আজ ১০ সেপ্টেম্বর “বিশ্ব আত্নহত্যা বিরোধী দিবস”। এই দিবসকে সামনে রেখে গতকাল থেকেই সিইউলাইভ২৪.কম প্রকাশ করছে আত্নহত্যা বিরোধী বিশেষ রচনা। তারই ধারাবাহিকতায় হৃদয় ইসমাইল আজ তুলে ধরছেন সম-সাময়িক অন্যতম লেখক রুবেল কান্তি নাথের বিশেষ অনুপ্রেরণামূলক লেখা। লেখক রুবেল কান্তি নাথ বাংলাদেশের লিডিং পত্রিকাগুলোয় নিয়মিত লিখে আসছেন।

  • জীবনকে দেখুন ইতিবাচক চোখে
    রুবেল কান্তি নাথ

মানুষ নাকি অভ্যাসের দাস!না,মানুষ অভ্যাসের দাস নয়।আপনি চাইলে আপনার অভ্যাস পাল্টাতে পারবেন।অনুরুপ জীবন বদলের চাবিকাঠিও আপনার হাতে।আপনার জীবন বদলে যাবে যদি আপনি সেই মোতাবেক কাজ করেন।

জীবনকে বদলানোর আগেই,জীবনকে পরিপূর্ণভাবে দেখার আগেই,জানা-শোনার আগেই-অনেক কিশোর-কিশোরী,তরুণ-তরুণীদের দেখা যায়,অনাকাংখিতভাবে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে যেতে।যে বিতৃষ্ণার ফলে তারা অকালে পাড়ি জমায় জীবনের ওপারে।
বেশ কিছুদিন আগে এক কিশোরীর আত্মহত্যা নিয়ে ফেসবুক ও মিডিয়া জগতে তোলপাড় শুরু হয়েছিল।মেয়েটি তার প্রেমিকের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়াতেই নাকি আত্মহত্যা করেছে!কী আজব ব্যাপার!
জীবন কি এতই ঠুণকো?জীবন কি এতই মূল্যহীন?জীবন কি এতই সস্তা?
এব্যাপারে আমি প্রতিবাদ করে বলেছিলাম,’কেন এভাবে অকালে একটা মেয়ে আত্মহত্যা করে এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে?কেন?’
আমার কয়েকজন জ্ঞানী বন্ধু বলেছিলেন,’এটা তার নিজস্ব ব্যাপার।এতে আপনি মাথা ঘামাবেন কেন?’
মাথা থাকলেই তো মাথা ঘামাতে হয়।মাথা ব্যথা হয়।মাথা কাজে লাগাতে হয়।-কথাগুলো আমি তাঁদের বলতে পারিনি।যেহেতু তাঁরা ছিলেন আমার চেয়েও অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি!

একটা মানুষের জীবনে প্রেমিক বা প্রেমিকার প্রেম-ভালোবাসাই কি সবচেয়ে বড়?আর কোনো প্রেম-ভালোবাসা নেই?
কেন,একজন মা কি তাঁর সন্তানকে কম ভালোবাসেন?একজন বাবা কি তাঁর সন্তানকে কম ভালোবাসেন?একজন ভাই কি তাঁর বোনকে কম ভালোবাসেন?একজন বোন কি তাঁর ভাইকে কম ভালোবাসেন?
তাহলে কেন এত-এতজনের ভালোবাসা-আদর-স্নেহ উপেক্ষা করে,তুমি প্রেমিক বা প্রেমিকার জন্য দিওয়ানা-মাস্তানা হয়ে যাচ্ছো?সবাইকে অকূল পাথারে ফেলে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যাচ্ছো?প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে গলায় দড়ি দিয়ে পটল তুলছো?

তুমি কি জানো,তোমার প্রেমিক বা প্রেমিকার চেয়েও-তোমার মা,বাবা,ভাই,বোন তোমাকে ভালোবাসে সবচেয়ে বেশি?

