পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা প্রকৃত ফ্রেন্ড সার্কেলের বিশেষ করে হলে থাকা সার্কেলের ফ্রেন্ডগুলা এমন হয় যে দেখা গেল 5 জন বন্ধু বিশিষ্ট কোনো সার্কেলের যেকোনো একজনের কাছে টাকা নাই। কিন্তু তবুও তার কোনো চিন্তার কারন থাকে না, কারন বাকি 4 জন তো আছে। ওরা চিন্তা করতে দেয়ও না। এদের কারো কাছে চাইতে হয় না ‘বন্ধু টাকা নাই, কিছু টাকা দিবি?’ এমনিতেই বুঝে যায়। কেউ যদি বলে ‘বাড়ি থেকে টাকা পাঠাচ্ছে না অনেকদিন অথবা এখনও টিউশনির টাকাটা পাওয়া হয় নি, আজকে কি খাব কেমনে চলবো জানিনা’ তখন অন্যরা উলটো ঝাড়ি দিয়ে বলে ‘আরে শালা, আমরা কি মরে গেছি নাকি? চল জিলানী রেস্টুরেন্টে গিয়ে বিরিয়ানি খেয়ে আসি।’ বিশ্বাস করুন, এই শালা ডাকটা শুনতেও অনেক শান্তি লাগে। একইভাবে 5 জনের মধ্যে 4 জনের পকেট ফাঁকা থাকলেও সময়টা চলে যায় ভালোভাবে সবার একসাথে। কারন এখানে একজনের কাছে কিছু থাকা মানে ওটা শুধু তার একার না। সবার। খেলে সবাই একসাথে। আর অভাবের দিনে না খেয়ে থাকলেও সবাই একসাথে। আবার যখন বুঝবে আপনার অবস্থা ঠিক আছে, তখন একটা চকলেট খাওয়ার আবদার করলেও বলবে ‘দূরে গিয়ে মর!’

 

একটা প্রকৃত ফ্রেন্ড সার্কেলে একশো ফ্রেন্ড থাকুক অথবা একজন ফ্রেন্ড থাকুক, তারা কখনও আপনাকে গোমরা হয়ে বসে থাকতে দিবে না। যেকোনো কারনে প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভুগছেন অথবা হুদাই মন খারাপ করে আছেন। কাউকে কিছু না বললেও তারা বুঝে যাবে আপনার কিছু একটা হয়েছে। আর এটা তাদের বুঝা হয়ে গেছে মানে কেল্লা ফতে! আপনাকে আর শান্তিতে মনখারাপ বা ডিপ্রেশন নিয়ে বসেও থাকতে দিবে না। এমন সব কান্ডকারখানা ঘটাবে আপনার মন ভালো হতে বাধ্য, আপনি হাসতে বাধ্য। মাঝেমাঝে কাঁদতেও পারেন। অতি আনন্দে কান্না আসাটা অস্বাভাবিক কিছু না। নিঃসঙ্গতা, ডিপ্রেশন এসব তখন উড়ে হওয়ায় বিলীন হয়ে যায়।

সার্কেলের প্রত্যেকটা বন্ধু হলো একটা বিশাল অনুর একেকটা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরমাণুর মতো। একটা পরমাণুর অনুপস্থিতি মানে বিশাল বড় গড়মিল। একটা বিশাল শূন্যতা। সবকিছুই নোনতা লাগবে তখন। এই সার্কেলের মধ্যেই বন্ধুরা বন্ধুদের এত পরিমানে পচাঁয়, গালিগালাজ করে, কিল-ঘুষি মারে যে এতসব তার পুরো জীবনেও হজম করতে হয় নাই। কিন্তু সার্কেলের বাইরে অন্যকেউ যদি কোনো বন্ধুকে মারা তো দূরের কথা চোখ তুলে বড় গলায় কথাও বলতে আসে, বাকি বন্ধুরা ছুটে যায় তার মুণ্ডুপাতের উদ্দেশ্যে। বন্ধুত্বের টান এমনই।

