হৃদয় ইসমাইল,আন্তর্জাতিক শিক্ষাঃ

সোশ্যাল মিডিয়ার উপর পৃথিবীজোড়া অনেক গবেষণামূলক কাজ হলেও বাংলাদেশে ডাটা সমৃদ্ধ রিসার্চ হয়নি। সাধারণত বিদেশে অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীরা সেই দেশেরই বিষয়বস্তু নিয়ে গবেষণার কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে কিন্তু আমি বাংলাদেশ বেইজ মাস্টার্সের থিসিসটি করছি, স্যাম্পল সাইজ বাংলাদেশের চট্রগ্রাম ইউনিভার্সিটি’র ছাত্রছাত্রীদের উপর। গবেষণাটি সাইক্রিয়াটিস্ট, টেকনোলোজিতে আসক্ত সন্তানের অভিভাবক এবং তরুণদের সাইকোলজি বুুুুঝতে সাহায্য করবে বলে আশা করি।

যান্ত্রিকতা এখন প্রতিনিয়ত সবখানে দেখা যায়। এই গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান প্রজন্ম প্রকৃতপক্ষে ভয়ংকর একা। কেননা তারা এখন ছবি এডিটর দিয়ে ঘষে ঘষে সুন্দর করা চেহারাটি ছাড়া মুখোমুখি বৈঠকে ভয় পেয়ে থাকে। তাই আমরা যন্ত্রে সংযুক্ত হচ্ছি কিন্তু মুখোমুখি যোগাযোগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরছি। বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশান ব্যবহার করে তাদের অসাধারণ ছবি গুলোর আড়ালে নিজেদের ওরিজিনাল ভার্সন লুকিয়ে ফেলতে চাইছে, তাদের চিন্তা চেতনায় গেঁথে গেছে- সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত দর্শক তাকে নিয়ে খুব আগ্রহী। সুতরাং নিজেকে সর্বোচ্চ সুদর্শন দেখাতে হবে। অপরদিকে তারা ধীরে ধীরে সামাজিক এই ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরছে। এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বলতে বুঝায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার ফ্রেন্ড এবং ফলয়ার থাকা কিন্তু বাস্তব জীবনে নিঃসঙ্গতা নিয়ে একই সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপ্রেসিভ পোস্ট দেওয়া। অনেক মানুষের মস্তিস্কে কাজ করে তার বন্ধুটির চেয়ে তার অবস্থান, যোগ্যতা বেশী বেশী উপস্থাপন করতে হবে, হোক না হয় মিথ্যা উপস্থাপন।

বিশ্ববিদ্যাললের ছাত্রদের ইন্টার্ভিউ এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহারকারি ছাত্রদের ডাটা গুলো কনটেন্ট এনালাইসিস করে চমকপ্রদ ফলাফল পেয়েছি। এই মানুষ গুলো বাস্তব জীবনে ভীষণ একা। ব্যক্তিগত আন্তরিকতা তাদের দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। তরুণ সমাজ ভুলে যাচ্ছে অনলাইন জগতের বাহিরে একটা অফলাইন জগত আছে যেটা যাপন করতে হয়। যুগের পর যুগ মানুষ যে জগতটাতে বাস করে আসছে। অনলাইন জগত ব্যবহার করার জন্য, বাস করার জন্য নয়! রিসার্চের ফলাফলে পেয়েছি, তরুণরা এখন রাজনীতি, অর্থনীতি অথবা অন্য কোন গম্ভীর আলোচনা গুলো ক্যাম্পাসের ঝুপড়িতে না করে ফেসবুকে করতে বেশী পছন্দ করে। এখন প্রিয়মানুষ গুলো একে-অপরকে মুখোমুখি স্পর্শ করার চেয়ে স্পর্শ কাঁচওয়ালা ফোনে স্পর্শ করেই সময় কাটায় বেশী। তরুণরা তাদের স্পর্শ ফোনকে যতবার স্পর্শ করছে, ততবার প্রিয় মানুষকে স্পর্শ করার প্রয়োজন মনে করছে না। এমনকি কোন্দলের কথা তো না বললেই নয়। এই সাইটগুলোর মন্তব্যগুলোতে এতো ঘৃণ্য বাক্য আদান-প্রদান হয়, আমার মনে হয় না মুখোমুখি আলাপে দুজন মানুষ একে অপরকে এতটা ঘৃণ্য বাক্য ব্যক্ত করে। সর্বোপরি, উপকারী এই মাধ্যমগুলো ততক্ষণই উপকারী যতক্ষণ তা ব্যবহার করতে করতে কেউ ‘প্রব্লেমেটিক ইউজার’ এ পরিণত না হয়। প্রতিনিয়ত সমস্যার সমাধান করার নাম হচ্ছে জীবন। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় হতাশা আর সমস্যার পোস্ট না লিখে পথে পথে হেঁটে সমাধান বের করা ঢের ভালো। আমি আশা করি আজও সমাজ একজন ফেসবুক সেলিব্রেটির থেকে পথে পথে হাঁটা উদ্যমী ছেলেমেয়ে বেশী পছন্দ করে। তাই নয় কি ?

 

♦মদিনা জাহান রিমি♦

মাস্টার্স ইন কমিউনিকেশন

টেইলরস ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া। 

 

© বি দ্রঃ এই থিসিসের গবেষক “মদিনা জাহান রিমি” মূলত একজন বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক। থিসিস পেপারের সার সংক্ষেপটি প্রকাশের অনুমতি স্বাপেক্ষে ইমেইলের মাধ্যমে নেওয়া হয়। কন্টেন্ট ও আইডিয়া- গবেষক কিংবা কন্টেন্ট সংগ্রহকারীর অনুমতি ব্যতিরেকে কোথাও প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। 

 

https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/09/textgram_1504829262.png?fit=1024%2C1024https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/09/textgram_1504829262.png?resize=150%2C150Top NewsBlogMediaআন্তর্জাতিকইন্টারভিউউদ্দীপনাএকাডেমিকএক্সক্লুসিভক্যাম্পাসক্যারিয়ারপরীক্ষা ও ফলাফলফিচারমিডিয়াশিক্ষাস্টাডিহৃদয় ইসমাইল,আন্তর্জাতিক শিক্ষাঃ সোশ্যাল মিডিয়ার উপর পৃথিবীজোড়া অনেক গবেষণামূলক কাজ হলেও বাংলাদেশে ডাটা সমৃদ্ধ রিসার্চ হয়নি। সাধারণত বিদেশে অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীরা সেই দেশেরই বিষয়বস্তু নিয়ে গবেষণার কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে কিন্তু আমি বাংলাদেশ বেইজ মাস্টার্সের থিসিসটি করছি, স্যাম্পল সাইজ বাংলাদেশের চট্রগ্রাম ইউনিভার্সিটি'র ছাত্রছাত্রীদের উপর। গবেষণাটি সাইক্রিয়াটিস্ট, টেকনোলোজিতে আসক্ত সন্তানের অভিভাবক এবং...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University