বলা হয়ে থাকে প্রত্যেক সফল ও সুখি মানুষের জীবনে একবার চরম দুঃখ নেমে আসে। প্রকৃতির সেই নিয়মেই বছর কয়েকআগে চরম হতাশায় হেরে যাচ্ছিলেন এক তরুণী। নিজেকে তুচ্ছ ভাবতে গিয়ে আত্নহত্যাকে ভাবে নিতেন পরম প্রিয়। কিন্তু আত্নহত্যা সব সমস্যার সমাধান হতে পারেনা ভাবতেই ঘুরে গেলো জীবনের মোড়। তিনি এখন  স্কলারশীপে মাস্টার্স করছেন এশিয়ার টপ র‍্যাংকিং ইউনিভার্সিটিতে। দুঃখি ও একাকিত্বে ভোগা তরুণদের জন্য কিছু করবেন, সেই স্বপ্ন এখন তার বুকে। আজকের “বিশ্ব আত্নহত্যা বিরোধী দিবস” আয়োজনে লিখছেন সেই তরুনী-  মদিনা জাহান রিমি, বাংলার সম-সাময়িক তরুণ লেখকদের একজন। সিইউলাইভ২৪.কম এর পক্ষ থেকে তার সাথে আলাপ করেন হৃদয় ইসমাইল

নিজেকে খুন করে নিজের দুঃসময় নীরবে পৃথিবীর কাছে বলে যাওয়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আত্মহত্যা’। সেটির আবার দিবসও আছে। বলা হয়ে থাকে আত্মহত্যা করে দুর্বল মানুষ। কিন্তু, আত্মহত্যা করতে সাহস লাগে বিলক্ষণ।

কতটা সাহসী হলে নিজের জীবন নিজেই কেড়ে নেওয়া যায়, ভাবা যায়! এখন কথা হচ্ছে এই দুর্দান্ত সাহসী আত্মহত্যাকারী আর অল্প একটু সাহস নিয়ে বেঁচে থাকলে নিজের জন্য যাদুকরী ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে

প্রকৃত পক্ষে যারা আত্মহত্যা করে তারা মরে যেতে চায় না। তারা তাদের দুঃখ দুর্দশাকে যেকোনো উপায়ে নিঃশেষ করবে এটিই তাদের প্রধান উদেশ্য। তাই তারা সাহস করে বেঁচে না থেকে, সাহস করে মরে যায়। বলতে গেলে সাময়িক সমস্যার পার্মানেন্ট সমাধান!
কিছু উল্লেখযোগ্য মানসিক অসুস্থতার কারণেই আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে। আশেপাশেই স্বাভাবিক ভাবে ঘুরে বেড়ানো মানসিক ভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ পরিচিতজন আছে, আমার তা ধরতে পারি না। মানসিক চাপ, অনিদ্রা, মনোযোগহীনতা প্রাথমিক লক্ষণ এসব অসুস্থতার। দুশ্চিন্তা থেকে মানসিক ডিসঅর্ডার বা জটিলতা তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যেসব মানসিক অসুস্থতা আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ায় তার কয়েকটি হলঃ