 

অনেকের কাছে ফ্রেন্ড তিন ধরনের হয়ে থাকে। রাজনৈতিক বা পলিটিক্যাল ফ্রেন্ড, বিভাগীয় বা ডিপার্টমেন্টাল ফ্রেন্ড এবং অন্যান্য ফ্রেন্ড। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ফ্রেন্ডের কোনো প্রকারভেদ হয় না। ফ্রেন্ড মানে ফ্রেন্ড অর্থাৎ বন্ধু। সুখে, দুঃখে, বিপদে পাশে পাওয়া যায় কিনা সেটাই মুখ্য। এবার তা পলিটিক্যাল, ডিপার্টমেন্টাল কিংবা অন্যান্য যেকোনো ধরনেরই হোক না কেন। মূল ব্যাপারটা হলো আত্মার টান আছে কিনা। ভালোবাসা আছে কিনা।

 

ফ্রেন্ডগুলো এমন একটা জিনিস যারা আপনার ঘরের ভাতের পাতিলে কয়টা ভাত আছে সেটার খবর পর্যন্ত জানবে, আর প্রেম-ভালোবাসা, ব্যবসা-বাণিজ্য তো ছাইপাশই! কোনো ব্যাপারে কোনো বিষয় নিয়ে সবার মধ্যে লুকোচুরি বা গোপনীয়তা থাকতে পারে কিন্তু ফ্রেন্ডগুলা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। গোপনীয়তা বা লুকোচুরি টাইপের কিছু যেসব সম্পর্কের মধ্যে আছে সেসবকে আপনি কখনই প্রকৃত ফ্রেন্ডশিপ বলতে পারবেন না। হ্যাঁ, সো কল্ড ফ্রেন্ডশিপ বলা যেতে পারে হয়তবা। বন্ধুর পচাঁনি, মাইর, রাগ, অভিমান, খুনসুটি যে সহ্য করতে পারে না সেও সো কল্ড ফ্রেন্ড। ফ্রেন্ড না।

 

একটা ফ্রেন্ড সার্কেলের মূল বা গোড়া যেসব বিষয় সেগুলো হলো শেয়ারিং, কেয়ারিং আর টাইম পাসিং। এই তিনটা জিনিসে অন্তত বন্ধুদের সাথে অপরাগতা দেখালে সেটার চাইতে জাস্ট মেট সম্পর্কটাই শ্রেয় মনে হয়।

অনেকসময় আপনার পরিবারও আপনার এতটা খেয়াল, খোঁজখবর নেয়ার সুযোগ পায় না অথবা নেয় না যতটা ফ্রেন্ডরা নেয়। দুপুরে খান নি? কয়েকজন রুমে এসে চিল্লাইতে থাকবে, গালিগালাজ করতে থাকবে! “শালার পুত শালা না খেয়ে ভাব নিয়ে বসে আছে! চল ক্যান্টিনে চল!” সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা বা মধ্যরাত যাই হোক ঘুরতে বের হতে চান বা না চান, ওরা আবদার করে বসবে। এটা এমন আবদার যেটা না মানলে ঘাড়ের উপর তিন চারটা পড়ে যেতে পারে থাপ্পড় ঘুষি! সুতরাং না বেরিয়ে উপায় নেই। আর বেরিয়ে গেলে তো হলোই, দুনিয়াতে চিল অর্থাৎ মজা-মাস্তি কত প্রকার ও কি কি সব হয়ে যাবে! সকালে ক্লাস আছে আর আপনি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন? উঁহু, তা হবে না। বিছানা থেকে টেনে, হিঁচড়ে নামিয়ে ক্লাসে নিয়ে যাবে। একটু দয়া হলে ফ্রেশ হওয়ার সময়টুকু দেয় আরকি। কোনো মেয়ে পছন্দ হয়েছে? আপনাকে বলতে হবে না, বন্ধুদের জানান, বাকিটা ওরা করে ফেলছে।

এইগুলাই ভালোবাসা।

 