নাহ্,জানো না।জানলে বেকুবের মত আত্মহত্যা করতে না।
যদি দুঃখ,কষ্ট বা হতাশার কথা বলি,তাহলে বলতে হয়,দুনিয়াতে এমন কোনো মানুষ নেই-যাঁকে দুঃখ,কষ্ট বা হতাশা স্পর্শ করেনি।তাঁরা সেসবকে কাটিয়ে উঠেছেন।দুঃখ-কষ্টের সাথে লড়েছেন।তারপরই সুখের নাগাল পেয়েছেন।

কোনো গানের অডিশনে টেকোনি,তাই দুঃখে ভেঙ্গে পড়েছো,আর বাসায় এসে ফ্যানের সাথে ওড়না বেঁধে-জিহ্বাটা আধ হাত সমান বের করে ঝুলে পড়েছো!
পরিক্ষার ফলাফল খারাপ হয়েছে।কী আর করা।সমাধান তো তোমার হাতেই!ইঁদুরের বিষ খেয়ে পটল তুলেছো!
এটাই কি হওয়া উচিত?এসবই কি করা উচিত?
‘একবার না পারিলে দেখো শতবার’ বলে একটা কথা আছে।সবার মেধা সমান নয়,মনে রাখতে হবে।একবার না পারলে,বারবার চেষ্ঠা করতে হবে।তবেই তুমি জীবনের বিভিন্ন পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হবে সহজেই।

ইতিহাসের বিখ্যাত ও মহান ব্যক্তিদের জীবন সম্পর্কে জানলে সেখানে দেখতে পাবে,তাঁরা অনেক কষ্ট,ধৈর্য্য ও পরিশ্রমের পর সফলতার আসনে অধিষ্টিত হয়েছেন।এমনিই-এমনিই জীবনে সফল বা প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় না।
জীবনকে অহেতুক শেষ করে দেওয়ার চেয়ে,সেই জীবনকে কাজে লাগানো ভাল।মানুষের জীবনটাই তো ভুলে ভরা।ভুলগুলোকে ধীরে-ধীরে কাটাতে হবে।নেতিবাচক চিন্তা না করে,ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে।তবেই জীবনে ভাল কিছু করা সম্ভব।
প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়েছো!ওরে বাবা,তাহলেই সেরেছে!কয়েক পাতা ঘুমের ওষুধ খেয়ে, স্বর্গের দেবতাদের সাথে পরপাড়ে মোলাকাত করতে চলে গেছো!

অধিকাংশ কিশোর-কিশোরী,তরুণ-তরুণীর এটাই প্রধান সমস্যা।অতি অল্প বয়সে মানুষের বোধ তেমন জাগ্রত হয় না।আবেগে তখন মানুষ ভরপুর থাকে।এই অতিরিক্ত আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাই,মূলত তোমাদেরকে বিপথে ঠেলে দেয়।আত্মহত্যার মত খারাপ একটা কাজে উৎসাহিত করে।

এই বয়সে পড়ালেখা করো,নিজেকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার চিন্তা করো।যদি তোমার ক্যারিয়ার তৈরী হয়ে যায়,দেখবে প্রেম তোমার পায়ের কাছে এসে লুটোপুটি খাচ্ছে।তোমাকে অযথা প্রেমের পেছনে দৌঁড়াতে হবে না।
বিষন্ন থাকলে খেলা,গান শোনা,মাছ ধরা,বাগান করা,বই পড়া,লেখালেখি এসব কাজে মেতে থাকো।দেখবে বিষন্নতা পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।বাপ্-বাপ্ করে পালাবে।

অপরিণত বয়সের প্রেমকে আমি প্রেম বলতে রাজি নই।আমি এটাকে বলতে চাই,’মোহ’।এটা যে সাময়িক একটা মোহ ছিল তখনই তুমি এটা বুঝতে পারবে,যখন একটা নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছে যাবে।তখন তোমার বোকামির জন্য তুমি নিজেই হেসে লুটিপুটি খাবে!
তখন হয়তো নিজেই নিজেকে বলবে,’কী বোকাটাই না ছিলাম আমি!’

মেইলঃ
rubelkantinath649@gmail.com

 

এইচ আই, চবি।

https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/09/textgram_1504978070.png?fit=1024%2C1024https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/09/textgram_1504978070.png?resize=150%2C150Top NewsMediaইন্টারভিউউদ্দীপনাএক্সক্লুসিভতরুণ স্টাইলমতামতমিডিয়াসাহিত্যআজ ১০ সেপ্টেম্বর 'বিশ্ব আত্নহত্যা বিরোধী দিবস'। এই দিবসকে সামনে রেখে গতকাল থেকেই সিইউলাইভ২৪.কম প্রকাশ করছে আত্নহত্যা বিরোধী বিশেষ রচনা। তারই ধারাবাহিকতায় হৃদয় ইসমাইল আজ তুলে ধরছেন সম-সাময়িক অন্যতম লেখক রুবেল কান্তি নাথের বিশেষ অনুপ্রেরণামূলক লেখা। লেখক রুবেল কান্তি নাথ বাংলাদেশের লিডিং পত্রিকাগুলোয় নিয়মিত লিখে আসছেন। জীবনকে দেখুন ইতিবাচক...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University