্ট করে তাকে ন্যুড ফটোতে কনভার্ট করা যায়।
অতএব সাবধান!
(৬)আপনার লাভারকে পরীক্ষা করার আরেকটি সহজতর উপায় হলো হুট করেই তার সাথে ইচ্ছাকৃত খুব রাফ বিহ্যাব করুন এবং মিছিমিছি তার সাথে রিলেশন ব্রেকআপ করার নাটক করুন যদি শেষ অবধি সে আপনাকে ফিরে পেতে স্ব-মরিয়া থাকে তবে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
অন্যথায় ফেইক রিলেশনশিপে এমন নাটকে আপনার ফেইক লাভারের নকল মুখোশের আড়ালে আসল মুখটা চিনতে পারবেন।
(৭) ফেসবুকে সবাই একটু আধটু ড্রামাটিকাল হয়েই থাকবে এটাই সহজাত স্বাভাবিক তবে যিনি মিথ্যার ফুলঝুরিতে কফি খেতে কানাডা আর লজেন্স কিনতে লন্ডন যান তাহার কথাতে বিশ্বাস করবেন না কেননা মিথ্যার মাত্রাতে তিনি নিশ্চিত আপনাকে ইমপ্রেস করতে চাইছেন।
(৮) ফেসবুকে আপনি লোকেশন ট্রাক করতে পারেন খুব সহজেই, আপনি তাহার ফেসবুক আইডির তাৎক্ষনিক settings & privacy> security> Login Activity চেক করে তাহার অবস্থান এবং কথার সত্যতা যাচাই করতে পারেন।
(৯) যিনি দিনের ৮০% সময় ফেসবুকে কাটান এবং কষ্টের টিউন কিংবা উইয়ার্ড টিউন করেন তাহার সহিত রিলেশনশীপ হতে বিরত থাকুন, কেননা সিমপ্যাথি আর সৌজন্যতাতে রিলেশনশিপে নেগেটিভ ইফেক্ট আসে; তথাপি বন্ধুত্ব কিংবা সহমর্মিতা আলাদা বিষয়!
(১০) ফেসবুকে হুট করে চাওয়া পাসওয়ার্ড পেলে আপনি তাহার নিয়ত পরিচয় পাবেন Facebook Seaech History তে; এখানে তিনি যদি সার্চ রেজাল্ট ডিলিট না করেন তবে নিশ্চিত আপনি তাহার মন মানসিকতা নূন্যতম অংশ হলেও চিনতে সক্ষম হবেন।
(১১) ফেসবুকে যিনি না বুঝেই “ইমো নাম্বারের আশায়” অমুক মেয়ের ফটো শেয়ার করেন নিশ্চিত তিনি মেয়লী বিষয়ে দূর্বল।
(১২) স্বল্প পরিচয়ে কোন মেয়ে যদি ইনবক্সে প্রবলেমের কথা বলে সুনিপুণ কৃত্রিমতার সহিত ফ্লেক্সি/ বিকাশ নাম্বার চায় তবে নিশ্চিত থাকবেন উহা স্ক্যাম, কেনানা যদিও এটা পুরাতন তবুও প্রচলিত প্রতারনার সাম্যক পরিচয়!
(১৩)আপনি কাউকে খুব সহজভাবে পরীক্ষা করতে পারেন আপনার মুখের কথা দিয়ে; আপনি আপনার লাভারকে ছোটখাটো তুচ্ছ বিষয়ে প্রশ্ন করুন তারপর বেশ কিছুদিন পর আবারো ঐ একই বিষয়ে প্রশ্ন করুন;যদি সর্বদাই তার উত্তর একইরূপ হয় তবে তাহার মানসিকতার দৃঢ়তা এবং সত্যতা খুঁজে পাবেন।

যদিওবা আমি মেন্টালিটি জাস্টিফাই করার ১৩টি সাইকোলজিক্যাল ট্রিক দিলাম তবুও “অন্তরের কথা” বুঝিবার সাধ্য কার? তথাপি আপনি এই সাধারন সাইকোলজিক্যাল থিউরি এপ্লাই করে নিশ্চিত সাম্যকভাবে অন্যের মনের কথা অনুধাবন করে হয়ে যেতে পারবেন নীলচোখা মাইন্ড হ্যাকার।

শেষটাতে এটাই বলি, ভালোবাসা বাঁচে বিশ্বাসে আর সম্পর্ক সাজে নিঃশ্বাসে সুতরাং সন্দেহ পরিহার করুন।

culiveআইটিfacebook hack,hackআমি নিশ্চিত যে শিরোনাম পড়ে আপনি হয়তো হাসছেন কিংবা আমাকে বোকা ভাবছেন, তবে ভাবের ভাবনা এড়িয়ে পুরো পোস্টটি পড়ুন তাহলে নিশ্চিত আপনিও সেইরকম ভাবুক হ্যাকার হতে পারবেন। প্রায়শ অনেকেই আমাদের রিকুয়েস্ট করেন যে 'বাইয়্যা, অমুকের ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে দিবেন প্লিজ' এখানে এই 'অমুক'টা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে হয় গার্লফ্রেন্ড নয়তো বয়ফ্রেন্ড(শতকার...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University