অনেকগুলো ফ্রেন্ডের মধ্যে সবাই একই মেন্টালিটির, একই স্বভাবের কিংবা একই আচরণের হয় না। এদের মধ্যে কেউ থাকে ভংচং টাইপের, কেউ থাকে ক্যাডার টাইপের, কেউ সাদাসিধে টাইপের, কেউ ডোন্ট কেয়ার টাইপের, কেউ একটু ছেঁছড়া টাইপের, কেউ ভীতু টাইপের, কেউবা ভবঘুরের টাইপের, ইত্যাদি নানা টাইপ আছে। কিন্তু সবার মাঝে ঐ তিনটা কমন জিনিস থাকে। শেয়ারিং, কেয়ারিং, টাইম পাসিং। সবগুলো টাইপ যখন একসাথ হয় তখন সেখানে এটম বোমা ফুটে। এই এটম বোমার তেজস্ক্রিয়তা ছাড়ায় সবার মধ্যে। যে ছেলে জীবনে বাথরুমেও গান করে না সে ঝুপড়িতে বসে গলা ফাটায়, যে জীবনে কারো জন্য দুই টাকার চকলেট কিনে না সেও একটা ছোটখাট খুশির সময়ে ট্রিট দেয়, যে ছেলে মেয়েদের চোখের দিকে তাকাতেই লজ্জা পায় সেই কোনো মেয়েকে গিয়ে বলে আপু অমুক তোমাকে পছন্দ করে অথবা নিজেরও একটা গতি করে নেয়, যে জীবনে শত পচানো খেয়েও কারো সাথে উঁচু গলায় কথা বলে না সেও সাহস নিয়ে এখন পারেনা মেরে থুতনি ফাটিয়ে দিয়ে আসে, যে ছেলে জীবনে ঘর,যানবাহন,ক্লাস এই তিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল সে সারা দুনিয়া দাপিয়ে বেড়ায়, বুক ফুলিয়ে চলে। এসবই তেজস্ক্রিয়তা। আপনি যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় কোনো ঝগড়া-বিবাদজনিত, আর্থিক কিংবা অন্য যেকোনো প্রবলেমে পড়ছেন, বন্ধুদের একটা কল কিংবা ম্যাসেজ দিন। প্রবলেম সলভড!

আর যত যাই হোক, বন্ধুরা তো আছে। এরকম একটা ভরসা, একটা বিশ্বাস আপনা-আপনিই তৈরি হয়ে যায়।

এই আশা-ভরসা-বিশ্বাস থেকেই তৈরি হয় ভালোবাসা। বন্ধুত্বের ভালোবাসা।

 

কেউ যদি বলে দুনিয়াতে ভালোবাসা বলে কিছু নেই। তাহলে সে ভুল বলছে। ফ্যামিলির ভালোবাসা তো আছেই। এরপরই আছে অন্যরকম এক ভালোবাসা। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।

বন্ধুত্বের টান আর আবেগ মিশ্রিত ভালোবাসা।

আর এ ভালোবাসা আপনি পাবলিক ভার্সিটিতে প্রতিটি কদমে কদমে দেখতে পাবেন। ❤

I.K. ShakilMediaStoryUncategorizedআদার্সউদ্দীপনাএক্সক্লুসিভক্যাম্পাসগল্পতরুণ স্টাইলবিনোদনব্যাক্তিত্বমতামতলাভস্পোর্টসchittagong university,চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়,বন্ধু,ভালোবাসাপাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা প্রকৃত ফ্রেন্ড সার্কেলের বিশেষ করে হলে থাকা সার্কেলের ফ্রেন্ডগুলা এমন হয় যে দেখা গেল 5 জন বন্ধু বিশিষ্ট কোনো সার্কেলের যেকোনো একজনের কাছে টাকা নাই। কিন্তু তবুও তার কোনো চিন্তার কারন থাকে না, কারন বাকি 4 জন তো আছে। ওরা চিন্তা করতে দেয়ও না। এদের কারো...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University