নারীর ক্ষমতায়নঃবাংলাদেশ প্রেক্ষাপট
নারীর ক্ষমতায়ন বলতে নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক,অর্থনৈ
তিক কর্মকান্ডে নারীর অবস্থানকে বুঝায়।ক্ষমতায়ন শব্দটি নিবিড়ভাবে চিন্তা করলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রকিয়ায় নারীর অংশগ্রহণকে নির্দেশ করে।আমাদের সংবিধানে নারীর অধিকারকে সমুন্নত রাখার জন্য কিছু ধারা সংযুক্ত করেছে।নারী পুরুষ সমান অধিকার লাভ করিবেন ‘ [ অনুচ্ছেদ ২৮ এর ধারা (২)]। ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী’ ( অনুচ্ছেদ – ২৭)। ‘ জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করিবার ব্যবস্থা করিতে হইবে’ (অনুচ্ছেদ – ১০)। ‘ প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে’ ( অনুচ্ছেদ – ১১)।
তাহলে দেখা যাচ্ছে অধিকারের প্রশ্নে নারী বা পুরুষ নয়, একজন নাগরিক মানুষ হিসাবে কি অধিকার ভোগ করবে তা উল্লেখিত হয়েছে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে। যদি তাই হয় তাহলে আমাদের সংবিধানিক ধারা গুলোয় নারীর ক্ষমতায়নের একমাত্র বাধা। জাতীয় সংসদে সাধারণ আসন সংখ্যা ৩০০ আর নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০টি, অর্থাৎ মোট ৩৫০ টি আসন। সাংবিধানিকভাবে,
১৯৭১ সালে নয়মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে আমরা যে সংবিধান পেলাম তার ‘পঞ্চম ভাগ’ আইনসভার ধারা ৬৫(১) এবং ৬৫(২) -এ সাধারণ আসনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে ৬৫(৩) ধারা নিয়ে, যেখানে বলা আছে,
৬৫। (৩) এই সংবিধানের প্রবর্তন হইতে দশ বছর কাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাঙ্গিয়া না যাওয়া পর্যন্ত ১৫টি আসন কেবল মহিলাদের জন্যে সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাঁহারা আইনানুযায়ী পুর্বোক্ত সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হইবেন। তবে শর্ত থাকে যে,এই দফার কোন কিছুই এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন কোন আসনে কোন মহিলার নির্বাচন নিবৃত্ত করিবে না। অর্থাৎ মহিলারা অবশ্যই সাধারণ আসনে নির্বাচন করতে পারবেন।সাধারণ আসন নারী-পুরুষ সবার জন্য, আর সংরক্ষিত আসন শুধুই নারীদের জন্য।কি দরকার ছিল,নারীদেরকে সাংবিধানিকভাবে অন্যভাবে পরিচয় করে দেওয়ার।যেখানে বলায় আছে পুরুষ এবং নারীর মধ্যে কোন পার্থক্য করা হবে না।৩০০ আসনের মধ্যে নারীরা যোগ্যতা বলে তারা ওঠে আসবেন।তাদের যদি যোগ্যতা থাকে তারা ৩০০ আসনে নির্বাচন করার অধিকার রাখেন,কারণ সাংবিধানিক ভাবে আমরা নারী পুরুষ না, আমরা হলাম বাংলাদেশের নাগরিক।আমাদের দেশের রাজনৈতিক দল গুলো যখন ক্ষমতায় আসে তখন বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে তারাও নারীক্ষমতায়নের ধোঁয়া তুলে কিন্তু তারা নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সময়,কমিটি ঘোষণা করার সময় নারীর ক্ষমতায়ন ভুলে যায়।স্কুল,কলেজ,
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় যদি তারা বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে ভর্তি হতে পারে কিন্তু চাকরির ক্ষেত্রে কেন নারী হিসেবে বিবেচিত হয়ে কোটা সুবিধা ভোগ করবে?কেন সংবিধানে তাদেরকে সংরক্ষিত আসনের সুবিধা দিয়ে নারীকে নাগরিক হিসেবে পরিচয় না করিয়ে নারী হিসেবে পরিচয় করায়।সত্যিকারের নারীর ক্ষমতায়ন সেদিন অর্জন হবে যেদিন সংরক্ষিত আসন ও চাকরির ক্ষেত্রে মহিলা কোটা বাতিল করে নারীকে নারী নয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে সেইদিন।নারীরা যেদিন নারী কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে সেইদিন সত্যিকারের নারীর ক্ষমতায়ন হবে।আমরা নারীকে নারী হিসেবে নয় বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেখতে চাই।

Muhammad Hamedur Rahman(মুকুটহীন সম্রাট)
University of Chittagong

https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/10/নারীর-ক্ষমতায়নঃবাংলাদেশ-প্রেক্ষাপট.jpg?fit=700%2C394https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/10/নারীর-ক্ষমতায়নঃবাংলাদেশ-প্রেক্ষাপট.jpg?resize=150%2C150culiveBlogন্যাশনালব্লগমতামতনারীর ক্ষমতায়ন,বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটনারীর ক্ষমতায়নঃবাংলাদেশ প্রেক্ষাপট নারীর ক্ষমতায়ন বলতে নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক,অর্থনৈ তিক কর্মকান্ডে নারীর অবস্থানকে বুঝায়।ক্ষমতায়ন শব্দটি নিবিড়ভাবে চিন্তা করলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রকিয়ায় নারীর অংশগ্রহণকে নির্দেশ করে।আমাদের সংবিধানে নারীর অধিকারকে সমুন্নত রাখার জন্য কিছু ধারা সংযুক্ত করেছে।নারী পুরুষ সমান অধিকার লাভ করিবেন ' । 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University