নিষ্ঠুরতায় কোমলতার ছোঁয়া
শিশিরভেজা প্রভাতে নিনিদ্রাচ্ছন্নতার ঘোর কাঁঠিয়ে উঠে শহরে যেতে হয় প্রত্যহ আমার।তেমন অাজও গেলাম।যখন ফিরি সেই সময়টাকে এইভাবে বললে অত্যুক্তি হয় না।যান্ত্রিক জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষ অাপনাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে।ব্যস্ততম শহরের অলিগলি,প্রতিটা মোড়,এমনকি প্রতিটি গাড়ি ব্যস্ত।সময়ের বহমানতায় সবাই বয়ে যায় আপনাকে নিয়ে ব্যস্ত থেকে।মুরাদপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য বাসে উঠি।বাসটি ক্ষণকালের জন্য যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিল।ঠিক তখনই ঘঠল বিচিত্র ঘঠনা।মানুষের অাত্না যে কতটা হীনস্র হতে পারে।একজন ভিক্ষুক(আসলে ভিক্ষুক বলবনা একজন অভাবি মানুষ) গাড়িতে উঠল।তার কথাঠি ছিল এই রকম”আমার বউয়ের দুইটা কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে,আমাকে একটু সাহায্য করেন এবং সে আরও বলেছিল দশের লাড়ি একের বোঝা।”তারপর আমি মনে মনে বলতেছিলাম, তোর বউয়ের কিডনি নষ্ট হলে অামি কি করব?বউ মারা গেলে আরেকটা বিয়ে করলে কি হয়।এই মানুষটি আরেকদিন বাসে উঠছিল।অাজ অনেকদিন পর অাবার তাকে দেখলাম।

এর পরেই অামি ভাবছিলাম,যদি একদিন আমার বউয়ের কিডনি নষ্ট হয়ে যায় সেইদিন আমি কি করব?চিন্তা করছিলাম ওকে কয়টাকা দেওয়া যায় হাতে ছিল বত্রিশ টাকা কিছুক্ষণ পর দেখতেছি একটা আপু পাঁচ টাকা দিল তারপর আমি দিলাম দশ টাকা।আসার পথে অনেক চিন্তা মাথায় ঘুরপাক করছিল তাই কিছু লিখছি।প্রতিটা মানুষের একটা দুর্বল স্হান থাকে ওই জায়গায় হাওয়া লাগলে প্রতিটা মানব কোমল হয়ে যায়।কোন পা হীন মানুষ সাহায্য চাইলে তখন যদি ভাবা যায়, হায়!আজ আমার একটা পা না থাকলে কি করতাম?আমার দুইটা চোখ না থাকলে কি করতাম?আজ আমি যদি পাগল হতাম কি করতাম?আমি নিশ্চিত এই প্রশ্ন গুলা করার পর পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ঠুর মানুষটির অন্তর কোমলতার একটুখানি ছোঁয়া পাবে।ওই অভাবি মানুষটির ভেতর আমি দৈবাৎ বিচিত্র একটি দর্শন খুজে পেয়েছিলাম।একটা মানুষের তার বউয়ের প্রতি ভালবাসার জায়গাটা কতটা মজবুত বানাতে পারলে মাসের পর মাস সাহায্য চেয়ে ঘুরে বেড়াতে পারে। হয়ত তার মনে মনে বিচিত্র সব ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে, হয়ত,সে ভাবছে।আমার বউ যদি এই অকালে মরণের সুধা পান করে,আমার জন্য কোন হতভাগীনি আমার মুখের প্রতিদিনকার পরিচিত বুলি”এই দরজা খুল”এইটা শুনার জন্য নিদ্রাহীন প্রহর গুনবে।মাসের পর মাস কোন অভাগিনী অামার জন্য রান্না করে না খেয়ে বসে থাকবে।আর আমার মত অভাগা কোন জন্মে আর একসাথে বসে খাইতে খাইতে” তুমি আর একটু বেশি করে খাওনা”এই বুলি গুলি কাকে বলবে।প্রতিটা প্রমাস্পদের অন্তরে তার মনের মানুষের জন্য একটা নিরাপদ স্হান থাকে।আমি এমন অনেক প্রেম দেখেছি যেইগুলি যান্ত্রিক ভালবাসাকে হার মানায়।সাতসকালে গার্মেন্টস কর্মী যখন তার বউকে সাইকেলে করে নিয়ে যায়।তখনই অামি তাদের ভেতর বিচিত্র এক সত্বাকে অাবিস্কার করি।

Muhammad Hamedur Rahman
University of Chittagong

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/10/নিষ্ঠুরতায়-কোমলতার-ছোঁয়া.jpg?fit=450%2C252https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/10/নিষ্ঠুরতায়-কোমলতার-ছোঁয়া.jpg?resize=150%2C150culiveআদার্সক্যাম্পাসবিনোদননিষ্ঠুরতানিষ্ঠুরতায় কোমলতার ছোঁয়া শিশিরভেজা প্রভাতে নিনিদ্রাচ্ছন্নতার ঘোর কাঁঠিয়ে উঠে শহরে যেতে হয় প্রত্যহ আমার।তেমন অাজও গেলাম।যখন ফিরি সেই সময়টাকে এইভাবে বললে অত্যুক্তি হয় না।যান্ত্রিক জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষ অাপনাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে।ব্যস্ততম শহরের অলিগলি,প্রতিটা মোড়,এমনকি প্রতিটি গাড়ি ব্যস্ত।সময়ের বহমানতায় সবাই বয়ে যায় আপনাকে নিয়ে ব্যস্ত থেকে।মুরাদপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য বাসে...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University