—চামচাতন্ত্রের অভাগা মেধাবীরা—
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলন করছে।
এমন একটি ন্যায্য দাবির জন্য যে আন্দোলন করতে হচ্ছে—সে
থেকেই বুঝা যায় দেশটা কোথায় আছে। এই আন্দোলন শুধু ন্যায্য
নয়, অধিকার বঞ্চিত অগণিত তরুণদের হাহাকার। এমন একটি আন্দোলন,
বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
দেশের প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলন সমর্থন করেনি। বরং
কোটাকে সংরক্ষণ করার কথাই বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী এমনটি
বলবেন, সেটাই ছিলো স্বাভাবিক ও অনুমেয়। প্রধানমন্ত্রীকে
ক্ষমতার কথা চিন্তা করতে হয় আগে। ভোটের কথা চিন্তা করতে হয়।
তারপর হলো দেশের কথা। তার পূর্বসূরীরাও তাই করেছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীরা এসেছিলো ক্ষমতাকে
চিরস্থায়ী করতে। —দেশকে সত্যিকারে এগিয়ে নিতে নয়।
দেশের সর্বস্তরে যদি কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে শুধুমাত্র
মেধাবীদেরই নিয়োগ দেয়া হতো, তাহলে দেশটা আজ এই
অবস্থায় থাকতো না। আরো বিশ-ত্রিশ বছর আগেই বাংলাদেশ অনেক
দূর চলে যেতো। দেশের প্রশাসন, শিক্ষা, বিচার থেকে শুরু
করে সর্বস্তরে রাজনীতি, দলবাজি, স্বজনপ্রীতি, গায়ের জোর
থাকতো না।
দেশের সর্বস্তরে যদি মেধাবীরাই নিয়োগ পেতো, তাহলে,
চামচাতন্ত্র গড়ে উঠতো না। প্রধানমন্ত্রীরা ভালো করেই জানে,
দেশে যদি চামচাতন্ত্র ও আনুগত্যতন্ত্র গড়ে তোলা না যায়, তাহলে
ক্ষমতায় থাকা কঠিন হয়ে যায়। পুকুর চুরি করা যায় না। স্বেচ্ছাচারী হওয়া
যায় না। স্বতন্ত্র ও আত্মমর্যাদাশীল কোন একটা প্রতিষ্ঠান কী
স্বাধীন বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে? —একটা প্রতিষ্ঠান? একটা
প্রতিষ্ঠান কী আছে, যারা সরকারকে ভয় না করে, নিজের মেধা ও
দূরদর্শীতায় স্বাধীনভাবে চলতে পারে ও বলতে পারে? —নেই।
কেন নেই, সেটা খুব সহজেই বোধগম্য।
মেধাভিত্তিক নিয়োগ হলে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক
গড়ে উঠতো। একজন যোগ্য ও অনমনীয় অভিভাবকের অধীন,
আরো যোগ্যরা নিয়োগ পেতো। এটা একটা চেইন প্রসেস। সারা
দুনিয়ার উন্নতদেশে এটাই হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকায় একজন
মানুষ কী দলের পরিচয় দিয়ে চাকুরি পায়? —বাবার পরিচয় দিয়ে চাকুরি
পায়? —দলবাজি করে শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা হতে পারে? —পারে না।
কারন, দে ডোন্ট কম্প্রোমাইজ উইদ স্টুপিড! —ইফ ইউ কম্প্রোমাইজ
উইথ এ স্টুপিড, ইট ইউল রুইন দ্যা সিস্টেম! —ইউরোপ-আমেরিকার বহু
জায়গায় কাজ করে, এই বিষয়টাই পর্যবেক্ষণ করেছি।
দেশে ছাপান্ন ভাগ নয়, কোটা থাকা উচিত সত্তর ভাগ। বাকী ত্রিশ
ভাগের মধ্যে, পঁচিশ ভাগ পূরণ করা হবে ঘুষ, দলীয় সনদ, রাজনৈতিক
পরিচয়, পারিবারিক প্রতিপত্তি ইত্যাদির মাধ্যমে। শুধু মাত্র পাঁচভাগ নেয়া
হবে মেধাবীদের মধ্য থেকে। সেই পাঁচ ভাগও দেয়া হবে
কলেজের কেরানিগিরি করার জন্য। —“মেধাভিত্তিক দেশ গঠন” বরাদ্দ
থাকবে শুধু বাংলা রচনার জন্য। চামচাতন্ত্রে মেধাবীরাই হবে অভাগা—
এ আর নতুন কী!
রউফুল আলম।
ফিলাডেলফিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/03/maxresdefault.jpg?fit=1024%2C576https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2018/03/maxresdefault.jpg?resize=150%2C150culiveআদার্সজব প্রিপারেশনপরীক্ষা ও ফলাফলমতামতচামচাতন্ত্রের—চামচাতন্ত্রের অভাগা মেধাবীরা— বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলন করছে। এমন একটি ন্যায্য দাবির জন্য যে আন্দোলন করতে হচ্ছে—সে থেকেই বুঝা যায় দেশটা কোথায় আছে। এই আন্দোলন শুধু ন্যায্য নয়, অধিকার বঞ্চিত অগণিত তরুণদের হাহাকার। এমন একটি আন্দোলন, বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলন সমর্থন করেনি। বরং কোটাকে সংরক্ষণ করার কথাই...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University