  • কনভারশন ডিসঅর্ডার
    ‘কনভারশন ডিসঅর্ডার’ একটি মানসিক রোগ কিন্তু উপসর্গগুলো শারীরিক। হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, খিঁচুনির মতো ঝাঁকুনি, কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া, চোখে দেখতে না পাওয়া, কানে শুনতে না পাওয়া, কাঁপুনি, খাবার গিলতে না পারা, যেকোনো রকমের হতে পারে এর উপসর্গ। দেখে মনে হতে পারে, রোগী জটিল কোনো স্নায়ুরোগে আক্রান্ত। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শারীরিক কোনো সমস্যা ধরা পড়ে না। ফলে রোগী ও তার আত্মীয়স্বজন বিভ্রান্ত হন। আশেপাশে সকলে মনে করেন, রোগী ভান বা ঢং করছে এবং তিরস্কার করেন। রোগী এক পর্যায়ে নিজের উপর বিরক্ত হয়ে আত্মহত্যার কথা ভাবতে শুরু করে প্রতিনিয়ত।
  • সিজোফ্রেনিয়াঃ সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের জীবন সম্পর্কে উৎসাহ-উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলে। এটিকে অনেকে অলসতা বা খামখেয়ালি বলে ভুল করে। সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমশ সমাজ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিজস্ব মনের ছোট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ভুবনে থাকতে পছন্দ করে। সিজোফ্রেনিয়া এমন একটি মানসিক ব্যাধি যাকে ঠিক পুরোপুরি বোঝা যায় না। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির আত্মহত্যার সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ অসুখটির সাথে ডিপ্রেশন, ভ্রান্ত বিশ্বাস, অলীক প্রত্যক্ষণ ইত্যাদি জড়িত থাকায় রোগী আত্মহত্যা করে ফেলতে পারে। এরা অনেকটা বাধ্য হয়েই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। মনোবিজ্ঞানী টরি বলেছেন, ‘সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো না কোনো উপায়ে নিজেদের ক্ষতি করে থাকে এবং এক পর্যায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়’।
  • অ্যান্টি সোশ্যাল পারসোনালিটি ডিসঅর্ডারঃ “Antisocial personality disorder” একটি মনের অসুখ যা আমাদের আশেপাশে অনেকের মধ্যেই আছে কিন্তু আমরা জানি না। সংক্ষেপে এই মনের অসুখ সম্পর্কে বলা যায়, এসব মানুষ স্বীয় সত্তা ছাড়া আর কারো কথা চিন্তা করে না । সবসময় নিজেকে নিয়ে ব্যাস্ত। সুস্থ মাথায় হাসি মুখে মিথ্যা বলে যায়। বেশীর ভাগ মিথ্যা বলে কোন স্বার্থ অর্জনের জন্য। ভয়ংকর বিষয়, স্বার্থ হাসিল করা না গেলে সে খুন করার পরিকল্পনা করতে থাকে! এমনকি নিজেকেও তার মেরে ফেলতে ইচ্ছে করে। ছোটবেলা থেকে প্রবল মানসিক কষ্ট, এই অসুখের অনেকগুলো কারণের মধ্যে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

একটি গবেষণামূলক জার্নালে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। এতগুলো মানুষ কি মর্মান্তিক মন খারাপ নিয়ে নিজেদের মেরে ফেললো তাই না? প্রিয় মানুষটিকে অস্বাভাবিক মনে হলে তাকে সাইকলজিস্ট দেখানোর পরামর্শ দেওয়া উচিৎ। প্রচণ্ড মানসিক চাপে মেয়েটি হয়তো ওড়নায় গিঁট দিয়ে তৈরি করে রেখেছে আলমারির কোনায়। মা একবার হাসিমুখে বুকে জড়িয়ে ধরায় সে ফেলে দিতে পারে ঐ গিঁট বাঁধা ওড়না। হাইওয়েতে এলোমেলো হাঁটছে ছেলেটি। দূর থেকে দেখলেও বুঝতে পারা যায় সে মৃত্যুকে ডাকছে। সব চেয়ে কাছের বন্ধুটি এসে যদি শার্টের কলার চেপে বলে, ‘তুই হাইওয়েতে মাছি মারিস?’। ছেলেটি হয়তো ইউটিউবে কিভাবে ফাঁসির দড়ি বাঁধে সেই টিউটোরিয়াল দেখছিল, বাবা পরম আদরে কাছে ডেকে বলল ‘রিয়াল মাদ্রিদের খেলা হচ্ছে তুই ফোন নিয়ে বসে আছিস গাধা, টিভি খোল জলদি আর পাশে এসে বস তো’। ছেলে ভুলে গেলো ফাঁসের দড়ি বাঁধা শেখার ভিডিও। কাছের মানুষের দেওয়া মানসিক প্রশান্তি পারে আত্মহত্যা প্রবণতার ‘সাহসী’ মানুষটিকে একটি সুস্থ এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে। মন সুস্থ রাখার জন্য ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষগুলো শান্তিতে খুব ঘুমাক এবং জেগে উঠুক অসংখ্য ভোরে!

 

এইচ আই, চবি।

 

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/09/textgram_1504950706.png?fit=1024%2C1024https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/09/textgram_1504950706.png?resize=150%2C150Top Newsইন্টারভিউউদ্দীপনাএক্সক্লুসিভক্যারিয়ারগল্পফিচারব্যাক্তিত্বব্লগমিডিয়াসাহিত্যবলা হয়ে থাকে প্রত্যেক সফল ও সুখি মানুষের জীবনে একবার চরম দুঃখ নেমে আসে। প্রকৃতির সেই নিয়মেই বছর কয়েকআগে চরম হতাশায় হেরে যাচ্ছিলেন এক তরুণী। নিজেকে তুচ্ছ ভাবতে গিয়ে আত্নহত্যাকে ভাবে নিতেন পরম প্রিয়। কিন্তু আত্নহত্যা সব সমস্যার সমাধান হতে পারেনা ভাবতেই ঘুরে গেলো জীবনের মোড়। তিনি এখন  স্কলারশীপে...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University